নারীদের ঋতুস্রাব বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা (বাংলা)

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ রচিত "নারীদের ঋতুস্রাব বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা" এটি একটি গভীর গবেষণামূলক পুস্তিকা, যা কুরআন ও সুন্নাহর উপর ভিত্তি করে এবং এই মাসআলাগুলোতে আলেমদের বক্তব্যের সঠিক উপলব্ধির আলোকে নারীদের (জরায়ু) থেকে নির্গত রক্ত তথা হায়েয, ইস্তেহাযা এবং নিফাস নিয়ে আলোচনা করেছে। এতে রক্তস্রাবের বিধানাবলী বিভিন্ন অবস্থার মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যসমূহের ‍উপর ভিত্তি করে তুলে ধরা হয়েছে এবং মুসলিম নারীদেরকে তাদের দ্বীন বোঝার ক্ষেত্রে হিদায়াত ও প্রশান্তি অর্জনের লক্ষ্যে শরয়ী দলীল উপস্থাপন করা হয়েছে।

  • earth ভাষা
    (বাংলা)
  • earth সংকলন:
    الشيخ محمد بن صالح العثيمين
PHPWord

 

رِسَالَةٌ فِي الدِّمَاءِ الطَّبِيعِيَّةِ لِلنِّسَاءِ

 

নারীদের ঋতুস্রাব বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা

 

 

 

بِقَلَمِ فَضِيلَةِ الشَّيْخِ العَلَّامَةِ

مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ العُثَيْمِينِ

غَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَلِوَالِدَيْهِ وَلِلمُسْلِمِينَ

 

লেখক

সম্মানিত শাইখ আল্লামা

মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন

আল্লাহ তা'আলা তাকে, তার পিতামাতা এবং মুসলিমদেরকে ক্ষমা করুন

 

 

بِسْمِ اللهِ الرَّحمَنِ الرَّحِيمِ

নারীদের ঋতুস্রাব বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করি, এবং তার নিকটই তাওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে এবং আমাদের মন্দ কাজের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়েত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন হিদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গী-সাথী এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত ‍উত্তমভাবে তাদেরকে অনুসরণ করবে তাদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর, নিশ্চয়ই নারীদের (জরায়ু) থেকে নির্গত রক্ত তথা হায়েয, ইস্তেহাযা এবং নিফাস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা স্পষ্ট করা, এর বিধানাবলি জানা এবং এ ব্যাপারে আলেমদের ভুল মতামত থেকে সঠিক মতাতমকে আলাদা করা আবশ্যক। আর কোন মতামত অগ্রগণ্য আর কোনটি দুর্বল- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হবে কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত দলীলের উপর।

১- কেননা এ দু'টিিই হল মৌলিক উৎস, যার উপর আল্লাহ তা'আলার বিধান নির্ভর করে, যার মাধ্যমে আল্লাহ স্বীয় বান্দাগণকে ইবাদতের নির্দেশ ও দায়িত্ব দিয়েছেন।

২- তাছাড়া কুরআন ও সুন্নাহর উপর নির্ভর করার মধ্যে রয়েছে অন্তরের প্রশান্তি, হৃদয়ের প্রফুল্লতা, মনের আনন্দ ও দায়মুক্তি।

৩- এছাড়া, কুরআন সুন্নাহ ব্যতিরেকে অন্যান্য কিছুর ক্ষেত্রে তার স্বপক্ষে দলীল প্রয়োজন হয়, সেগুলো দিয়ে দলীল দেয়া যায় না।

কেননা আল্লাহ তা'আলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ছাড়া অন্য কোন দলীল নেই। অনুরূপভাবে,‌ অগ্রগণ্য মতে আহলুল ইলম সাহাবীগণের কথাও দলীল; তবে শর্ত হলো: কুরআন ও সুন্নাহতে এর বিপরীত কিছু থাকা যাবে না। বা অন্য কোন সাহাবীর বক্তব্যের সাথে তা সাংঘর্ষিক হবে না। যদি কুরআন ও সুন্নাহতে এমন কিছু থাকে যা সাহাবীদের বক্তব্য বিরোধী, তবে কুরআন ও সুন্নাহতে যা আছে তাই গ্রহণ করা ওয়াজীব। আর যদি তা অন্য কোন সাহাবীর বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে দু'টো মতের মধ্যে অগ্রগণ্য মতটি গ্রহণ করতে হবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

﴿...فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ وَأَحۡسَنُ تَأۡوِيلًا﴾

“...অতঃপর কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসূলের নিকট, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান এনে থাক। এ পন্থাই উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর।” [সূরা আন-নিসা: ৫৯]

এটি হলো এসব রক্ত এবং এর বিধি-বিধান সম্বলিত প্রয়োজনীয় সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যাতে নিম্নলিখিত অধ্যায়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: হায়েযের অর্থ ও তার হিকমত

দ্বিতীয় অধ্যায়: হায়েযের সময় ও স্থিতিকাল

তৃতীয় অধ্যায়: হায়েযের বিশেষ অবস্থা

চতুর্থ অধ্যায়: হায়েয এর বিধি-বিধান

পঞ্চম অধ্যায়: ইস্তেহাযা এবং এর বিধি-বিধান

ষষ্ঠ অধ্যায়: নিফাস এবং এর বিধি-বিধান

সপ্তম অধ্যায়: হায়েয বন্ধ রাখা কিংবা চালু করা, গর্ভনিরোধক কিংবা গর্ভপাত করার জন্য কিছু ব্যবহার করা প্রসঙ্গে

 

প্রথম অধ্যায়: হায়েযের অর্থ এবং এর হিকমত

হায়েযের আভিধানিক অর্থ: কোন কিছু প্রবাহিত হওয়া বা চলতে থাকা।

শরীয়তের পরিভাষায়: হায়েয হলো এমন রক্ত যা নির্ধারিত সময়ে কোন কারণ ছাড়াই প্রকৃতিগতভাবে মহিলাদের থেকে নির্গত হয়। সুতরাং তা প্রাকৃতিক রক্ত ​​যার সাথে রোগ, ক্ষত, অকাল গর্ভপাত কিংবা সন্তান জন্মদানের সম্পর্ক নেই। যেহেতু তা প্রাকৃতিক রক্ত, তাই মহিলাদের অবস্থা, পরিবেশ এবং বায়ুমণ্ডল অনুসারে তা ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই এ ব্যাপারে নারীদের একে অপরের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

হায়েযের হিকমত হল: যেহেতু ভ্রূণ তার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় এমন কিছু খেতে পারে না, যা পেটের বাইরে থাকা কেউ খেতে পারে এবং তার প্রতি সবচেয়ে দয়ার্দ্র সৃষ্টিও তার জন্য সেখানে কোন খাদ্য পৌঁছাতে পারেনা; তাই আল্লাহ তা'আলা নারীর মধ্যে রক্ত স্রাব স্থাপন করেন, যা দিয়ে ভ্রূণ তার মাতৃগর্ভে ভক্ষণ এবং হজম ছাড়াই পুষ্টি লাভ করে থাকে। নাভির মাধ্যমে রক্ত শরীরে প্রবেশ করে এবং তা শিরায় মিশে যায়, ফলে তা দ্বারা পুষ্টি লাভ করে। সুতরাং সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ অসীম মহিমাময়।

এটিই হল হায়েযের হিকমত; এজন্যই নারী গর্ভবতী হলে হায়েয বন্ধ হয়ে যায়, এ সময় খুব কমই তাদের হায়েয হয়। অনুরূপভাবে দুগ্ধবতী নারীদেরও হায়েয হওয়ার পরিমাণ খুবই কম, বিশেষ করে দুগ্ধদানের শুরুর দিকে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: হায়েযের সময় ও স্থিতিকাল

এই অধ্যায়ে দুটি বিষয়ে আলোচনা করা হবে:

প্রথম বিষয়: যে বয়সে হায়েয হয়

দ্বিতীয় বিষয়: হায়েযের সময়সীমা

প্রথম বিষয় হলো: সাধারণত বারো থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত হায়েয হয়ে থাকে। কখনো কখনো নারীর অবস্থা, পরিবেশ এবং আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে বারো বছরের আগে কিংবা পঞ্চাশ বছরের পরেও মাসিক হতে পারে।

আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে যে, হায়েয আসার জন্য এমন কোন নির্ধারিত বয়সসীমা আছে কি যে, সে বয়সের আগে কিংবা পরে (রক্ত) আসলে তাকে হায়েয না বলে কলুষিত রক্ত (ইস্তেহাযা) বলা হবে?

এ ব্যাপারে আলেমগণ মতবিরোধ করেছেন; ইমাম দারেমী রাহিমাহুল্লাহ -এ বিষয়ের মতবিরোধ উল্লেখ করার পর- বলেন: আমি মনে করি এ সবই ভুল! কারণ এ সকল মতবিরোধের ভিত্তি হলো (রক্তের) উপস্থিতি। সুতরাং যে অবস্থায় ও যে বয়সেই (রক্তের) উপস্থিতি পাওয়া যাক না কেন, তাকে হায়েয হিসেবে ধরে নেয়া আবশ্যক। আল্লাহই ভালো জানেন।1

আর ইমাম দারেমী রাহিমাহুল্লাহ এই মতামতটিই সঠিক অভিমত। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এর অভিমতও এটিই। সুতরাং যখনই একজন নারী হায়েয দেখতে পায়, সেটা নয় বছর বয়সের কমেই হোক আর পঞ্চাশোর্ধ বয়সেই হোক, তা হায়েয হিসেবেই গণ্য।2 কেননা, যেহেতু আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হায়েযের বিধি-বিধানসমূহকে (রক্তের) উপস্থিতির সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। এর জন্য কোন বয়সসীমা নির্ধারণ করেননি। সুতরাং যার সাথে এর বিধানকে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে, সেই (রক্তের) উপস্থিতিকে ভিত্তি করা আবশ্যক। নির্দিষ্ট বয়সের সাথে একে সীমাবদ্ধ করতে হলে কুরআন-সুন্নাহ থেকে দলীলের প্রয়োজন; অথচ এ ব্যাপারে কোন দলীল নেই।

দ্বিতীয় বিষয় হলো: হায়েযের স্থিতিকাল অর্থাৎ সময়সীমা।

আলেমগণ এ ব্যাপারে ব্যাপক মতবিরোধ করেছেন, তাদের এ বিষয়ে ছয়-সাতটা অভিমত রয়েছে। ইবনে মুনযির রাহিমাহুল্লাহ বলেন: একদল আলেম বলেন: হায়েযের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়কাল নির্ধারিত নেই।3

আমি বলছি: এই উক্তিটি ইতঃপূর্বে উল্লিখিত ইমাম দারেমী রাহিমাহুল্লাহ এর উক্তির মতই। আর এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এর অভিমত এবং এ অভিমতটিই সঠিক। কেননা কুরআন, সুন্নাহ ও বাস্তবতা এরই নির্দেশ করে।

এ মতের প্রথম দলীল: আল্লাহ তা'আলার বাণী:

﴿وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡمَحِيضِۖ قُلۡ هُوَ أَذٗى فَٱعۡتَزِلُواْ ٱلنِّسَآءَ فِي ٱلۡمَحِيضِ وَلَا تَقۡرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطۡهُرۡنَ...﴾

“আর তারা আপনাকে হায়েয সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা ‘অশুচি’। কাজেই তোমরা হায়েযকালে স্ত্রী-সংগম থেকে বিরত থাক এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত (সংগমের জন্য) তাদের নিকটবর্তী হবে না।...” [সূরা আল-বাকারাহ: ২২২] আয়াতে আল্লাহ তা'আলা "পবিত্রতাকে" নিষেধাজ্ঞার সীমা নির্ধারণ করেছেন। একদিন একরাত্রি বা তিনদিন কিংবা পনেরো দিন অতিবাহিত হওয়াকে নির্ধারণ করেননি। যা প্রমাণ করে যে, এর হুকুমের কারণ হলো হায়েযের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি। সুতরাং যখন হায়েযের উপস্থিতি পাওয়া যাবে, তখন এর হুকুম সাব্যস্ত হবে। আর যখন তা থেকে পবিত্র হবে, তখন তার হুকুম দূর হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় দলীল: সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, উমরার ইহরাম অবস্থায় আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার হায়েয হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন:

«افْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ، غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي». قَالَتْ: فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ طَهُرَتْ، فَأَفَاضَتْ.

“হাজীরা যা করে তুমিও তাই করতে থাক, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না।” আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেন, অতঃপর কুরবানির দিন এলে তিনি পবিত্র হলেন এবং তাওয়াফে ইফাযা করলেন। ‍উক্ত হাদীসের শেষ পর্যন্ত।4

বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:

«انتَظِرِي فَإِذَا طَهُرْتِ فَاخْرُجِي إِلَى التَّنْعِيمِ».

“অপেক্ষা কর, অতঃপর যখন পবিত্র হবে, তখন তানঈমে বেরিয়ে যাবে।”5 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধাজ্ঞার শেষসীমা পবিত্রতাকে নির্ধারণ করেছেন, নির্দিষ্ট সময়কে নয়। অতএব, এটাই প্রমাণ করে যে বিধানটি হায়েযের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির সাথে সম্পর্কিত।

তৃতীয় দলীল: এই মাসয়ালায় সময়সীমা নির্ধারণ এবং (এ সংক্রান্ত) বিস্তারিত বর্ণনা যা ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন তা অতিব জরুরি হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর কিতাব কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতে পাওয়া যায় না; অথচ তা বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। সুতরাং বান্দাদের জন্য এটা বুঝা যদি আবশ্যক হত এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করতে হত, তাহলে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান যেমন সালাত, সাওম, বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার এবং অন্যান্য বিধি-বিধানের গুরুত্বের কারণে তা সকলের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেন। যেমনিভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সংখ্যা, এর সময়, রুকু ও সিজদার বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে যাকাত: কোন কোন সম্পদে তা পযোজ্য, এর নিসাব, এর পরিমাণ এবং ব্যয়ের খাতসমূহ বর্ণনা করেছেন। সাওম: এর স্থিতিকাল ও সময়। হজ্জ এবং এ ছাড়াও অন্যান্য বিধি-বিধান বর্ণনা করেছেন। এমনকি পানাহার, ঘুম, সহবাস, বসা, গৃহে প্রবেশ ও তা থেকে বের হওয়ার আদব, পায়খানা প্রসাবের আদব, এমনকি ইস্তিজমার তথা এস্তেন্জা করতে ঢিলা দ্বারা কতবার মুছতে হবে, ইত্যাদি সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ণনা করেছেন; যার মাধ্যমে আল্লাহ দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন এবং এর মাধ্যমে মুমিনদের উপর তার নি‘আমত পূর্ণ করেছেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿...وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ...﴾

“...আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনাস্বরূপ।” [সূরা আন-নাহল: ৮৯] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:

﴿...مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَـكِن تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلَّ شَيْءٍ...﴾

“...এটা কোনো বানানো রচনা নয়। বরং এটা আগের গ্রন্থে যা আছে তার সত্যায়ন ও সব কিছুর বিশদ বিবরণ...।” [সূরা ইউসূফ: ১১১]

কাজেই যেহেতু এ সময়সীমা নির্ধারণ এবং (এ সংক্রান্ত)বিস্তারিত বর্ণনা আল্লাহ তা'আলার কিতাব কিংবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতে পাওয়া যায় না, তাই এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে এর উপর নির্ভর করা যাবে না, বরং নির্ভর করতে হবে হায়েয নামক বিষয়ের উপর; যার উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির সাথে শরীয়তের বিধি-বিধান সম্পর্কিত। আর এই দলিল - তথা: কুরআন-সুন্নাতে হুকুম উল্লেখ না করা প্রমাণ করে যে, এর সময় অনির্ধারিত- এটি আপনাকে এই মাসয়ালা এবং অন্যান্য শরয়ী মাসায়েলের ক্ষেত্রে উপকৃত করবে, কেননা আল্লাহর কিতাব কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অথবা নির্দিষ্ট ইজমা বা বিশুদ্ধ কিয়াস থেকে দলিল ব্যতীত শরীয়তের কোন বিধান বা হুকুম সাব্যস্ত হয় না। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এর একটি মূলনীতিতে বলেছেন: “এর মধ্যে রয়েছে হায়েয নামটি, কুরআন ও সুন্নাতে আল্লাহ তা'আলা এর সাথে অসংখ্য বিধান সংযুক্ত করেছেন। তবে হায়েযের সর্বনিম্ন কিংবা সর্বোচ্চ সীমা ও দুই হায়েযের মধ্যবর্তী পবিত্রতার সময়সীমা নির্ধারণ করেনটি, অথচ বিষয়টি সর্বসাধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং অতীব প্রয়োজনীয়। ভাষাগত দিক থেকে এক পরিমাণ থেকে অন্য পরিমাণের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। তারপরও যদি কেই এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করে, তবে সে কুরআন সুন্নাহর বিরোধী কাজ করল।”6

চতুর্থ দলীল: কিয়াস অর্থাৎ বহুল প্রচলিত বিশুদ্ধ কিয়াস; আর তা হলো আল্লাহ তা'আলা কষ্ট হওয়াকে হায়েযের তা'লীল (কারণ বর্ণনা) হিসেবে করেছেন। অতএব যখন হায়েযের উপস্থিতি পাওয়া যাবে তখন কষ্টও উপস্থিত থাকবে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দিন ও প্রথম দিন, বা চতুর্থ ও তৃতীয় দিন, যা ষোড়শ ও পঞ্চদশ দিন, কিংবা অষ্টাদশ এবং সপ্তদশ দিনের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। হায়েয মানে হায়েয, আর কষ্ট মানে কষ্ট। সুতরাং উভয় দিনেই ইল্লাত (তথা কারণ) সমভাবে বিদ্যমান। সুতরাং উভয় দিনের ইল্লাত সমান হওয়া সত্ত্বেও হুকুমের মাঝে পার্থক্য করা কি করে সঠিক হবে? এটা কি বিশুদ্ধ কিয়াসের বিপরীত নয়? ইল্লাতের সমতার কারণে উভয় দিনের হুকুম সমান হওয়াই কি বিশুদ্ধ কিয়াস নয়?

