نبذة في العقيدة الإسلامية [ شرح أصول الإيمان ] (بنغالي)

نبذةٌ في العقيدة الإسلاميّة بقلم فضيلة الشّيخ العلّامة محمّد بن صالحٍ العثيمين غفر الله له ولوالديه وللمسلمين

  • earth ভাষা
    (بنغالي)
  • earth সংকলন:
    الشيخ محمد بن صالح العثيمين
PHPWord

 

 

نُبذَةٌ فِي العَقِيدَةِ الإِسْلَامِيَّة

(شَرْحُ أُصُولِ الإِيمَانِ)

 

ইসলামী আক্বীদার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

 

بِقَلَم فَضِيلَة الشَّيخ العَلَّامَة

مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ العُثَيمِين

غَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَلِوَالِدَيْهِ وَلِلْمُسْلِمِين

 

লেখক: সম্মানিত শাইখ আল্লামা

মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন

আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতা এবং মুসলিমদেরকে ক্ষমা করুন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

সলামী আক্বীদার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

লেখক: সম্মানিত শাইখ আল্লামা

মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন

আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতা এবং মুসলিমদেরকে ক্ষমা করুন!

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহ্ নামে শুরু করছি

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই, ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তাওবা করি আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের অন্তরের অনিষ্টতা মন্দ আমল থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহ যাকে হিদায়েত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন হিদায়েতকারী নেই আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই, তিনি এক অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা রাসূল আল্লাহ তার ওপর, তার পরিবার সকল সাহাবীর ওপর এবং ইহসানের সঙ্গে যারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর সালাত সালাম বর্ষণ করুন

অতঃপর:

তাওহীদের জ্ঞান হল, সর্বাপেক্ষা মহৎ শ্রেষ্ঠ জ্ঞান এবং অত্যাবশ্যকীয় আলোচ্য বিষয় কেননা তা আল্লাহ তায়ালার নাম গুণাবলী সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা এবং বান্দার ওপর তাঁর অধিকারসমূহ সম্পর্কে অবহিত হওয়া আর এটাই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের একমাত্র পথ এবং ইসলামী শরীয়তের মূল ভিত্তি

এজন্যই রাসূলগণের দাওয়াত ছিল এরই প্রতি কেন্দ্রীভূত আল্লাহ তায়ালা বলেন:

﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِيٓ إِلَيۡهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدُونِ 25﴾

আর আপনার পূর্বে আমরা যে রাসূলই প্রেরণ করেছি তার কাছে ওহীই পাঠিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা আমরাই ইবাদাত কর [আল-আম্বিয়া ২৫]

এটা সেই তাওহীদ যার সাক্ষ্য আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নিজের জন্য দিয়েছেন এবং সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর ফিরিশতাগণ বিদ্বান ব্যক্তিগণ আল্লাহ তায়ালা বলেন:

﴿شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَأُوْلُواْ ٱلۡعِلۡمِ قَآئِمَۢا بِٱلۡقِسۡطِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ 18﴾

আল্লাহ্সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয় তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্নেই আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও; আল্লাহ্ন্যায়নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, (তিনি) পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় [আলু ইমরান : ১৮]

তাওহীদের তাৎপর্য মর্যাদা যেহেতু অপরিসীম, তাই প্রত্যেক মুসলিমের অপরিহার্য দায়িত্ব হলো, আল্লাহর তাওহীদ বা আল্লাহর একত্বের জ্ঞান শিক্ষা করা, অন্যকে তা শিক্ষা প্রদান করা এবং তাওহীদ নিয়ে গবেষণা সে আক্বীদা পোষণ করা যেন সে প্রশান্ত অনুগত মন নিয়ে স্বীয় দ্বীনকে এমন সঠিক ভিত্তির ওপর স্থাপন করে, যার সফলতা পরিণাম নিয়ে সে সুখী হতে পারে

আল্লাহই তাওফীক দাতা

লেখক

দ্বীন ইসলাম

দ্বীন ইসলাম হল: সেই মহান দ্বীন যা সহকারে আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেন এবং আল্লাহ তা'আলা তার মাধ্যমে সমস্ত ধর্ম রহিত করে দেন, তাঁর বান্দাদের জন্য তা পূর্ণ করে দেন এবং এরই মাধ্যমে বান্দাদের ওপর আল্লাহর নি'আমতের চুড়ান্ত পরিপূর্ণতার ঘোষণা প্রদান করেন তাদের জন্য ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসেবে মনোনিত করেন তিনি কারো থেকে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন কবুল করবেন না আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَآ أَحَدٖ مِّن رِّجَالِكُمۡ وَلَٰكِن رَّسُولَ ٱللَّهِ وَخَاتَمَ ٱلنَّبِيِّـۧنَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٗا 40﴾

মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; ববং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী আর আল্লাহ্ সর্বকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ [আল-আহযাব: ৪০].

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿...ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗا...﴾

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করলাম [আল-মায়েদা : ]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلۡإِسۡلَٰمُ...﴾

নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহ্ নিকট একমাত্র দীন... [আলে ইমরান : ১৯]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ 85﴾

আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত [সূরা আলে-ইমরান : ৮৫]

আল্লাহ তাআলা মানবকূলের ওপর তাঁর মনোনীত এই দ্বীন গ্রহণ করা ফরয করে দিয়েছেন তিনি স্বীয় নবীকে সম্বোধন করে বলেন:

﴿قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ فَـَٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِيِّ ٱلۡأُمِّيِّ ٱلَّذِي يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ 158﴾

বলুন, ‘হে মানুষ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহ্ রাসূল, যিনি আসমানসমূহ যমীনের সার্বভৌমত্বের অধিকারী তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি জীবিত করেন মৃত্যু ঘটান কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহ্ প্রতি তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি যিনি আল্লাহ তাঁর বাণীসমূহে ঈমান রাখেন আর তোমরা তার অনুসরণ কর, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও [আল-আরাফ: ১৫৮]

সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«وَالَّذِي ‌نَفْسُ ‌مُحَمَّدٍ ‌بِيَدِهِ ‌لَا ‌يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ، ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ».

সে সত্ত্বার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! উম্মতের যে কেউ, ইয়াহুদি হোক আর খৃস্টান, যে ব্যক্তিই আমার রিসালাতের খবর শুনেছে; অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মারা যাবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে1

রাসূলের প্রতি ঈমানের অর্থ: তিনি যেসব বিষয় নিয়ে এসেছেন সে সব বিষয়কে বিশ্বাস সহকারে গ্রহণ করা তার प्रति অনুগত হওয়া শুধু বিশ্বাস করাই যথেষ্ট নয় এজন্যই আবু তালেব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনয়নকারী বলে বিবেচিত হন নি অথচ তিনি রাসূল যা নিয়ে এসেছিলেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করতেন এবং সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, তা সর্বাপেক্ষা উত্তম ধর্ম

দ্বীন ইসলাম: পূর্ববর্তী সব ধর্মের কল্যাণসমূহকে ধারণকারী অন্যান্য ধর্মের ওপর ইসলামের প্রাধান্যের অন্যতম কারণ এটা সকল স্থান-কাল, জাতি নির্বিশেষে সবার জন্য উপযোগী আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেন:

﴿وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ مُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَمُهَيۡمِنًا عَلَيۡهِ...﴾

আর আমরা আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি ইতোপূর্বেকার কিতাবসমূহের সত্যতা প্রতিপন্নকারী সেগুলোর তদারককারীরূপে... [আল-মায়িদাহ : ৪৮]

এটি স্থান-কাল, জাতি নির্বিশেষে সবার জন্য উপযুক্তএর অর্থ এই যে, ইসলামের প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন কোনো যুগে বা কোনো দেশে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী নয়; বরং তা সকল জাতির জন্য কল্যাণকর উপযোগী আবার এর অর্থ এই নয় যে, ইসলাম প্রত্যেক স্থান-কাল জাতির প্রবৃত্তির অনুগত হয়ে থাকবে; যেমন কোনো কোনো লোক উদ্দেশ্য নিয়ে থাকে

দ্বীন ইসলাম: মহা সত্য দ্বীন, যদি কেউ তা সঠিকভাবে ধারণ করে তাহলে তার প্রতি আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে যে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন এবং অন্যের ওপর তাকে বিজয় দান করবেন আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿هُوَ ٱلَّذِيٓ أَرۡسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلۡهُدَىٰ وَدِينِ ٱلۡحَقِّ لِيُظۡهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوۡ كَرِهَ ٱلۡمُشۡرِكُونَ 9﴾

তিনিই সে সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত সত্যদীনসহ পাঠিয়েছেন, যেন তিনি আর সব দীনের উপর একে বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে [আস-সফ: ]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَيَسۡتَخۡلِفَنَّهُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ كَمَا ٱسۡتَخۡلَفَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمۡ دِينَهُمُ ٱلَّذِي ٱرۡتَضَىٰ لَهُمۡ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّنۢ بَعۡدِ خَوۡفِهِمۡ أَمۡنٗاۚ يَعۡبُدُونَنِي لَا يُشۡرِكُونَ بِي شَيۡـٔٗاۚ وَمَن كَفَرَ بَعۡدَ ذَٰلِكَ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ 55﴾

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে সৎকাজ করে আল্লাহ্তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে যমীনে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরে তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন তারা আমারইবাদাত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, আর এরপর যারা কুফরী করবে তারাই ফাসিক [আন-নূর: ৫৫]

দ্বীন ইসলাম: আক্বীদা শরী'আত উভয়ের সমন্বয়ে গঠিত বিষয়ের নাম সুতরাং ইসলাম তার আক্বীদা শরী'আতে স্বয়ংসম্পূর্ণ:

- ইসলাম আল্লাহর একত্বের আদেশ দেয় এবং শির্ক থেকে নিষেধ করে

- ইসলাম সত্যের আদেশ দেয় এবং মিথ্যা থেকে নিষেধ করে

- ইসলাম ন্যায় ইনসাফের নির্দেশ দেয় এবং যুলুম অত্যাচার থেকে নিষেধ করে আদল বা ইনসাফ হচ্ছে: সমপর্যায়সম্পন্নদের ব্যাপারে সমতা আর ভিন্নমুখীদের ব্যাপারে ভিন্নতা প্রতিষ্ঠা করা আদল অর্থ কখনো নিঃশর্ত সাম্য প্রতিষ্ঠা নয় যেমনটি কোনো কোনো লোক বলে থাকে তারা বলে, ইসলাম সাম্যের ধর্ম এবং শর্তহীনভাবে তা বলতে থাকে কারণ ভিন্ন জিনিসের মধ্যে সমতা স্থাপন করা অবিচার, যা ইসলাম কখনো করে নি এবং তার সম্পাদনকারী প্রশংসিতও নয়

- ইসলাম আমানত আদায়ের নির্দেশ দেয় এবং খিয়ানত করতে নিষেধ করে

- ইসলাম প্রতিশ্রুতি রক্ষার নির্দেশ দেয় এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ থেকে নিষেধ করে

- ইসলাম মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহারের হুকুম দেয় এবং তাদের প্রতি অবাধ্যাচরণ করা থেকে নিষেধ করে

- ইসলাম আত্মীয় স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার হুকুম দেয় এবং সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা থেকে নিষেধ করে

- ইসলাম প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেয় এবং অসদ্ব্যবহার থেকে নিষেধ করে

সারকথা হল, ইসলাম সর্বপ্রকার উত্তম চরিত্রের আদেশ দেয় এবং যাবতীয় কু-চরিত্র থেকে নিষেধ করে প্রতিটি সৎকর্মের হুকুম দেয় সকল প্রকার অপকর্ম থেকে নিষেধ করে

আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ وَإِيتَآيِٕ ذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَيَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِ وَٱلۡبَغۡيِۚ يَعِظُكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ 90﴾

নিশ্চয় আল্লাহ্আদল (ন্যায়পরায়ণতা), ইহসান (সদাচরণ) আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎকাজ সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন; তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর [আন-নাহল : ৯০]

ইসলামের রুকনসমূহ

ইসলামের রুকন হল, সেসমস্ত ভিত্তি যার উপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত আর এগুলো পাঁচটি: মর্মে ইবনুউমার রাদিয়াল্লাহুআনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسَةٍ: عَلَى أَنْ يُوَحِّدَ اللَّه - وَفِي رِوَايَةٍ عَلَى خَمْسٍ -: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَصِيَامِ رَمَضَانَ، وَالْحَجِّ».

ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে পাঁচটির ওপরআল্লাহকে একত্বের সঙ্গে মান্য করার ওপর (এবং এক বর্ণনায়: ‘পাঁচটি’)—: সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা রাসূল; সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমযানের সাওম আদায় করা এবং হজ করা তখন লোকটি বললেন: হজ এবং রমাদানের সিয়াম? তিনি বললেন:

«لَا، صِيَامُ رَمَضَانَ، وَالْحَجُّ».

