তিনটি মূলনীতি ও তার দলীলসমূহ (বাংলা)

  • earth ভাষা
    (বাংলা)
  • earth সংকলন:
    الشيخ محمد التميمي

অন্যান্য অনুবাদ 52

sw سواحيلي- Kiswahili ur أردو- اردو hu هنجاري مجري- magyar fr فرنسي- Français hi هندي- हिन्दी bn بنغالي- বাংলা id إندونيسي- Indonesia en إنجليزي- English as آسامي- অসমীয়া ar عربي- العربية bs بوسني- bosanski ru روسي- Русский az أذري- azərbaycanca mk مقدوني- македонски ha هوسا- Hausa sr صربي- Српски dv ديفهي- ދިވެހި ky قرغيزي- Кыргызча ta تاميلي- தமிழ் te تلغو- తెలుగు fa فارسي- فارسي si سنهالي- සිංහල es إسباني- español ml مليالم- മലയാളം zh صيني- 中文 vi فيتنامي- Tiếng Việt ne نيبالي- नेपाली th تايلندي- ไทย dyo جوالا- Jóola hy أرميني- Հայերէն sn الشونا- Shona kk كازاخي- қазақ тілі de ألماني- Deutsch pa بنجابي- ਪੰਜਾਬੀ mfe كريولي- créole kn كنادي- ಕನ್ನಡ ja ياباني- 日本語 uk أوكراني- українська da دنماركي- dansk tg طاجيكي- тоҷикӣ kmr كردي كرمنجي- Bi zimanê Kurdî af أفريقاني- Afrikaans zu زولو- isiZulu my بورمي- ဗမာ ig إيجبو- Igbo cs تشيكي- čeština lt ليتواني- lietuvių ro روماني- română hr كرواتي- hrvatski lo لاو- ພາສາລາວ pt برتغالي- português hu هنجاري مجري- magyar
PHPWord

 

 

 

 

ثَلَاثَةُ الأُصُولِ وَأَدِلَّتُهَا

 

 

তিনটি মূলনীতি ও তার দলীলসমূহ

 

 

 

لِلشَّيْخِ

مُحَمَّدٍ التَّمِيمِي رَحِمَهُ اللهُ

 

শায়খ মুহাম্মাদ আত-তামিমী
(রহঃ)

 


بِسْمِ اللهِ الرَّحمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

 

প্রথম মূলনীতি:
প্রতিটি মুসলিমের উপর যা শিক্ষা করা আবশ্যক

জেনে রাখ, আল্লাহ তোমাকে রহমত করুন, আমাদের উপরে চারটি মাসআলা শিক্ষা করা ওয়াজিব।

প্রথম: আল-ইলম, আর তা হচ্ছে দলিলসহ আল্লাহকে জানা, তাঁর নবীকে জানা ও ইসলামের দীনকে জানা।

দ্বিতীয়: তার উপরে আমল করা।

তৃতীয়: তার দিকে দাওয়াত দেওয়া।

চতুর্থ: তাতে কষ্টের উপর সবর করা। আর দলিল হলো, আল্লাহ তা‘আলার বাণী: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

﴿وَٱلۡعَصۡرِ1 إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَفِي خُسۡرٍ2 إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلۡحَقِّ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلصَّبۡرِ3

“সময়ের শপথ (১) নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মাঝে নিপতিত (২) কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে আর পরস্পরকে উপদেশ দিয়েছে হকের এবং উপদেশ দিয়েছে সবরের।”(৩)1

শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: ‘যদি আল্লাহ তার মাখলুকের কাছে এই সূরা ছাড়া কোনো প্রমাণ (হুজ্জাত) নাযিল না করতেন, তবুও তা তাদের জন্য যথেষ্ট হত।’ বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন (১খ., ৪৫পৃ.):অধ্যায়: কথা ও আমলের আগে ইলম অর্জন করতে হবে। দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী:

﴿فَٱعۡلَمۡ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ وَٱسۡتَغۡفِرۡ لِذَنۢبِكَ...

“সুতরাং তুমি জেনে রেখ যে, আল্লাহ ছাড়া [সত্য] কোনো ইলাহ নেই। আর তুমি তোমার ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) কর।”2 তিনি আমল ও কথার পূর্বেই ইলম দ্বারা শুরু করেছেন।”

(তুমি জেনে রেখ), আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন! প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপরে ওয়াজিব হচ্ছে এই তিনটি মাসআলা শিক্ষা করা এবং তার উপরে আমল করা।

প্রথম: নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, রিযিক দিয়েছেন, আমাদেরকে অনর্থক ছেড়ে দেননি; বরং তিনি আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাঁর অনুসরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে তার অবাধ্য হবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿إِنَّآ أَرۡسَلۡنَآ إِلَيۡكُمۡ رَسُولٗا شَٰهِدًا عَلَيۡكُمۡ كَمَآ أَرۡسَلۡنَآ إِلَىٰ فِرۡعَوۡنَ رَسُولٗا15 فَعَصَىٰ فِرۡعَوۡنُ ٱلرَّسُولَ فَأَخَذۡنَٰهُ أَخۡذٗا وَبِيلٗا16

“নিশ্চয় আমরা তোমাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছি তোমাদের উপর সাক্ষীস্বরূপ, যেমন ফির‘আউনের কাছে রাসূল পাঠিয়েছিলাম। (১৫)

ফির‘আউন উক্ত রাসূলের অবাধ্য হল যার ফলে আমি তাকে অত্যন্ত শক্তভাবে পাকড়াও করলাম।”(১৬)3 সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত: ১৫, ১৬।

দ্বিতীয়: নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট নন যে, কাউকে তার সাথে ইবাদাতে শরীক করা হোক, না কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতা আর না কোনো প্রেরিত নবী। এর দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী:

﴿وَأَنَّ ٱلۡمَسَٰجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدۡعُواْ مَعَ ٱللَّهِ أَحَدٗا18

“আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। কাজেই আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।”4 সূরা আল-জিন: আয়াত:১৮।