পঞ্চম দলীল: যারা এর সময় নির্দিষ্ট করেন তাদের বক্তব্যের পার্থক্য ও অসংগতি ইঙ্গিত করে যে, এই বিষয়ে এমন কোন দলীল নেই যার দিকে ফিরে যাওয়া উচিত। বরং এটি ইজতেহাদি হুকুম যা ভুল-সঠিক উভয়েরই সম্ভাবনা রাখে। এর একটির অনুসরণ করা অন্যটি থেকে অগ্রাধিকারযোগ্য নয়। আর মতবিরোধের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক।

অতএব, যখন স্পষ্ট হলো যে: হায়েযের সর্বনিম্ন কিংবা সর্বোচ্চ সময়সীমা নেই এবং এই মতটিই অগ্রগণ্য, তখন জেনে রাখুন যে, একজন মহিলা আঘাত বা অনুরূপ কারণ ব্যতিরেকে যখনই প্রাকৃতিক রক্ত দেখবে, তখনই সেটা হায়েযের রক্ত হিসেবে গণ্য হবে, এ ক্ষেত্রে সময় কিংবা বয়স নির্ধারণ করা যাবে না। হ্যাঁ, যদি কোন মহিলার অনবরত রক্ত নির্গত হয়, যা কখনো বন্ধ হয় না অথবা অল্প সময় তথা এক দুই দিনের জন্য বন্ধ হয় তাহলে সেটা ইস্তেহাযা হিসেবে পরিগণিত হবে। ইস্তেহাযা এবং এর বিধি-বিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে আসবে ইনশাল্লাহ।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন: মূল হল রেহেম বা জরায়ু থেকে যা কিছু বের হয় তা হায়েয; যতক্ষণ না প্রমাণ হয় যে তা ইস্তেহাযা।7

তিনি আরো বলেন: যে রক্ত ​​‌‌‌নির্গত হয় তা হল হায়েয, যতক্ষণ না জানা যায় যে তা শিরা বা ক্ষত থেকে (নির্গত) রক্ত।8

এই মতটি দলীলের দিক থেকে যেমন অগ্রগণ্য, বুঝা ও অনুধাবনের ক্ষেত্রেও অধিক নিকটবর্তী, সময়সীমা নির্ধারণকারীগণ যা বলেছেন তার চেয়ে বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগ অধিক সহজতর। আর এ কারণেই মতটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য; কেননা তা ইসলামের প্রাঞ্জলতা ও মূলনীতি তথা সহজতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ বলেন:

﴿...وَمَا جَعَلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلدِّينِ مِنۡ حَرَجٖ...﴾

“.....আর তিনি দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি...।” [সূরা আল-হাজ্জ: ৭৮] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلَّا غَلَبَهُ فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَأَبْشِرُوا».

“নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দ্বীন তার উপর জয়ী হয়। কাজেই তোমরা সঠিক পন্থা অবলম্বন কর এবং এর নিকটবর্তী থাক, এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর।” সহীহ বুখারী।9

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র ছিল:

«أَنَّهُ مَا خُيِّرَ بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا».

“তাকে যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হতো, তখন তিনি সহজতরটিই বেছে নিতেন, যদি তা গুনাহের বিষয় না হতো।”10

গর্ভবতী নারীর হায়েয:

প্রায় সকল নারীই গর্ভবতী হলে রক্ত ​​(হায়েয) বন্ধ হয়ে যায়। ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "মহিলারা রক্ত (হায়েয) ​​বন্ধ হওয়ার মাধ্যমেই গর্ভাবস্থা জেনে থাকেন।"11

সুতরাং যদি গর্ভবতী মহিলা রক্ত ​​​​দেখে এবং তা সন্তান প্রসবের অল্প সময় তথা দুই বা তিন দিন পূর্বে হয়, সাথে প্রসব বেদনা থাকে তাহলে তা নিফাস। আর যদি সন্তান প্রসবের অনেক পূর্বে (রক্ত নির্গত) হয়, কিংবা প্রসবের অল্প সময় পূর্বে, কিন্তু প্রসব বেদনা না থাকে, তবে তা নিফাস নয়। কিন্তু এটা কি হায়েয হিসেবে গণ্য, যার জন্য হায়েযের হুকুম সাব্যস্ত হবে? নাকি এটা ভ্রষ্ট রক্ত, ​​যার জন্য হায়েযের হুকুম সাব্যস্ত হবে না?

এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আর বিশুদ্ধ অভিমত হল, সচরাচর হায়েযের অভ্যাস অনুযায়ী হলে সেটা হায়েয হিসেবে গণ্য; কেননা মূল হল একজন মহিলার থেকে যে রক্ত ​নির্গত হয় সেটা হায়েয, যদি না এমন কোন কারণ থাকে যা তাকে হায়েয হতে বাধা দেয়। গর্ভবতী নারীর হায়েয হবেনা, এমন কিছু কুরআন ও সুন্নাহতে নেই।

এটি মালেক এবং শাফেয়ী রহ. এর মাযহাব, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এ মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি "ইখতিয়ারাত" কিতাবে (পৃ:৩০) বলেন: বায়হাকি এটিকে ইমাম আহমদ রহ. এর সূত্র বর্ণনা করেছেন। বরং বলা হয় তিনি এ মতের দিকে ফিরে এসেছেন।1213

আর, এজন্যই গর্ভবতী মহিলার হায়েয অবস্থার বিধি-বিধান অ-গর্ভবতী মহিলার হায়েয অবস্থার মতোই সব্যস্ত হবে, তবে দুটি মাসয়ালা ব্যতীত:

প্রথম মাসয়ালা: তালাক। গর্ভবতী নয় এমন যাকে হায়েয অবস্থায় ইদ্দত পালন করতে হয়, তাকে তালাক দেয়া হারাম। তবে গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে তা হারাম নয়। কারণ গর্ভবতী নয় এমন কাউকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেওয়া মহান আল্লাহর এ বাণীর পরিপন্থী:

﴿...فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ...﴾

“...তাদেরকে ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে করে তালাক দিবে...।” [সূরা আত-তালাক: ১], পক্ষান্তরে গর্ভবতী মহিলাকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে, তা (আল্লাহর বাণীর) পরিপন্থি হবে না। কেননা; যে ব্যক্তি গর্ভবতী মহিলাকে তালাক দেয়, সে তার ইদ্দত অনুসারেই তালাক দেয়। হোক সে হায়েয অবস্থায় কিংবা পবিত্রাবস্থায়। কেননা; তার ইদ্দত হলো গর্ভাবস্থা। তাই সহবাসের পর তাকে তালাক দেওয়া স্বামীর জন্য হারাম নয়; কিন্তু গর্ভহীন নারী হলে হারাম।

দ্বিতীয় মাসয়ালা: গর্ভবতী নারীর হায়েযের মাধ্যমে ইদ্দত শেষ হয়না, যা অন্যান্য নারীদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কারণ গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত (গর্ভের) সন্তান প্রসব করা ব্যতীত শেষ হয় না। চাই হায়েয হোক বা না হোক। আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর ভিত্তিতে:

 

﴿...وَأُوْلَاتُ الأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ...﴾

“...আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত...।" [সূরা আত-তালাক: ৪]

তৃতীয় অধ্যায়: হায়েযের ক্ষেত্রে বিশেষ অবস্থা

হায়েযের ক্ষেত্রে বিশেষ অবস্থা কয়েক ধরনের:

প্রথম প্রকার: (মুদ্দত) বেশী বা কম হওয়া। যেমন: মহিলার অভ্যাস হলো ছয় দিন, এমতাবস্থায় সাত দিন পর্যন্ত রক্ত চলমান থাকা। অথবা অভ্যাস হলো সাতদিন, সে ক্ষেত্রে ছয় দিনে পবিত্র হয়ে যাওয়া।

দ্বিতীয় প্রকার: আগে-পরে হওয়া। যেমন কারো অভ্যাস হলো মাসের শেষে হওয়া, কিন্তু সে মাসের শুরুতেই হায়েয দেখতে পেল। অথবা কারো অভ্যাস হলো মাসের শুরুতে হওয়া, কিন্তু সে মাসের শেষে হায়েয দেখতে পেল।

এই দুই প্রকারের হুকুম নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ অভিমত হলো: যখনি রক্ত দেখবে সেটাই হায়েয, আর যখন পরিচ্ছন্ন হবে সেটাই পবিত্রতা, চাই তা অভ্যাস থেকে কম হোক বা বেশি হোক কিংবা আগে বা পরে হোক। পূর্ববর্তী অধ্যায়ে এর দলীল উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু শরীয়ত প্রণেতা হায়েয সংক্রান্ত বিধি-বিধানকে এর উপস্থিতির সাথে শর্তযুক্ত করেছেন।

আর এটি শাফেয়ী মাযহাবের বক্তব্য, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এ মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, "আল-মুগনি" গ্রন্থকার (ইবনে কুদামা) এ মতটিকে সুদৃঢ় এবং সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন: ‘যদি অভ্যাসই বিবেচ্য হত, যেমনটি মাযহাবে উল্লিখিত হয়েছে, তাহলে অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের জন্য তা বর্ণনা করতেন, এ ক্ষেত্রে বিলম্ব করার কোন সুযোগ নাই।’1415 যেহেতু (প্রয়োজনের) সময় (হুকুম) বর্ণনা করতে বিলম্ব করা জায়েয নয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী এবং অন্যান্য মহিলাগণ এ ব্যাপারে বর্ণনার মুখাপেক্ষী ছিলেন। সুতরাং এর বর্ণানায় তিনি অমনোযোগী হতেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তেহাযার সমস্যায় ভুগছেন এমন মহিলা ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে অভ্যাসের উল্লেখ বা বর্ণনা করেননি।16

তৃতীয় প্রকার: হলুদ কিংবা মেটে রংয়ের রক্ত, অর্থাৎ এমন রক্ত দেখা যা ক্ষত (স্থানের) পানির ন্যায় হলুদ অথবা হলুদ ও কালোর মাঝামাঝি মেটে রঙের। যদি তা হায়েযের মাঝে হয়, অথবা হায়েযের সাথে মিলিয়ে পবিত্রতার পূর্বে আসে তাহলে তা হায়েয হিসেবে গণ্য, তার জন্য হায়েযের হুকুম সাব্যস্ত হবে। আর যদি তা পবিত্রতার পরে হয়, তাহলে তা হায়েয নয়।কেননা উম্মে আতিয়্যাহ রাদিআল্লাহু আনহা বলেন:

"হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর হলুদ ও মেটে রংয়ের কিছু নির্গত হলে আমরা তা (হায়েয হিসাবে) গণনা করতাম না।"

আবু দাউদ, হাদিসটির সনদ সহীহ,17 "পবিত্রতার পর"- (উম্মে আতিয়্যাহর) এ কথাটি ছাড়া হাদীসটি ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অধ্যায়ের শিরোনামে এনেছেন: হায়েযের দিন ব্যতিরেকে অন্যান্য দিনে হলুদ এবং মেটে (রঙের রক্ত) নির্গত হওয়া।18

"ফাতহুল বারী" (গ্রন্থকার) এর ব্যাখ্যায় বলেন: "এটির দ্বারা পূর্বোল্লিখিত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার হাদীস: "যতক্ষণ পর্যন্ত না সাদা স্রাব দেখতে পাও" এবং অত্র পরিচ্ছেদে উল্লিখিত উম্মে আতিয়্যাহ রাদিআল্লাহু আনহার হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার হাদীসটি হায়েযের দিনগুলোতে হলুদ বা মেটো রঙের রক্ত নির্গত হলে প্রযোজ্য, পক্ষান্তরে (হায়েযের দিন ছাড়া) অন্যান্য দিনে উম্মে আতিয়্যাহর হাদীস প্রযোজ্য।"19

আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার যে হাদীসটির দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, তা ইমাম বুখারী রহ. এই অধ্যায়ের পূর্বে মুআল্লাক হিসেবে দৃঢ় শব্দে উল্লেখ করেছেন। তাতে এসেছে যে, নারীরা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে ‘দারাজা’ পাঠাতেন (তা এমন একটি বস্তু, যা নারী ব্যবহার করে বুঝতে পারতেন ঋতুস্রাবের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট আছে কি না)। তাতে থাকত ‘কুরসুফ’ (তুলা), যার মধ্যে হলুদ রং (সুফরা) দেখা যেত। তখন তিনি বলতেন:

20 “তোমরা সাদা স্রাব না দেখা পর্যন্ত তাড়াহুড়া করো না।”21

আর হাদীসে উল্লেখিত "কাসসাতুল বায়দা" শব্দের অর্থ হল, হায়েয বন্ধ হয়ে গেলে জরায়ু থেকে নির্গত সাদা পানি (স্রাব)।

চতুর্থ প্রকার: হায়েযের মাঝে বিচ্ছিন্নতা। যেমন: একদিন রক্ত দেখতে পেল, আবার পরদিন পরিচ্ছন্নতা দেখতে পেল, ইত্যাদি। এর দুই অবস্থা:

প্রথম অবস্থা: যদি সর্বদাই মহিলার এ অবস্থা হয়, তবে এটি ইস্তিহাযার রক্ত। যার এমনটি হবে, তার জন্য মুস্তাহাযার হুকুম সাব্যস্ত হবে।

দ্বিতীয় অবস্থা: মহিলার এ অবস্থা নিরবচ্ছিন্ন হয় না, বরং কিছু সময় এরকম হয়। আর তার রয়েছে প্রকৃত পবিত্রতার নির্দিষ্ট সময়। এ ক্ষেত্রে তার এই পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। এটা কি পবিত্র অবস্থা ধরা হবে নাকি এর উপর হায়েযের হুকুম প্রযোজ্য হবে?