না, রমাদান মাসের রোজা এবং হজ এটিই আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি2

شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হলো, কথা মনে প্রাণে দৃঢ় বিশ্বাস করা এবং মুখে উচ্চারণ করা এমনভাবে সেটা মনের মাঝে দৃঢ় হবে যেন তা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে এই বাক্যে একাধিক বিষয় থাকা সত্বেও তাকে ইসলামের একটি ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে;তার কারণ:

তা জন্য যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে তার দ্বীনের প্রচারক সেহেতু তাঁর উবুদিয়্যাত রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু-এর সাক্ষ্য প্রদানের সম্পূরক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে

অথবা দুটি সাক্ষ্যই সমস্ত ইবাদাত সৎকর্ম সহীহ-শুদ্ধ হওয়া এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার পূর্বশর্ত কারণ কোনো ইবাদাত শুদ্ধ গ্রহণযোগ্য হয় না যতক্ষণ না তার মধ্যে দুটি শর্ত পাওয়া যায়; () ইখলাছ অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্যে ইবাদাত করা, () মুতাবা'আত অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা পদ্ধতি অনুযায়ী ইবাদাতগুলো সম্পাদন করা

সুতরাং ইখলাছের দ্বারা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর সাক্ষ্য বাস্তবায়িত হয় আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিপূর্ণ আনুগত্যের দ্বারা "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" এর সাক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়

কালিমায়ে শাহাদাত-এর সাক্ষ্য প্রদানের অন্যতম ফল হল: অন্তর আত্মাকে সৃষ্টির গোলামী থেকে বের করা এবং নবী রাসূলগণ ছাড়া অন্যের আনুগত্য থেকে মুক্ত করা

- সালাত কায়েম করা: এর অর্থ হল: সঠিক পদ্ধতি পরিপূর্ণভাবে, নির্দিষ্ট সময় সঠিক পন্থায় সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত সম্পাদন করা

সালাতের অন্যতম ফলাফল হল, এর মাধ্যমে মনের প্রশান্তি, চোখের শীতলতা লাভ হয় এবং অশ্লীল ঘৃণ্য কর্ম-কাণ্ড হতে বিরত থাকা যায়

- যাকাত প্রদান করা: আর তা হলো যাকাতের উপযুক্ত ধন-সম্পদে নির্ধারিত পরিমাণ মাল ব্যয়ের মধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা

যাকাত প্রদানের অন্যতম উপকারিতা হল, যাকাত প্রদানের মধ্যমে কৃপণতার মতো হীন চরিত্র হতে আত্মাকে পবিত্র করা এবং ইসলাম মুসলমানদের অভাব পূরণ করা

- রমযানের সওম: সওম হচ্ছে রমযান মাসে দিনের বেলায় সওম ভঙ্গকারী বিষয়াদি থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত পালন করা

সওমের অন্যতম উপকারিতা: আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায় স্বীয় কামনা-বাসনার বস্তুসমূহ বিসর্জনের মাধ্যমে আত্মার উৎকর্ষ সাধন করা

- হজ্জ পালন করা: এর অর্থ হলো; হজের কাজসমূহ পালনের জন্য বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে গমন করে আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করা

হজের অন্যতম উপকারিতা: আল্লাহর আনুগত্যে নিজের শারিরীক অর্থনৈতিক সম্পদ ব্যয় করার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির অনুশীলন করা এই কারণে হজ পালন আল্লাহর পথে এক প্রকার জিহাদ হিসেবে পরিগণিত

আমরা ইসলামের স্তম্ভসমূহ সম্পর্কে উপরে যে সব উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছি এবং যা উল্লেখ করি নি, সবকিছুই জাতিকে এমন পবিত্র মুসলিম জাতিতে পরিণত করবে, যারা আল্লাহর জন্যই সত্য দ্বীন পালন করবে এবং সৃষ্টিজগতের সাথে ন্যায়পরায়ণতা সততার আচরণ করবে কেননা ইসলামী শরী'আতের ভিত্তিসমূহ সংশোধন হলে শরী'আতের অন্যান্য বিধানগুলোও সংশোধিত হয়ে যাবে আর মুসলিম উম্মতের সার্বিক অবস্থা সংশোধিত হয়ে যাবে তার দ্বীনি উন্নতি যথাযথভাবে সম্পন্ন হলেই পক্ষান্তরে তাদের দ্বীনী কর্মকাণ্ডে যতটুকু ঘাটতি হবে সে অনুপাতেই তাদের অবস্থার অবনতি ঘটবে

যে উপরোক্ত বক্তব্যের যথার্থতা যাচাই করতে চায় সে যেন আল্লাহ তায়ালার নিম্নোক্ত বাণীটি পাঠ করে:

﴿وَلَوۡ أَنَّ أَهۡلَ ٱلۡقُرَىٰٓ ءَامَنُواْ وَٱتَّقَوۡاْ لَفَتَحۡنَا عَلَيۡهِم بَرَكَٰتٖ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَٰكِن كَذَّبُواْ فَأَخَذۡنَٰهُم بِمَا كَانُواْ يَكۡسِبُونَ 96 أَفَأَمِنَ أَهۡلُ ٱلۡقُرَىٰٓ أَن يَأۡتِيَهُم بَأۡسُنَا بَيَٰتٗا وَهُمۡ نَآئِمُونَ 97 أَوَأَمِنَ أَهۡلُ ٱلۡقُرَىٰٓ أَن يَأۡتِيَهُم بَأۡسُنَا ضُحٗى وَهُمۡ يَلۡعَبُونَ 98 أَفَأَمِنُواْ مَكۡرَ ٱللَّهِۚ فَلَا يَأۡمَنُ مَكۡرَ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡقَوۡمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ 99﴾

আর যদি সে সব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তবে অবশ্যই আমরা তাদের জন্য আসমান যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম, কিন্তু তারা মিথারোপ করেছিল; কাজেই আমারা তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে পাকড়াও করেছি

তবে কি জনপদের অধিবাসীরা নিরাপদ হয়ে গেছে যে, আমাদের শাস্তি তাদের উপর রাতে আসবে, যখন তারা থাকবে গভীর ঘুমে?

নাকি জনপদের অধিবাসীরা নিরাপদ হয়ে গেছে যে, আমাদের শাস্তি তাদের উপর আসবে দিনের বেলা, যখন তারা খেলাধুলায় মেতে থাকবে?

তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকেও নিরাপদ হয়ে গেছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর কৌশলকে নিরাপদ মনে করে না ৯৯ [আল-আরাফ: ৯৬-৯৯]

সাথে সাথে অতীত লোকদের ইতিহাসের প্রতিও প্রত্যেকের লক্ষ্য করা উচিত কেননা, ইতিহাসে রয়েছে বুদ্ধিমান এবং যাদের অন্তরে আবরণ পড়ে নি এমন লোকদের জন্য প্রচুর জ্ঞান শিক্ষনীয় বিষয়বস্তু -আর আল্লাহই আমাদের সহায়.-

ইসলামী আক্বীদার মৌলিক ভিত্তিসমূহ

পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বীন ইসলাম হচ্ছে আক্বীদা শরী'আতের সামষ্টিক নাম সাথে এর কিছু বিধানের প্রতি ইঙ্গিত করেছি এবং ইতোপূর্বে ইসলামী শরী'আতের ভিত্তিসমূহের বর্ণনাও দিয়েছি

আর ইসলামী আক্বীদার ভিত্তি হল: আল্লাহর ওপর, তাঁর ফিরিশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, শেষ দিবসের ওপর তক্বদীরের ভাল মন্দের প্রতি ঈমান স্থাপন করা

উক্ত ভিত্তিসমূহের প্রমাণ কুরআনে কারীম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ সুন্নাহতে এসেছে

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় কিতাবে বলেন:

﴿لَّيۡسَ ٱلۡبِرَّ أَن تُوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ قِبَلَ ٱلۡمَشۡرِقِ وَٱلۡمَغۡرِبِ وَلَٰكِنَّ ٱلۡبِرَّ مَنۡ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلۡكِتَٰبِ وَٱلنَّبِيِّـۧنَ...﴾

পূর্ব পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোই সৎকর্ম নয়, কিন্তু সৎকর্ম হলো যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌, শেষ দিবস, ফেরেশ্তাগণ, কিতাবসমূহ নবীগণের প্রতি ঈমান আনবে [আল-বাকারাহ: ১৭৭] আর তাক্বদীর সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿إِنَّا كُلَّ شَيۡءٍ خَلَقۡنَٰهُ بِقَدَرٖ 49 وَمَآ أَمۡرُنَآ إِلَّا وَٰحِدَةٞ كَلَمۡحِۭ بِٱلۡبَصَرِ 50﴾

নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে

আর আমাদের আদেশ তো কেবল একটি কথা, চোখের পলকের মত [আল-কামার: ৪৯-৫০]

আর হাদীসে জিবরীলে বর্ণিত আছে যে, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে বললেন:

«الْإِيمَانُ: أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ: خَيْرِهِ وَشَرِّهِ».

ঈমান হলো, তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর মালায়েকা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখেরাত দিবস তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে3

আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান

আল্লাহর ওপর ঈমানের মধ্যে চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

এক: আল্লাহ তা'আলার অস্তিত্বের ওপর ঈমান:

ফিত্বরাত, (স্বাভাবিক প্রকৃতি) যুক্তি শরী'আত এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দলীল সবই আল্লাহ তা'আলার অস্তিত্বের প্রমাণ করে

আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর ফিত্বরাত তথা স্বাভাবিক প্রকৃতিগত প্রমাণ হল: আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিগতভাবে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে চিন্তা শিক্ষা ছাড়াই স্রষ্টার ওপর ঈমান গ্রহণের যোগ্যতা নিহিত রেখেছেন ফিত্বরাতের দাবী থেকে কেউ বিমুখ হয় না, যদি না সেখানে তা থেকে নিরোধকারী কোনো বিষয়ের প্রতিক্রিয়া পড়ে কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«‌مَا ‌مِنْ ‌مَوْلُودٍ إِلَّا يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ».

প্রতিটি শিশুই ফিতরাত (ইসলাম)-এর ওপর জন্মগ্রহণ করে; কিন্তু তার পিতা-মাতা তাকে ইয়াহুদী অথবা নাসারা অথবা অগ্নি উপাসক বানায়”.4

() বিবেক-বুদ্ধি যুক্তির আলোকে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ: পূর্বাপর সৃষ্টি-জগতের সকল কিছু প্রমাণ করে যে, এসবকিছুর এমন একজন স্রষ্টা আছেন যিনি এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন কেননা জগতের কোনো বস্তু নিজেই নিজকে অস্তিত্ব দান করেনি অথবা এসব কিছু হঠাৎ করেই অস্তিত্ব লাভ করে নি

আর কোনো কিছুর নিজেই নিজেকে অস্তিত্ব দান করা সম্ভব নয় কারণ, বস্তু কখনো নিজেই নিজকে সৃষ্টি করতে পারে না কেননা, তা অস্তিত্ব লাভের পূর্বে ছিল অস্তিত্বহীন এবং যা ছিল অস্তিত্বহীন তা কীভাবে নিজের স্রষ্টা হতে পারে?!

আবার হঠাৎ করেই অস্তিত্ব লাভ করাও সম্ভব নয়; কেননা প্রতিটি ঘটনার কোনো না কোনো ঘটক থাকে আর সমগ্র বিশ্ব-জগৎ এবং এর মধ্যকার সকল ঘটনা প্রবাহ এমন এক অভূতপূর্ব নিয়মে এবং একে অপরের সাথে সুন্দর সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে যে, যা থেকে প্রমাণিত হয়, বিশ্বজগতের হঠাৎ করে অভ্যুদয় ঘটে নি হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোনো কিছু নিয়ম বহির্ভূতভাবে হয়ে থাকে, এর মূল কোনো নিয়ম থাকে না, তা হলে সৃষ্টি এত সুশৃঙ্খলভাবে দীর্ঘ পরিক্রমায় কীভাবে টিকে আছে?!

তাহলে সৃষ্টিজগত যখন নিজেকে নিজে অস্তিত্ব দান করতে পারে নি এবং হঠাৎ করেও তা সৃষ্টি হয় নি, তাই থেকে প্রমাণিত হল যে এর একজন স্রষ্টা আছেন, যিনি হলেন সমস্ত জগতের রব আল্লাহ

আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারীমের সূরা আত্ব-তুরে এই যুক্তিসঙ্গত দলীল অকাট্য প্রমাণ উল্লেখ করে বলেন:

﴿أَمۡ خُلِقُواْ مِنۡ غَيۡرِ شَيۡءٍ أَمۡ هُمُ ٱلۡخَٰلِقُونَ 35﴾

তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? [আত-তূর: ৩৫] অর্থাৎ তারা স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়নি, এমনকি তারা নিজেরা নিজেদেরকে সৃষ্টিও করেনি কাজেই প্রমাণিত হল, তাদের সৃষ্টিকর্তা হলেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাই জুবাইর ইবনুল মুত'য়িম রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সূরা আত্ব-তুর পড়তে শুনলেন অতঃপর এই আয়াতে পৌঁছলেন:

﴿أَمۡ خُلِقُواْ مِنۡ غَيۡرِ شَيۡءٍ أَمۡ هُمُ ٱلۡخَٰلِقُونَ 35 أَمۡ خَلَقُواْ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۚ بَل لَّا يُوقِنُونَ 36 أَمۡ عِندَهُمۡ خَزَآئِنُ رَبِّكَ أَمۡ هُمُ ٱلۡمُصَۜيۡطِرُونَ 37﴾

তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা?

নাকি তারা আসমানসমূহ যমীন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না

আপনার রবের গুপ্তভাণ্ডার কি তাদের কাছে রয়েছে, নাকি তারা সবকিছুর নিয়ন্তা? [আত-তূর: ৩৫-৩৭]

জুবাইর সেসময় মুশরিক ছিলেন,তিনি বলেন: “আমার অন্তর উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, আর তখনই আমার অন্তরে ঈমান স্থান করে নিয়েছিল5

আরেকটি উদাহরণ দিয়ে যুক্তিটাকে আরো স্পষ্ট ভাবে অনুধাবন করা যায় যেমন, কোনো লোক যদি আপনাকে এমন একটি বিরাট প্রাসাদের কথা বলে যার চর্তুপাশ্বে বাগান, ফাঁকে-ফাঁকে রয়েছে প্রবাহমান নদ-নদী ঝর্ণাধারা, তাতে বিছানা কার্পেট বিছানো আছে এবং সেটাকে এর পূর্ণতা দানকারী সব সরঞ্জামাদি দিয়ে সাজানো আছে অতঃপর যদি সে বলে যে, প্রাসাদ এর মধ্যে যে পরিপূর্ণতা রয়েছে সব কিছু নিজেই নিজকে সৃষ্টি করেছে আকস্মিকভাবে অস্তিত্ব লাভ করেছে তখন আপনি বিনা দ্বিধায় তা অস্বীকার করবেন, তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবেন বরং তার কথাকে বড় ধরনের বোকামী বলে আখ্যায়িত করবেন তাহলে বিশাল আসমান, জমিন এতদুভয়ের মাঝে লক্ষ-লক্ষ অনুপম সৃষ্টি কি নিজেই নিজের স্রষ্টা বা স্রষ্টা ছাড়াই কি তা আকস্মিকভাবে অস্তিত্ব লাভ করেছে?