তৃতীয়: যে ব্যক্তি রাসূলের অনুসরণ করল ও আল্লাহকে এক জানল তার জন্য সে ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করা জায়েয হবে না যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে; যদিও সে তার সবচেয়ে নিকটের হয়। দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী:

﴿لَّا تَجِدُ قَوۡمٗا يُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ يُوَآدُّونَ مَنۡ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوۡ كَانُوٓاْ ءَابَآءَهُمۡ أَوۡ أَبۡنَآءَهُمۡ أَوۡ إِخۡوَٰنَهُمۡ أَوۡ عَشِيرَتَهُمۡۚ أُوْلَٰٓئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ ٱلۡإِيمَٰنَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٖ مِّنۡهُۖ وَيُدۡخِلُهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَاۚ رَضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُۚ أُوْلَٰٓئِكَ حِزۡبُ ٱللَّهِۚ أَلَآ إِنَّ حِزۡبَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ22

“আপনি পাবেন না আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমানদার এমন কোনো সম্প্রদায়, যারা ভালবাসে তাদেরকে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে। হোক না এ বিরুদ্ধাচারীরা তাদের পিতা, পুত্ৰ, ভাই অথবা এদের জ্ঞাতি-গোত্র। এদের অন্তরে আল্লাহ লিখে দিয়েছেন ঈমান এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা। আর তিনি তাদেরকে প্ৰবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখ, নিশ্চয় আল্লাহর দলই সফলকাম।”5 সূরা আল-মুজাদালাহ: আয়াত: ২২।

 


হানিফিয়্যাহ হচ্ছে: ইবরাহীমের ধর্ম। আর তা হচ্ছে: শুধু এক আল্লাহর ইবাদাত করা

(জেনে রেখ), আল্লাহ তোমাকে তাঁর আনুগত্যের জন্য সঠিক পথ প্রদর্শণ করুন, ইবরাহীমের মিল্লাত হানিফিয়্যাহ হচ্ছে তোমার একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা তাঁর জন্যে দীনকে খালিস করে। আল্লাহ সকল মানুষকে এরই আদেশ করেছেন আর এ কারণেই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿وَمَا خَلَقۡتُ ٱلۡجِنَّ وَٱلۡإِنسَ إِلَّا لِيَعۡبُدُونِ56

“আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এ জন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে “6 তারা আমার ইবাদাত করবে অর্থ: আমাকে এক জানবে।

আর আল্লাহ যার নির্দেশ দিয়েছেন তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাওহীদ, আর তা হচ্ছে: ইবাদতকে আল্লাহর সঙ্গে খাস করা।

আর আল্লাহ যার থেকে নিষেধ করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো শিরক। আর তা হচ্ছে: আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে আহবান করা। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَلَا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡـٔٗا...

“আর তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাঁর সাথে কোনো জিনিসকে শরীক কর না।”7

যখন তোমাকে জিজ্ঞেস করা হয়: সেই তিনটি মূলনীতি কী, যা মানুষের জানা ওয়াজিব?

তুমি বল, বান্দার তার রবকে, তার দীনকে ও তার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা।

যখন তোমাকে জিজ্ঞেস করা হয়: তোমার রব কে?

তখন তুমি বল, আমার রব আল্লাহ। যিনি আমাকে এবং সকল সৃষ্টিজগতকে প্রতিপালন করেছেন তাঁর নি‘আমাত দ্বারা। তিনিই আমার মাবূদ, তিনি ছাড়া আমার আর কোনো মাবূদ নেই। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ2

“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, যিনি সৃষ্টিজগতের রব।”8 আল্লাহ ছাড়া যা কিছু আছে সবই সৃষ্টি। আর আমি সেই সৃষ্টির একজন।

যখন তোমাকে বলা হয়: তুমি কিভাবে তোমার রবকে চিনেছো?

তখন তুমি বল: তাঁর আয়াতসমূহ (নিদর্শনাবলী) ও মাখলূকদের দ্বারা। আর তাঁর আয়াতসমূহের মধ্যে রয়েছে: রাত ও দিন, সূর্য ও চাঁদ। আর তাঁর মাখলুকের মধ্যে রয়েছে: সাত আসমান, সাত যমীন এবং যা তার অভ্যন্তরে রয়েছে ও যা তার মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَمِنۡ ءَايَٰتِهِ ٱلَّيۡلُ وَٱلنَّهَارُ وَٱلشَّمۡسُ وَٱلۡقَمَرُۚ لَا تَسۡجُدُواْ لِلشَّمۡسِ وَلَا لِلۡقَمَرِ وَٱسۡجُدُواْۤ لِلَّهِۤ ٱلَّذِي خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمۡ إِيَّاهُ تَعۡبُدُونَ37

“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সিজ্দা করো না, চাঁদকেও নয়; আর সিজ্দা কর আল্লাহ্কে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদাত কর।”9 সূরা ফুসসিলাত: আয়াত: ৩৭।

আর আল্লাহ তা‘আলা বাণী:

﴿إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يُغۡشِي ٱلَّيۡلَ ٱلنَّهَارَ يَطۡلُبُهُۥ حَثِيثٗا وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ وَٱلنُّجُومَ مُسَخَّرَٰتِۭ بِأَمۡرِهِۦٓۗ أَلَا لَهُ ٱلۡخَلۡقُ وَٱلۡأَمۡرُۗ تَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ54

“নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর উঠেছেন। তিনিই দিনকে রাত দিয়ে ঢেকে দেন, তাদের একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে। আর সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি, যা তাঁরই হুকুমের অনুগত। জেনে রেখ, সৃজন ও আদেশ তাঁরই। সৃষ্টিজগতের রব আল্লাহ কত বরকতময়।”10 সূরা আরাফ: আয়াত :৫৪।

আর রবই হলেন মা‘বূদ। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱعۡبُدُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُمۡ وَٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ21 ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ فِرَٰشٗا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءٗ وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَأَخۡرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزۡقٗا لَّكُمۡۖ فَلَا تَجۡعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادٗا وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ22

“হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রব এর ‘ইবাদাত করো যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার(২১)

যিনি যমীনকে তোমাদের জন্য বিছানা ও আসমানকে করেছেন ছাদ এবং আকাশ হতে পানি অবতীর্ণ করে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেছেন। কাজেই তোমরা জেনে শুনে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করিও না।”11 সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১-২২।

ইবনু কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “এসব বস্তুর সৃষ্টিকর্তাই ইবাদাতের যোগ্য।”

 


আল্লাহ যেসব ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন তার প্রকারভেদ

আল্লাহ যেসব ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন তার প্রকারভেদ, যেমন: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান। এর মধ্যে আরো রয়েছে: দু‘আ, ভয়, আশা, তাওয়াক্কুল, আগ্রহ, ভীতি, নম্রতা, আশংকা, বিনয়াবনত হওয়া, সাহায্য প্রার্থনা করা, আশ্রয় চাওয়া, ফরিয়াদ তলব করা, যবেহ করা, মানত করাসহ আরো অন্যান্য ইবাদাত, যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ আদেশ করেছেন, তার সম্পূর্ণটুকুই আল্লাহর জন্য। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَأَنَّ ٱلۡمَسَٰجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدۡعُواْ مَعَ ٱللَّهِ أَحَدٗا18

“আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। কাজেই আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।”12 সূরা আল-জিন: আয়াত:১৮।

আর যে ব্যক্তি এগুলো থেকে কোনো জিনিস গায়রুল্লাহকে সোপর্দ করবে, সে কাফির-মুশরিক। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَمَن يَدۡعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ لَا بُرۡهَٰنَ لَهُۥ بِهِۦ فَإِنَّمَا حِسَابُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦٓۚ إِنَّهُۥ لَا يُفۡلِحُ ٱلۡكَٰفِرُونَ117

“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে, যার ব্যাপারে তার নিকট কোনো প্ৰমাণ নেই; তার হিসাব তো তার রব-এর নিকটই আছে; নিশ্চয় কাফেররা সফলকাম হবে না।”13 সূরা আল-মু‘মিনূন, আয়াত: ১১৭।

আর হাদীসে এসেছে:

"الدُّعَاءُ مُخُّ العِبَادَةِ".

(দু‘আ হচ্ছে ইবাদতের মগজ)14 এর দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدۡعُونِيٓ أَسۡتَجِبۡ لَكُمۡۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسۡتَكۡبِرُونَ عَنۡ عِبَادَتِي سَيَدۡخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ60

“আর তোমাদের রব বলেছেন: 'তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহংকারবশে আমার 'ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।”15 সূরা গাফির, আয়াত: ৬০।

ভয়ের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿...فَلَا تَخَافُوهُمۡ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

“সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় কর না: বরং আমাকে ভয় কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।”16 সূরা আলে ইমরান: আয়াত : ১৭৫।

আশার দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿...فَمَن كَانَ يَرۡجُواْ لِقَآءَ رَبِّهِۦ فَلۡيَعۡمَلۡ عَمَلٗا صَٰلِحٗا وَلَا يُشۡرِكۡ بِعِبَادَةِ رَبِّهِۦٓ أَحَدَۢا

“সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ আশা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে অন্য কাউকে শরীক না করে’।”17 সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ১১০।

তাওয়াক্কুলের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿...وَعَلَى ٱللَّهِ فَتَوَكَّلُوٓاْ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

“যদি তোমরা মুমিন হও, তাহলে আল্লাহর ওপরই ভরসা করবে।”18 সূরা আল-মায়েদা: ২৩।

﴿...وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُ...

“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।”19 সূরা আত্ব-ত্বলাক, আয়াত: ৩।

আগ্রহ, ভীতি ও বিনম্রতার দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿...إِنَّهُمۡ كَانُواْ يُسَٰرِعُونَ فِي ٱلۡخَيۡرَٰتِ وَيَدۡعُونَنَا رَغَبٗا وَرَهَبٗاۖ وَكَانُواْ لَنَا خَٰشِعِينَ

“নিশ্চয় তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত। আর আমাকে আগ্রহ ও ভীতি সহকারে ডাকত। আর তারা ছিল আমার নিকট বিনম্র।”20

আশংকা (জনিত ভয়) এর দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿...فَلَا تَخۡشَوۡهُمۡ وَٱخۡشَوۡنِ...

“সুতরাং তোমরা তাদের থেকে আশংকা জনিত ভয় করো না, আর আমাকেই ভয় করো।”21 সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩।

বিনয়াবনত হওয়ার দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَأَنِيبُوٓاْ إِلَىٰ رَبِّكُمۡ وَأَسۡلِمُواْ لَهُ...

“এবং তোমরা তোমাদের রবের প্রতি বিনয়াবনত হও আর তার প্রতিই আত্মসমর্পণ কর।”22 সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৪।

সাহায্য প্রার্থনার দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿إِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَإِيَّاكَ نَسۡتَعِينُ5

“আমরা শুধু আপনারই ‘ইবাদাত করি এবং শুধু আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।”23 আল-ফাতিহা, আয়াত: ০৫।

হাদীসে এসেছে:

"إِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ".

“যখন তুমি সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করবে।”24

আশ্রয় প্রার্থনার দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ1 مَلِكِ النَّاسِ2

“বলুন, ‘আমি আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে। (১)

মানুষের অধিপতির কাছে।”(২)25

ফরিয়াদ তলব করার দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿إِذۡ تَسۡتَغِيثُونَ رَبَّكُمۡ فَٱسۡتَجَابَ لَكُمۡ...

“আর স্মরণ কর, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকটে সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদেরকে জবাব দিলেন।”26 আল-আনফাল, আয়াত: ০৯।

যবেহ এর দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿قُلۡ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحۡيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ162 لَا شَرِيكَ لَهُۥ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ المُسْلِمِينَ163

“বলুন, ‘আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের রব আল্লাহরই জন্য।” (১৬২)

তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।” (১৬৩)27 সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৬২, ১৬৩।

আর হাদীস থেকে দলীল হচ্ছে:

"لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ".