শাফেয়ী মাযহাবের দুটি মতামতের অধিক বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, এর উপর হায়েযের হুকুম প্রযোজ্য হবে, সুতরাং এটি হায়েয হিসেবে গণ্য হবে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং "আল-ফায়েক" গ্রন্থকার এই মতটি অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং এটিই ইমাম আবু হানিফার অভিমত।222324 আর এটা এ কারণেই যে, সেখানে সাদা স্রাব দেখতে পায়নি; কেননা যদি সেটাকে পবিত্রতা ধরা হয় তাহলে তার পূর্বের অবস্থা হায়েয হিসেবে পরিগণিত হবে, এবং এর পরের অবস্থা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে, আর এর প্রবক্তা কেউ নেই; এমনটি ধরা হলে পাঁচ দিনেই হায়েয দিয়ে (তালাকের) ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়াও যদি এটা পবিত্র অবস্থা ধরা হয়, তাহলে প্রতি দুই দিন অন্তর গোসল ও অন্যান্য কাজের কারণে তিনি বিব্রত ও কষ্ট ভোগ করবেন। আর এই শরীয়তে কোন বিব্রতকর অবস্থা নেই, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই।

হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী রক্ত (নির্গত হলে তা) হায়েয এবং স্বচ্ছতা (দেখলে তা) পবিত্রতা হিসেবে গণ্য, যদি না উভয়ের সমষ্টি হায়েযের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে। আর সে ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রান্ত দিনগুলো ইস্তেহাযার রক্ত হিসেবে পরিগণিত হবে।25

"আল-মুগনি" গ্রন্থে বলা হয়েছে: "নিফাসের ক্ষেত্রে আমরা বর্ণনা তুলে ধরেছি যে, এক দিনের কম সময়ের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না, তার আলোকে বলা যায় একদিনের কম সময় রক্ত বন্ধ থাকলে তা পবিত্রতা হিসেবে গণ্য নয়। এটিই বিশুদ্ধ অভিমত -ইনশাআল্লাহ-; কেননা রক্ত এক সময় প্রবাহিত হয় আবার অন্য সময় বন্ধ হয়। আর যে ব্যক্তি কিছু সময় পর কিছু সময়ের জন্য পবিত্র হয় তার উপর গোসল ওয়াজিব করা, তার জন্য কষ্টকর ব্যাপার, যা হবার নয়। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেছেন:

﴿...وَمَا جَعَلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلدِّينِ مِنۡ حَرَجٖ...﴾

“...আর তিনি দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে তোমাদের উপর কোনও সংকীর্ণতা আরোপ করেননি...।” [সূরা আল-হাজ্জ: ৭৮] তিনি বলেন: "সুতরাং এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, এক দিনের কম সময় রক্ত বন্ধ থাকলে তা পবিত্রতা নয়। তবে যদি তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়, যেমন তার বন্ধ হওয়াটা তার সর্বশেষ অভ্যাস অনুযায়ী হয়েছে বা সাদা স্রাব দেখা গেছে।26

সুতরাং আল-মুগনি গ্রন্থকারের এই বক্তব্যটি দুটি মতের মধ্যম মতামত। আর মহান আল্লাহই ভাল জানেন কোনটি সঠিক।

পঞ্চম প্রকার: রক্তে শুষ্কতা, (অবস্থা) এমন যে মহিলা শুধু আর্দ্রতা দেখতে পায়, যদি তা হায়েযের সময় ঘটে কিংবা পবিত্রতার পূর্বে হায়েযের সাথে মিলানো থাকে তবে তা হায়েয। আর যদি তা পবিত্র হওয়ার পরে হয় তাহলে তা হায়েয নয়; কেননা এই আদ্রতার চূড়ান্ত অবস্থা হল তা হলুদ অথবা মেটে (রক্তের সাথে) মিলিত হবে, আর এটাই (হায়েয) এর হুকুম।

চতুর্থ অধ্যায়: হায়েযের হুকুম

হায়েযের অনেকগুলো হুকুম আছে, যা বিশটিরও বেশি। এর মধ্যে আমরা যেগুলোকে অতীব প্রয়োজনীয় বলে মনে করি সেগুলো উল্লেখ করব। তন্মধ্যে:

প্রথমত: সালাত: হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্য ফরয বা নফল সালাত আদায় করা হারাম, তার সালাত শুদ্ধও হবে না। অনুরূপভাবে তার উপর (পবিত্র অবস্থার} সালাত ফরযও নয়; যদি না সে সালাতের সময় থেকে পূর্ণ এক রাকাত আদায় করার পরিমাণ সময় পায়, হোক তা প্রথম ওয়াক্তে কিংবা শেষ ওয়াক্তে, সে ক্ষেত্রে তার উপর সালাত আদায় করা ফরয।

প্রথম ওয়াক্তের উদাহরণ: একজন নারী সূর্যাস্তের পর এক রাকাত সালাত আদায় করার পরিমাণ সময়ের পর হায়েযগ্রস্ত হয়েছে, এ ক্ষেত্রে তার উপর আবশ্যক হল, সে যখন পবিত্র হবে, তখন মাগরিবের সালাত কাযা করে নিবে; কেননা সে হায়েয আসার পূর্বে এক রাকাত পরিমাণ সময় পেয়েছে।

শেষ ওয়াক্তের উদাহরণ হলো: একজন নারী সূর্যোদয়ের পূর্বে এক রাকাত সালাত আদায় করার পরিমাণ সময়ের পূর্বে পবিত্র হল। এ ক্ষেত্রে তার উপর আবশ্যক হলো যখন পবিত্র হবে ফজরের সালাত কাযা করে নিবে; কেননা সে এর নির্ধারিত সময়ের একটা অংশ পেয়েছে, যে সময় এক রাকাত সালাত আদায় করার জন্য যথেষ্ট।

কিন্তু হায়েযগ্রস্ত নারী যদি এত (অল্প) সময় পায়, যা পুরো এক রাকাত আদায় করার জন্য যথেষ্ট নয়, যেমন: প্রথম উদাহরণে সূর্যাস্তের অল্পসময় পরেই হায়েয শুরু হলো, দ্বিতীয় উদাহরণে সূর্যোদয়ের অল্পসময় পূর্বেই পবিত্র হল, তাহলে তার উপর সালাত আদায় করা ওয়াজিব নয়; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

«مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلَاةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ».

"কেউ যদি কোন সালাতের এক রাক’আত পেয়ে যায়, সে উক্ত সালাত পেয়ে যায়।" মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি27 সুতরাং হাদীসটি থেকে বুঝা যায়, যে ব্যক্তি এক রাকাতের কম পেল, সে সালাত পেল না।

আর যদি সে আসরের সালাতের এক রাকাত (পরিমাণ) সময় পায়, তাহলে কি তার উপর আসর সালাতের সাথে যোহরের সালাত আদায় করা ওুয়াজিব? অথবা যদি এশার সালাতের এক রাকাত (পরিমাণ) সময় পায়, তাহলে কি তার উপর এশার সালাতের সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করা ওয়াজিব?

এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ মত হল, যে সালাতের ওয়াক্ত সে পেয়েছে অর্থাৎ শুধু আসর ও এশা ওয়াজিব হবে, এ ছাড়া অন্য কোন সালাত তার উপর ওয়াজিব নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ».

"যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের সালাতের এক রাক'আত পেল, সে আসরের সালাত পেল।" মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি28 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি: সে যোহর এবং আসরের সালাত পেল।

এবং এটাও উল্লেখ করেননি যে, তার উপর যোহরের সালাত ওয়াজিব। আর মূল হল দায়িত্ব মুক্ততা। এটি আবু হানিফা এবং মালেকের অভিমত, যা শরহুল মুহাযযাব" গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।29

অপরদিকে যিকির, তাকবীর, তাসবীহ, তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করা), খাবার এবং অন্যান্য কাজের শুরুতে "বিসমিল্লাহ" বলা, হাদিস ও ফিকহ পড়া, দোয়া করা, (দোয়া শেষে) আমীন বলা, কুরআন শোনা, এসবের কিছুই তার জন্য নিষিদ্ধ নয়। বুখারী, মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে:

«أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَّكِئُ فِي حِجْرِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا وَهِيَ حَائِضٌ فَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ».

"আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার হায়িয অবস্থায় তার কোলে মাথা রেখে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন পাঠ করতেন।"30

বুখারী ও মুসলিমে আরো আছে: উম্মে আতিয়্যাহ রাদিআল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন:

«يَخْرُجُ الْعَوَاتِقُ وَذَوَاتُ الْخُدُورِ وَالْحُيَّضُ -يَعْنِي: إِلَى صَلَاةِ الْعِيدَيْنِ- وَلْيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ، وَدَعْوَةَ الْمُؤْمِنِينَ، وَيَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ الْمُصَلَّى».

"কিশোরী, যুবতী এবং হায়েযগ্রস্ত নারীগণ যেন দুই ঈদের সালাতে বের হয়, তারা যেন কল্যাণমূলক কাজে এবং মুসলমানদের দু’আয় উপস্থিত হয়। তবে হায়েযগ্রস্ত নারীগণ যেন সালাতের স্থান থেকে দূরত্বে অবস্থান করে।"31

আর হায়েযগ্রস্ত নারীর নিজে কুরআন পাঠ: যদি জিহ্বা দিয়ে কথা না বলে, বরং কেবল চোখ দিয়ে দেখে বা অন্তর দিয়ে চিন্তা করার মাধ্যমে হয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই। যেমন: মুসহাফ বা (কুরআন লিখা) ফলক রাখবে, অতঃপর আয়াতের দিকে তাকিয়ে মনে মনে তা পড়বে। ইমাম নববী "শরহুল মুহাযযাব" গ্রন্থে বলেন: "এটি মতবিরোধ ছাড়াই জায়েয।"32

কিন্তু যদি তা মৌখিকভাবে তিলাওয়াত করা হয়, তবে অধিকাংশ আলেমদের মতে তা নিষিদ্ধ এবং নাজায়েয। তবে ইমাম বুখারী, ইবনে জারীর তাবারি, এবং ইবনুল মুনযির রাহিমাহুমুল্লাহ বলেন: "এটা জায়েয।"333435

ইমাম মালেক এবং ইমাম শাফেয়ী (র:) এর পুরানো অভিমত হিসেবে এটি বর্ণনা করা হয়ে থাকে । "ফাতহুল বারী" গ্রন্থে তাদের এই অভিমতটি তুলে ধরা হয়েছে।3637

ইমাম বুখারী মুআল্লাক সূত্রে ইব্রাহিম নাখয়ী থেকে উল্লেখ করেন: এক আয়াত পাঠে কোন সমস্যা নেই।38

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ ইবনে কাসিম কর্তৃক সংগৃহীত ফতোয়ায় বলেছেন: তাকে কুরআন থেকে বিরত রাখার (পক্ষে) আদতে কোন সুন্নাহ (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশনা) নেই। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী:

«لَا تَقْرَأُ الحَاِئُض وَلَا الجُنُبُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ».

“হায়েযগ্রস্ত নারী ও জুনুবী ব্যক্তি কুরআনের কিছুই তেলাওয়াত করবে না।”39 মুহাদ্দিসগণের সর্বসম্মতিক্রমে হাদীসটি দুর্বল।40

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে নারীরা হায়েযগ্রস্ত হতো, যদি সালাতের মত কুরআন পড়া তাদের জন্য হারাম হতো, তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের জন্য তা বর্ণনা করতেন, উম্মাহাতুল মু'মিনীনগণ তা শিক্ষা করতেন, এবং মানুষের এটা মাঝে ছড়িয়ে পড়ত; যেহেতু কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন নিষেধ বর্ণনা করেননি, সেহেতু তিনি নিষেধ করেননি জেনেও তা হারাম করা জায়েয নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে অসংখ্য হায়েযগ্রস্ত নারী থাকা সত্ত্বেও তিনি যেহেতু কুরআন পড়তে নিষেধ করেননি, সুতরাং বুঝা যায় যে, এটা হারাম নয়।"41

আলেমদের মতভেদ জানার পর এটাই বলা সমীচীন যে: একজন হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্য অতীব প্রয়োজন ছাড়া মৌখিকভাবে কুরআন না পড়া উত্তম। যেমন: শিক্ষিকা হিসেবে ছাত্রীদেরকে মাশক করাতে হয়, অথবা শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষার সময় পরীক্ষার জন্য পড়তে হয়, ইত্যাদি।

দ্বিতীয়ত: সিয়াম: হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্য সিয়াম পালন করা হারাম, হোক তা ফরয কিংবা নফল এবং তার থেকে তা শুদ্ধও হবেনা। তবে এ সময় ছুটে ফরয সিয়াম পরবর্তীতে কাযা করা তার উপর আবশ্যক; কেননা আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে:

"كَانَ يُصِيبُنَا ذَلِكَ -تَعْنِي: الْحَيْضَ- فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ وَلَا نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلَاةِ".

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে আমাদের হায়েয হত। আমরা (তার তরফ থেকে) সাওম কাযা করতে আদিষ্ট হতাম, সালাত কাযা করতে আদিষ্ট হতাম না।” মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি।42

আর সিয়াম পালন অবস্থায় যদি হায়েয হয়, তবে তার সিয়াম বাতিল হয়ে যাবে, যদিও তা সূর্যাস্তের এক মুহূর্ত আগেও হয়। ফরয সিয়াম হলে (পরবর্তীতে) অবশ্যই ঐ দিনের কাযা করা ওয়াজিব। যদি সে অনুভব করে যে সূর্যাস্তের পূর্বেই তার হায়েয শুরুর ভাব হয়েছে, কিন্তু সূর্যাস্তের পর ছাড়া (রক্ত) বের হয়নি, তাহলে বিশুদ্ধ মতে তার সাওম পূর্ণ হয়ে যাবে, বাতিল হবে না; কেননা পেটের অভ্যন্তরে রক্তের কোনো হুকুম নেই;

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নারীর পুরুষদের মত স্বপ্নদোষ হলে কি তাকে গোসল করতে হবে?

قال: «نَعَمْ إِذَا هِيَ رَأَتِ الْمَاءَ».

তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদি পানি (বীর্য) দেখে।"43 তিনি হুকুমকে বীর্য দেখার উপর শর্ত করেছেন, তার স্থানান্তরের সাথে নয়। অনুরূপভাবে হায়েযের হুকুম (রক্ত) বের হতে দেখলেই সাব্যস্ত হবে, (রক্ত) স্থানান্তরের কারণে নয়।

হায়েয অবস্থায় যদি ফজর হয়ে যায়, তবে তার দিনের সিয়াম সহীহ হবে না; যদিও সে ফজরের এক মুহূর্ত পরে পবিত্র হয়।

আর যদি সে ফজরের সামান্য পূর্বে পবিত্র হয় অতঃপর সিয়াম রাখে, তবে তার সিয়াম সহীহ হবে; যদিও সে ফজরের পর গোসল করে, অপবিত্র ব্যক্তির মত, যে অপবিত্র অবস্থায় সিয়ামের নিয়ত করে এবং ফজরের পর গোসল করে, কেননা তার সিয়াম সহীহ। কেননা আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন:

 

"كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ جِمَاعٍ غَيْرِ احْتِلَامٍ ثُمَّ يَصُومُ فِي رَمَضَانَ".

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহবাসের কারণে (স্বপ্নদোষের কারণে নয়) অপবিত্র অবস্থায় সকাল করতেন, অতঃপর তিনি রমজানের সিয়াম রাখতেন। মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি।44

তৃতীয় হুকুম: বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা: তার জন্য বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা হারাম, হোক তা ফরয কিংবা নফল (তাওয়াফ), তার কোনটাই শুদ্ধ হবেনা। তবে বাকি কাজগুলো যেমন সাফা-মারওয়ায় সাঈ করা, আরাফায় অবস্থান করা, মুযদালিফা ও মিনায় রাত্রিযাপন করা, পাথর নিক্ষেপ করা এবং হজ ও ওমরাহর অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠানগুলো পালন করা তার জন্য হারাম নয়। কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হায়েযগ্রস্ত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন:

 

«افْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَلَّا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي».

“হাজীগণ যা করে তুমিও তাই করো, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করো না।”45

এর ভিত্তিতে যদি পবিত্র থাকা অবস্থায় কোন নারী তাওয়াফ করে, আর তাওয়াফের পরপরই অথবা সাঈ করার সময় হায়েযগ্রস্ত হয়ে যায়, তবে তাতে কোন সমস্যা নেই।

চতুর্থ হুকুম: তার জন্য বিদায়ী তাওয়াফ রহিত হওয়া: নারী যদি হজ্জ ও ওমরাহর কার্যক্রম সম্পন্ন করে, অতঃপর দেশে রওয়ানা হওয়ার পূর্বেই হায়েযগ্রস্ত হয় এবং (দেশের উদ্দেশ্যে) বের হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে, তাহলে সে বিদায়ী তাওয়াফ না করেই বের হবে। কেননা ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন:

"أُمِرَ النَّاسُ أَنْ يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِمْ بِالْبَيْتِ، إِلَّا أَنَّهُ خُفِّفَ عَنِ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ".

“মানুষদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেনো তাদের সর্বশেষ কাজ হয় বায়তুল্লাহর (বিদায়ী) তাওয়াফ। তবে ঋতুবতী নারীর জন্য এ বিষয়ে শিথিল (মাফ) করা হয়েছে।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি]।46

হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্য বিদায়ের সময় মসজিদুল হারামের দরজায় এসে দু'আ করা মুস্তাহাব নয়; কারণ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়নি, আর ইবাদত বর্ণনার উপর নির্ভরশীল। বরং, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা এর বিপরীত নির্দেশ করে। কেননা সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা–এর ঘটনায় এসেছে যে, তিনি তাওয়াফে ইফাযা সম্পন্ন করার পর ঋতুবতী হলে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছিলেন:

«فَلْتَنْفِرْ إِذَنْ».