() শরী'আতের আলোকে আল্লাহ তা'আলার অস্তিত্বের প্রমাণ: সকল আসমানীগ্রন্থে আল্লাহর অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সব গ্রন্থে বিদ্যমান সৃষ্টিজগতের কল্যাণ সংবলিত হুকুম আহকাম প্রমাণ করে যে, সব কিছু এমন প্রজ্ঞাময় প্রতিপালকের পক্ষ হতে এসেছে যিনি অবহিত আছেন সৃষ্টি জগতের সার্বিক কল্যাণ সম্পর্কে আর সৃষ্টিজগত সম্পর্কে যে সব সংবাদ এসেছে আর বাস্তবতা যা সত্য বলে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা প্রমাণ করছে যে, সৃষ্টিজগত এমন মহান রবের পক্ষ থেকে এসেছে যিনি তাঁর দেওয়া সংবাদ অনুযায়ী অস্তিত্বদানে সক্ষম

() ইন্দ্রিয় অনুভুতির আলোকে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ:

ধরণের প্রমাণ আমরা দু'দিক থেকে পেশ করতে পারি:

প্রথমত: আমরা শুনি দেখি যে, প্রার্থনাকারীদের অনেক প্রার্থনা কবুল হচ্ছে, অসহায় ব্যক্তিগণ বিপদ থেকে উদ্ধার পাচ্ছেন এর দ্বারা আল্লাহর অস্তিত্ব অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَنُوحًا إِذۡ نَادَىٰ مِن قَبۡلُ فَٱسۡتَجَبۡنَا لَهُۥ...﴾

আর স্মরণ করুন নূহকে; পূর্বে তিনি যখন ডেকেছিলেন তখন আমরা সাড়া দিয়েছিলাম তার ডাকে... [আল-আম্বিয়া: ৭৬] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿إِذۡ تَسۡتَغِيثُونَ رَبَّكُمۡ فَٱسۡتَجَابَ لَكُمۡ...﴾

স্মরণ কর, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট উদ্ধার প্রার্থনা করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন... [আল-আনফাল: ]

সহীহ বুখারীতে আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহুআনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

«إنَّ أعرابيًّا دَخَلَ يَوْمَ الجُمُعَةِ -والنَّبِيُّ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ يَخْطُبُ- فقالَ: يا رسُولَ اللَّهِ، هَلَكَ المَالُ، وجَاعَ العِيَالُ، فَادْعُ اللَّهَ لنَا؛ فَرَفَعَ يَدَيْهِ ودَعَا، فَثَارَ السَّحَابُ أمثَالَ الجِبَالِ، فَلَمْ يَنْزِلْ عَنْ مِنْبَرِهِ حتَّى رَأَيْتُ المَطَرَ يَتَحَادَرُ عَنْ لِحْيَتِهِ».

জুমু'আর দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুৎবা প্রদানের সময় এক বেদুঈন মসজিদে প্রবেশ করে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আর পরিবার-পরিজন ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছে সুতরাং আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দো' করুন আল্লাহর নবী দু'হাত তুলে দো' করলেন ফলে আকাশে পর্বত সদৃশ মেঘ জমলো এবং আল্লাহর নবী মিম্বার হতে অবতরণ করার পূর্বেই বৃষ্টিপাত শুরু হলো এমনকি বৃষ্টির কারণে রাসূলের দাড়ী হতে পানির ফোটা পড়তে দেখলাম6

দ্বিতীয় জুমু'আয় সে বেদুঈন বা অন্য কেউ এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে এবং ধন-সম্পদ শেষ হয়ে যাচ্ছে কাজেই আমাদের জন্য দো' করুন অতঃপর তিনি দু'হাত তুলে বললেন:

«اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا».

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা

 

অর্থ:

হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে (বৃষ্টি বর্ষণ করুন), আমাদের উপর নাতিনি যে দিকেই ইশারা করতেন, সে দিকটাই ফাঁক হয়ে যেত7

যে ব্যক্তি দো' কবুল হওয়ার শর্ত পূরণ করে সত্যিকারার্থে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে দো' করে, তার দো' কবুল হয় যা এখনো দৃশ্যমানভাবে প্রমাণিত বিষয়

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা'আলা নবী-রাসূলগণের হাতে তাদের রিসালাত নবুওয়াত প্রমাণ করার জন্য যেসব নিদর্শন, যাকে মু'জিযা বলা হয় দিয়েছেন যা মানুষ প্রত্যক্ষ করে থাকে অথবা শুনে থাকে, সেগুলো মু'জিযা প্রকাশক নবী-রাসূলদের প্রেরণকারী আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর অকাট্য প্রমাণ কারণ এগুলো মানুষের ক্ষমতার বাইরের বিষয়, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য সংঘটিত করেন

এর উদাহরণ: মুসা আলাইহিস সালামের নিদর্শন, যখন আল্লাহ তা'আলা মুসা আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিলেন যে, স্বীয় লাঠি দ্বারা সমুদ্রের মধ্যে আঘাত কর মুসা আলাইহিস সালাম আঘাত করলেন ফলে, সমুদ্রের মধ্যে বারোটি শুষ্ক রাস্তা হয়ে যায় এবং দু-পার্শ্বের পানি বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে দাঁড়িয়ে যায় আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿فَأَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱضۡرِب بِّعَصَاكَ ٱلۡبَحۡرَۖ فَٱنفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرۡقٖ كَٱلطَّوۡدِ ٱلۡعَظِيمِ 63﴾

অতঃপর আমরা মূসার প্রতি ওহী করলাম যে, আপনার লাঠি দ্বারা সাগরে আঘাত করুন ফলে তা বিভক্ত প্ৰত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতের মত হয়ে গেল; [আশ-শুআরা: ৬৩]

দ্বিতীয় উদাহরণ: ঈসা আলাইহিস সালামের নিদর্শন: তিনি আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতেন এবং তাদেরকে কবর থেকে বের করে আনতেন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

﴿...وَأُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰ بِإِذۡنِ ٱللَّهِ...﴾

...এবং মৃতকে জীবিত করব আল্লাহ্ হুকুমে... [আলে ইমরান: ৪৯] আর তিনি বলেছেন:

﴿...وَإِذۡ تُخۡرِجُ ٱلۡمَوۡتَىٰ بِإِذۡنِي...﴾

...এবং আমার অনুমতিক্রমে আপনি মৃতকে জীবিত করতেন... [আল-মায়েদা: ১১০]

তৃতীয় উদাহরণ: নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদর্শন:

যখন কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁর রিসালাতের স্বপক্ষে কোনো নিদর্শন চাইলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদের দিকে ইশারা করলেন, অতঃপর চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল এবং উপস্থিত সবাই ঘটনা অবলোকন করল সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿ٱقۡتَرَبَتِ ٱلسَّاعَةُ وَٱنشَقَّ ٱلۡقَمَرُ 1 وَإِن يَرَوۡاْ ءَايَةٗ يُعۡرِضُواْ وَيَقُولُواْ سِحۡرٞ مُّسۡتَمِرّٞ 2﴾

কিয়ামত কাছাকাছি হয়েছে, আর চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে, আর তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে, তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, 'এটা তো একটানা জাদু' [আল-কামার: -]

অনুধাবন যোগ্য উক্ত নিদর্শন অলৌকিক ঘটনাসমূহ যেগুলো আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য ঘটিয়েছিলেন, সেসব আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ

দুই: আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমানের অন্তর্গত হল, তাঁর রবুবিয়্যাতের ওপর ঈমান: এর অর্থ হলো, তিনিই একমাত্র রব, তাঁর কোনো শরীক নেই, নেই কোনো সাহায্যকারী

আর রব তো তিনিই যিনি সৃষ্টিকর্তা, মালিক এবং সার্বিক (শরী'আতগত পরিচালনাগত) নির্দেশ প্রদানকারী সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত কোনো স্রষ্টা নেই, তিনি ব্যতীত কোনো মালিকও নেই আর তিনি ব্যতীত অন্য কারও নির্দেশও নেই আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿...أَلَا لَهُ ٱلۡخَلۡقُ وَٱلۡأَمۡرُ...﴾

জেনে রাখ, সৃজন আদেশ তাঁরই [আল-আরাফ: ৫৪] আর তিনি বলেছেন:

﴿...ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡ لَهُ ٱلۡمُلۡكُۚ وَٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ مَا يَمۡلِكُونَ مِن قِطۡمِيرٍ﴾

তিনিই আল্লাহ্ তোমাদের রব আধিপত্য তাঁরই আর তোমরা তাঁর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা তো খেজুর আঁটির আবরণেরও অধিকারী নয় [ফাতির: ১৩]

কোন মাখলূক মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত অস্বীকার করেছে বলে জানা যায় না, তবে কেউ যদি এমন অহঙ্কারী হয় যে তার নিজের কথাই বিশ্বাস করে না, তার কথা ভিন্ন যেমন, ফির'আউনের বেলায় তা ঘটেছিল সে তার জাতিকে বলেছিল:

﴿فَقَالَ أَنَا۠ رَبُّكُمُ ٱلۡأَعۡلَىٰ 24﴾

অতঃপর বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত: ২৪), এবং তিনি বললেন:

﴿...يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡمَلَأُ مَا عَلِمۡتُ لَكُم مِّنۡ إِلَٰهٍ غَيۡرِي...﴾

হে পরিষদবর্গ ! আমি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ আছে বলে জানি না ! [আল-কাসাস: ৩৮], কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা তার বিশ্বাস ছিল না আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿وَجَحَدُواْ بِهَا وَٱسۡتَيۡقَنَتۡهَآ أَنفُسُهُمۡ ظُلۡمٗا وَعُلُوّٗا...﴾

আর তারা অন্যায় উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলো প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে নিশ্চিত সত্য বলে গ্ৰহণ করেছিল [সূরা আন-নামাল, আয়াত: ১৪] অনুরূপভাবে মুসা আলাইহিস সালাম ফির'আউনকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, যেমনটি আল্লাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন:

﴿...لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَآ أَنزَلَ هَٰٓؤُلَآءِ إِلَّا رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ بَصَآئِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَٰفِرۡعَوۡنُ مَثۡبُورٗا﴾

তুমি অবশ্যই জান যে, সব স্পষ্ট নিদর্শন আসমানসমূহ যমীনের রবই নাযিল করেছেন---প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ আর হে ফিরআউন! আমি তো মনে করছি তুমি হবে ধ্বংসপ্রাপ্ত [সূরা আল-ইসরা: ১০২] আর তাই দেখা যায় আরবের মুশরিকরাও আল্লাহর উলুহিয়্যাত বা ইবাদাতে শির্ক করা সত্বেও তাঁর রবুবিয়্যাতকে স্বীকার করত আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿قُل لِّمَنِ ٱلۡأَرۡضُ وَمَن فِيهَآ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ 84 سَيَقُولُونَ لِلَّهِۚ قُلۡ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ 85 قُلۡ مَن رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ ٱلسَّبۡعِ وَرَبُّ ٱلۡعَرۡشِ ٱلۡعَظِيمِ 86 سَيَقُولُونَ لِلَّهِۚ قُلۡ أَفَلَا تَتَّقُونَ 87 قُلۡ مَنۢ بِيَدِهِۦمَلَكُوتُ كُلِّ شَيۡءٖ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيۡهِ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ 88 سَيَقُولُونَ لِلَّهِۚ قُلۡ فَأَنَّىٰ تُسۡحَرُونَ 89﴾

বলুন, ‘যমীনে এবং এতে যা কিছু আছে এগুলো( মালিকানা) কার? যদি তোমরা জান (তবে বল)তারা বলবে, ‘আল্লাহরবলুন, ‘তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?’ বলুন, ‘কে সাত আকাশের এবং মহান আরশের রব?’ তারা বলবে, ‘আল্লাহরবলুন, ‘তাহলে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’ বলুন, ‘কার হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তিনি আশ্রয় দেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কেউ আশ্রয় দিতে পারে না, যদি তোমরা জান (তবে বল)তারা বলবে, ‘আল্লাহরবলুন, ‘তাহলে তোমরা কিভাবে মায়াবী হয়ে যাচ্ছ?’ [আল-মুমিনূন: ৮৪-৮৯]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন:

﴿وَلَئِن سَأَلۡتَهُم مَّنۡ خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡعَلِيمُ 9﴾

আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কে আসমানসমূহ যমীন সৃষ্টি করেছে?’ তারা অবশ্যই বলবে, ‘এগুলো তো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞই [যুখরুফ: ]

তিনি আরো বলেছেন:

﴿وَلَئِن سَأَلۡتَهُم مَّنۡ خَلَقَهُمۡ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُۖ فَأَنَّىٰ يُؤۡفَكُونَ 87﴾

আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহঅতঃপর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে? [আয-যুখরুফ: ৮৭]

আর 'আল্লাহর আদেশ' কথাটি তাঁর সৃষ্টিগত শরী'আত সংশ্লিষ্ট উভয় প্রকার বিষয়াদি শামিল করে তিনি যেমন তাঁর হিকমতানুসারে সৃষ্টজগতে যা ইচ্ছা তার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যবস্থাপক, তেমনি তিনি তাঁর হিকমতানুযায়ী যাবতীয় ইবাদাত পারস্পারিক লেনদেনের হুকুম রচনার একচ্ছত্র অধিকারী অতএব, যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইবাদতের বিধান প্রদানকারী অথবা লেন-দেনের হুকুমদাতা হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে সে আল্লাহর সাথে শরীক করলো এবং ঈমান বাস্তবায়ন করলো না

তিন: আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমানের অন্তর্গত হল, তাঁর উলুহিয়্যাতের ওপর ঈমান: এর অর্থ হলো, এই কথা স্বীকার করা যে, একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই সত্যিকার মা'বুদ, তাঁর শরীক নেই

আর "ইলাহ" শব্দটি "মালুহ" শব্দের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ মা'বুদ অর্থাৎ এমন উপাস্য যাকে পূর্ণ ভালোবাসা পূর্ণ সম্মানের সাথে ইবাদাত করা হয়

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿وَإِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحۡمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ 163﴾

আর তোমাদের ইলাহ্এক ইলাহ্‌, দয়াময়, অতি দয়ালু তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ্নেই [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৬৩] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَأُوْلُواْ ٱلۡعِلۡمِ قَآئِمَۢا بِٱلۡقِسۡطِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ 18﴾