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া কারো জন্যে যবেহ করল, আল্লাহ তাকে লা‘নত প্রদান করেছেন।”28

মানতের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿يُوفُونَ بِٱلنَّذۡرِ وَيَخَافُونَ يَوۡمٗا كَانَ شَرُّهُۥ مُسۡتَطِيرٗا7

“তারা মানত পূর্ণ করে এবং সে দিনের ভয়ে করে, যে দিনের অকল্যাণ হবে ব্যাপক।”29 সূরা আদ-দাহর, আয়াত:৭।

 

 

দ্বিতীয় মূলনীতি: দীন ইসলামকে দলীলসহ জানা

আর তা হচ্ছে: তাওহীদসহ আল্লাহর জন্যে আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্যসহ তাঁর অনুগত হওয়া এবং শিরক হতে মুক্ত থাকা। এর তিনটি স্তর রয়েছে:

(ইসলাম), (ঈমান) এবং (ইহসান)। আর প্রত্যেক স্তরেরই কতিপয় রুকন রয়েছে।

 

প্রথম স্তর: ইসলাম

ইসলামের রুকন পাঁচটি: সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমাধানে সিয়াম পালন করা এবং আল্লাহর সম্মানীত ঘরের হজ্জ পালন করা।

সাক্ষ্য দেওয়ার দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী:

﴿شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَأُوْلُواْ ٱلۡعِلۡمِ قَآئِمَۢا بِٱلۡقِسۡطِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ18

“আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আর মালায়েকা ও জ্ঞানীগণও। তিনি ন্যায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”30 সূরা আলে ইমরান: আয়াত : ১৮। এর অর্থ হচ্ছে: এক আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মা‘বূদ নেই। ‘লা ইলাহা’ এটি আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করা হয় তাদের সবাইকে নাকচ করে দেয়। আর ‘ইল্লাল্লাহ’ এক আল্লাহর জন্যে ইবাদতকে সাব্যস্ত করে। যেমন আল্লাহর রাজত্বে তাঁর কোনো শরীক নেই, তেমন তাঁর ইবাদতেও তাঁর কোনো শরীক নেই। লা-ইলাহা ইল্লাল্লার ব্যাখ্যাকে আরো স্পষ্ট করে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوۡمِهِۦٓ إِنَّنِي بَرَآءٞ مِّمَّا تَعۡبُدُونَ26 إِلَّا ٱلَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينَ 27 وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ28

“স্মরণ কর! যখন ইবরাহীম তার পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, নিশ্চয় আমি তোমরা যা কিছুর ইবাদাত কর, তা থেকে মুক্ত। তবে তিনি ব্যতীত যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর নিশ্চয় তিনি শীঘ্রই আমাকে সৎপথে পরিচালিত করবেন। (২৭)

“আর এ ঘোষণাকে তিনি তার উত্তরসূরীদের মধ্যে চিরন্তন বাণী বানিয়েছেন, যাতে তারা ফিরে আসে।”31 আয-যুখরুফ, আয়াত: ২৬-২৭-২৮।

আর আল্লাহ তা‘আলা বাণী:

﴿قُلۡ يَٰٓأَهۡلَ ٱلۡكِتَٰبِ تَعَالَوۡاْ إِلَىٰ كَلِمَةٖ سَوَآءِۭ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكُمۡ أَلَّا نَعۡبُدَ إِلَّا ٱللَّهَ وَلَا نُشۡرِكَ بِهِۦ شَيۡـٔٗا وَلَا يَتَّخِذَ بَعۡضُنَا بَعۡضًا أَرۡبَابٗا مِّن دُونِ ٱللَّهِۚ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَقُولُواْ ٱشۡهَدُواْ بِأَنَّا مُسۡلِمُونَ64

“বলুন, ‘হে কিতাবীগণ! তোমরা এমন কথার দিকে আস, যেটি আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান। আর তা হচ্ছে, আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত না করি। আর তার সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করি এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসাবে গ্রহণ না করি’। তারপর যদি তারা বিমুখ হয় তবে বল, ‘তোমরা সাক্ষী থাক যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম।”32 আলু ইমরান : ৬৪

‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ সাক্ষীর দলীল আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿لَقَدۡ جَآءَكُمۡ رَسُولٞ مِّنۡ أَنفُسِكُمۡ عَزِيزٌ عَلَيۡهِ مَا عَنِتُّمۡ حَرِيصٌ عَلَيۡكُم بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ رَءُوفٞ رَّحِيمٞ128

“অবশ্যই তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য হতেই একজন রসূল এসেছেন, তোমাদের যে দুঃখ-কষ্ট হয়ে থাকে তা তার জন্য বড়ই বেদনাদায়ক। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি করুণাশীল ও অতি দয়ালু।”33 আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২৮। ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ এর অর্থ হচ্ছে: তিনি যা আদেশ করেছেন তাতে তার আনুগত্য করা, তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন, তাতে তাকে বিশ্বাস করা, তিনি যা হতে নিষেধ করেছেন ও ধমক দিয়েছেন তা হতে দূরে থাকা এবং তিনি যার অনুমোদন দিয়েছেন তা ছাড়া আল্লাহর ইবাদাত না করা।

সালাত, যাকাত ও তাওহীদের ব্যাখ্যার দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী:

﴿وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ5

“আর তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে এবং সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্ৰদান করে। আর এটাই সঠিক দীন।”34 আল-বাইয়িনাহ, আয়াত: ৫।

সিয়াম পালনের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ183

“হে মুমিনগণ ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পার।”35 আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১৮৩।

হজ্জের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿...وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ ٱلۡعَٰلَمِينَ97

“এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয। আর যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।”36 সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৯৭।

 

দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে: ঈমান

ঈমান হলো সত্তরের বেশী কয়েকটি শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম (শাখা) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্ন (শাখা) রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস (পাথর বা কাঁটা ইত্যাদি) দূরীভূত করা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।

ঈমানের রুকন ছয়টি: “তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ,আখেরাত দিবস ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।”

এই ছয়টি রুকনের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿لَّيۡسَ ٱلۡبِرَّ أَن تُوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ قِبَلَ ٱلۡمَشۡرِقِ وَٱلۡمَغۡرِبِ وَلَٰكِنَّ ٱلۡبِرَّ مَنۡ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلۡكِتَٰبِ وَٱلنَّبِيِّـۧنَ...