“তাহলে বের হও।” মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি।47

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মসজিদুল হারামের দরজায় যেতে নির্দেশ দেননি। যদি তা শরীয়াসম্মত হত তাহলে অবশ্যই তিনি তা বর্ণনা করতেন। তবে হজ্জ ও ওমরার তাওয়াফ তার উপর থেকে রহিত হবে না; বরং পবিত্র হলে তাওয়াফ করতে হবে।

পঞ্চম হুকুম: মসজিদে অবস্থান করাঃ হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম। এমনকি ঈদের সালাত আদায়ের স্থানেও তার অবস্থান করা নিষিদ্ধ। কেননা উম্মে আতিয়্যাহ রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:

«يَخْرُجُ الْعَوَاتِقُ وَذَوَاتُ الْخُدُورِ وَالْحُيَّضُ».

”যুবতী, পর্দানশীলা ও ঋতুবতী মহিলারা বের হবে।” এতে আরো রয়েছে:

«يَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ الْمُصَلَّى».

“হায়েযগ্রস্ত নারীগণ সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকবে।” মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি।48

ষষ্ঠ হুকুম: সহবাস: তার স্বামীর জন্য তার সাথে সহবাস করা হারাম এবং তার জন্য এর সুযোগ দেয়াও হারাম। কেননা আল্লাহ বলেছেন:

﴿وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡمَحِيضِۖ قُلۡ هُوَ أَذٗى فَٱعۡتَزِلُواْ ٱلنِّسَآءَ فِي ٱلۡمَحِيضِ وَلَا تَقۡرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطۡهُرۡنَۖ...﴾

“আর তারা আপনাকে রজঃস্রাব (হায়েয) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা ‘অশুচি’। কাজেই তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রী-সংগম থেকে বিরত থাক এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত (সংগমের জন্য) তাদের নিকটবর্তী হবে না।...”

[সূরা আল-বাকারাহ: ২২২] আয়াতে উল্লেখিত মাহিয (المَحِيضِ) শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হল হায়েযের সময় ও স্থান তথা লজ্জাস্থান। এছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«اصْنَعُوا كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا النِّكَاحَ».

“তোমরা সহবাস ছাড়া বাকি সব কিছুই কর।” অর্থাৎ: মিলন করা ছাড়া। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।49 আর ইজমা তথা মুসলমানদের ঐক্যমত হলো: হায়েয অবস্থায় লজ্জাস্থানে সহবাস করা হারাম।

অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে ঈমান আনে তার জন্য জায়েয নয় এই জঘন্য কাজের দিকে অগ্রসর হওয়া, যার নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা প্রদান করেছে আল্লাহ তা'আলার কিতাব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং ইজমা তথা মুসলমানদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। এরূপ করলে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে। ইমাম নববী "আল-মাজমু' শরহুল মুহায্যাব" গ্রন্থে (২/৩৭৪) বলেন: ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি তা করল সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হল।" আমাদের মাযহাবের অনুসারী এবং অন্যরা বলেছেন: "যে ব্যক্তি হায়েযগ্রস্ত মহিলার সাথে সহবাস করাকে জায়েয মনে করবে তাকে কাফির বলে হুকুম দেয়া হবে।" (ইমাম নববীর কথা সমাপ্ত)

আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা যে, সহবাস ব্যতিরেকে তার জন্য এমন কিছু বৈধ করা হয়েছে যা তার উত্তেজনা প্রশমিত করতে পারে। যেমন: চুম্বন, আলিঙ্গন এবং গোপনাঙ্গ ব্যতীত অন্য সকল কিছুর সংস্পর্শে আসা। তবে উত্তম হলো (এই সময়ে) নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশে আবরণ ছাড়া স্পর্শ না করা। কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:

"كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنِي فَأَتَّزِرُ فَيُبَاشِرُنِي وَأَنَا حَائِضٌ".

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইযার পরতে বলতেন, আমি তাই করতাম, অতঃপর তিনি আমার সাথে হায়েয অবস্থায় প্রেমময় আলিঙ্গন করতেন।” মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি।50

সপ্তম হুকুম: তালাক: স্বামীর জন্য হায়েয চলাকালীন সময়ে কোন নারীকে তালাক দেয়া হারাম। কেননা আল্লাহ বলেছেন:

﴿يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاء فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ...﴾

“হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীগণকে তালাক দিতে ইচ্ছে কর তাদেরকে তালাক দিও ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে...” [সূরা আত-তালাক: ১] অর্থাৎ এমন অবস্থায় (তালাক দেয়া) যাতে তালাক প্রদানের সময় থেকে তারা একটি নির্দিষ্ট সময় ইদ্দত পেয়ে যায়। আর এটি সম্ভব নয়, গর্ভবতী কিংবা যে হায়েয পরবর্তী পবিত্র সময়ে সহবাস করা হয়নি এমন অবস্থায় তালাক দেয়া ছাড়া । কেননা হায়েয অবস্থায় যদি তালাক দেওয়া হয় তবে সে ইদ্দত পাবে না, যেহেতু যে হায়েয চলাকালীন তাকে তালাক দেয়া হয়েছে তা ইদ্দতের অংশ হিসেবে গণ্য নয়। আবার যদি পবিত্রাবস্থায় সহবাসের পর তালাক দেওয়া হয়, তাহলে সে যে ইদ্দত পাবে তা অজ্ঞাত; কেননা সে জানেনা, এই সহবাসের ফলে সে কি গর্ভবতী হয়েছে; যার ফলে সে গর্ভবতীর ইদ্দত পালন করবে, নাকি গর্ভবতী হয়নি; যার ফলে হায়েযের মাধ্যমে ইদ্দত পালন করবে? অতএব, যখন তিনি ইদ্দতের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত নন; তখন বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তাকে তালাক দেওয়া হারাম।

সুতরাং হায়েযগ্রস্ত নারীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেয়া পূর্বের আয়াত অনুযায়ী হারাম। তাছাড়া, বুখারী ও মুসলিম সহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু হতে সাব্যস্ত হয়েছে যে:

তিনি তার হায়েযগ্রস্ত স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর উমার রাদিআল্লাহু আনহু তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন এবং বললেন:

«مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لِيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ، ثُمَّ تَحِيضَ، ثُمَّ تَطْهُرَ، ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ، وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ، فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ».

“তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর পবিত্রাবস্থা না আসা পর্যন্ত নিজের কাছে রেখে দেয়। এরপর হায়েযগ্রস্ত হয়ে পুনরায় পবিত্র হলে তখন যদি তালাক দিতে চায় তাহলে পবিত্রাবস্থায় সহবাস করার পূর্বে সে যেন তাকে তালাক দেয়। এটি সেই ইদ্দতকাল যার প্রতি লক্ষ্য রেখে আল্লাহ তা'আলা নারীদেরকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”।51

অতএব, যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেয়, তবে সে গুনাহগার হবে। তার উচিত আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা করা এবং স্ত্রীকে তার বিবাহ বন্ধনে ফিরিয়ে নেওয়া, যাতে সে তাকে এমন তালাক দিতে পারে যা শরিয়তসম্মত পন্থায় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অনুযায়ী হয়। আর তা এইভাবে যে, তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার পর স্ত্রী সেই হায়েয থেকে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত রেখে দিবে যে হায়েযের সময় তালাক দেওয়া হয়েছিল, তারপর আবার হায়েয হবে। অতঃপর যখন পবিত্র হবে তখন যদি ইচ্ছে করে তাকে (বিবাহ বন্ধনে) রেখে দিবে অথবা যদি ইচ্ছে করে তবে তার সাথে সহবাস করার আগেই তাকে তালাক দিবে।

হায়েয অবস্থায় তালাক হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি মাসয়ালা ব্যতিক্রম:

প্রথমত: (বিবাহের পর) যদি নির্জন সাক্ষাৎ কিংবা সহবাস করার পূর্বে তালাক দেয়া হয়, তবে সে ক্ষেত্রে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলেও সমস্যা নেই। কেননা ঐ অবস্থায় তার কোন ইদ্দত নেই, তাই তার তালাক শরীয়া বিরোধী হবে না। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿...فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ...﴾

,,,তাদেরকে ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দাও...। [সূরা আত-তালাক: ১]

দ্বিতীয়ত: যদি গর্ভাবস্থায় হায়েয হয়, এবং এর বিস্তারিত ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তৃতীয়ত: যদি বিনিময়ের তালাক (খোলা তালাক) হয়, সে ক্ষেত্রে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে সমস্যা নেই।

যেমনঃ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও খারাপ সম্পর্কের কারণে স্বামী যদি বিনিময় গ্রহণ করে তালাক দেয়, সে ক্ষেত্রে হায়েয অবস্থায় হলেও জায়েয। কেননা ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস:

সাবিত ইবনু কায়স বিন শাম্মাসের স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! চরিত্রগত বা দ্বীনী বিষয়ে আমি তার উপর দোষারোপ করছি না। তবে আমি ইসলামের ভিতরে থেকে কুফরী করা (অর্থাৎ স্বামীর সঙ্গে অমিল) পছন্দ করছি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

«أَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَهُ؟»

“তুমি কী তাকে তার বাগানটি ফিরিয়ে দিতে চাও?” তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

«اقْبَلِ الْحَدِيقَةَ وَطَلِّقْهَا تَطْلِيقَةً».

“তুমি বাগানটি গ্রহণ কর এবং মহিলাকে এক তালাক দিয়ে দাও।” [এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন]।52

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন নি সে কি হায়েযগ্রস্ত নাকি পবিত্র? যেহেতু এই তালাকটি একজন মহিলার নিজের জন্য মুক্তিপণ স্বরূপ, তাই যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন (হায়েয কিংবা পবিত্রাবস্থা) প্রয়োজনের সময় এটি জায়েয।

"আল-মুগনী" গ্রন্থে (৭/৫২) হায়েয অবস্থায় খুলা জায়েয হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বলেন: "কেননা হায়েয অবস্থায় তালাকের নিষেধাজ্ঞার কারণ হল; দীর্ঘ ইদ্দতের কারণে সে যে ক্ষতির সম্মুখীন হবে তা থেকে বেঁচে থাকা। আর খোলা হল খারাপ সম্পর্ক এবং সে যাকে অপছন্দ করে ও ঘৃণা করে তার সাথে থাকার ক্ষতি দূর করা। আর এ ক্ষতি দীর্ঘ ইদ্দত পালনের ক্ষতির চেয়েও বড়। সুতরাং ছোট ক্ষতি দিয়ে বড় ক্ষতি প্রতিহত করা জায়েয; তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোলাকারী মহিলাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেননি।”

পক্ষান্তরে হায়েযগ্রস্ত নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াতে কোন অসুবিধা নেই; কেননা মূলনীতি হল বৈধ হওয়া, আর এটা হারাম হওয়ার কোন প্রমাণ নেই। তবে হায়েয অবস্থায় স্বামী তার নিকট প্রবেশ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করতে হবে, যদি তার সাথে সহবাস করা থেকে (নিজেকে) নিরাপদ মনে করে তাহলে সমস্যা নেই, অন্যথায় হারামে পতিত হওয়ার অশংকা থাকায় পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তার নিকট প্রবেশ করবে না।

অষ্টম হুকুম: হায়েযের দ্বারা তালাকের ইদ্দতকাল হিসাব: যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে সহবাস কিংবা নির্জনবাসের পর তালাক দেয়, তাহলে অবশ্যই তাকে পূর্ণ তিন হায়েয ইদ্দত পালন করতে হবে; তার যদি হায়েয চালু থাকে এবং গর্ভবতী না হয়। আল্লাহ বলেন:

﴿وَٱلۡمُطَلَّقَٰتُ يَتَرَبَّصۡنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَٰثَةَ قُرُوٓءٖ...﴾

“তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন "কুরু" পর্যন্ত অপেক্ষা করবে...।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২২৮], অর্থাৎ তিন হায়েয। আর যদি সে গর্ভবতী হয়, তাহলে তার ইদ্দত হলো (গর্ভের) সন্তান প্রসব পর্যন্ত, সময়কাল দীর্ঘ হোক বা কম হোক। আল্লাহ তা'আলার বাণী:

﴿...وَأُوْلَاتُ الأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ...﴾

“...আর গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তানপ্রসব পর্যন্ত...।” [সূরা আত-তালাক: ৪] আর যদি সে হায়েযবতী নারী না হয়, যেমন অল্পবয়সী মেয়ে যার হায়েয শুরুই হয়নি, বা বার্ধক্যের কারণে যার হায়েয হওয়ার আশা নেই, অথবা অপারেশন করে যার জরায়ু অপসারণ করা হয়েছে কিংবা অন্যান্য কারণ, যার দরুন তার হায়েয পুনরায় চালু হবে এই প্রত্যাশা করা যায় না, তাহলে তার ইদ্দত হল তিন মাস। কেননা আল্লাহ তা'আলার বাণী:

﴿وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِن نِّسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ...﴾

“তোমাদের যে সব স্ত্রী আর ঋতুবতী হওয়ার আশা নেই। তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস এবং যারা এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদেরও...” [সূরা আত-তালাক: ৪] আর যদি সে হায়েযগ্রস্ত হয়, কিন্তু জ্ঞাত কারণে হায়েয বন্ধ থাকে, যেমন: অসুস্থতা ও স্তন্যপান; তাহলে তিনি পুনরায় হায়েয হওয়া অবধি ইদ্দতের মধ্যেই থাকবেন এবং হায়েয হলে এর মাধ্যমেই ইদ্দত পালন করবেন, যদিও সময় দীর্ঘায়িত হয়। যদি কারণ দূরীভূত হওয়ার পরেও পুনরায় হায়েয না হয়; অর্থাৎ রোগ সেরে যায় অথবা স্তন্যপান শেষ হয় তথাপি হায়েয না আসে, তাহলে তার (হায়েয বন্ধ হওয়ার) কারণটি দূরীভূত হওয়ার পর থেকে পুরো এক বছর ইদ্দত পালন করবে। এটিই সঠিক অভিমত, যা শরীয়ার মূলনীতি সাথে প্রযোজ্য। কেননা যখন কারণটি দূর হয়ে যায় এবং পুনরায় হায়েয না হয়, তাহলে (হুকুমের ক্ষেত্রে) সে ঐ নারীর মতো, যার অজ্ঞাত কারণে হায়েয বন্ধ হয়ে গেছে। আর যদি অজ্ঞাত কারণে (কোন নারীর) হায়েয বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তার ইদ্দত হল পূর্ণ এক বছর। সতর্কতা স্বরূপ গর্ভধারণের জন্য নয় মাস; কারণ বেশিরভাগ গর্ভাবস্থা (নয় মাস স্থায়ী হয়), এবং তিন মাস হল ইদ্দতের জন্য।

কিন্তু যদি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর স্পর্শ করা ও নির্জনবাসের পূর্বে তালাক দেয়া হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে কোনো ইদ্দতই নেই, না হায়েয দিয়ে, না অন্য কোন উপায়ে। কেননা আল্লাহ তা'আলার বাণী:

﴿يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا...﴾

“হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিয়ে করবে, তারপর তাদেরকে স্পর্শ করার আগে তালাক দিবে, তখন তোমাদের জন্য তাদের পালনীয় কোন 'ইদ্দত নেই যা তোমরা গুণবে...।” [সূরা আল-আহযাব: ৪৯]

নবম হুকুম: জরায়ু গর্ভমুক্ত হওয়ার হুকুম: যখনি জরায়ু গর্ভমুক্ত হওয়ার হুকুম প্রদানের প্রয়োজন হয়, তখনি এর প্রয়োজন হয়।

যেমন: যদি কোন ব্যক্তি এমন মহিলা রেখে মারা যায়, যার স্বামী আছে, এবং যার গর্ভস্থিত (সন্তান) তার উত্তরাধিকার হবে, তাহলে তার স্বামী যতক্ষণ না তার হায়েয হয় কিংবা গর্ভধারণের ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়, ততক্ষণ তার সাথে সহবাস করবে না। যদি তার গর্ভধারণ নিশ্চিত হয়, তাহলে আমরা গর্ভের সন্তান উত্তরাধিকারী হওয়ার হুকুম দিব; যেহেতু পূর্বসূরির মৃত্যুর সময় তার অস্তিত্ব ছিল। আর যদি তার হায়েয হয়, তাহলে আমরা তাকে উত্তরাধিকারী না হওয়ার হুকুম দিব; কেননা হায়েযের মাধ্যমে আমরা তার জরায়ু (সন্তান) মুক্ত হুকুম দিয়েছি। ।

দশম বিধান: গোসল ওয়াজিব হওয়া: হায়েযগ্রস্ত নারী যখন পবিত্র হবে, তখন তার পুরো শরীরকে পবিত্র করতে গোসল করা ওয়াজিব; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা বিনতে আবূ হুবায়শ রাদিআল্লাহু আনহাকে বলেছেন:

«فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي».