আল্লাহ্সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয় তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্নেই আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও; আল্লাহ্ন্যায়নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, (তিনি) পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় [আলে ইমরান : 18] তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তার ইবাদাত করে, তার সে উপাস্য বাতিল বলে বিবেচিত আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ هُوَ ٱلۡبَٰطِلُ وَأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡكَبِيرُ 62﴾

এজন্যে যে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌, তিনিই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা তো অসত্য আর নিশ্চয় আল্লাহ্‌, তিনিই সমুচ্চ, সুমহান [আল-হাজ্জ: ৬২] সেগুলোকে মা'বুদ বলে নাম রাখলেই তা সত্যিকার উপাস্যের মর্যাদায় আসীন হয় না যেমন, আল্লাহ তা'আলা (লাত, মানাত, ওযযা সম্পর্কে) বলেন:

﴿إِنۡ هِيَ إِلَّآ أَسۡمَآءٞ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٍۚ...﴾

এগুলো কিছু নাম মাত্র যা তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষরা রেখেছ, যার সমর্থনে আল্লাহ্কোনো দলীলপ্রমাণ নাযিল করেননি [আন-নাজম: ২৩]

আল্লাহ তা'আলা হুদ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তিনি তার জাতিকে বলেছেন:

﴿...أَتُجَٰدِلُونَنِي فِيٓ أَسۡمَآءٖ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّا نَزَّلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٖۚ...﴾

তবে কি তোমরা আমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও এমন কতগুলি নাম সম্বন্ধে যেগুলোর নাম তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষরা রেখেছে, যে সম্বন্ধে আল্লাহ্কোনো সনদ নাযিল করেননি?’ [আল-আরাফ: ৭১]

ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) তার কারাগারের সঙ্গীদেরকে বলেছিলেন:

﴿يَٰصَٰحِبَيِ ٱلسِّجۡنِ ءَأَرۡبَابٞ مُّتَفَرِّقُونَ خَيۡرٌ أَمِ ٱللَّهُ ٱلۡوَٰحِدُ ٱلۡقَهَّارُ 39 مَا تَعۡبُدُونَ مِن دُونِهِۦٓ إِلَّآ أَسۡمَآءٗ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٍۚ...﴾

'হে আমার কারা-সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন বহু রব উত্তম, না মহাপ্রতাপশালী এক আল্লাহ্‌? তোমরা তাঁর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করছো, তারা কেবল নাম মাত্র, যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা রেখেছে; আল্লাহ্তাদের জন্য কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি... [ইউসূফ: ৩৯-৪০]

তাই সকল নবী রাসূলগণ তাঁদের স্ব স্ব জাতিকে বলতেন:

﴿...ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنۡ إِلَٰهٍ غَيۡرُهُ...﴾

আল্লাহ্ ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই [আল-আরাফ: ৫৯] কিন্তু মুশরিকরা এই দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিভিন্ন ধরণের বাতিল উপাস্যকে আল্লাহর সাথে শরীক করে ওদের উপাসনা করেছে, তাদের নিকট সাহায্য কামনা করেছে এবং তাদের কাছে ফরিয়াদ করেছে

আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের প্রকার উপাস্য গ্রহণের বিষয়কে দু'টি যুক্তি দ্বারা খণ্ডন করেছেন:

এক: তাদের গৃহীত সমস্ত ইলাহগুলোর মাঝে উলুহিয়্যাতের কোন বৈশিষ্ট্য নেই, কেননা এগুলো মাখলুক, তারা সৃষ্টি করতে পারে না, তাদের ইবাদতকারীদের কোন উপকার করতে পারে না, তাদের থেকে কোন ক্ষতি প্রতিহত করতে পারে না এবং তারা জীবন মৃত্যু মালিকও নয় আর তারা আসমান, জমিনেরও কোনো কিছুর মালিক নয় এবং এতে তাদের অংশও নেই

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةٗ لَّا يَخۡلُقُونَ شَيۡـٔٗا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ وَلَا يَمۡلِكُونَ لِأَنفُسِهِمۡ ضَرّٗا وَلَا نَفۡعٗا وَلَا يَمۡلِكُونَ مَوۡتٗا وَلَا حَيَوٰةٗ وَلَا نُشُورٗا 3﴾

আর তারা তাঁর পরিবর্তে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে অন্যদেরকে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং এবং তারা নিজেদের অপকার কিংবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না আর মৃত্যু, জীবন উত্থানের উপরও কোনো ক্ষমতা রাখে না [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿قُلِ ٱدۡعُواْ ٱلَّذِينَ زَعَمۡتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ لَا يَمۡلِكُونَ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا لَهُمۡ فِيهِمَا مِن شِرۡكٖ وَمَا لَهُۥ مِنۡهُم مِّن ظَهِيرٖ 22 وَلَا تَنفَعُ ٱلشَّفَٰعَةُ عِندَهُۥٓ إِلَّا لِمَنۡ أَذِنَ لَهُۥ...﴾

বলুন, 'তোমরা আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে ইলাহ্ মনে করতে তাদেরকে ডাক তারা আসমানসমূহে অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয়, যমীনেও নয় আর দু'টিতে তাদের কোনো অংশও নেই এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সহায়কও নয় এবং তাঁর কাছে সুপারিশ কোনো কাজে আসে না, শুধুমাত্র যাকে তিনি অনুমতি দেন...' [সাবা: ২২-২৩]

﴿أَيُشۡرِكُونَ مَا لَا يَخۡلُقُ شَيۡـٔٗا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ 191 وَلَا يَسۡتَطِيعُونَ لَهُمۡ نَصۡرٗا وَلَآ أَنفُسَهُمۡ يَنصُرُونَ 192﴾

তারা কি এমন বস্তুকে শরীক করে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না? বরং ওরা নিজেরাই সৃষ্ট, এবং তারা তাদেরকে সাহায্য করতে পারে না, এমনকি নিজেদেরকেও সাহায্য করতে পারে না [আল-আরাফ: ১৯১-১৯২]

আর যখন এই উপাস্যদের এরূপ অবস্থা, তখন তাদেরকে উপাস্য নির্ধারণ করা চরম বোকামী নিরেট বাতিল কর্ম

দ্বিতীয়: যখন মুশরিকরা স্বীকার করে যে, বিশ্বের রব স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ তা'আলা, যাঁর হাতে সবকিছুর ক্ষমতা, যিনি আশ্রয় দান করেন, তাঁর ওপর কোনো আশ্রয়দানকারী নেই; তখন তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠে বিষয় স্বীকার করা যে, একমাত্র মহান আল্লাহ তা'আলাই সর্বপ্রকার ইবাদাত পাওয়ার অধিকারী, যেমনিভাবে তারা তাঁর রবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে এক বলে স্বীকার করে মর্মে মহান আল্লাহ বলেন:

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱعۡبُدُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُمۡ وَٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ 21 ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ فِرَٰشٗا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءٗ وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَأَخۡرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزۡقٗا لَّكُمۡۖ فَلَا تَجۡعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادٗا وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ 22﴾

হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবেরইবাদাত করো যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অধিকারী হও যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তারপর এর মাধ্যমে ফলমূল উৎপন্ন করেছেন তোমাদের জন্য রিযিক হিসেবে অতএব, তোমরা জেনে শুনে আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ করো না [আল-বাকারা ২১-২২]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿وَلَئِن سَأَلۡتَهُم مَّنۡ خَلَقَهُمۡ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُۖ فَأَنَّىٰ يُؤۡفَكُونَ 87﴾

আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহঅতঃপর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে? [আয-যুখরুফ: ৮৭]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿قُلۡ مَن يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ أَمَّن يَمۡلِكُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَٰرَ وَمَن يُخۡرِجُ ٱلۡحَيَّ مِنَ ٱلۡمَيِّتِ وَيُخۡرِجُ ٱلۡمَيِّتَ مِنَ ٱلۡحَيِّ وَمَن يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۚ فَسَيَقُولُونَ ٱللَّهُۚ فَقُلۡ أَفَلَا تَتَّقُونَ 31 فَذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمُ ٱلۡحَقُّۖ فَمَاذَا بَعۡدَ ٱلۡحَقِّ إِلَّا ٱلضَّلَٰلُۖ فَأَنَّىٰ تُصۡرَفُونَ 32﴾

বলুন, ‘কে তোমাদেরকে আসমান যমীন থেকে জীবনোপকরণ সরবারহ করেন অথবা শ্রবণ দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন, জীবিতকে মৃত থেকে কে বের করেন এবং মৃতকে কে জীবিত হতে কে বের করেন এবং সব বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করেন?’ তখন তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ্‌’ সুতরাং বলুন, ‘তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’ সুতরাং এটাই তোমাদের সত্যিকারের রব আল্লাহ্ সত্যের পর আর কি আছে মিথ্যা ছাড়া? সুতরাং তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? [ইউনূস : ৩১-৩২]

চার: আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমানের অন্তর্গত চতুর্থ বিষয় হল, তাঁর নাম তাঁর গুণাবলীর ওপর ঈমান:

অর্থাৎ তিনি তাঁর কিতাবে বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে যে সব নাম গুণাবলী তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন সেগুলোকে তাঁর সাথে উপযুক্তভাবে সাব্যস্ত করা; কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন অস্বীকৃতি, আকৃতিদান উপমা-সাদৃশ্য আরোপ ব্যতীত এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَلِلَّهِ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰ فَٱدۡعُوهُ بِهَاۖ وَذَرُواْ ٱلَّذِينَ يُلۡحِدُونَ فِيٓ أَسۡمَٰٓئِهِۦۚ سَيُجۡزَوۡنَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ 180﴾

আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক; আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন কর; তাদের কৃতকর্মের ফল অচিরেই তাদেরকে দেয়া হবে [আল-আরাফ : ১৮০] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿...وَلَهُ ٱلۡمَثَلُ ٱلۡأَعۡلَىٰ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ﴾

আর আসমানসমূহ যমীনে সর্বোচ্চ গুনাবলী তাঁরই এবং তিনিই পরাক্রমশালী, হিক্মতওয়ালা [আর-রূম : ২৭] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿...لَيۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَيۡءٞۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ﴾

কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১]

এই বিষয়ে দু'টি দল পথভ্রষ্ট হয়েছে:

প্রথম দল: আল-মু'আত্তিলাহ: যারা আল্লাহ তা'আলার সমস্ত নাম বা কোনো কোনো নাম গুণাবলীকে অস্বীকার করে, এই ধারণায় যে, আল্লাহর জন্য গুণাবলী প্রতিষ্ঠা করলে আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে বস্তুত তাদের ধারণা কয়েক কারণে বাতিল:

এক: এর কারণে কয়েকটি বাতিল কথা মানা অপরিহার্য হয়ে পড়ে যেমন মহান আল্লাহর কথার মধ্যে স্ববিরোধিতা এসে যাওয়া কারণ, আল্লাহ তা'আলা নিজেই তাঁর নাম গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন এবং তাতে তাঁর কোনো সদৃশ বা সমতুল্য নেই বলেও ঘোষণা দিয়েছেন সুতরাং যদি আল্লাহর জন্য গুণাবলী সাব্যস্ত করলে আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয়া আবশ্যক হয়, তবে তো আল্লাহর কথাকেই সাংঘর্ষিক এবং তাঁর বাণীর একাংশ অপর অংশে মিথ্যারোপ করে বলতে হয়

দুই: দুটি বস্তু নাম বা গুণে অভিন্ন হলেই উভয় বস্তু সার্বিক দিক দিয়ে সদৃশ হওয়া আবশ্যক নয় আপনি দেখতে পান, দু'ব্যক্তি মানুষ হওয়া, শ্রবণ, দৃষ্টি বাকশক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, মানবিক গুণ, শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টিশক্তি বাকশক্তির দিক থেকে তারা সমান নয়

অনুরূপভাবে আপনি দেখবেন, সব জন্তুদের হাত, পা চক্ষু রয়েছে, কিন্তু নাম এক হওয়ার কারণে তাদের হাত, পা চক্ষু এক রকম হওয়া আবশ্যক করে না

সুতরাং যদি সৃষ্টির মধ্যে নাম গুণাবলীর অভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এভাবে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তাহলে স্রষ্টা সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য ভিন্নতা থাকা অধিকতর স্বাভাবিক স্পষ্ট

দ্বিতীয় দল: আল মুশাব্বিহা: দলটি আল্লাহর নাম তাঁর গুণাবলী আছে বলে বিশ্বাস করে, তবে সাথে সাথে তারা সেগুলোকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয় তাদের যুক্তি হলো যে, কুরআন সুন্নাহর দাবী এটাই কেননা, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর গুণাবলীর বিষয়ে তাদের বোধগম্য ভাষাতেই সম্বোধন করেছেন বস্তুত তাদের ধরনের বিশ্বাস ভিত্তিহীন এবং কয়েক কারণে বাতিল:

যুক্তি শরী'আতের আলোকে যাচাই করলে উপলব্দি করা যায় যে, মহান রাব্বুল আলামীন কখনও সৃষ্টির সদৃশ হতে পারেন না আর কুরআন সুন্নাহর দাবী কোনো বাতিল বিষয় হওয়াও সম্ভব নয়

আল্লাহ তা'আলা যদিও এমন ভাষা শব্দ দিয়ে তাঁর বান্দাদেরকে সম্বোধন করেছেন, যেগুলো মৌলিক অর্থগত দিক দিয়ে তাদের বোধগম্য, কিন্তু তাঁর নাম গুণাবলীর ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা আসল তত্ত্বের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা কাউকে অবহিত করেন নি; বরং আল্লাহ তা'আলা নিজ সত্ত্বা গুণাবলী সম্পর্কিত বিষয়ের প্রকৃত জ্ঞানকে নিজের জন্যে নির্দিষ্ট করে রেখেছেন

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, আল্লাহ তা'আলা নিজেকে "আস-সামী" বা 'সর্বশ্রোতা' নামে বিশেষিত করেছেন শ্রবণের অর্থটা আমাদের সবার জান (যার অর্থ শব্দ উপলব্ধি করা) কিন্তু আল্লাহ তা'আলার শ্রবণ গুণের হাকীকত আমাদের জানা নেই কেননা, শ্রবণশক্তির দিক থেকে সৃষ্টিকুলের মধ্যেই ভিন্নতা রয়েছে, তাই স্রষ্টা সৃষ্টির মধ্যে এই ক্ষেত্রে তফাৎ থাকাই অধিকতর স্বাভাবিক সুস্পষ্ট