“ভালো কাজ শুধু এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে; বরং ভালো কাজ হল যে ব্যক্তি ঈমান আনে আল্লাহ, শেষ দিবস, মালায়েকাগণ, কিতাব ও নবীগণের উপরে।”37 আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১৭৭।

তাকদীরের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿إِنَّا كُلَّ شَيۡءٍ خَلَقۡنَٰهُ بِقَدَرٖ49

“নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক জিনিস সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।”38 আল-ক্বামার, আয়াত: ৪৯।

 

তৃতীয় স্তর হচ্ছে: ‘ইহসান’, এর একটি রুকন

তা হচ্ছে: তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে এমনভাবে যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদিও তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন। এর দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَواْ وَّٱلَّذِينَ هُم مُّحۡسِنُونَ128

“নিশ্চয় আল্লাহ্ তাদের সঙ্গে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা মুহসিন।”39 আন-নাহল, আয়াত: ১২৮।

আর আল্লাহ তা‘আলা বাণী:

﴿وَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱلۡعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ217 ٱلَّذِي يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ218 وَتَقَلُّبَكَ فِي ٱلسَّٰجِدِينَ219 إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ 220

“আর আপনি নির্ভর করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু আল্লাহর উপর।(২১৭)

যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি দাঁড়ান।(২১৮)

এবং সিজদাকারীদের মাঝে আপনার উঠাবসা।(২১৯)

তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”40 শু‘আরা, আয়াত: ২১৭-২২০।

আর আল্লাহ তা‘আলা বাণী:

﴿وَمَا تَكُونُ فِي شَأۡنٖ وَمَا تَتۡلُواْ مِنۡهُ مِن قُرۡءَانٖ وَلَا تَعۡمَلُونَ مِنۡ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيۡكُمۡ شُهُودًا إِذۡ تُفِيضُونَ فِيهِ...

“আর তুমি যে অবস্থাতেই থাক না কেন, আর যা কিছুই তিলাওয়াত কর না কেন আল্লাহর পক্ষ হতে কুরআন থেকে এবং তোমরা যে আমলই কর না কেন, আমি তোমাদের উপর সাক্ষী থাকি, যখন তোমরা তাতে গভীরভাবে মনোযোগী হও।”41 ইউনুস, আয়াত: ৬১।

সুন্নাহ হতে দলীল: প্রসিদ্ধ হাদীসে জিবরীল, যা উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:

"بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ، إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ، شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ، حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ! أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلَامِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: الإِسْلَامُ: أَنْ تَشْهَدَ أَلَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ البَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا، قَالَ: صَدَقْتَ - فَعَجِبْنَا لَهُ، يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ –.

قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ؟ قَالَ: أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَاليَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ، قَالَ: صَدَقْتَ.

قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ؟ قَالَ: أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ.

قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ؟ قَالَ: مَا المَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ.

قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا؟ قَالَ: أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الحُفَاةَ العُرَاةَ العَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ، يَتَطَاوَلُونَ فِي البُنْيَانِ.

قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا، ثُمَّ قَالَ لِي: يَا عُمَرُ! أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ، أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ".

একদা আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসা ছিলাম, তখন একজন লোক আগমন করলেন, যিনি ধবধবে সাদা কাপড় পরিহিত ও কুচকুচে কালো চুলের অধিকারী ছিলেন। তার গায়ে সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না আবার আমরা কেউ তাকে চিনতেও পারেনি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসে তার হাঁটুর সাথে হাঁটু লাগিয়ে দিলেন আর তার হাতের তালুদ্বয় তার উরুদ্বায়ের উপরে রাখলেন আর বললেন: হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: “তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ (মাবূদ) নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমাধানের সিয়াম পালন করবে এবং যদি পথ অতিক্রম করার সামর্থ্য হয় তাহলে বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে।” তিনি বললেন: আপনি সত্যই বলেছেন। (বর্ণনাকারী উমার বললেন:) আমরা তার কথা শুনে অবাক হলাম; কেননা তিনি প্রশ্ন করছেন আবার তার জবাবের সত্যায়নও করছেন।

এরপর তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তুমি ঈমান আনবে আল্লাহ, তাঁর মালায়েকাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং তাকদীর ও তার ভালো-মন্দের প্রতি। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে যেন তাকে দেখছো, যদি তাকে না দেখো তাহলে অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামাত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি বেশি কিছু জানে না। অতঃপর বললেন: তাহলে আমাকে তার নির্দশনসমূহ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে এবং তুমি (এককালের) নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র, বকরীর রাখালদের দালান-কোঠায় গৰ্ব-অহংকার করতে দেখবে। তিনি (বর্ণনাকারী উমার) বলেন: এরপর লোকটি চলে গেলেন। আমরা বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: হে উমার! তুমি কি জান প্রশ্নকারী কে? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: এ হলো জিবরীল। তোমাদের কাছে তোমাদেরকে তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসছেন।42

 

তৃতীয় মূলনীতি: তোমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা

তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনু আব্দিল মুত্তালিব ইবনু হাশিম। আর হাশিম হলেন কুরাইশের মধ্য হতে, কুরাইশ আরবদের মধ্য হতে আর আরব ইবরাহীম খলীলের পুত্র ইসমাঈলের বংশধর। তার উপরে এবং আমাদের নবীর উপরে আল্লাহর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