“হায়েয শুরু হলে সালাত ছেড়ে দেবে। আর হায়েয শেষ হলে গোসল করে সালাত আদায় করবে।” [এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন]।53

গোসলের ন্যূনতম ওয়াজিব হল সে তার সমস্ত শরীর ধৌত করবে, এমনকি চুলের নীচের চামড়াও। আর উত্তম হল হাদিসে বর্ণিত পদ্ধতিতে গোসল করা। আসমা বিনতে শাকাল রাদিআল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হায়িযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন:

«تَأْخُذُ إِحْدَاكُنَّ مَاءَهَا وَسِدْرَتَهَا فَتَطَهَّرُ فَتُحْسِنُ الطُّهُورَ، ثُمَّ تَصُبُّ عَلَى رَأْسِهَا فَتَدْلُكُهُ دَلْكًا شَدِيدًا، حَتَّى تَبْلُغَ شُؤُونَ رَأْسِهَا، ثُمَّ تَصُبُّ عَلَيْهَا الْمَاءَ، ثُمَّ تَأْخُذُ فِرْصَةً مُمَسَّكَةً -أَيْ: قِطْعَةَ قُمَاشٍ فِيهَا مِسْكٌ- فَتَطَهَّرُ بِهَا».

“তোমাদের কেউ পানি ও বরই পাতা নিয়ে সুন্দরভাবে পবিত্র হবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভালোভাবে রগড়ে নিবে, যাতে করে সমস্ত চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়। তারপর গায়ে পানি ঢালবে। এরপর একটি সুগন্ধিযুক্ত কাপড় (অর্থাৎ মিসকযুক্ত কাপড়ের টুকরা) নিয়ে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে।” আসমা বলল: তা দিয়ে কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে? তিনি বললেন:

«سُبْحَانَ اللَّهِ!».

“সুবহানাল্লাহ!”, আয়েশা তাকে বললেন: রক্তের চিহ্ন অনুসরণ করবে। [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন]54

মাথার চুলের বেনী খোলা আবশ্যক নয়, যদি না তা এতটাই শক্ত করে বাঁধা থাকে যে চুলের গোড়ায় পানি না পৌঁছানোর আশংকা থাকে। যেমনটি সহীহ মুসলিমে উম্মে সালমা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে:

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলেন, অতঃপর বললেন: আমি তো মাথায় চুলের বেনী গেঁথে থাকি, অপবিত্রতার গোসলের সময় কি আমি তা খুলব? অপর বর্ণনায় রয়েছে: হায়েয এবং অপবিত্রতার গোসলের সময় আমি কি তা খুলে ফেলব? তিনি বললেন:

«لَا، إِنَّمَا يَكْفِيكِ أَنْ تَحْثِيَ عَلَى رَأْسِكِ ثَلَاثَ حَثَيَاتٍ ثُمَّ تُفِيضِينَ عَلَيْكِ الْمَاءَ فَتَطْهُرِينَ».

“না, বরং তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি মাথার ওপর তিন অঞ্জলি পানি ঢেলে দিবে। অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢেলে দিয়ে পবিত্র হয়ে যাবে।”55

যদি হায়েযগ্রস্ত নারী সালাতের সময় পবিত্র হয়, তাহলে তার জন্য ওয়াজিব হল দ্রুত গোসল করা; যাতে সময়মত সালাত আদায় করতে পারে। সে যদি সফরে থাকে এবং পানি না থাকে কিংবা পানি থাকে, কিন্তু তা ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা করে অথবা সে অসুস্থ হওয়ার কারণে পানি ব্যবহারে তার ক্ষতি হবে; তাহলে প্রতিবন্ধকতা দূর না হওয়া পর্যন্ত সে গোসল না করে তায়াম্মুম করবে, অতঃপর (প্রতিবন্ধকতা দূর হলে) গোসল করবে।

কিছু নারী সালাতের সময় (হায়েয হতে) পবিত্র হওয়ার পরও গোসলকে অন্য সময়ের পর্যন্ত বিলম্বিত করে। সে বলে, এই সময়ে তার পক্ষে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন সম্ভব নয়। কিন্তু এটা কোন যুক্তি ও ওজর হতে পারে না। কেননা সে গোসলের ন্যূনতম ওয়াজিব কাজগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে গোসল সেরে নিতে পারে এবং নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করতে পারে। অতঃপর যখন তার কাছে পর্যাপ্ত সময় থাকবে, তখন পূর্ণরূপে পবিত্র হবে।

পঞ্চম অধ্যায়: ইস্তেহাযা এবং এর হুকুম

ইস্তেহাযা: একজন মহিলার ক্রমাগত রক্তস্রাব হওয়া, এমন যে তা কখনোই বন্ধ হয় না বা অল্প সময়ের জন্য বন্ধ হয়, যেমন মাসে এক বা দুই দিন।

প্রথম অবস্থা তথা যেখানে কখনোই রক্তস্রাব বন্ধ হয় না তার দলীল হলো: সহীহ বুখারীতে আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: "ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন:

"يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَا أَطْهُرُ".

“হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি কখনো পবিত্র হই না।” অন্য বর্ণনায় এসেছে:

"أَسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ".

“আমার ইস্তিহাযা হয়, ফলে আমি পবিত্র হতে পারি না।”56

আর দ্বিতীয় অবস্থা তথা অল্প সময়ের জন্য রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার দলীল হলো: হামনা বিনতে জাহশ এর হাদিস, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন:

"يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَثِيرَةً شَدِيدَةً".

"হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি গুরুতররূপে ও অত্যধিক পরিমানে ইস্তেহাযাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।" [অত্র হাদীসটি.. আহমাদ, আবূ দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী এটিকে সহীহ বলেছেন এবং তিনি বর্ণনা করেছেন যে ইমাম আহমাদ এটিকে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম বুখারী এটিকে হাসান বলেছেন।]।5758

ইস্তেহাযার অবস্থাসমূহ:

ইস্তেহাযাগ্রস্ত নারীদের তিন অবস্থা:

প্রথম অবস্থা: ইস্তেহাযার পূর্বে তার হায়েযের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল। এ ক্ষেত্রে সে তার পূর্বের হায়েযের সময়সীমার নির্ভর করবে, কাজেই ঐ সময়সীমায় সে (সালাত আদায় না করে) বসে থাকবে এবং তার জন্য হায়েযের হুকুম সাব্যস্ত হবে। (হায়েযের সময়সীমা বাদ দিয়ে) বাকীটা ইস্তেহাযা হিসেবে গণ্য হবে, এর জন্য ইস্তেহাযাগ্রস্ত নারীর হুকুম সাব্যস্ত হবে।

এর উদাহরণ হলো: একজন মহিলা যার প্রতি মাসের প্রথম ছয়দিন হায়েয হতো, অতঃপর সে ইস্তেহাযা আক্রান্ত হলো, ফলে নিরবচ্ছিন্ন রক্ত নির্গত হতে থাকলো। এক্ষেত্রে প্রতি মাসের প্রথম ছয়দিন তার জন্য হায়েয হিসেবে গণ্য হবে, বাকিটা হবে ইস্তেহাযা। কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, ফাতিমা বিন্‌তু আবূ হুবায়শ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত নারী, কখনো পবিত্র হতে পারি না, এমতাবস্থায় আমি কি সালাত পরিত্যাগ করবো? (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:

«لَا، إِنَّ ذَلِكَ عِرْقٌ، وَلَكِنْ دَعِي الصَّلَاةَ قَدْرَ الْأَيَّامِ الَّتِي كُنْتِ تَحِيضِينَ فِيهَا ثُمَّ اغْتَسِلِي وَصَلِّي».

“না, ওটা শিরার (ধমনী) রক্ত। তবে এরূপ হওয়ার আগে নিয়মিত যতদিন হায়য হতো সে কয়দিন সালাত পরিত্যাগ করো। তারপর গোসল করে সালাত আদায় করবে।” সহীহ বুখারী।59

সহীহ মুসলিমে এসেছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হাবীবা বিনতে জাহ্শ রাদিআল্লাহু আনহাকে বলেন:

«امْكُثِي قَدْرَ مَا كَانَتْ تَحْبِسُكِ حَيْضَتُكِ ثُمَّ اغْتَسِلِي وَصَلِّي».

“তোমার হায়েযের জন্য যে ক’দিন অপেক্ষা করতে সে ক’দিন তুমি হায়েযের বিধি নিষেধ মেনে চলবে। তারপর গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।”60

অতএব, ইস্তেহাযাগ্রস্ত নারী যার হায়েযের নির্ধারিত সময়সীমা জানা আছে, সে (পূর্ববর্তী) হায়েযের দিন সমপরিমাণ সময় অপেক্ষা করবে। অতঃপর গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে, তখন আর রক্তের দিকে ভ্রূক্ষেপ করবে না।

দ্বিতীয় অবস্থা: ইস্তেহাযার পূর্বে তার নির্ধারিত কোনো হায়েয ছিল না, বরং প্রথম রক্ত দেখা থেকেই তার ইস্তেহাযা চলমান। এ ক্ষেত্রে সে (রক্তের বর্ণের মাধ্যমে) পার্থক্য করবে। কালো, গাঢ় কিংবা গন্ধযুক্ত রক্ত (নির্গত) হলে হায়েযের হুকুম সাব্যস্ত হবে, আর অন্যান্য ক্ষেত্রে ইস্তেহাযার হুকুম সাব্যস্ত হবে।

এর উদাহরণ হলো: একজন মহিলা যে প্রথমবার রক্ত ​​দেখতে পায় এবং তা চলতেই থাকে, কিন্তু সে দেখতে পায়, (রক্ত) প্রথম দশ দিন কালো বর্ণের এবং বাকি মাস লাল বর্ণের, অথবা প্রথম দশ দিন তা ঘন বাকি মাস পাতলা, কিংবা প্রথম দশ দিন রক্তে হায়েযের দুর্গন্ধ আছে বাকি মাসে কোনও গন্ধ নেই; এসব তার হায়েয হলো: প্রথম উদাহরণে কালো, দ্বিতীয় উদাহরণে ঘন এবং তৃতীয় উদাহরণে দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত, এছাড়া বাকী দিনগুলো হলো ইস্তেহাযা; কেননা ফাতেমা বিনতে আবি হুবাইশ কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:

«إِذَا كَانَ دَمُ الْحَيْضَةِ فَإِنَّهُ أَسْوَدُ يُعْرَفُ، فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَأَمْسِكِي عَنِ الصَّلَاةِ فَإِذَا كَانَ الْآخَرُ فَتَوَضَّئِي وَصَلِّي؛ فَإِنَّمَا هُوَ عِرْقٌ».

“হায়েযের রক্ত হয় কালো, যা দেখে চেনা যায়। রক্ত এরূপ হলে সালাত হতে বিরত থাকবে। আর অন্য রকম হলে অযু করে সালাত আদায় করবে। কারণ তা একটি রগ থেকে নির্গত রক্ত।” [আবূ দাউদ ও নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান ও হাকিম এটিকে সহীহ বলেছেন]61

সনদ এবং মতনের দিক থেকে হাদীসটিতে সমস্যা থাকলেও ওলামায়ে কেরাম এর উপর আমল করেছেন। এটি অধিকাংশ মহিলার অভ্যাসের উপর নির্ভর করার চেয়ে উত্তম।

তৃতীয় অবস্থা: তার নির্ধারিত কোন হায়েয নেই, এবং (হায়েয) পার্থক্য করা যায় এমন কোন বৈশিষ্ট্যও নেই, অর্থাৎ এমন ইস্তেহাযা যা প্রথমবার রক্ত ​​দেখার পর থেকেই অবিচ্ছিন্নভাবে চলছে, এবং তার রক্ত একই বৈশিষ্ট্যের অথবা বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের, যা হায়েয হতে পারে না, এ ক্ষেত্রে সে অধিকাংশ নারীদের অভ্যাসের উপর আমল করবে, সুতরাং তার হায়েয হবে প্রথম রক্ত দেখা থেকে শুরু করে প্রতিমাসে ছয়দিন অথবা সাতদিন, আর বাকী দিনগুলো হবে ইস্তেহাযা।

এর উদাহরণ হলো: সর্বপ্রথম সে মাসের পঞ্চম দিনে রক্ত ​​দেখতে পায়, এটা নিরবচ্ছিন্ন চলতে থাকে এবং হায়েয পার্থক্য করা যায় এমন কোনও বৈশিষ্ট্যেও নেই, না‌ রং দিয়ে, না‌ অন্যকিছু দিয়ে, এমতাবস্থায় তার হায়েয হবে প্রতি মাসের পঞ্চম দিন থেকে শুরু করে ছয় দিন বা সাত দিন। হামনাহ্ বিনতু জাহশ থেকে বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে, তিনি বলেন:

হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি ইস্তিহাযার গুরুতর রোগে ভুগছি। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কি নির্দেশ দেন? তা আমাকে সালাত- সিয়াম বিরত রাখছে। উত্তরে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:

«أَنْعَتُ لَكِ (أَصِفُ لَكِ اسْتِعْـمَال) الْكُرْسُفَ (وهُـوَ القُطْنُ) تَضَعِينَهُ عَلَى الْفَرْجِ، فَإِنَّهُ يُذْهِبُ الدَّمَ».

“আমি তোমাকে লজ্জাস্থানে তুলার পট্টি রাখতে উপদেশ দিচ্ছি, কেননা তা রক্ত দূর করে।” তিনি বললেন: তা এর চেয়েও বেশি। এ হাদীসে তিনি আরো বলেছেন:

«إِنَّمَا هَذَا رَكْضَةٌ مِنْ رَكَضَاتِ الشَّيْطَانِ، فَتَحَيَّضِي سِتَّةَ أَيَّامٍ أَوْ سَبْعَةً فِي عِلْمِ اللَّهِ تَعَالَى، ثُمَّ اغْتَسِلِي حَتَّى إِذَا رَأَيْتِ أَنَّكِ قَدْ طَهُرْتِ وَاسْتَنْقَيْتِ فَصَلِّي أَرْبَعًا وَعِشْرِينَ أَوْ ثَلَاثًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً وَأَيَّامَهَا وَصُومِي».

“এটি শয়তানের পদাঘাত ছাড়া আর কিছুই নয়। সুতরাং তুমি আল্লাহর বিধান মোতাবেক ছয় বা সাত দিন হায়েযের মেয়াদ গণ্য করো। অতঃপর গোসল কর। যখন তুমি দেখবে যে, তুমি পবিত্র হয়ে গেছো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছো, তখন চব্বিশ অথবা তেইশ রাতদিন এবং তার সমপরিমাণ সালাত আদায় কর ও সাওম রাখ।” [আহমাদ, আবূ দাউদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী এটিকে সহীহ বলেছেন, আর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, আহমাদ এটিকে সহীহ বলেছেন এবং বুখারী এটিকে হাসান বলেছেন]।6263

আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি: (ستّة أيّامٍ أو سبعةً) "ছয় বা সাত দিন" এটি যে কোন একটি চয়ন করার জন্য নয়, বরং তা ইজতেহাদ তথা ভেবে দেখার জন্য। তাই সে তার অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে; গঠন, বয়স এবং আত্নীয়তার দিক থেকে কে তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, হায়েযের রক্তের দিক থেকে কোনটি অধিক নিকটবর্তী এবং অনুরূপ অন্যান্য দিকও বিবেচনা করবে। যদি (সব বিবেচনায় মনে হয়) ছয় দিন (হায়েয) হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত, তবে ছয় দিন ধরবে। আর যদি সাত দিন হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয়, তবে সাত দিন ধরবে।

 

ইস্তেহাযাগ্রস্তদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নারীর অবস্থা:

কখনো কখনো একজন নারীর এমন সমস্যা হয়; যার ফলে তার যোনি থেকে রক্তক্ষরণ হয়। যেমন: জরায়ুর অপারেশন বা অন্য কোন কারণে। আর এটা দু'ধরণের:

প্রথম ধরণ: তাকে এটা জানা যাবে যে, অপারেশনের পর তার হায়েয হওয়া সম্ভব নয়। যেমন: অপারেশনের মাধ্যমে জরায়ু সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করা অথবা এমনভাবে বন্ধ করে দেয়া যাতে তার থেকে কোন রক্ত ​​বের না হয়। এ ধরনের মহিলার জন্য ইস্তেহাযার হুকুম সাব্যস্ত হবে না, বরং যে মহিলা পবিত্র হওয়ার পর হলদেটে, মেটে, কিংবা আর্দ্রতা দেখে তার হুকুম সাব্যস্ত হবে। সে সালাত বা সিয়াম পরিত্যাগ করবে না, তার সাথে সহবাস করাও নিষিদ্ধ নয়, এই রক্তের জন্য গোসল করতে হবে না, বরং তার জন্য আবশ্যক হলো সালাতের সময় রক্ত ধৌত করা এবং গোপনাঙ্গে ন্যাকড়া বা অনুরূপ কিছু বেঁধে দেওয়া; যাতে রক্ত ​​বের হতে না পারে। অতঃপর সে সালাতের জন্য অযু করবে, যে সালাতের নির্ধারিত সময় আছে, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এমন সালাতের সময় না হওয়া পর্যন্ত অযু করবে না, অন্য সালাত, যেমন: সাধারণ নফল সালাতের ক্ষেত্রে সালাতের ইচ্ছা পোষণ করার সময় অযু করবে।

দ্বিতীয় ধরণ: অপারেশনের পর তার হায়েয হবে না, এমনটা জানা যায় না, বরং হায়েয হওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তার হুকুম হবে ইস্তেহাযাগ্রস্তের ন্যায়। এটা প্রমাণিত হয় ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ-কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা থেকে:

«إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ وَلَيْسَ بِالْحَيْضَةِ، فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَاتْرُكِي الصَّلَاةَ».