অনুরূপভাবে যখন আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে, তিনিআরশের উপর সমাসীন, তখনসমাসীন হওয়ারবিষয়টি অর্থগত দিক থেকে আমাদের বোধগম্য; কিন্তু মহান রাব্বুলআলামীনেরসমাসীন হওয়ারহাকীকত আমাদের জানা নেই কারণ, সৃষ্টিকুলের মাঝেইসমাসীন হওয়ারক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে কেননা একটি স্থিতিশীল চেয়ারের উপরে আরোহন করা আর একটি চঞ্চল পলায়নপর উটের পিঠের উপর আরোহন করা সমান নয় আর যখন সৃষ্টিকুলের 'উপরে উঠা' মধ্যে এতটুকু ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, তখন সমাসীন হওয়ার ক্ষেত্রে স্রষ্টা সৃষ্টির মধ্যে ব্যবধান থাকা অধিকতর স্পষ্ট নিশ্চিত

উপরোক্ত বর্ণনানুযায়ী আল্লাহ তা'আলার ওপর ঈমান আনলে মু'মিনদের জন্য কতগুলো তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল সাধিত হয়; তন্মধ্যে অন্যতম হল:

প্রথমত: আল্লাহর তাওহীদ বা একত্ববাদ যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়; ফলে বান্দার মধ্যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা আশা-ভরসার লেশমাত্র থাকে না এবং তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদাত করে না

দ্বিতীয়ত: আল্লাহর সর্বসুন্দর নামসমূহ তাঁর সুউচ্চ গুণাবলীর দাবী অনুযায়ী আল্লাহ তা'আলার প্রতি পরিপূর্ণ ভালোবাসা সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন সম্ভব হয়

তৃতীয়ত: আল্লাহর আদেশ পালন এবং তাঁর নিষেধাবলী বর্জন করার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত যথাযথরূপে বাস্তবায়ন

***

ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান

ফিরিশতাগণ আল্লাহ তা'আলার সৃষ্ট এক অদৃশ্য জগত তারা সর্বদা আল্লাহর ইবাদাতে মাশগুল থাকেন; তাদের মধ্যে উলুহিয়্যত বা রুবুবিয়্যতের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই

আল্লাহ তাদেরকে নূরের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তাদেরকে তাঁর পূর্ণ আনুগত্যের গুণ প্রদান করেছেন এবং তাঁর আদেশ বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা দান করেছেন

আল্লাহ তা'আলা তাদের বর্ণনা দিয়ে বলেন:

﴿...وَمَنۡ عِندَهُۥ لَا يَسۡتَكۡبِرُونَ عَنۡ عِبَادَتِهِۦ وَلَا يَسۡتَحۡسِرُونَ يُسَبِّحُونَ19 ٱلَّيۡلَ وَٱلنَّهَارَ لَا يَفۡتُرُونَ 20

আর তাঁর সান্নিধ্যে যারা আছে তারা অহংকার-বশে তাঁর ইবাদাত করা হতে বিমুখ হয় না এবং বিরক্তি বোধ করে না; তারা রাত দিন তাসবীহ পাঠ করে, ক্লান্ত হয় না [আল-আম্বিয়া: ১৯-২০]

তাঁদের সংখ্যা এতবেশী যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না সহীহ বুখারী মুসলিমে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মি'রাজের ঘটনায় বর্ণিত আছে যে, 'নবী সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমানে অবস্থিত 'বায়তুল মা'মুর' দেখেন, এই বায়তুল মা'মুরে দৈনিক সত্তর হাজার ফিরিশতা প্রবেশ করে কিয়ামত পর্যন্ত তাদের পুনরায় প্রবেশ করার সুযোগ আর আসবে না'

ফেরেস্তাদের প্রতি ঈমান চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

এক: ফিরিশতাদের অস্তিত্বের ওপর ঈমান আনা

দুই: কুরআন সুন্নাহ দ্বারা যাদের নাম আমাদের জেনেছি যেমন, জিবরীল আলাইহিস সালাম, তাদের ওপর নির্দিষ্ট করে ঈমান আনা আর যাদের নাম আমাদের জানা নেই তাদের প্রতি সার্বিকভাবে ঈমান আনা

তিন: কুরআনুল করীম সহীহ হাদীসে বর্ণিত তাদের যেসব গুণাবলী আমরা জানি তার প্রতি ঈমান আনা যেমন, জিবরীলের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, তিনি তাকে তার আসল আকৃতিতে দেখেছেন তার ছয়শত ডানা আছে যা গোটা দিগন্তকে ঘিরে রেখেছে

আর কখনো ফিরিশতারা আল্লাহর আদেশে মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন যেমন, আল্লাহ তা'আলা যখন জিবরীল আলাইহিস সালামকে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জননী মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেন, তখন তিনি তার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করলেন অনুরূপভাবে জিবরীল আলাইহিস সালাম একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটতিনি তখন সাহাবায়ে কেরামের মাঝে বসা ছিলেনএক অজ্ঞাত ব্যক্তির আকৃতিতে উপস্থিত হন; তার (জিবরীলের) পরিহিত পোষাক ছিল সাদা ধবধবে, মাথার চুল ছিল ঘনকালো ভ্রমণের কোনো লক্ষণ তার ওপর দেখা যাচ্ছিল না, সাহাবীগণের কেউ তাকে িনতেও পারে নি অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে তার হাঁটুর সাথে আপন হাঁটু মিলিয়ে বসলেন এবং আপন হস্তদ্বয় তার উরুর উপর রাখলেন এবং তাকে ইসলাম, ঈমান, ইহসান এবং কিয়ামত তার আলামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোর জবাব দেন, এরপর তিনি চলে যান অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

«هَذَا جِبْرِيلُ؛ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ».

ইনি হলেন জিবরীল, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন"8

এভাবে আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম লুত আলাইহিমাস সালাম-এর নিকট যে সব ফিরিশতাকে প্রেরণ করেছিলেন তারাও পুরুষলোকের অকৃতিতে উপস্থিত হয়েছিলেন

চার: ফিরিশতাগণের আমল বা কর্মসমূহের ওপর ঈমান আনা, যা তাঁরা আল্লাহর নির্দেশে পালন করে থাকে যেমন, ফিরিশতাদের দিন-রাত তাসবীহ পাঠ আল্লাহর ইবাদাত করা কোন প্রকার ক্লান্তি বিনা অলসতায়

তাদের মধ্যে কোনো কোনো ফিরিশতা বিশেষ বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন

যেমন, জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি ওহীর দায়িত্বশীল, আল্লাহ তাকে নবী রাসূলগণের প্রতি ওহীসহ প্রেরণ করেন

অনুরূপ মিকাঈল আলাইহিস সালাম, তিনি বৃষ্টিপাত উদ্ভিদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল

আর ইসরাফীল আলাইহিস সালাম, তিনি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়ে এবং সৃষ্টিকুলের পুনরুত্থানের সময়ে শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন

অনুরূপভাবে মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম: মৃত্যুর সময় জান কবজের দায়িত্বপ্রাপ্ত

আর মালিক (আলাইহিস্ সালাম): তিনি জাহান্নামের তত্ত্বাবধান বিষয়ক দায়িত্বে নিয়োজিত তিনি জাহান্নামের প্রহরী

অনুরূপভাবে একদল ফিরিশতা, যারা মায়ের গর্ভে সন্তানদের ভ্রূণের দায়িত্বে নিয়োজিত মাতৃগর্ভে যখন সন্তানের চার মাস পূর্ণ হয়, তখন সেই সন্তানের কাছে আল্লাহ তা'আলা একজন ফিরিশতা প্রেরণ করেন এবং তাকে সেই মানবসন্তানের রিজিক, মৃত্যুক্ষণ, আমল এবং সে সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্যবান তা লিখার নির্দেশ প্রদান করেন

অনুরূপ আরেক দল ফিরিশতা, যারা প্রত্যেক মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ লেখার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেক মানুষের জন্য দু'জন একজন ডানদিকে অপরজন বামদিকে

অনুরূপ একদল ফিরিশতা মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর কবরে তাকে প্রশ্ন করার দায়িত্বে নিয়োজিত মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর দু'জন ফিরিশতা এসে তাকে প্রশ্ন করেন, তার রব বা প্রভু সম্পর্কে, তার দীন সম্পর্কে এবং তার নবী সম্পর্কে

ফিরিশতাদের প্রতি ঈমানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপকার রয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম হল:

প্রথমত: মহান আল্লাহর মাহত্ত্ব, অসীম শক্তি তাঁর কর্তৃত্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ কেননা, সৃষ্টির বড়ত্ব স্রষ্টার মাহত্ত্বেরই প্রমাণ করে

দ্বিতীয়ত: আদমসন্তানের প্রতি আল্লাহ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন; যেহেতু তিনি ফিরিশতাদেরকে মানুষের হিফাযত, তাদের 'আমলনামা সংরক্ষণসহ তাদের বহুবিধ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত রেখেছেন

তৃতীয়ত: ফিরিশতাদের প্রতি মহব্বত সৃষ্টি; যেহেতু তারা যথাযথভাবে আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত সম্পাদন করে চলছেন

একদল বিভ্রান্ত লোক ফিরিশতাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে তারা বলে, ফিরিশতারা হল, সৃষ্টিকুলের মধ্যে নিহিত কল্যাণশক্তি বিশেষ তাদের এই বক্তব্য আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের হাদীস মুসলিম ঐক্যমতকে মিথ্যারোপ করার নামান্তর

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ فَاطِرِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ جَاعِلِ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ رُسُلًا أُوْلِيٓ أَجۡنِحَةٖ مَّثۡنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَ...﴾

সকল প্রশংসা আসমানসমূহ যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই--- যিনি রাসূল করেন ফিরিশতাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পক্ষবিশিষ্ট... [ফাতির : ]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿وَلَوۡ تَرَىٰٓ إِذۡ يَتَوَفَّى ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ يَضۡرِبُونَ وُجُوهَهُمۡ وَأَدۡبَٰرَهُم...﴾

আর আপনি যদি দেখতে পেতেন যখন ফিরিশতাগণ যারা কুফরী করেছে তাদের প্রাণ হরণ করেছিল, তাদের মুখমন্ডলে পিঠে আঘাত করছিল... [আল-আনফাল: ৫০]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿...وَلَوۡ تَرَىٰٓ إِذِ ٱلظَّٰلِمُونَ فِي غَمَرَٰتِ ٱلۡمَوۡتِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ بَاسِطُوٓاْ أَيۡدِيهِمۡ أَخۡرِجُوٓاْ أَنفُسَكُمُۖ...﴾

...যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রনায় থাকবে এবং ফিরিশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, ‘তোমাদের প্রাণ বের কর... [আল-আনআম: ৯৩].

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿...حَتَّىٰٓ إِذَا فُزِّعَ عَن قُلُوبِهِمۡ قَالُواْ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمۡۖ قَالُواْ ٱلۡحَقَّۖ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡكَبِيرُ﴾

...অবশেষে যখন তাদের অন্তর থেকে ভয় বিদূরিত হয়, তখন তারা পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করে, 'তোমাদের রব কী বললেন?' তার উত্তরে তারা বলে, যা সত্য তিনি তা- বলেছেন আর তিনি সমুচ্চ, মহান [সাবা: ২৩]

তিনি জান্নাতীদের সম্পর্কে বলেছেন:

﴿...وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ يَدۡخُلُونَ عَلَيۡهِم مِّن كُلِّ بَابٖ سَلَٰمٌ عَلَيۡكُم بِمَا صَبَرۡتُمۡۚ فَنِعۡمَ عُقۡبَى ٱلدَّارِ﴾

আর ফেরেশতাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে, সালামুন আলাইকুম তোমাদের ধৈর্যের জন্য অতএব, কতই না উত্তম পরিণাম এই আবাসের [আর-রা : ২৩-২৪]

সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

«إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ الْعَبْدَ نَادَى جِبْرِيلَ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحْبِبْهُ، فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ، فَيُنَادِي جِبْرِيلُ فِي أَهْلِ السَّمَاءِ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبُّوهُ، فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي الْأَرْضِ».

আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরীলকে ডেকে বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, অতএব তুমিও তাকে ভালোবাসফলে জিবরীলও তাকে ভালোবাসেন অতঃপর তিনি আকাশবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, ‘আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, কাজেই তোমরাও তাকে ভালোবাসোতখন আকাশবাসীরা তাকে ভালোবাসে অতঃপর যমীনেও তার জন্য কবুলিয়্যাত রেখে দেওয়া হয়9.

সহীহ বুখারীতে আরেকটি হাদীস আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহ আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ كَانَ عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ الْمَلَائِكَةُ يَكْتُبُونَ الْأَوَّلَ فَالْأَوَّلَ، فَإِذَا جَلَسَ الْإِمَامُ طَوَوْا الصُّحُفَ وَجَاءُوا يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ».