তার মোট তেষট্টি বছর বয়স হয়েছিল, যার মধ্যে চল্লিশ বছর নবুওয়তের আগে এবং তেইশ বছর নবী ও রসূল হিসেবে। ‘اقرأ’ দ্বারা তিনি নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছেন আর ‘المدثر’ দ্বারা তিনি রিসালাত লাভ করেছেন। তার শহর হলো মক্কা। আল্লাহ তাকে শিরক সম্পর্কে সতর্কতা ও তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡمُدَّثِّرُ1 قُمۡ فَأَنذِرۡ2 وَرَبَّكَ فَكَبِّرۡ3 وَثِيَابَكَ فَطَهِّرۡ4 وَٱلرُّجۡزَ فَٱهۡجُرۡ5 وَلَا تَمۡنُن تَسۡتَكۡثِرُ6 وَلِرَبِّكَ فَٱصۡبِرۡ7

“হে বস্ত্ৰাচ্ছাদিত (১)

উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন (২)

আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন (৩)

আর আপনার কাপড় পবিত্র করুন (৪)

আর শিরক পরিত্যাগ করুন (৫)

আর বেশী পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করবেন না (৬)

এবং আপনার রবের উদ্দেশ্যে সবর কর।”(৭)43 আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ১-৭।

উঠুন এবং সতর্ক করুন, এর অর্থ হচ্ছে: তিনি শিরক হতে সতর্ক করবেন আর তাওহীদের দিকে দা‘ওয়াত দিবেন। ‘আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন’: তাওহীদের মাধ্যমে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করুন। আর আপনার পরিচ্ছদ পবিত্ৰ করুন: আপনার আমলসমূহকে শিরক হতে পবিত্র করুন। আর শিরক / মূর্তি পরিহার করুন। আয়াতে الرجز শব্দের অর্থ: মূর্তিসমূহ। আর তা পরিহার করা হলো, তা এবং তার পূজারীদের পরিহার করা এবং তার থেকে ও তার পূজারীদের থেকে মুক্ত থাকা।

এর উপর ভিত্তি করে তিনি দশ বছর তাওহীদের দিকে আহবান করেন। দশ বছর পরে তাকে আসমানে নেওয়া হয় এবং তার উপরে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়। তিনি মক্কায় তিন বছর সালাত আদায় করেন এবং তারপর তাকে মদীনায় হিজরত করার আদেশ দেওয়া হয়। হিজরত হচ্ছে: শিরকের এলাকা থেকে ইসলামের এলাকাতে স্থানান্তর হওয়া। এই উম্মাহর উপর শিরকের এলাকা থেকে ইসলামের এলাকায় হিজরত করা ফরয। আর তা কিয়ামত কায়েম হওয়ার আগ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এর দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ تَوَفَّىٰهُمُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ ظَالِمِيٓ أَنفُسِهِمۡ قَالُواْ فِيمَ كُنتُمۡۖ قَالُواْ كُنَّا مُسۡتَضۡعَفِينَ فِي ٱلۡأَرۡضِۚ قَالُوٓاْ أَلَمۡ تَكُنۡ أَرۡضُ ٱللَّهِ وَٰسِعَةٗ فَتُهَاجِرُواْ فِيهَاۚ فَأُوْلَٰٓئِكَ مَأۡوَىٰهُمۡ جَهَنَّمُۖ وَسَآءَتۡ مَصِيرًا97 إِلَّا ٱلۡمُسۡتَضۡعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلۡوِلۡدَٰنِ لَا يَسۡتَطِيعُونَ حِيلَةٗ وَلَا يَهۡتَدُونَ سَبِيلٗا98 فَأُولَٰئِكَ عَسَى اللَّهُ أَن يَعْفُوَ عَنْهُمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَفُوًّا غَفُورًا 99

“যারা নিজেদের উপর যুলুম করে তাদের প্রাণ গ্রহণের সময় ফেরেশতাগণ বলে, ‘তোমরা কি অবস্থায় ছিলে?’ তারা বলে, ‘দুনিয়ায় আমরা অসহায় ছিলাম;’ তারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি এমন প্রশস্ত ছিল না যেখানে তোমরা হিজরত করতে?’ এদেরই আবাসস্থল জাহান্নাম, আর তা কত মন্দ আবাস! (৯৭)

তবে যেসব অহসায় পুরুষ, নারী ও শিশু কোনো উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোনো পথও পায় না। (৯৮)

আল্লাহ অচিরেই তাদের পাপ মোচন করবেন, কারণ আল্লাহ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।”(৯৯)44 আন-নিসা, আয়াত: ৯৭-৯৯।

আর আল্লাহ তা‘আলা বাণী:

﴿يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّ أَرۡضِي وَٰسِعَةٞ فَإِيَّٰيَ فَٱعۡبُدُونِ56

“হে আমার মুমিন বান্দাগন! নিশ্চয় আমার যমীন প্রশস্ত; কাজেই তোমরা আমারই ইবাদাত কর।”45 আল-আনকাবূত, আয়াত: ৫৬।

ইমাম বাগাভী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: যেসব মুসলিম হিজরত না করে মক্কায় রয়েগিয়েছিল তারাই এই আয়াতটি নাযিল হওয়ার কারণ। আল্লাহ তাদেরকে ঈমানের নামে (মুমিন বলে) আহবান করেছেন।

সুন্নাহ হতে হিজরতের দলীল হচ্ছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী:

"لَا تَنْقَطِعُ الهِجْرَةُ حَتَّى تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ، وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا".