"এটা হায়েয নয়, বরং শিরা নিঃসৃত রক্ত। যখন হায়েয দেখা দিবে, তখন সালাত ছেড়ে দিবে।"64

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি:

«فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ».

“যখন হায়েয আসবে” এটি ইঙ্গিত করে যে, ইস্তেহাযার হুকুম ঐ নারীর জন্য প্রযোজ্য যার হায়েয শুরু এবং শেষ হওয়া সম্ভব। আর যার হায়েয হওয়া সম্ভব নয়, তার রক্ত সর্বদাই শিরার রক্ত হিসেবে বিবেচ্য।

ইস্তেহাযার হুকুমসমূহ:

পূর্বের আলোচনা থেকে আমরা জেনেছি (জরায়ু থেকে নির্গত) রক্ত কখন ​​হায়েয হিসেবে গণ্য আর কখন ইস্তেহাযা হিসেবে। সুতরাং রক্ত যখন হায়েয হয় তখন হায়েযের হুকুম সাব্যস্ত হয়, আর যখন ইস্তেহাযা হয় তখন ইস্তেহাযার হুকুম সাব্যস্ত হয়।

হায়েযের গুরুত্বপূর্ণ হুকুম ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর ইস্তেহাযার হুকুম হলো পবিত্রতার হুকুমের ন্যায়। সুতরাং ইস্তেহাযাগ্রস্ত নারী এবং পবিত্র নারীর মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ছাড়া কোনো পার্থক্য নেই:

প্রথমত: তার উপর প্রত্যেক সালাতের জন্য অযু করা ওয়াজিব; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতেমা বিনতে আবী হুবাইশ-কে বলেছিলেন:

«ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ».

“অতঃপর প্রত্যেক সালাতের জন্য অযু করবে।” হাদীসটি বুখারী ‘রক্ত ধৌতকরণ’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। এর মানে হলো: সে ওয়াক্তিয়া সালাতের জন্য সময় হওয়ার পূর্বে অযু করবে না। আর ওয়াক্তিয়া সালাত না হলে, সে সালাত আদায়ের ইচ্ছা পোষণের সময় অযু করবে।

দ্বিতীয়ত: যখন সে অযু করতে ইচ্ছা করবে, তখন রক্তের চিহ্নগুলো ধুয়ে ফেলবে এবং গোপনাঙ্গে সূতি ন্যাকড়া বেঁধে রাখবে যাতে রক্ত বন্ধ হয়; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামনাকে বলেছিলেন:

«أَنْعَتُ لَكِ الْكُرْسُفَ فَإِنَّهُ يُذْهِبُ الدَّمَ». قَالَتْ: فَإِنَّهُ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ. قَالَ: «فَاتَّخِذِي ثَوْبًا». قَالَتْ: هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ. قَالَ: «فَتَلَجَّمِي».

"আমি তোমাকে তুলার পট্টি ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছি; কেননা তা রক্ত প্রতিরোধক! তিনি (হামনা) বললেন, এটা তার চেয়েও বেশি। তিনি বললেন: তাহলে তুমি কাপড়ের পট্টি বেঁধে নাও। তিনি (হামনা) বললেন, এটা তার চেয়েও বেশি। তিনি বললেন: তাহলে তুমি (নির্দিষ্ট স্থানে কাপড়ের) লাগাম বেঁধে নাও।" অত্র হাদীসটি। এরপর যা বেরিয়ে আসে তাতে তার কোন ক্ষতি হবে না; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ-কে বলেছিলেন:

«اجْتَنِبِي الصَّلَاةَ أَيَّامَ حَيْضِكِ، ثُمَّ اغْتَسِلِي وَتَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ، ثُمَّ صَلِّي، وَإِنْ قَطَرَ الدَّمُ عَلَى الْحَصِيرِ».

“তুমি তোমার হায়েযের মেয়াদকালে সালাত থেকে বিরত থাকো, অতঃপর গোসল করো এবং প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য অযু করে সালাত পড়ো, যদিও জায়নামাযে রক্ত পড়ে।” [এটি আহমাদ ও ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন]65

তৃতীয়ত: সহবাস। এটা বর্জন করলে যদি ব্যভিচারের আশঙ্কা না থাকে, তাহলে (ইস্তেহাযাগ্রস্ত নারীর জন্য) তা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মতভেদ আছে। বিশুদ্ধ মত হলো, তা সাধারণভাবে জায়েয; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে দশজন বা তার বেশী সংখ্যক নারী ইস্তেহাযাগ্রস্ত হয়েছিল, তথাপি আল্লাহ বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে সহবাস করতে নিষেধ করেননি। বরং আল্লাহ তা'আলার এ বাণী:

﴿...فَاعْتَزِلُواْ النِّسَاء فِي الْمَحِيضِ...﴾

“...কাজেই তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রী-সঙ্গম থেকে বিরত থাক...।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২২২] প্রমাণ করে যে, হায়েয ছাড়া অন্য সময় বিচ্ছিন্ন (স্ত্রীগমন থেকে দূরে) থাকা আবশ্যক নয়। যেহেতু তার জন্য সালাত জায়েয, সহবাসের বিষয়টি অপেক্ষাকৃত সহজ। তার সাথে সহবাস করাকে হায়েযগ্রস্ত নারীর সাথে সহবাসের সাথে কিয়াস করা বিশুদ্ধ নয়; কেননা উভয়টি সমান নয়, এমনকি যারা (ইস্তেহাযাগ্রস্ত নারীর সহবাস) হারাম বলে থাকে তাদের নিকটও। আর পার্থক্যসহ কিয়াস বিশুদ্ধ নয়।

ষষ্ঠ অধ্যায়: নিফাস এবং এর হুকুম।

নিফাস হল: এমন রক্ত যা প্রসবের কারণে জরায়ু থেকে নির্গত হয়। এটা প্রসবের সময় বা প্রসবের পরে কিংবা প্রসবের দুই বা তিন দিন আগে বেদনার সাথে (বের হয়)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ:) বলেন: "প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার সাথে যে রক্ত দেখতে পায় সেটা হলো নিফাস।" তিনি নিফাসকে দুই অথবা তিনদিনের সাথে শর্তযুক্ত করেন নি। তার উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যথা যার পরপরই সন্তান প্রসব হয়, অন্যথায় তা নিফাস নয়। এর সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা আছে কিনা এ নিয়ে আলেমগণ মতবিরোধ করেছেন। শায়েখ তাকিউদ্দিন (ইবনে তাইমিয়া) তার রিসালা "আল-আসমাউল্লাতি আল্লাকাশ-শারেয়ুল-আহকামা বিহা" (পৃ. ৩৭) তে বলেন: "নিফাসের সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ কোন সীমা নেই, তাই যদি ধরে নেয়া হয় যে একজন মহিলা চল্লিশ, বা ষাট কিংবা সত্তর দিনের বেশি রক্ত ​​দেখেন এবং তা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা নিফাস। কিন্তু রক্ত যদি নির্গত হতেই থাকে, তবে তা দাম ফ্যাসাদ বা ইস্তেহাযা। এবং সেক্ষেত্রে সীমা চল্লিশ (দিন); কেননা এটিই অধিকাংশ (নারীর নিফাসের) শেষ সীমা, এ ব্যাপারে অনেক আছার রয়েছে।"

আমি বলি: যদি তার রক্তস্রাব চল্লিশ দিনের বেশি হয় এবং তার অভ্যাসও এমন যে, তা (চল্লিশ দিন) এর পর বন্ধ হয়, অথবা খুব শীঘ্রই বন্ধ হবে এমন লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে সে (রক্তস্রাব) বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। অন্যথায় সে চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে নিবে; কেননা এটাই অধিকাংশ (নারীর নিফাসের সময়সীমা)। তবে হ্যাঁ, এর মধ্যে যদি তার হায়েযের সময় হয়ে যায়, তাহলে এর সময়সীমা শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করবে। এরপর যদি রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটা তার অভ্যাস হিসেবে ধরা হবে, এবং ভবিষ্যতে সে এর উপর আমল করবে। আর যদি (রক্তস্রাব) চলমান থাকে, তাহলে সে ইস্তেহাযাগ্রস্ত। ইতিপূর্বে উল্লিখিত ইস্তেহাযাগ্রস্তের বিধি-বিধান অনুযায়ী আমল করবে। চল্লিশ দিনের আগেও যদি রক্তস্রাব বন্ধের মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যায়, তাহলে সে পবিত্র। ফলে সে গোসল করবে, সালাত পড়বে, সিয়াম রাখবে এবং স্বামী তার সাথে সহবাস করবে। তবে (রক্তস্রাব) যদি এক দিনের কম সময় বন্ধ থাকে, তাহলে এর কোন হুকুম নেই। যেমনটি "আল-মুগনী" তে (গ্রন্থকার) বলেছেন।66

নিফাস হিসেবে তখনই গণ্য হবে, যদি সে এমন (সন্তান) প্রসব করে যার মধ্যে মানবাকৃতি স্পষ্ট হয়েছে। যদি অকালপ্রসূত ছাট ভ্রূণ প্রসব করে, যার মধ্যে মানবাকৃতি স্পষ্ট হয়নি তবে তার রক্তস্রাব নিফাস নয়। বরং তা শিরা থেকে নির্গত রক্ত, এর হুকুম হলো ইস্তেহাযাগ্রস্তের হুকুম। মানবাকৃতি স্পষ্ট হওয়ার সর্বনিম্ন সময়সীমা হল, গর্ভধারণের শুরু থেকে আশি দিন। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে (এ সময়সীমা) নব্বই দিন।

মাজদ ইবনে তাইমিয়া (রহ:) বলেছেন: “যদি প্রসবের আগে কোনো এক দিন প্রসবজনিত রক্ত দেখতে পায়, তবে সে সেটার দিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না। এরপর সে সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকবে। অতঃপর যদি প্রসবের পরে বিষয়টি বাহ্যিক অবস্থার বিপরীত প্রকাশ পায়, তাহলে সে পূর্বের দিনগুলো পূরণ (ক্বাযা) করে নেবে। আর যদি বিষয়টি স্পষ্ট না হয়, তাহলে বাহ্যিক অবস্থার হুকুমই বহাল থাকবে- পুনরায় আদায় করতে হবে না।” ("শরহুল ইক্বনা" গ্রন্থে গ্রন্থকার ইবনে তাইমিয়া থেকে উক্তিটি এনেছেন)।67

নিফাসের হুকুম:

নিফাসের হুকুম সার্বিকভাবে হায়েযের হুকুমের মতই নিম্নলিখিত কয়েকটি বিষয় ব্যতীত:

প্রথমত: ইদ্দত, এ ক্ষেত্রে তালাক (এর সময়কাল) বিবেচিত হবে, নিফাস হিসেবে নয়; কেননা তালাক যদি সন্তান প্রসবের পূর্বে হয়, তাহলে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে ইদ্দতকাল শেষ হয়ে গেছে, নিফাসের মাধ্যমে নয়। আর তালাক যদি সন্তান প্রসবের পরে হয়, তাহলে সে হায়েয হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, যেমনটি ইতিপূর্বে আলোচনা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: ঈলা এর সময়কালের মধ্যে হায়েযের সময় গণনা করা হয়, কিন্তু নিফাসের সময়কাল গণনা করা হয় না।

ঈলা হলো: পুরুষের এই শপথ করা যে, সে তার স্ত্রীর সাথে চিরকালের জন্য বা চার মাসের বেশি সময়ের জন্য সহবাস থেকে বিরত থাকবে। যদি সে শপথ করে আর তার স্ত্রী সহবাসের আহ্বান করে, তাহলে তার শপথ থেকে তাকে চার মাস সময় দেয়া হবে। যখন চার মাস পূর্ণ হবে, তখন স্ত্রীর চাওয়া সাপেক্ষে তাকে সহবাস কিংবা পৃথক হতে বাধ্য করা হবে। এই সময়কালে, মহিলার যদি নিফাস হয়, তবে স্বামীর উপর তা গণনা করা হবে না, চার মাসের সাথে নিফাস পরিমাণ সময় বৃদ্ধি করা হবে। (এ ক্ষেত্রে) তা হায়েযের বিপরীত, হায়েযের সময়কাল স্বামীর উপর গণনা করা হবে।

তৃতীয়ত: সাবালিকা হায়েযের দ্বারা হয়, নিফাসের দ্বারা হয় না; কেননা একজন নারী বীর্যপাত না হওয়া পর্যন্ত গর্ভবতী হতে পারে না, তাই গর্ভাবস্থার আগে বীর্যপাতের মাধ্যমে সাবালিকা ধরা হবে।

চতুর্থত: যদি হায়েযের রক্ত ​​বন্ধ হয়ে যায়, অতঃপর অভ্যাসের মধ্যে পুনরায় ফিরে আসে, তবে অবশ্যই তা হায়েয। যেমন: তার অভ্যাস হলো আট দিন (হায়েয স্থায়ী হয়)। সে চার দিন হায়েয দেখতে পায়, অতঃপর দুই দিন তা বন্ধ হয়ে যায়, পুনরায় সপ্তম ও অষ্টম দিনে তা আবার ফিরে আসে। তাহলে এই প্রত্যাবর্তন অবশ্যই হায়েয, এবং এর জন্য হায়েযের হুকুম সাব্যস্ত হবে। পক্ষান্তরে, নিফাসের রক্তের ব্যাপারে: যদি চল্লিশ দিনের আগেই রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তারপর সেই চল্লিশ দিনের মধ্যেই আবার ফিরে আসে- তাহলে এ রক্তটি সন্দেহজনক বলে গণ্য হবে। ফলে তার ওপর নির্ধারিত ফরজ সালাত ও সিয়াম সময়মতো আদায় করা আবশ্যক হবে। আর হায়েয অবস্থায় যেসব বিষয় হারাম, ফরজ ইবাদত ব্যতীত সেসব তার জন্যও হারাম হবে। এরপর সে যখন পবিত্র হবে, তখন এই রক্তের সময়ে হায়েয অবস্থায় যেসব আমল ক্বাযা করা ওয়াজিব- সেগুলো সে ক্বাযা করবে। হাম্বলী ফকীহদের নিকট এটাই সুপ্রসিদ্ধ মত।68

বিশুদ্ধ মত হল, নিফাস হতে পারে এমন সময়ে যদি রক্ত ​​ফিরে আসে তাহলে তা নিফাস। অন্যথায় তা হায়েয, যদি না রক্তস্রাব অবিরাম চলমান থাকে, তাহলে তা ইস্তেহাযা ।

এটি ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ থেকে "আল-মুগনি" গ্রন্থে বর্ণিত মতের কাছাকাছি। ইমাম মালেক বলেন:69 "যদি রক্ত বন্ধ হওয়ার দুই বা তিন দিন পর সে (পুনরায়) রক্ত ​ দেখতে পায়, তাহলে তা নিফাস, অন্যথায় তা হায়েয।" শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এর মতও এমনটিই।

বাস্তবতা অনুসারে রক্তস্রাব ​​সম্পর্কে সন্দেহের কিছু নেই। তবে সন্দেহ একটি আপেক্ষিক বিষয় যাতে মানুষ তাদের জ্ঞান এবং উপলব্ধি অনুসারে ভিন্ন হয়। কুরআন ও সুন্নাহতে সব কিছুরই ব্যাখ্যা রয়েছে। মহান আল্লাহ তা'আলা কারো জন্য দু'বার সাওম রাখতে বা দু'বার তাওয়াফ করা আবশ্যক করেননি, যদি না প্রথমটিতে এমন কোনও ত্রুটি থাকে যা কাযা করা ব্যতীত সংশোধন করা সম্ভব নয়। আর বান্দা তার সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানেই দায়িত্ব পালন করে, সে দায়িত্ব মুক্ত হয়ে যায়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