যখন জুমু'আর দিন হয় তখন মসজিদের প্রত্যেক দরজায় ফিরিশতাগণ অবস্থান গ্রহণ করেন তাঁরা সালাতে আগমনকারীদের নাম যথাক্রমে লিখতে থাকে তারপর ইমাম যখন খুৎবার জন্য মিম্বরে বসে পড়েন তখন তারা তাদের ফাইল গুটিয়ে নেয় এবং খুৎবা শুনার জন্য মনোনিবেশ করেন10

এসব আয়াত হাদীস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ফিরিশতাদের অস্তিত্ব-আকৃতি রয়েছে, তারা কোনো কাল্পনিক শক্তি নয়; যেমনটি বিভ্রান্ত লোকেরা বলে থাকে

উপরোক্ত উদ্ধৃতিগুলোর মর্মার্থ অনুযায়ী সমগ্র মুসলিমের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

***

 


কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান

কিতাব শব্দটির বহুবচন 'কুতুবুন'; যা দ্বারা 'মাকতুব' বা লিখিত গ্রন্থ বুঝায়

আর এখানে 'কিতাব' দ্বারা উদ্দেশ্য হল: সেসব কিতাবসমূহ যা আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি জগতের জন্য হেদায়াত রহমতস্বরূপ তাঁর রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ করেছেন যাতে তারা এর মাধ্যমে তাদের দুনিয়া আখেরাতের সৌভাগ্যের পথে পৌঁছতে পারে

কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

এক: এই ঈমান রাখা যে, এগুলো প্রকৃত পক্ষেই আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ

দ্বিতীয়: নির্দিষ্ট নামে ঐসব কিতাবের প্রতি ঈমান স্থাপন করা, যেগুলোর নাম আমরা জানি; যেমন, কুরআন যা অবতীর্ণ হয়েছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এবং তাওরাত যা অবতীর্ণ হয়েছে মূসা আলাইহিস সালামের ওপর ইঞ্জীল যা অবতীর্ণ হয়েছে ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর এবং যাবুর যা অবতীর্ণ হয়েছে দাউদ আলাইহিস সালামের ওপর আর যে সব আসমানী কিতাবের নাম আমাদের জানা নেই, তার প্রতি সার্বিক ভাবে ঈমান রাখা

আসমানী গ্রন্থসমূহে বর্ণিত বিশুদ্ধ ঘটনাবলীর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা যেমন, কুরআনে বর্ণিত সংবাদসমূহ এবং পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের অপরিবর্তিত অবিকৃত সংবাদসমূহের ওপর ঈমান রাখা

- এগুলোর মধ্য হতে যেসব আহকাম মানসূখ হয়নি তার উপর আমল করা, সেগুলোর উপর সন্তুষ্ট থাকা তা মেনে চলা; চাই আমরা তার হিকমত অনুধাবন করি কিংবা না করি আর কুরআনুল করীমের দ্বারা পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থসমূহ মানসূখ করা হয়েছে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

﴿وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ مُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَمُهَيۡمِنًا عَلَيۡهِۖ...﴾

আর আমরা আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি ইতোপূর্বেকার কিতাবসমূহের সত্যতা প্রতিপন্নকারী সেগুলোর তদারককারীরূপে... [আল-মায়িদাহ : ৪৮] [আয়]

(এটি ব্যবহার হয়): তার উপর প্রাধান্যশীল

একারণে, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের কোনো হুকুমের ওপর আমল করা জায়েয নয়, একমাত্র ঐসব হুকুম ব্যতীত যা বিশুদ্ধ ভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং কুরআনের দ্বারা তা বলবৎ রাখা হয়েছে

কিতাবসমূহের ওপর ঈমানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল রয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম হল:

প্রথম: বান্দাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার বিশেষ তত্ত্বাবধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ, কেননা তিনি প্রত্যেক জাতির প্রতি তাদের হিদায়াতের উদ্দেশ্যে কিতাব পাঠিয়েছেন

দ্বিতীয়: শরী'আত প্রবর্তনে আল্লাহ তা'আলার হিকমত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ, যেহেতু তিনি প্রতিটি জাতির প্রতি তাদের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যশীল শরী'আত প্রবর্তন করেছেন মর্মে মহান আল্লাহ বলেন:

﴿...لِكُلّٖ جَعَلۡنَا مِنكُمۡ شِرۡعَةٗ وَمِنۡهَاجٗا...﴾

তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমরা একটা করে শরীয়ত স্পষ্টপথ নির্ধারণ করে দিয়েছি [আল-মায়িদাহ : ৪৮]

তৃতীয়: উপরোক্ত নি'আমতসমূহের জন্য আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া জ্ঞাপন করা

***

রাসূলগণের ওপর ঈমান

'রাসূল' শব্দটি একবচন, আরবীতে এর বহুবচন হচ্ছে 'রুসুল' যার অর্থ কোনো বিষয় পৌঁছানোর জন্য প্রেরিত দূত বা প্রতিনিধি

এখানে রাসূল দ্বারা উদ্দেশ্য হল: সেই মহান ব্যক্তি, যার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে শরী'আত অবতীর্ণ হয়েছে এবং তা প্রচার করার জন্য তাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে

সর্বপ্রথম রাসূল হলেন নূহ আলাইহিস সালাম আর সর্বশেষ রাসূল হলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿ إِنَّآ أَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡكَ كَمَآ أَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ نُوحٖ وَٱلنَّبِيِّـۧنَ مِنۢ بَعۡدِهِ...﴾

নিশ্চয় আমরা আপনার নিকট ওহী প্রেরণ করেছিলাম, যেমন নূহ তার পরবর্তী নবীগণের প্রতি ওহী প্রেরণ করেছিলাম... [আন-নিসা ১৬৩]

সহীহ বুখারীতে আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে শাফা'আতের হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«ذُكِرَ أَنَّ النَّاسَ يَأْتُونَ إِلَى آدَمَ؛ لِيَشْفَعَ لَهُمْ، فَيَعْتَذِرُ إِلَيْهِمْ وَيَقُولُ: ائْتُوا نُوحًا أَوَّلَ رَسُولٍ بَعَثَهُ اللَّهُ» وذكر تمام الحديث.

কিয়ামতের দিন হাশরবাসীগণ আল্লাহ তা'আলার কাছে সুপারিশের আশায় প্রথমে আদম আলাইহিস সালামের নিকট আসবে তখন আদম আলাইহিস সালাম নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে বলবেন, “তোমরা নূহ আলাইহিস সালামের নিকট যাও তিনি প্রথম রাসূল, যাকে আল্লাহ তা'আলা মানব জাতির প্রতি প্রেরণ করেছেন”...11

আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন:

﴿مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَآ أَحَدٖ مِّن رِّجَالِكُمۡ وَلَٰكِن رَّسُولَ ٱللَّهِ وَخَاتَمَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ...﴾

মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; ববং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী [আল-আহযাব].

আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জাতির প্রতি স্বতন্ত্র শরী'আতসহ রাসূল অথবা পূর্ববর্তী শরী'আত নবায়নের জন্য ওহীসহ নবী প্রেরণ করেছেন আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ...﴾

আর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছিলাম নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্ ইবাদাত কর এবং তাগূতকে বর্জন কর... [আন-নাহল ৩৬]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿...وَإِن مِّنۡ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٞ﴾

...আর এমন কোনো উম্মত নেই যার কাছে গত হয়নি সতর্ককারী [ফাতির: ২৪]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿إِنَّآ أَنزَلۡنَا ٱلتَّوۡرَىٰةَ فِيهَا هُدٗى وَنُورٞۚ يَحۡكُمُ بِهَا ٱلنَّبِيُّونَ ٱلَّذِينَ أَسۡلَمُواْ لِلَّذِينَ هَادُواْ...﴾

নিশ্চয় আমরা তাওরাত নাযিল করেছিলাম; এতে ছিল হেদায়াত আলো; নবীগণ, যারা ছিলেন অনুগত, তারা ইয়াহুদীদেরকে তদনুসারে হুকুম দিতেন... [সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৪]

রাসূলগণ আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ তাদের মধ্যে রুবুবিয়্যাত বা উলুহিয়্যাতের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই আল্লাহ তা'আলা রাসূলদের সরদার তাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন:

﴿قُل لَّآ أَمۡلِكُ لِنَفۡسِي نَفۡعٗا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُۚ وَلَوۡ كُنتُ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ لَٱسۡتَكۡثَرۡتُ مِنَ ٱلۡخَيۡرِ وَمَا مَسَّنِيَ ٱلسُّوٓءُۚ إِنۡ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٞ وَبَشِيرٞ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ 188﴾

বলুন, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভালো মন্দের উপরও আমার কোনো অধিকার নেই আমি যদি গায়েবের খবর জানতাম তবে তো আমি অনেক কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোনো অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী সুসংবাদদাতা ছাড়া আমি তো আর কিছুই নই [আল-আরাফ: ১৮৮]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿قُلۡ إِنِّي لَآ أَمۡلِكُ لَكُمۡ ضَرّٗا وَلَا رَشَدٗا 21 قُلۡ إِنِّي لَن يُجِيرَنِي مِنَ ٱللَّهِ أَحَدٞ وَلَنۡ أَجِدَ مِن دُونِهِۦ مُلۡتَحَدًا 22﴾

বলুন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি বা কল্যাণের মালিক নই৷বলুন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছ থেকে আমাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং আমি তার ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল পাব না৷ [আল-জিন : ২১-২২]

নবী-রাসূলগণও সাধারণ মানুষের ন্যায় মানবিক বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত তাঁরাও পানাহার করতেন, অসুস্থ হতেন এবং তাঁরা মারা যেতেন আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন, তিনি তার জাতির সামনে স্বীয় রবের পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন:

﴿وَٱلَّذِي هُوَ يُطۡعِمُنِي وَيَسۡقِينِ 79 وَإِذَا مَرِضۡتُ فَهُوَ يَشۡفِينِ 80 وَٱلَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحۡيِينِ 81﴾

আরতিনিই আমাকে খাওয়ান পান করান আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন আর তিনিই আমাকে মৃত্যুবরণ করান, তারপর পুনরায় জীবিত করবেন [আশ-শুআরা: ৭৯-৮১]

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ، أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ، فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي».

আমি তো কেবল তোমাদের মতোই একজন মানুষ আমিও ভুলে যাই যেমন তোমরাও ভুলে যাও অতএব, যখন আমি ভুলে যাই তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিবে12

আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দাসত্বগুণে বিশেষিত করেছেন তাঁদের সর্বোচ্চ মর্যাদার স্থলে এবং তাঁদের প্রশংসা করার বেলায়ও যেমন আল্লাহ তা'আলা নূহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন:

﴿...إِنَّهُۥ كَانَ عَبۡدٗا شَكُورٗا﴾

তিনি তো ছিলেন পরম কৃতজ্ঞ বান্দা [আল-ইসরা: ] তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেছেন:

﴿تَبَارَكَ ٱلَّذِي نَزَّلَ ٱلۡفُرۡقَانَ عَلَىٰ عَبۡدِهِۦ لِيَكُونَ لِلۡعَٰلَمِينَ نَذِيرًا 1﴾

কত বরকতময় তিনি! যিনি তাঁর বান্দার উপর ফুরকান নাযিল করেছেন, সৃষ্টিজগতের জন্য সতর্ককারী হওয়ার জন্য [আল-ফুরকান: ]

আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম, ইসহাক ইয়াকুব আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কে বলেন:

﴿وَٱذۡكُرۡ عِبَٰدَنَآ إِبۡرَٰهِيمَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ أُوْلِي ٱلۡأَيۡدِي وَٱلۡأَبۡصَٰرِ 45 إِنَّآ أَخۡلَصۡنَٰهُم بِخَالِصَةٖ ذِكۡرَى ٱلدَّارِ 46 وَإِنَّهُمۡ عِندَنَا لَمِنَ ٱلۡمُصۡطَفَيۡنَ ٱلۡأَخۡيَارِ47﴾

আর স্মরণ করুন, আমাদের বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ইয়া'কুবের কথা, তাঁরা ছিলেন শক্তিশালী সূক্ষ্মদর্শী নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে এক বিশেষ গুণে বিশুদ্ধ করেছিলাম, যা ছিল পরকালের স্মরণ এবং নিশ্চয়ই তারা আমাদের নিকট মনোনীত উত্তমদের অন্তর্ভুক্ত [সূরা সোয়াদ: ৪৫-৪৭]

তিনি মারইয়াম-এর পুত্র ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে বলেছেন,

﴿إِنۡ هُوَ إِلَّا عَبۡدٌ أَنۡعَمۡنَا عَلَيۡهِ وَجَعَلۡنَٰهُ مَثَلٗا لِّبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ 59﴾

তিনি তো কেবল আমারই এক বান্দা, যার উপর আমরা অনুগ্রহ করেছিলাম এবং তাকে বানিয়েছিলাম বনী ইসরাঈলের জন্য দৃষ্টান্ত [আয-যুখরুফ: ৫৯]

রাসূলগণের প্রতি ঈমান চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম: ঈমান আনয়ন করা যে, সমস্ত নবী-রাসূলের রিসালাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই যথাযথভাবে এসেছে সুতরাং তাদের কোনো একজনের প্রতি কুফুরী করা সবার প্রতি কুফুরী করার নামান্তর মর্মে মহান আল্লাহ বলেন:

﴿كَذَّبَتۡ قَوۡمُ نُوحٍ ٱلۡمُرۡسَلِينَ 105﴾

নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল [আশ-শু'আরা: ১০৫] আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সকল নবী-রাসূলগণের ওপর মিথ্যারোপকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অথচ সে সময় নূহ আলাইহিস সালাম ব্যতীত অন্য কোনো রাসূল ছিলেন না তাই খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করে এবং তার অনুসরণ করে না, তারা বস্তুত ঈসা-মসীহ আলাইহিস সালামকে অস্বীকার করে, তার অনুকরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় কেননা, ঈসা আলাইহিস সালাম বনী ইসরাঈলকে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছিলেন আর সে সুসংবাদ প্রদানের অর্থই হচ্ছে এটা প্রমাণিত হওয়া যে, তিনি তাদের কাছে প্রেরিত রাসূল যিনি তাদেরকে গোমরাহী পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন

দ্বিতীয়: নবী-রাসূলগণের মধ্যে যাদের নাম জানা আছে তাদের প্রতি নির্দিষ্ট করে ঈমান আনা যেমন, মুহাম্মদ, ইবরাহীম, মুসা, ঈসা, নূহ (আলাইহিমুস সালাম) উল্লিখিত পাঁচজন হলেন বিশিষ্ট উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন রাসূল আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কুরআনের দু'স্থানে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি বলেন:

﴿وَإِذۡ أَخَذۡنَا مِنَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ مِيثَٰقَهُمۡ وَمِنكَ وَمِن نُّوحٖ وَإِبۡرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَۖ وَأَخَذۡنَا مِنۡهُم مِّيثَٰقًا غَلِيظٗا 7﴾

আর স্মরণ করুন, যখন আমরা নবীগণের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকেও, আর নূহ, ইব্রাহিম, মূসা মারইয়াম পুত্র ঈসার কাছ থেকেও আর আমরা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার-- [আল-আহযাব: ] এবং মহান আল্লাহর বাণী:

﴿شَرَعَ لَكُم مِّنَ ٱلدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِۦ نُوحٗا وَٱلَّذِيٓ أَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡكَ وَمَا وَصَّيۡنَا بِهِۦٓ إِبۡرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰٓۖ أَنۡ أَقِيمُواْ ٱلدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُواْ فِيهِۚ كَبُرَ عَلَى ٱلۡمُشۡرِكِينَ مَا تَدۡعُوهُمۡ إِلَيۡهِۚ ٱللَّهُ يَجۡتَبِيٓ إِلَيۡهِ مَن يَشَآءُ وَيَهۡدِيٓ إِلَيۡهِ مَن يُنِيبُ 13﴾

তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দীন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন নূহকে, আর যা আমরা ওহী করেছি আপনাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ঈসাকে, বলে যে, তোমরা দীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি কর না আপনি মুশরিকদেরকে যার প্রতি ডাকছেন তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয় আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে তার দীনের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি দীনের দিকে হেদায়াত করেন [আশ-শুরা : ১৩]

আর যাদের নাম আমাদের জানা নেই, তাদের প্রতি আমরা সার্বিকভাবে ঈমান স্থাপন করব মহান আল্লাহ বলেন:

﴿وَلَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا رُسُلٗا مِّن قَبۡلِكَ مِنۡهُم مَّن قَصَصۡنَا عَلَيۡكَ وَمِنۡهُم مَّن لَّمۡ نَقۡصُصۡ عَلَيۡكَۗ...﴾

আর অবশ্যই আমরা আপনার পূর্বে অনেক রাসূল পাঠিয়েছি আমরা তাদের কারো কারো কাহিনী আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারো কারো কাহিনী আপনার কাছে বিবৃত করিনি [সূরা গাফির, আয়াত: ৭৮]

তৃতীয়: বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত তাদের ঘটনাসমূহের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা

চতুর্থ: তাদের মধ্যে যাকে আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রতি রাসূল করে প্রেরণ করেছেন, তার আনিত শরী'আতের ওপর আমল করা আর তিনি হলেন সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যাকে আল্লাহ তা'আলা সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য প্রেরণ করেছেন আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَرَجٗا مِّمَّا قَضَيۡتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسۡلِيمٗا 65﴾

কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর অর্পণ না করে; অতঃপর আপনার মীমাংসা সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয় [আন-নিসা : ৬৫]

নবী-রাসূলগণের প্রতি ঈমানের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে, তন্মধ্যে:

আল্লাহ তা'আলার রহমত বান্দাদের প্রতি তাঁর পূর্ণ তত্ত্বাবধান সম্পর্কে জানা যেহেতু তিনি তাদের প্রতি রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, যাতে তারা মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং কোন পদ্ধতিতে আল্লাহর ইবাদাত করতে হয় তা লোকদের স্পষ্ট করে বলে দেন কেননা, মানুষের নিজস্ব জ্ঞান-বুদ্ধির মাধ্যমে তা জানা সম্ভব নয়

এই মহা নি'আমতের ওপর আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করা

নবী রাসূলগণের প্রতি মহব্বত সম্মান প্রদর্শন করা তাদের উপযুক্ত প্রশংসা করা কেননা, তারা আল্লাহর রাসূল এবং তারা প্রকৃত অর্থেই আল্লাহর ইবাদাত আদায় করেছেন তারা রিসালাতের দায়িত্ব আদায় করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের নসিহত করেছেন

শুধুমাত্র একগুঁয়ে কাফেররা তাদের প্রতি প্রেরিত রাসূলগণকে অবিশ্বাস করেছে এই বলে যে, আল্লাহর রাসূলগণ মানুষ থেকে হতে পারেন না আল্লাহ তা'আলা তাদের ভ্রান্ত ধারণার উল্লেখ করে তা বাতিল করে বলেন:

﴿وَمَا مَنَعَ ٱلنَّاسَ أَن يُؤۡمِنُوٓاْ إِذۡ جَآءَهُمُ ٱلۡهُدَىٰٓ إِلَّآ أَن قَالُوٓاْ أَبَعَثَ ٱللَّهُ بَشَرٗا رَّسُولٗا 94 قُل لَّوۡ كَانَ فِي ٱلۡأَرۡضِ مَلَٰٓئِكَةٞ يَمۡشُونَ مُطۡمَئِنِّينَ لَنَزَّلۡنَا عَلَيۡهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَلَكٗا رَّسُولٗا 95﴾

আর যখন মানুষের কাছে হিদায়াত আসে, তখন তাদেরকে ঈমান আনা থেকে বিরত রাখে কেবল তাদের কথা যে, ‘আল্লাহ্ কি মানুষকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন?’ বলুন, যদি পৃথিবীতে ফেরেশতারা নিশ্চিন্তে চলাফেরা করত, তবে আমরা তাদের কাছে আকাশ থেকে ফেরেশতা রাসুল পাঠাতাম [আল-ইসরা: ৯৪-৯৫]

আল্লাহ তা'আলা তাদের এই ধারণা খণ্ডন করে দেন এই অর্থে যে, আল্লাহর রাসূলগণ মানুষ হওয়া অপরিহার্য কেননা তারা পৃথিবীবাসীর প্রতি প্রেরিত, যারা হল মানুষ আর যদি পৃথিবীবাসীরা ফিরিশতা হতো তাহলে তাদের প্রতি নিশ্চয়ই কোনো ফিরিশতাকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করার প্রয়োজন দেখা দিতো, যাতে সেই রাসূল তাদেরই মত একজন হয়ে দায়িত্ব পালন করতেন অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা রাসূলগণকে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের বক্তব্য বর্ণনা করে বলেন:

﴿...إِنۡ أَنتُمۡ إِلَّا بَشَرٞ مِّثۡلُنَا تُرِيدُونَ أَن تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعۡبُدُ ءَابَآؤُنَا فَأۡتُونَا بِسُلۡطَٰنٖ مُّبِينٖ 10 قَالَتۡ لَهُمۡ رُسُلُهُمۡ إِن نَّحۡنُ إِلَّا بَشَرٞ مِّثۡلُكُمۡ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَمُنُّ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦۖ وَمَا كَانَ لَنَآ أَن نَّأۡتِيَكُم بِسُلۡطَٰنٍ إِلَّا بِإِذۡنِ ٱللَّهِ...﴾

তোমরা তো আমাদেরই মত মানুষ আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাদেরইবাদাত করত তোমরা তাদেরইবাদাত হতে আমাদেরকে বিরত রাখতে চাও অতএব তোমরা আমাদের কাছে কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত কর তাদের রাসূলগণ তাদের বললেন, ‘আমরা তো তোমাদেরই মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন এবং আল্লাহ্ অনুমতি ব্যতীত আমাদের পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত করা সম্ভব নয় [ইবরাহীম : ১০-১১]

***

আখিরাতের প্রতি ঈমান

শেষ দিবস বলতে কিয়ামতের দিনকে বুঝানো হয়েছে যেদিন প্রতিফল প্রদান হিসাব-নিকাশের জন্য মৃত মানুষদের পুনরুত্থিত করা হবে

এই দিনকে শেষ দিবস বলা হয়, কারণ এর পরে আর কোন দিন নেই, যেহেতু জান্নাতিরা জান্নাতে জাহান্নামীরা জাহান্নামে স্থায়ী হবে

আখেরাতের ওপর ঈমান তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম: পুনরুত্থান দিবসের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা হল: যেদিন শিঙ্গায় দ্বিতীয় বার ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন সব মৃতরা জীবিত হয়ে পোশাক বিহীন নগ্ন দেহ, জুতা বিহীন নগ্ন পা খত্নাবিহীন অবস্থায় রাব্বুল 'আলামীনের সামনে উপস্থিত হবে

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿...كَمَا بَدَأۡنَآ أَوَّلَ خَلۡقٖ نُّعِيدُهُۥۚ وَعۡدًا عَلَيۡنَآۚ إِنَّا كُنَّا فَٰعِلِينَ﴾

যেভাবে আমরা প্রথম সৃষ্টির সুচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; এটা আমার কৃত প্রতিশ্রুতি, আর আমরা তা পালন করবই [আল-আম্বিয়া : ১০৪]

মৃত্যুর পর পুনরুত্থান: নির্মহ সত্য, যা কুরআন সুন্নাহ এবং মুসলিমদের ঐক্যমত দ্বারা প্রমাণিত

আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿ثُمَّ إِنَّكُم بَعۡدَ ذَٰلِكَ لَمَيِّتُونَ 15 ثُمَّ إِنَّكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ تُبۡعَثُونَ 16﴾

এরপর তোমরা নিশ্চয় মরবে, তারপর কিয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে, [আল-মুমিনূন : ১৫-১৬]

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا».

কিয়ামতের দিন নগ্নপদ, উলঙ্গ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় সমস্ত মানুষকে একত্র করা হবে13 মুত্তাফাকুনআলাইহি

আর পুনরুত্থান সাব্যস্ত হওয়ার ওপর মুসলিমদের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

তাছাড়া আল্লাহর হিকমতের দাবী হলো এই পৃথিবীবাসীর জন্য পরবর্তীতে একটি সময় নির্ধারণ করা, যাতে আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলদের মাধ্যমে বান্দার ওপর যেসব কাজ-কর্মের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি তার প্রতিফল প্রদান করেন আল্লাহ বলেন:

﴿أَفَحَسِبۡتُمۡ أَنَّمَا خَلَقۡنَٰكُمۡ عَبَثٗا وَأَنَّكُمۡ إِلَيۡنَا لَا تُرۡجَعُونَ 115﴾

তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমরা তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?’ [আল-মুমিনুন : ১১৫] আল্লাহ স্বীয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেন:

﴿إِنَّ ٱلَّذِي فَرَضَ عَلَيۡكَ ٱلۡقُرۡءَانَ لَرَآدُّكَ إِلَىٰ مَعَادٖ...﴾

যিনি আপনার জন্য কুরআনকে করেছেন বিধান, তিনি আপনাকে অবশ্যই ফিরিয়ে নেবেন প্রত্যাবর্তনস্থলে... [আল-কাসাস: ৮৫]

দ্বিতীয়: হিসাব-নিকাশ প্রতিফল প্রদানের ওপর ঈমান আনা: আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন বান্দার কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ নিবেন এবং তাদেরকে সে অনুপাতে প্রতিফল প্রদান করবেন এর প্রমাণ কুরআন, সুন্নাহ্ মুসলিম উম্মার ইজমা'

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿إِنَّ إِلَيۡنَآ إِيَابَهُمۡ 25 ثُمَّ إِنَّ عَلَيۡنَا حِسَابَهُم 26﴾

নিশ্চয় তাদের ফিরে আসা আমাদেরই কাছে; তারপর তাদের হিসাব নেওয়া আমাদেরই দায়িত্ব [আল-গাশিয়াহ: ২৫-২৬] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿مَن جَآءَ بِٱلۡحَسَنَةِ فَلَهُۥ عَشۡرُ أَمۡثَالِهَاۖ وَمَن جَآءَ بِٱلسَّيِّئَةِ فَلَا يُجۡزَىٰٓ إِلَّا مِثۡلَهَا وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُونَ 160﴾

কেউ কোনো সৎকাজ করলে সে তার দশ গুণ পাবে আর কেউ কোনো অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু তার অনুরূপ প্রতিফলই দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না [আল-আনআম: ১৬০] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿وَنَضَعُ ٱلۡمَوَٰزِينَ ٱلۡقِسۡطَ لِيَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٞ شَيۡـٔٗاۖ وَإِن كَانَ مِثۡقَالَ حَبَّةٖ مِّنۡ خَرۡدَلٍ أَتَيۡنَا بِهَاۗ وَكَفَىٰ بِنَا حَٰسِبِينَ 47﴾

আর কিয়ামতের দিনে আমরা ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি কোনো যুলুম করা হবে না এবং কাজ যদি শস্য দানা পরিমাণ ওজনেরও হয় তবুও তা আমরা উপস্থিত করব; আর হিসেব গ্রহণকারীরূপে আমরাই যথেষ্ট [আল-আম্বিয়া : ৪৭]

এবং ইবনুউমর রাদিয়াল্লাহুআনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াআলা আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«إِنَّ اللَّهَ يُدْنِي الْمُؤْمِنَ، فَيَضَعُ عَلَيْهِ كَنَفَهُ - أَيْ سَتْرَهُ - وَيَسْتُرُهُ: فَيَقُولُ: أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا؟ أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ أَيْ رَبِّ، حَتَّى إِذَا قَرَّرَهُ بِذُنُوبِهِ، وَرَأَى فِي نَفْسِهِ أَنَّهُ هَلَكَ قَالَ: سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ، فَيُعْطَى كِتَابَ حَسَنَاتِهِ، وَأَمَّا الْكُفَّارُ وَالْمُنَافِقُونَ فَيُنَادَى بِهِمْ عَلَى رُؤُوسِ الْخَلَائِقِ: هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ، أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ».

আল্লাহ ঈমানদার ব্যক্তিকে নিকটবর্তী করে তার ওপর পর্দা ঢেলে দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কি তোমার অমুক অমুক পাপ সম্পর্কে অবগত আছ? তুমি কি তোমার অমুক অমুক পাপ সম্পর্কে অবগত আছ? সে উত্তরে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার রব! এভাবে যখন তিনি তার পাপসমূহের স্বীকারোক্তি আদায় করে নেবেন এবং সে দেখবে যে, সে ধ্বংসের মুখোমুখী হয়ে গেছে, তখন আল্লাহ বলবেন, আমি দুনিয়াতে তোমার পাপসমূহ গোপন করে রেখেছিলাম এবং আজ তোমার সে সব পাপ ক্ষমা করে দিলাম এরপর তাকে তার নেকীর আমলনামা দেওয়া হবে আর কাফের মুনাফিকদেরকে সকল সৃষ্টির সামনে সমবেত করে বলা হবে, এরা সেই সব লোক যারা তাদের রবের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল শুনে রাখ, অত্যাচারীদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাৎ"14 মুত্তাফাকুনআলাইহি

সহীহ সূত্রে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«أَنَّ مَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَعَمِلَهَا؛ كَتَبَهَا اللَّهُ عِنْدَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِ مِئَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ، وَأَنَّ مَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَعَمِلَهَا؛ كَتَبَهَا اللَّهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً».