“হিজরত ততদিন পর্যন্ত শেষ হবে না যতদিন না তাওবার পথ খোলা রয়েছে, আর তাওবা ততদিন পর্যন্ত শেষ হবে না, যতদিন না সূর্য তার পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে।”46 যখন তিনি মদীনায় স্থির হলেন, তখন তাকে শরীয়াতের বাকি বিধানগুলো দেওয়া হয়, যেমন: যাকাত, সিয়াম, হজ্জ, আজান, জিহাদ, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ হতে নিষেধ এবং ইসলামের অন্যান্য শরীয়াতসমূহ। আর এর উপর তিনি দশ বছর অবস্থান করেন।

তিনি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তার উপরে নাযিল হোক) মারা গেছেন কিন্তু তার দীন অবশিষ্ট। এটাই তার দীন। কোনো কল্যাণ নেই যার পথ তাঁর উম্মাহকে দেখাননি আর কোনো অকল্যাণ নেই যার থেকে তাঁর উম্মাহকে সতর্ক করেননি। আর তিনি তাঁর উম্মাতকে যে কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন তা হচ্ছে তাওহীদ এবং এমন সকল কাজ যাতে আল্লাহ খুশি ও সন্তুষ্ট হন। আর যে অকল্যাণ হতে তিনি তাঁর উম্মাতকে সতর্ক করেছেন তা হচ্ছে শিরক এবং যা আল্লাহ অপছন্দ করেন ও প্রত্যাখ্যান করেন। আল্লাহ তাকে সমস্ত মানুষের জন্য প্রেরণ করেছিলেন। এবং তার আনুগত্য ফরয করেছিলেন সমস্ত জিন ও ইনসানের উপরে। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا...

“বলুন, হে মানব সম্প্রদায়, আমি তোমাদের সকলের নিকট আল্লাহর রাসূল।”47 আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মাধ্যমে দীনকে পূর্ণ করেছেন।

এর দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿...ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗا...

“আজকের দিন আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করেছি। আর তোমাদের ওপর আমার নিআমতকে সম্পন্ন করছি। আর ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসেবে মনোনীত করছি।”48 আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿إِنَّكَ مَيِّتٞ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ30 ثُمَّ إِنَّكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ عِندَ رَبِّكُمۡ تَخۡتَصِمُونَ31

“আপনি তো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।

তারপর কিয়ামতের দিন নিশ্চয় তোমরা তোমাদের রবের সামনে পরস্পর বাক-বিতণ্ডা করবে।”49 আয-যুমার, আয়াত: ৩০-৩১। আর মানুষেরা যখন মারা যাবে, তখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে, দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী:

﴿مِنۡهَا خَلَقۡنَٰكُمۡ وَفِيهَا نُعِيدُكُمۡ وَمِنۡهَا نُخۡرِجُكُمۡ تَارَةً أُخۡرَىٰ55

“আমরা মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি , তাতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেব এবং তা থেকেই পুনর্বার তোমাদেরকে বের করব।”50 ত্বহা, আয়াত: ৫৫।

আর আল্লাহ তা‘আলা বাণী:

﴿وَٱللَّهُ أَنۢبَتَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ نَبَاتٗا17 ثُمَّ يُعِيدُكُمۡ فِيهَا وَيُخۡرِجُكُمۡ إِخۡرَاجٗا18

“তিনি তোমাদেরকে উদ্ভূত করেছেন মাটি হতে।(১৭)

“তারপর তাতে তিনি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেবেন এবং পরে নিশ্চিতভাবে বের করে নিবেন।”(১৮)51 নূহ, আয়াত: ১৭-১৮। পুনরুত্থানের পরে তাদের হিসাব হবে এবং তাদের আমল অনুসারে প্রতিদান পাবে। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لِيَجۡزِيَ ٱلَّذِينَ أَسَٰٓـُٔواْ بِمَا عَمِلُواْ وَيَجۡزِيَ ٱلَّذِينَ أَحۡسَنُواْ بِٱلۡحُسۡنَى 31

“আর আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই। যাতে তিনি তাদের কাজের প্রতিফল দিতে পারেন যারা মন্দ কাজ করে এবং তাদেরকে তিনি উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন যারা সৎকাজ করে।”52 আন-নাজম, আয়াত: ৩১।

যে পুনরুত্থানকে মিথ্যা মনে করল, সে কুফুরী করল। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿زَعَمَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَن لَّن يُبۡعَثُواْۚ قُلۡ بَلَىٰ وَرَبِّي لَتُبۡعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلۡتُمۡۚ وَذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ7

“যারা কুফুরী করেছে তারা ধারণা করে যে, তাদেরকে কখনো পুনরুত্থিত করা হবে না। বলুন, ‘অবশ্যই হ্যাঁ, আমার রবের শপথ ! তোমাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করা হবে। তারপর তোমরা যা করতে সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে অবশ্যই অবহিত করা হবে। আর তা আল্লাহর পক্ষে সহজ।”53 আত-তাগাবুন, আয়াত: ৭। আর আল্লাহ তা‘আলা সকল রসূলকে সুসংবাদ দানকারী ও ভীতি প্রদর্শণকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন, দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿رُّسُلٗا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى ٱللَّهِ حُجَّةُۢ بَعۡدَ ٱلرُّسُلِ...

“সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শণকারী রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণ আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে।”54 আন-নিসা, আয়াত: ১৬৫। আর তাদের [রাসূলদের] মধ্যে প্রথম হচ্ছেন নূহ আলাইহিস সালাম আর শেষ হচ্ছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর তিনিই সর্বশেষ নবী।

নূহ ‘আলাইহিস সালাম তাদের মধ্যে প্রথম এর দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿إِنَّآ أَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡكَ كَمَآ أَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ نُوحٖ وَٱلنَّبِيِّـۧنَ مِنۢ بَعۡدِهِ...

“নিশ্চয় আমি তোমার নিকট অহী পাঠিয়েছি, যেমন অহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের নিকট।”55 আন-নিসা, আয়াত: ১৬৩। আর আল্লাহ তা‘আলা নূহ থেকে মুহাম্মাদ পর্যন্ত রাসূলদেরকে যেসব উম্মাতের কাছে প্রেরণ করেছেন তারা তাদের উম্মতকে এক আল্লাহর ইবাদাতের আদেশ করতেন এবং তাদেরকে তাগুত্বের ইবাদাত হতে নিষেধ করতেন। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَ...

“আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে রাসূল প্রেরণ করেছি; একারণে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং পরিহার করবে তাগূতকে।”56 আন-নাহল, আয়াত: ৩৬। আল্লাহর উপরে ঈমান আনা ও তাগুতকে অস্বীকার করা আল্লাহ তা‘আলা সকল বান্দার উপরে ফরয করেছেন।

ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা বলেন: তাগুতের অর্থ হচ্ছে: এমন (বাতিল) মা‘বূদ অথবা অনুসরণীয় সত্ত্বা অথবা অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব বান্দা যাকে নিয়ে তার সীমা অতিক্রম করে। তাগুত্ব অনেক: তাদের প্রধান হচ্ছে পাঁচজন: ১) ইবলিস, তার উপর আল্লাহর লা‘নাত করেছেন। ২) যার ইবাদাত করা হয় এমন অবস্থায় যে সে তাতে খুশি ৩) যে মানুষদেরকে তার নিজের ইবাদাতের দিকে আহবান করে ৪) যে গায়েবের ইলমের দাবী করে এবং ৫) যে ব্যক্তি আল্লাহ যা নাযিল করেননি এমন বিষয় দ্বারা ফয়সালা করে।

এর দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿لَآ إِكۡرَاهَ فِي ٱلدِّينِۖ قَد تَّبَيَّنَ ٱلرُّشۡدُ مِنَ ٱلۡغَيِّۚ فَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤۡمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسۡتَمۡسَكَ بِٱلۡعُرۡوَةِ ٱلۡوُثۡقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَاۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ256

“দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই; সত্য পথ সুস্পষ্ট হয়েছে ভ্রান্ত পথ থেকে। অতএব, যে তাগূতকে অস্বীকার করবে ও আল্লাহর উপরে ঈমান আনবে সে এমন এক দৃঢ়তর রজ্জু ধারন করল যা কখনো ছিড়ে যাাবে না। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।”57 আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৬। আর এটিই লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) এর অর্থ।

হাদীসে এসেছে:

"رَأْسُ الأَمْرِ: الإِسْلَامُ، وَعَمُودُهُ: الصَّلَاةُ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ: الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ".

“সকল কাজের শ্রেষ্ঠ হল ইসলাম, যার স্তম্ভ হল সালাত এবং সর্বোচ্চ শিখর হল আল্লাহর পথে জিহাদ।”58 আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

***

সূচিপত্র

 

হানিফিয়্যাহ হচ্ছে: ইবরাহীমের ধর্ম। আর তা হচ্ছে: শুধু এক আল্লাহর ইবাদাত করা 6

আল্লাহ যেসব ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন তার প্রকারভেদ 10

দ্বিতীয় মূলনীতি: দীন ইসলামকে দলীলসহ জানা 16

প্রথম স্তর: ইসলাম 16

দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে: ঈমান 20

তৃতীয় স্তর হচ্ছে: ‘ইহসান’, এর একটি রুকন 21

তৃতীয় মূলনীতি: তোমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা 25

 

***


সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৯।

সূরা আল-মুযযাম্মিলের দু’টি আয়াত: ১৫-১৬।

সূরা আল-জিন: আয়াত:১৮।

সূরা আল-মুজাদালাহ: আয়াত: ২২।

সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬।

সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৬।

সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত: ০২।

সূরা ফুসসিলাত: আয়াত: ৩৭।

সূরা আরাফ: আয়াত :৫৪।

সূরা আল-বাকারার দু’টি আয়াত: ২১-২২।

সূরা আল-জিন: আয়াত:১৮।

সূরা আল-মু‘মিনূন, আয়াত: ১১৭।

তিরমিযী, দু‘আসমূহ (অধ্যায়): ৩৩৭১।

সূরা গাফির, আয়াত: ৬০।

সূরা আলে ইমরান: আয়াত : ১৭৫।

সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ১১০।

সূরা আল-মায়েদা: ২৩।

সূরা আত্ব-ত্বলাক, আয়াত: ৩।

সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৯০।

সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১৫০।

সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৪।

সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত: ০৫।

তিরমিযী, কিয়ামতের বর্ণনা, কোমলতা ও আল্লাহভীতির অধ্যায় (২৫১৬), আহমাদ (১/৩০৮)।

সূরা আন-নাস, আয়াত: ১-২।

সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ০৯।

সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৬২-১৬৩।

মুসলিম, কুরবানী, (১৯৭৮), নাসাঈ, কুরবানী (৪৪২২) এবং আহমাদ (১/১১৮)।

সূরা আল-ইনসান, আয়াত:৭।

সূরা আলে ইমরান: আয়াত : ১৮।

সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ২৬-২৮।

সূরা আলে ইমরান: আয়াত : ৬৪।

সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২৮।

সূরা আল-বাইয়িনাহ, আয়াত: ৫।

সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩।

সূরা আলে ইমরান: আয়াত : ৯৭।

সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৭৭।

সূরা আল-কামার, আয়াত: ৪৯।

সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৮।

সূরা শু‘আরা, আয়াত: ২১৭-২২০।

সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬১।

মুসলিম, ঈমান (৮), তিরমিযী, ঈমান (২৬১০), নাসাঈ, ঈমান ও তার প্রশাখাসমূহ (৪৯৯০), আবূ দাউদ, আস-সুন্নাহ (৪৬৯৫), ইবনু মাযাহ, ভূমিকা (৬৩), আহমাদ (১/৫২)।

সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ১-৭।

সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৯৭-৯৯।

সূরা আল-আনকাবূত, আয়াত: ৫৬।

আবূ দাঊদ, জিহাদ (২৪৭৯), আহমাদ (৪/৯৯), দারিমী, সিয়ার (২৫১৩)।

সূরা আল-আ‘রাফ: আয়াত :১৫৮।

সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩।

সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৩০-৩১।

সূরা ত্বহা, আয়াত: ৫৫।

সূরা নূহ, আয়াত: ১৭-১৮।

সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩১।

সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ৭।

সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৫।

আন-নিসা, আয়াত: ১৬৩।

সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬।

সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৬।

তিরমিযী, ঈমান (২৬১৬)। ইবনু মাযাহ, আল-ফিতান (৩৯৭৩) এবং আহমাদ (৫/২৪৬)।

সূরা আল-আসর, আয়াত: ১-৩।