﴿لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَا...﴾

“আল্লাহ কাউকে সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না...।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬] তিনি আরো বলেন:

﴿فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ...﴾

“সুতরাং তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর...।” [সূরা আত-তাগাবুন: ১৬],

হায়েয ও নিফাসের মধ্যে পঞ্চম পার্থক্য হলো: হায়েযের ক্ষেত্রে অভ্যাস (সময়ের) পূর্বে যদি সে পবিত্র হয়ে যায়, তাহলে তার স্বামীর জন্য তার সাথে কোন প্রকার মাকরূহ ছাড়াই সহবাস করা জায়েয। পক্ষান্তরে নিফাসের ক্ষেত্রে সে যদি চল্লিশ দিনের আগেই পবিত্র হয়ে যায়, তাহলেও (হাম্বলী) মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতে, তার স্বামীর জন্য তার সাথে সহবাস করা মাকরূহ। আর বিশুদ্ধ মত হল: তার সাথে সহবাস করা তার জন্য অপছন্দনীয় নয়। এটাই অধিকাংশ ওলামার অভিমত; কেননা মাকরুহ হওয়া শরয়ী হুকুম, যার জন্য শরয়ী দলীল প্রয়োজন। ইমাম আহমাদ উসমান ইবনে আবুল আস এর সূত্রে যা উল্লেখ করেছেন, তা ছাড়া এ মাসয়ালায় আর কোন দলীল নেই। বর্ণনাটি হলো: তার স্ত্রী চল্লিশতম দিনের আগে তার কাছে আসলে তিনি বলেছিলেন: আমার কাছে আসবে না।70

এটা দিয়ে মাকরুহ বুঝায় না; কেননা এটি সতর্কতা স্বরূপ হতে পারে এই আশংকা থেকে যে, সে তার পবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত নয়, কিংবা সহবাসের কারণে রক্ত ​​চলে আসবে, অথবা অন্য কোন কারণে থাকতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।

সপ্তম অধ্যায়: এমন কিছু ব্যবহার প্রসঙ্গে যা হায়েয প্রতিরোধ করে বা চালু করা এবং যা গর্ভনিরোধ তরে কিংবা গর্ভপাত ঘটায়

একজন মহিলার জন্য দুটি শর্তে তার হায়েয বন্ধ রাখে এমন কিছু ব্যবহার করা বৈধ:

এক: তার কোন ক্ষতির আশঙ্কা না থাকা, যদি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তবে তা জায়েয নয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

﴿...وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ...﴾

“...আর তোমরা নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না...।” [সূরা আল-বাকারাহ: ১৯৫]

﴿...وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِيمٗا﴾

“...তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংস করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।” [সূরা আন-নিসা: ২৯]

দুই: স্বামীর অনুমতি নিয়ে করা, যদি তার সাথে এর সম্পৃক্ততা থাকে। যেমন: এমন ইদ্দত অবস্থায় থাকা, যে ইদ্দতকালে স্বামীর উপর তার ভরণ-পোষণ প্রদান করা ওয়াজিব, এ অবস্থায় হায়েয প্রতিরোধক ব্যবহার করা; যাতে করে ইদ্দতের সময়সীমা বৃদ্ধি পায়, স্বামীর খরচ বাড়ে। এ ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি ব্যতীত হায়েয প্রতিরোধক ব্যবহার করা তার জন্য জায়েয নয়। অনুরূপভাবে, যদি প্রমাণিত হয় যে, হায়েয প্রতিরোধক গর্ভধারণকে বাধা দেয়, তাহলে অবশ্যই তা স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে হতে হবে। আর যদিও হায়েয প্রতিরোধক (ব্যবহার) জায়েয সাব্যস্ত, তথাপিও উত্তম হল প্রয়োজন ব্যতীত এ সব ব্যবহার না করা; কেননা প্রকৃতিকে যেমন আছে তার আপন গতিতে চলতে দেওয়া সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য অধিক উপযোগী।

আবার হায়েয চালু করে, এমন কিছুর ব্যবহারও দুটি শর্তে জায়েয:

এক: এটিকে ফরয দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল হিসাবে ব্যবহার করবে না। যেমন: রমযানের কাছাকাছি সময়ে এটি ব্যবহার করা যাতে সাওম ভাঙতে পারে অথবা সালাত আদায় করতে না হয়, অথবা এরূপ কিছু।

দুই: স্বামীর অনুমতিক্রমে হতে হবে; কেননা হায়েয পূর্ণ উপভোগ করা থেকে তাকে বিরত রাখে। তাই স্বামীর সম্মতি ব্যতীত তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কিছু ব্যবহার করা জায়েয নয়। এমনকি সে যদি তালাকপ্রাপ্ত হয়, সে ক্ষেত্রেও অনুমতি লাগবে; কেননা এটি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার বিলুপ্তিকে ত্বরান্বিত করে।

আর গর্ভনিরোধকের ব্যবহার দুই ধরনের:

এক: স্থায়ী গর্ভনিরোধক। এটি জায়েয নয়; কেননা এটি গর্ভধারণ বন্ধ করে দেয়, ফলে সন্তান-সন্ততি কমে যায়, যা শরীয়ত প্রণেতার অভিপ্রায় "মুসলিম জাতিকে বহুগুণে বৃদ্ধি করা" এর পরিপন্থী; কেননা সে এই আশঙ্কামুক্ত নয় যে, তার বিদ্যমান সন্তানরা মারা যাবে, অতঃপর সে সন্তানহীন হয়ে বেঁচে থাকবে।

দুই: সাময়িক গর্ভনিরোধক। যেমন: একজন মহিলা খুব বেশি গর্ভবতী হয়ে পড়েন, আর গর্ভাবস্থা তাকে ক্লান্ত করে, তাই তিনি গর্ভধারণকে সুশৃঙ্খল করতে চান যেমন প্রতি দুই বছরে একবার অথবা অনুরূপ কিছু, তাহলে তা জায়েয। তবে শর্ত হলো: স্বামী অনুমতি দিতে হবে এবং এতে তার কোন ক্ষতি হবে না। এর দলীল হল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় সাহাবাগণ তাদের স্ত্রীদের সাথে আযল করতেন, যাতে তাদের স্ত্রীরা গর্ভবতী না হয়। কিন্তু তাদেরকে তা করতে নিষেধ করা হয়নি। আযল হল স্ত্রীর সাথে সহবাস কালে বীর্যপাতের সময় হলে পুরুষাঙ্গ বের করে নেয়া, এবং যোনির বাইরে বীর্যপাত করা।71

আর যা কিছুর ব্যবহার গর্ভপাত ঘটায় সেগুলো দুই ধরনের:

প্রথম প্রকার: গর্ভপাতের মাধ্যমে সেটিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য করবে। যদি এটি তার মধ্যে রূহ ফুঁ দেওয়ার পরে হয় তবে নিঃসন্দেহে তা হারাম; কেননা সে অন্যায়ভাবে একটি সম্মানিত আত্মাকে হত্যা করছে, আর সম্মানিত আত্মাকে হত্যা করা কুরআন সুন্নাহ এবং মুসলমানদের ঐক্যমতে হারাম। আর যদি তা রূহ ফুঁ দেয়ার পূর্বে হয়, তবে এর জায়েয হওয়া নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউকেউ এটিকে জায়েয বলেছেন, আবার কেউকেউ হারাম বলেছেন। আবার কেউকেউ বলছেন: জমাট রক্ত পিণ্ড হওয়া তথা চল্লিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে জায়েয। আবার কেউ বলছেন: যতক্ষণ পর্যন্ত এতে কোন মানব চরিত্র স্পষ্ট না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এটি জায়েয।

এক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা হলো: বিশেষ প্রয়োজন না হলে গর্ভপাত করা নিষিদ্ধ। যেমন: মা এমন অসুস্থ যে গর্ভধারণ সহ্য করতে পারছেনা, কিংবা অনুরূপ কোন কারণ। সে ক্ষেত্রে গর্ভপাত জায়েয, যদি না এতটা সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, যে সময়ে মানবাকৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর (মানব আকৃতি স্পষ্ট হয়ে গেলে) গর্ভপাত হারাম। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

দুই: গর্ভপাতের মাধ্যমে এটিকে ধ্বংস করা উদ্দেশ্য করবে না। যেমন: গর্ভধারণের সময়সীমা শেষ, প্রসবের সময় কাছাকাছি, সে সময়ে গর্ভপাতের চেষ্টা করা। এটা জায়েয। তবে শর্ত হলো: এতে মা বা সন্তানের ক্ষতি হতে পারবে না, এবং অপারেশনের প্রয়োজন হবে না। যদি অপারেশনের প্রয়োজন হয় তবে তার চারটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথম অবস্থা: মা এবং গর্ভস্থ সন্তান উভয়েই জীবিত। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়া অপারেশন জায়েয নয়। যেমন: তার প্রসব কঠিন হয়ে পড়ে এবং অপারেশনের প্রয়োজন হয়। আর এটি এই কারণে যে দেহটি বান্দার নিকট আমানত, তাই বৃহত্তর স্বার্থ ব্যতীত দেহের উপর ঝুঁকি হয় এমন কোন কাজ করা যাবেনা; কেননা সে হয়ত ভাববে অপারেশনে কোন ক্ষতি নেই, কিন্তু তাতে ক্ষতি হয়ে যায়।

দ্বিতীয় অবস্থা: মা এবং গর্ভস্থ সন্তান উভয়েই মৃত। এ ক্ষেত্রেও সন্তান অপসারণ করার জন্য অপারেশন জায়েয নেই; কেননা এতে কোন উপকার নেই।

তৃতীয় অবস্থা: মা জীবিত আর তার গর্ভস্থ সন্তান মৃত। এ ক্ষেত্রে গর্ভস্থ মৃত সন্তান অপসারণের জন্য অপারেশন করা জায়েয, যদি মায়ের ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে; কেননা (স্বাভাবিকভাবে) দেখা যায়, গর্ভস্থ সন্তান মারা গেলে, অপারেশন ছাড়া তা খুব কমই বের হয়। আর গর্ভে এটির স্থায়িত্ব তাকে ভবিষ্যৎ গর্ভবতী হতে বাধা দিবে, তার জন্য কষ্টকর হবে, এ ছাড়াও পূর্ববর্তী স্বামী থেকে ইদ্দত পালনরত থাকলে দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকতে হতে পারে।

চতুর্থ অবস্থা: মা মৃত এবং গর্ভস্থ সন্তান জীবিত। এ ক্ষেত্রে সন্তানের জীবনের কোনো আশা না থাকলে অপারেশন করা জায়েয হবে না।

আর যদি তার বাঁচার আশা করা যায়, তাহলে যদি তার কিছুটা বের হয়ে আসে, তবে বাকিটা মায়ের পেট কেটে বের করতে হবে। আর যদি এর কিছুই বের না হয় তাহলে আমাদের সাথীরা (হাম্বলি মাযহাবের আলেমগণ) রাহিমাহুমুল্লাহ বলেন: গর্ভস্থ সন্তান বের করার জন্য মায়ের পেট কাটা যাবে না; কেননা এটি অঙ্গবিকৃতির অন্তর্ভুক্ত। বিশুদ্ধ অভিমত হচ্ছে: পেট কাটা ছাড়া বের করা সম্ভব না হলে পেট কেটে বের করবে। ইবনে হুরায়রা এ মতটি প্রাধান্য দিয়েছেন। "ইনসাফ" গ্রন্থে (গ্রন্থকার) বলেন: এটাই উত্তম।72

আমি বলি: বিশেষ করে আমাদের এই সময়ে অপারেশন করা মানে অঙ্গবিকৃতি নয়; কেননা পেট কাটার পর তা সেলাই করা হয়; এবং জীবিতের সম্মান মৃতের সম্মানের চেয়ে বেশি; এ ছাড়াও একজন নিষ্পাপ মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করা ওয়াজিব, আর পেটের বাচ্চা একটা নিষ্পাপ মানুষ, তাই তাকে উদ্ধার করাও ওয়াজিব। আর আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

সতর্কীকরণ: উপরে উল্লিখিত যে সকল অবস্থায় গর্ভপাত জায়েয হওয়ার কথা বলা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে যিনি গর্ভের মালিক তার অনুমতি নিতে হবে। যেমন: স্বামী।

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা যা লিখতে চেয়েছি তা এখানেই শেষ হলো। আমরা এখানে মৌলিক মাসয়ালা এবং রীতি-নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি। কেননা এর শাখাপ্রশাখা, আনুষঙ্গিক বিষয়াদি এবং মহিলাদের এ নিয়ে যে সমস্যা হয় তা উপকূল বিহীন সমুদ্রের ন্যায়। কিন্তু বিচক্ষণ ব্যক্তি শাখা মাসয়ালাগুলোকে মৌলিক মাসয়ালার দিকে এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদিগুলোকে মৌলিক বিষয় এবং রীতিনীতির দিকে প্রত্যাবর্তন করাতে সক্ষম। আর বিভিন্ন বিষয়কে তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের উপর কিয়াস করবে।

মুফতিদের জানা উচিত যে, আল্লাহর রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা পৌঁছাতে এবং সৃষ্টির জন্য বর্ণনা করতে তিনি আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম। কুরআন ও সুন্নাহতে যা আছে সে ব্যাপারে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন; কেননা এ দুটি মূল উৎস বুঝা এবং আমল করার জন্যই বান্দাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক সবকিছুই ভুল। যে এমনটি বলবে, তার অবশ্যই খণ্ডন করতে হবে এবং এর উপর আমল করা জায়েয নয়। যিনি এমনটি বলেছেন, হতে পারে তিনি মাযুর মুজতাহিদ, এবং তার ইজতিহাদের প্রতিদান পাবেন, কিন্তু অন্য কেউ যে তার ভুল সম্পর্কে জানে তার জন্য এটি গ্রহণ করা জায়েয নয়।

মুফতিকে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য নিয়তকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। তার সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনায় আল্লাহ তা'আলার সাহায্য চাইবে। তাঁর কাছে অবিচলতা এবং সঠিকতার তাওফীক চাইবে।

কুরআন ও সুন্নাহতে যা এসেছে, অবশ্যই তাই হতে হবে তার গুরুত্বের জায়গা। সে এ নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করবে। কিংবা আলেমদের বক্তব্য অনুসন্ধান করবে, যা তাকে কুরআন ও সুন্নাহ বুঝার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

প্রায়শই দেখা দেয়, কোন একটি মাসয়ালায় একজন ব্যক্তি তার সাধ্যানুযায়ী আলেমদের মতামত অনুসন্ধান করার পরও তার হুকুম সম্পর্কে আশ্বস্ত হওয়ার মত কিছু খুঁজে পায় না, আবার কখনো একেবারেই তার উল্লেখও পায় না। অতঃপর যখন সে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসে, তখন একনিষ্ঠতা, জ্ঞান এবং বুঝ অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহ প্রদত্ত হুকুম তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।

মুফতির জন্য আবশ্যক হলো জটিল ক্ষেত্রে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে সময় নিবে, তাড়াহুড়া করবে না। কত এমন হুকুম আছে! যা প্রদানে তাড়াহুড়া করা হয়েছে, কিন্তু একটু চিন্তা করার পরই স্পষ্ট হয়েছে যে, সে ফতোয়া প্রদানে ভুল করেছে। এর জন্য সে লজ্জিত হয়েছে। এমনও হতে পারে সে যা ফতোয়া দিয়েছে, এর প্রতিবিধান করতে সে সক্ষম হবে না।

আর মুফতির ক্ষেত্রে, যদি লোকেরা জানে যে তিনি সময় নিয়ে নিশ্চিত হয়ে কথা বলেন, তাহলে তারা তার কথায় আস্থা রাখবে এবং উপদেশ গ্রহণ করবে। আর যদি লোকেরা তাকে তাড়াহুড়া করতে দেখে, (স্বভাবতই) তাড়াহুড়াকারী অনেক ভুল করে, তবে ফতোয়ার ক্ষেত্রে সে তাদের নিকট আস্থাবান হবে না। ফলত: তার তাড়াহুড়া ও ভুলের কারণে সে নিজেকে এবং অন্যদেরকে তার জ্ঞান ও সঠিক (ফতোয়া) থেকে বঞ্চিত করবে।

আমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে আমাদের এবং আমাদের মুসলিম ভাইদেরকে সরল পথে পরিচালিত করার, তাঁর অনুগ্রহে আমাদের দায়িত্ব নেয়ার, এবং তাঁরই নিয়ন্ত্রণে আমাদেরকে ত্রুটি থেকে রক্ষা করার প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি উদার-মহানুভব। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সঙ্গী-সাথীদের প্রতি। (পরিশেষে আবারো) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার, যাঁর অনুগ্রহে ভালো কাজগুলো সম্পন্ন হয়।

আল্লাহ তা'আলার প্রতি মুখাপেক্ষী (বান্দার) কলম দ্বারা সম্পন্ন হলো

মুহাম্মাদ আল-সালেহ আল-উসাইমিন

জুমাবার পূর্বাহ্নের প্রথম প্রহর

১৪ শা'বান ১৩৯২ হিজরী।

 

 

***

সূচিপত্র

 

প্রথম অধ্যায়: হায়েযের অর্থ এবং এর হিকমত 5

দ্বিতীয় অধ্যায়: হায়েযের সময় স্থিতিকাল 6

তৃতীয় অধ্যায়: হায়েযের ক্ষেত্রে বিশেষ অবস্থা 18

চতুর্থ অধ্যায়: হায়েযের হুকুম 24

পঞ্চম অধ্যায়: ইস্তেহাযা এবং এর হুকুম 50

ইস্তেহাযার অবস্থাসমূহ: 52

ইস্তেহাযাগ্রস্তদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নারীর অবস্থা: 58

ইস্তেহাযার হুকুমসমূহ: 59

ষষ্ঠ অধ্যায়: নিফাস এবং এর হুকুম। 62

নিফাসের হুকুম: 65

সপ্তম অধ্যায়: এমন কিছু ব্যবহার প্রসঙ্গে যা হায়েয প্রতিরোধ করে বা চালু করা এবং যা গর্ভনিরোধ তরে কিংবা গর্ভপাত ঘটায় 69

 

 

***

 

bn130v3.1 - 27/03/2026


সহীহ বুখারী, অধ্যায়: কিতাবুল হায়েয, পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী নারী বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজের সকল কাজ সম্পন্ন করবে, হাদীস নং (৩০৫); সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, পরিচ্ছেদ: ইহরামের প্রকারভেদ বর্ণনা, হাদীস নং (১২১১)।

সহীহ বুখারী: উমরা সংক্রান্ত পর্ব, অধ্যায়: কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী উমরার সওয়াব, হাদীস নং (১৬৬২); এবং সহীহ মুসলিম: হজ সংক্রান্ত পর্ব, অধ্যায়: ইহরামের পদ্ধতিসমূহের বর্ণনা, হাদীস নং (১২১১)।

শরীয়ত প্রণেতা যে সকল বিধি-বিধানকে নামের সাথে সম্পর্কিত করেছেন সে বিষয়ক পুস্তিকা (পৃ: ৩৫)।

প্রাগুক্ত (পৃষ্ঠা: ৩৬)।

প্রাগুক্ত (পৃষ্ঠা: ৩৮)।

সহীহ বুখারী, ঈমান পর্ব, অধ্যায়: দ্বীন সহজ, হাদীস নং (৩৯), আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস।

সহীহ বুখারী, অধ্যায়: মানাকিব, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য, হাদীস নং: ৩৫৬০। সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ফযীলত, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাপ থেকে দূরে থাকা, হাদীস নং: ৭৭/২৩২৭।

মাজমুউল ফাতাওয়া (১৯/২৩৮-২৩৯)।

আল-আওসাত (২/৩৫৬)।

দেখুন: আল-মুগনী (১/৪০৫)।

ইখতিলাফুল ফুকাহা, মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ১৯৩), "আল-আওসাত" (২/২৩৯)।

আল-মুদাওওয়ানাহ (১/১৫৫), আন-নাওয়াদির ওয়ায-যিয়াদাত (১/১৩৬)।

মাজমুউল ফাতাওয়া (১৯/২৩৮-২৩৯)।

আল-উম্ম: (১/৮২)।

আল-মুগনি (১/৩৯৬)

আবূ দাউদ, কিতাবুত তাহারাত, হাদীস (৩০৭)।

সহীহ বুখারী, অধ্যায়: কিতাবুল হায়েয, পরিচ্ছেদ: হায়েযের দিনগুলো ছাড়া হলুদ ও মেটে রংয়ের স্রাব, হাদীস নং (৩২৬)।

ফাতহুল বারী (১/৪২৬)।

সহীহ বুখারী (১/ ৭১)।

বুখারী, অধ্যায়: কিতাবুল হায়েয, অনুচ্ছেদ: হায়েযের শুরু ও শেষ, হাদীস (৩২০)-এর পূর্বে মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আল-আসল (২/১৯-২০)

"আল-ইনসাফ"-গ্রন্থে তাদের থেকে এ মত বর্ণনা করা হয়েছে।

আল-উম্ম (১/৮৩-৮৪)।

আল-মুগনি (১/২২৬)।

আল-মুগনি (১/২৫৭)।

বুখারী, কিতাব: মাওয়াকিতুস সালাত, অধ্যায়: যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, হাদীস নং (৫৮০), মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদি‘ইস সালাত, অধ্যায়: যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, সে উক্ত সালাত পেল, হাদীস নং (৬০৭), আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীস।

বুখারী, কিতাব: মাওয়াকিতুস সালাত, অধ্যায়: যে ব্যক্তি ফজর সালাতের এক রাকাত পেল, হাদীস নং (৫৭৯), মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদি‘ইস সালাত, অধ্যায়: যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, সে উক্ত সালাত পেল, হাদীস নং (৬০৮), আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীস।

আল-মাজমু' শারহুল মুহাযযাব (৩/৭০)।

সহীহ বুখারী: হায়িয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ঋতুবতী স্ত্রীর কোলে পুরুষের কুরআন পাঠ, হাদীস নং (২৯৭); সহীহ মুসলিম: হায়িয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ঋতুবতী স্ত্রীর কোলে হেলান দিয়ে পুরুষের কুরআন পাঠ, হাদীস নং (৩০১); আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীস।

সহীহ বুখারী: হায়েয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: হায়েযগ্রস্তা নারীদের দুই ঈদে ও মুসলিমদের দু‘আয় উপস্থিত হওয়া এবং সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকা, হাদীস নং (৩২৪); এবং সহীহ মুসলিম: দুই ঈদের সালাত বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: পুরুষদের থেকে পৃথক হয়ে নারীদের দুই ঈদে ঈদগাহে যাওয়া ও খুতবা শোনা জায়েয, হাদীস নং (৮৯০)।

আল-মাজমু (২/৩৫৭)

আল-আওসাত (২/২২৩)।

ফাতহুল বারী (১/৪০৮)

দেখুন সহীহ বুখারী: অধ্যায়: হায়েয, অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী নারী বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজের অন্য সব কাজ সম্পন্ন করবে, এবং ফাতহুল বারী (১/৪০৭-৪০৮)।

ফাতহুল বারী (১/৪০৮)

আল-মাজমু (২/৩৫৬)।

সহীহ বুখারী: হায়েয পর্ব, অধ্যায়: ঋতুবতী নারী বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজের সকল কাজ সম্পন্ন করবে, হাদীস নং (৩০৫)-এর পূর্বে, মুআল্লাক সূত্রে।

তিরমিযী, অধ্যায়: তাহারাত, পরিচ্ছেদ: নাপাক ব্যক্তি ও ঋতুবতী নারী কুরআন পড়বে না, হাদীস নং (১৩১)।

দেখুন: ইমাম তিরমিযীর আল-ইলাল (৬৯/ তারতীবুহ), ইমাম বাইহাকীর আস-সুনানুল কুবরা (১/৩০৯), ইবনু আব্দিল হকের আল-আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ (১/৫০৪) এবং ইমাম যাইলায়ীর নাসবুর রায়াহ (১/১৯৫)।

মাজমুউল ফাতাওয়া (২৬/১৯১)।

বুখারী, কিতাবুল হায়েয, পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী নারী সালাত কাযা করবে না, হাদীস নং (৩২১); মুসলিম, কিতাবুল হায়েয, পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী নারীর উপর সালাত ব্যতীত সাওম কাযা করা ওয়াজিব, হাদীস নং (৩৩৫)। হাদীসের শব্দাবলী মুসলিম হতে গৃহীত।

সহীহ বুখারী: ইলম সংক্রান্ত পর্ব, অধ্যায়: ইলম অর্জনে লজ্জা, হাদীস নং (১৩০); এবং সহীহ মুসলিম: হায়িয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: নারীর উপর গোসল আবশ্যক হওয়া..., হাদীস নং (৩১৩)।

সহীহ বুখারী: সিয়াম বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: সাওম পালনকারীর গোসল প্রসঙ্গ, হাদীস নং (১৯৩১); এবং সহীহ মুসলিম: সিয়াম বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: জুনুবী অবস্থায় ভোর হয়ে গেলে সিয়ামের বিশুদ্ধতা প্রসঙ্গ, হাদীস নং (১১০৯)।

সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হায়েয, পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী নারী বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজের অন্য সকল কার্যাবলী সম্পন্ন করবে, হাদীস নং (৩০৫); সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, পরিচ্ছেদ: ইহরামের প্রকারভেদের বর্ণনা, হাদীস নং (১২১১)।

সহীহ বুখারী: হজ পর্ব, অধ্যায়: বিদায়ী তাওয়াফ প্রসঙ্গ, হাদীস নং (১৭৫৫); এবং সহীহ মুসলিম: হজ পর্ব, অধ্যায়: বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব, তবে ঋতুবতী নারীর জন্য তা বাধ্যতামূলক নয়, হাদীস নং (১৩২৮)।

সহীহ বুখারী: হজ পর্ব, অধ্যায়: তাওয়াফে ইফাযার পর কোনো নারী ঋতুবতী হলে, হাদীস নং (১৭৫৭); এবং সহীহ মুসলিম: হজ পর্ব, অধ্যায়: বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গ, হাদীস নং (১২১১)।

সহীহ বুখারী: হায়েয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: হায়েযগ্রস্ত নারীদের দুই ঈদে ও মুসলিমদের দু‘আয় উপস্থিত হওয়া এবং সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকা, হাদীস নং (৩২৪); এবং সহীহ মুসলিম: দুই ঈদের সালাত বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: নারীদের জন্য পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে দুই ঈদে ঈদগাহে যাওয়া এবং খুতবায় উপস্থিত হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গ, হাদীস নং (৮৯০)।

মুসলিম, কিতাবুল হায়েয, অনুচ্ছেদ: হায়েযগ্রস্ত নারীর স্বামীর মাথা ধৌত করা জায়েয, হাদীস নং (৩০২)।

সহীহ বুখারী: হায়েয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে মেলামেশা, হাদীস নং (৩০১); সহীহ মুসলিম: হায়েয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে কাপড়ের উপর দিয়ে মেলামেশা, হাদীস নং (২৯৩)।

সহীহ বুখারী: তালাক বিষয়ক পর্ব, হাদীস নং (৫২৫১); এবং সহীহ মুসলিম: তালাক বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ঋতুবতী স্ত্রীকে তার অসম্মতিতে তালাক দেওয়া হারাম, তবে এর ব্যতিক্রম করলে তালাক পতিত হবে এবং তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, হাদীস নং (১৪৭১); ইবনে উমার (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীস।

সহীহ বুখারী: তালাক বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: খুলা‘ এবং এ সংক্রান্ত তালাকের পদ্ধতি, হাদীস নং (৫২৭৩), ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হাদীস।

সহীহ বুখারী: হায়েয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: হায়েযের আরম্ভ ও শেষ প্রসঙ্গ, হাদীস নং (৩২০); সহীহ মুসলিম: হায়েয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ইস্তিহাযাগ্রস্তা মহিলার গোসল ও সালাত, হাদীস নং (৩৩৩); আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীস।

সহীহ বুখারী: কিতাবুল হায়েজ, অধ্যায়: হায়েযওয়ালী মহিলার গোসল, হাদীস নং (৩১৫); সহীহ মুসলিম: কিতাবুল হায়েজ, অধ্যায়: হায়েয থেকে গোসলকারিনীর জন্য রক্তের স্থানে কস্তুরী ব্যবহার করা মুস্তাহাব, হাদীস নং (৩৩২); আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীস।

সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হায়েয, অধ্যায়: গোসলকারীনীর চুলের বেনীর হুকুম, হাদীস নং (৩৩০), উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত।

সহীহ বুখারী: অযু বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: রক্ত ধৌত করা, হাদীস নং (২২৮); সহীহ মুসলিম: হায়েয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ইস্তিহাযাগ্রস্তা মহিলার গোসল ও সালাত, হাদীস নং (৩৩৩); আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীস।

সুনান তিরমিযী, অধ্যায়: তাহারাত, অনুচ্ছেদ: মুস্তাহাযা নারীর এক গোসলে দুই সালাত একত্র করা, হাদীস নং (১২৮) এর পরে।

আহমাদ (৬/৩৪৯); আবূ দাউদ: কিতাবুত তাহারাত, পরিচ্ছেদ: হায়েয শুরু হলে সালাত ত্যাগ করা, হাদীস নং (২৮৭); তিরমিযী: অধ্যায়: তাহারাত, পরিচ্ছেদ: ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী এক গোসলে দুই সালাত একত্রে আদায় করবে, হাদীস নং (১২৮), হামনা বিনতে জাহশ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত।

সহীহ বুখারী: হায়েয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: হায়েয এবং হায়েয ও গর্ভধারণের ক্ষেত্রে নারীদের কথাকে বিশ্বাস করা, যা হায়েযের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, হাদীস নং (৩২৫), আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীস।

মুসলিম, কিতাবুল হায়েয, হাদীস (৩৩৪), আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত হাদীস।

আবু দাউদ, কিতাবুত তাহারাত, অধ্যায়: হায়েয শুরু হলে সালাত ছেড়ে দেওয়া, হাদীস নং (২৮৬), নাসাঈ, কিতাবুত তাহারাত, অধ্যায়: যে ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী রক্তস্রাব অব্যাহত হওয়ার পূর্বে তার হায়েযের দিনগুলো সম্পর্কে অবগত, হাদীস নং (২১১), ইবনু মাজাহ, কিতাবুত তাহারাত ওয়া সুনানিহা, অধ্যায়: যে ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী রক্তস্রাব অব্যাহত হওয়ার পূর্বে তার হায়েযের দিনগুলো সম্পর্কে অবগত, হাদীস নং (৬২০), ইবনু হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে, হাদীস নং (১৩৪৮), এবং হাকেম তার মুসতাদরাক গ্রন্থে, হাদীস নং (৬১৮), আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত।

তিরমিযী, কিতাবুত তাহারাত, অনুচ্ছেদ: মুস্তাহাযা নারী এক গোসলের মাধ্যমে দুই সালাত একত্র করবে, হাদীস নং (১২৮) এর পরে।

আহমাদ (৬/৪৩৯), আবূ দাউদ: কিতাবুত তাহারাত, পরিচ্ছেদ: হায়েয শুরু হলে সালাত ছেড়ে দেওয়া, হাদীস নং (২৮৭), তিরমিযী: অধ্যায়: তাহারাত, পরিচ্ছেদ: ইস্তিহাযাগ্রস্তার এক গোসলে দুই সালাত একত্রে আদায় করা, হাদীস নং (১২৮), হামনা বিনত জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদীস।

সহীহ বুখারী: অযু বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: রক্ত ধৌত করা, হাদীস নং (২২৮); সহীহ মুসলিম: হায়েয বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলার গোসল ও তার সালাত, হাদীস নং (৩৩৩); আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীস।

আহমাদ (৬/২০৪), ইবনু মাজাহ, কিতাবুত তাহারাত ওয়া সুনানিহা, অধ্যায়: রক্তস্রাব স্থায়ী হওয়ার পূর্বে মাসিকের দিন গণনাকারিণীর মুস্তাহাযা প্রসঙ্গে, হাদীস নং (৬২৪), আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদীস।

আল-মুগনি (১/২৫২-২৫৩)।

কাশশাফুল কিনা: (১/২১৯)।

আল-মুগনি (১/২৫৩)।

আল-মুগনি (১/২৫৩)।

আল-মুগনী (২৫২/২); আর উসমান ইবনু আবিল আসের আসারটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, ‘আল-মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (১২০২), ইবনু আবি শায়বাহ, ‘আল-মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (১৭৪৫০), দারিমী, ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে (৯৯০) এবং ইবনুল জারূদ, ‘আল-মুনতাকা’ (১১৮) গ্রন্থে।

সহীহ বুখারী: বিবাহ বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ‘আযল প্রসঙ্গ, হাদীস নং (৫২০৯); এবং সহীহ মুসলিম: বিবাহ বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: ‘আযলের বিধান, হাদীস নং (১৪৪০); জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হাদীস।

"আল-ইনসাফ" (২/৫৫৬)।

দারিমী রচিত ‘আহকামুল মুতাহায়্যেরা ফিল হায়েয’, (পৃ: ১৭)।