যে ব্যক্তি কোনো সৎকাজের ইচ্ছা করে এবং তা বাস্তবে সম্পাদন করে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে তার জন্য দশ থেকে সাতশগুণ পর্যন্ত, বরং তার চেয়েও অনেক গুণ নেকী লিখে দেন; আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের ইচ্ছা করে এবং তা করে ফেলে, আল্লাহ তার জন্য মাত্র একটি গুনাহই লিখে দেন15

আর আখেরাতে হিসাব-নিকাশ শাস্তি পুরষ্কার প্রদান করার ওপর মুসলিম উম্মাতের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

তাছাড়া এটাই হিকমতের দাবী কেননা আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীতে গ্রন্থরাজি পাঠিয়েছেন, রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদের আনিত দ্বীন গ্রহণ করা তার ওপর আমল করা বান্দাদের ওপর ফরয করেছেন তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ওয়াজিব করেছেন, তাদের রক্ত, ছেলে-সন্তান, মাল-সম্পদ নারীদেরকে হালাল করেছেন সুতরাং যদি কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ শাস্তি-পুরষ্কার প্রদান করা না হয় তাহলে সবই হয় অনর্থক, যা থেকে আমাদের সর্ববিজ্ঞ রব পবিত্র এর প্রতিই আল্লাহ তা'আলা ইঙ্গিত করে বলেন:

﴿فَلَنَسۡـَٔلَنَّ ٱلَّذِينَ أُرۡسِلَ إِلَيۡهِمۡ وَلَنَسۡـَٔلَنَّ ٱلۡمُرۡسَلِينَ 6 فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيۡهِم بِعِلۡمٖۖ وَمَا كُنَّا غَآئِبِينَ 7﴾

অতঃপর যাদের কাছে রাসূল পাঠানো হয়েছিল অবশ্যই তাদেরকে আমরা জিজ্ঞেস করব এবং রাসূলগণকেও অবশ্যই আমরা জিজ্ঞেস করব অতঃপর আমরা তাদেরকে জ্ঞান সহকারে বর্ণনা করব এবং আমরা অনুপস্থিত ছিলাম না [আল-আরাফ: -]

তৃতীয়: জান্নাত জাহান্নামের ওপর বিশ্বাস স্থাপন এবং বিশ্বাস স্থাপন করা যে, এই দু'টি মু'মিন কাফিরদের জন্য চিরস্থায়ী আবাসস্থল

জান্নাত হল নিয়ামতের আবাস যা আল্লাহ তায়ালা মুমিন-মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন, যারা সব বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে যেসব বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা আল্লাহ তাদের ওপর ওয়াজিব করেছেন; এবং যারা আল্লাহ তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য পালন করেছে, আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ থেকে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করেছে সেথায় রয়েছে নিআমাতের নানাবিধ প্রকার

«مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ»[16]،

যা কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং যার সম্পর্কে কোন মানুষের অন্তরে ধারণাও জন্মেনি”,16 আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُوْلَٰٓئِكَ هُمۡ خَيۡرُ ٱلۡبَرِيَّةِ 7 جَزَآؤُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ جَنَّٰتُ عَدۡنٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۖ رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُۚ ذَٰلِكَ لِمَنۡ خَشِيَ رَبَّهُۥ 8﴾

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির শ্ৰেষ্ঠ তাদের প্রতিদান তাদের রবের নিকট স্থায়ী জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট এটা তার জন্য, যে তার রবকে ভয় করে [আল-বাইয়িনাহ: -] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿فَلَا تَعۡلَمُ نَفۡسٞ مَّآ أُخۡفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعۡيُنٖ جَزَآءَۢ بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ17﴾

অতএব কেউই জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ! [আস-সাজদাহ: ১৭]

আর জাহান্নাম: তা তো শাস্তির স্থান, যা আল্লাহ তা'আলা কাফির যালিমদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন যারা আল্লাহ তা'আলার সাথে কুফুরী করেছে তাঁর রাসূলদের সাথে নাফরমানী করেছে সেখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার 'আযাব হৃদয়বিদারক শাস্তি, যা কারো কল্পনায়ও আসতে পারে না আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿وَٱتَّقُواْ ٱلنَّارَ ٱلَّتِيٓ أُعِدَّتۡ لِلۡكَٰفِرِينَ 131﴾

আর তোমরা সে আগুন থেকে বেঁচে থাক যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে [আলে ইমরান: ১৩১] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿وَقُلِ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكُمۡۖ فَمَن شَآءَ فَلۡيُؤۡمِن وَمَن شَآءَ فَلۡيَكۡفُرۡۚ إِنَّآ أَعۡتَدۡنَا لِلظَّٰلِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمۡ سُرَادِقُهَاۚ وَإِن يَسۡتَغِيثُواْ يُغَاثُواْ بِمَآءٖ كَٱلۡمُهۡلِ يَشۡوِي ٱلۡوُجُوهَۚ بِئۡسَ ٱلشَّرَابُ وَسَآءَتۡ مُرۡتَفَقًا 29﴾

আর বলুন, ‘সত্য তোমাদের রব-এর কাছ থেকে; কাজেই যার ইচ্ছে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছে কুফরী করুকনিশ্চয় আমরা যালেমদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি আগুন, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে তারা পানীয় চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয় যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে; এটা নিকৃষ্ট পানীয়! আর জাহান্নাম কত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল! [আল-কাহাফ: ২৯] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَعَنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ وَأَعَدَّ لَهُمۡ سَعِيرًا 64 خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۖ لَّا يَجِدُونَ وَلِيّٗا وَلَا نَصِيرٗا 65 يَوۡمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمۡ فِي ٱلنَّارِ يَقُولُونَ يَٰلَيۡتَنَآ أَطَعۡنَا ٱللَّهَ وَأَطَعۡنَا ٱلرَّسُولَا۠ 66﴾

নিশ্চয় আল্লাহ্ কাফিরদেরকে করেছেন অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য প্ৰস্তুত রেখেছেন জ্বলন্ত আগুন; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে তারা কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী পাবে না যেদিন তাদের মুখমণ্ডল আগুনে উল্টে-পাল্টে যাবে, তারা বলবে, 'হায়, যদি আমরা আল্লাহ্ আনুগত্য করতাম এবং রসূলের আনুগত্য করতাম!' [আল-আহযাব: ৬৪-৬৬]

শেষ দিবসের ওপর ঈমানের অনেক উপকারিতা রয়েছে, তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:

আখেরাতের সে দিনের সুখ-শান্তি প্রতিফলের আশায় আল্লাহর আনুগত্যের 'আমল করার প্রেরণা স্পৃহা সৃষ্টি হওয়া

সে দিনের 'আযাব শাস্তির ভয়ে নাফরমানী করা থেকে পাপ কাজের ওপর সন্তুষ্ট হওয়া থেকে বিরত থাকা

আখেরাতে সংরক্ষিত নি'আমত সাওয়াবের আশায় পার্থিব কোন কিছু হাতছাড়া হলেও মু'মিনের আন্তরিক প্রশান্তি লাভ হয়

কাফেরগণ মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবন অস্বীকার করে তাদের ধারণা পুনরুজ্জীবন অসম্ভব:

এই ধারণা বাতিল তা বাতিল হওয়ার বিষয়ে শরী'আত, ইন্দ্রিয়শক্তিগত যুক্তিগত প্রমাণ রয়েছে

শরীয়তগত প্রমাণ:

আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

﴿زَعَمَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَن لَّن يُبۡعَثُواْۚ قُلۡ بَلَىٰ وَرَبِّي لَتُبۡعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلۡتُمۡۚ وَذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ 7﴾

কাফিররা ধারণা করে যে, তাদেরকে কখনো পুনরুত্থিত করা হবে না বলুন, ‘অবশ্যই হ্যাঁ, আমার রবের শপথ! তোমাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করা হবে তারপর তোমরা যা করতে সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে অবশ্যই অবহিত করা হবে আর এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ [সূরা আত-তাগাবুন: ০৭] আর সব আসমানী গ্রন্থ বিষয়ে একমত

() ইন্দ্রিয়শক্তিগত প্রমাণ:

আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীতে মৃত ব্যক্তিদেরকে জীবিত করে তার বান্দাদের সম্মুখে প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেশ করেছেন সূরা আল-বাকারাতে এর পাঁচটি দৃষ্টান্ত বর্ণিত হয়েছে সেগুলো হল:

প্রথম উদাহরণ: মূসা আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের ঘটনা যখন তারা তাকে বলেছিল:

﴿...لَن نُّؤۡمِنَ لَكَ حَتَّىٰ نَرَى ٱللَّهَ جَهۡرَةٗ ...﴾

আমরা আল্লাহ্কে প্রকাশ্যভাবে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস করব না [আল-বাকারা: ৫৫] অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মৃত্যু দান করলেন, তারপর তাদেরকে জীবন দান করলেন, প্রসঙ্গে আল্লাহ বনী ইসরাঈলদেরকে সম্বোধন করে বলেন:

﴿وَإِذۡ قُلۡتُمۡ يَٰمُوسَىٰ لَن نُّؤۡمِنَ لَكَ حَتَّىٰ نَرَى ٱللَّهَ جَهۡرَةٗ فَأَخَذَتۡكُمُ ٱلصَّٰعِقَةُ وَأَنتُمۡ تَنظُرُونَ 55 ثُمَّ بَعَثۡنَٰكُم مِّنۢ بَعۡدِ مَوۡتِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ 56﴾

আর স্মরণ কর, যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মূসা ! আমরা আল্লাহ্কে প্রকাশ্যভাবে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস করব না’ , ফলে তোমাদেরকে বজ্র পাকড়াও করলো, যা তোমরা নিজেরাই দেখছিলে তারপর তোমাদের মৃত্যুর পর তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করলাম, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর [আল-বাকারাহ : ৫৫-৫৬]

দ্বিতীয় উদাহরণ: একজন নিহত ব্যক্তির ঘটনা যার বিষয়ে বনী ইসরাঈলরা মতবিরোধ করেছিল, তখন আল্লাহ তাদেরকে একটি গরু জবাই করে তার একটি অংশ দ্বারা মৃত ব্যক্তিকে আঘাত করার আদেশ দিলেন; যেন সে তাদেরকে হত্যাকারীর নাম বলে দেয় এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَإِذۡ قَتَلۡتُمۡ نَفۡسٗا فَٱدَّٰرَٰءۡتُمۡ فِيهَاۖ وَٱللَّهُ مُخۡرِجٞ مَّا كُنتُمۡ تَكۡتُمُونَ 72 فَقُلۡنَا ٱضۡرِبُوهُ بِبَعۡضِهَاۚ كَذَٰلِكَ يُحۡيِ ٱللَّهُ ٱلۡمَوۡتَىٰ وَيُرِيكُمۡ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَعۡقِلُونَ73﴾

আর স্মরন কর, যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে তারপর একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করছিলে, আর তোমরা যা গোপন করেছিলে আল্লাহ্তা ব্যক্তকারী তারপর আমরা বললাম, এর কিছু অংশ দিয়ে তাকে আঘাত কর এভাবে আল্লাহ্মৃতদের জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান, যাতে তোমরা বুঝতে পার [আল-বাকারা, আয়াত: ৭২-৭৩]

তৃতীয় উদাহরণ: সে সম্প্রদায়ের ঘটনা যারা মৃত্যুর ভয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছিল; যাদের সংখ্যা ছিল হাজার হাজার আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মৃত্যু দিলেন এবং পরে তাদেরকে আবার জীবিত করলেন এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ خَرَجُواْ مِن دِيَٰرِهِمۡ وَهُمۡ أُلُوفٌ حَذَرَ ٱلۡمَوۡتِ فَقَالَ لَهُمُ ٱللَّهُ مُوتُواْ ثُمَّ أَحۡيَٰهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَشۡكُرُونَ 243﴾

আপনি কি তাদের দেখেন নি যারা মৃত্যুভয়ে হাজারে হাজারে স্বীয় আবাসাভুমি পরিত্যাগ করেছিল? অতঃপর আল্লাহ্তাদেরকে বলেছিলেন, ‘তোমরা মরে যাও তারপর আল্লাহ্তাদেরকে জীবিত করেছিলেন নিশ্চয়ই আল্লাহ্মানুষের প্রতি অনুগ্রহশিল; কিন্তু অধিকাংশ লোক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না [আল-বাকারাহ : ২৪৩]

চতুর্থ উদাহরণ: সেই ব্যক্তির ঘটনা যে এক মৃত শহর দিয়ে যাচ্ছিল অবস্থা দেখে সে ধারণা করল যে, আল্লাহ এই শহরকে আর জীবিত করতে পারবেন না আল্লাহ তা'আলা তাকে একশত বছর মৃত অবস্থায় রাখেন তারপর তাকে জীবিত করেন সম্পর্কে তিনি বলেন:

﴿أَوۡ كَٱلَّذِي مَرَّ عَلَىٰ قَرۡيَةٖ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحۡيِۦ هَٰذِهِ ٱللَّهُ بَعۡدَ مَوۡتِهَاۖ فَأَمَاتَهُ ٱللَّهُ مِاْئَةَ عَامٖ ثُمَّ بَعَثَهُۥۖ قَالَ كَمۡ لَبِثۡتَۖ قَالَ لَبِثۡتُ يَوۡمًا أَوۡ بَعۡضَ يَوۡمٖۖ قَالَ بَل لَّبِثۡتَ مِاْئَةَ عَامٖ فَٱنظُرۡ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمۡ يَتَسَنَّهۡۖ وَٱنظُرۡ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجۡعَلَكَ ءَايَةٗ لِّلنَّاسِۖ وَٱنظُرۡ إِلَى ٱلۡعِظَامِ كَيۡفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكۡسُوهَا لَحۡمٗاۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُۥ قَالَ أَعۡلَمُ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ 259﴾

অথবা সে ব্যাক্তির মত, যে এমন এক জনমত অতিক্রম করেছিল যা তার ছাদের উপর থেকে বিধ্বস্ত ছিল সে বলল, ‘মৃত্যুর পর কিভাবে আল্লাহ্একে জীবিত করবেন? তারপর আল্লাহ্একে শত বছর মৃত রাখলেন পরে তাকে পুনর্জীবিত করলেন আল্লাহ্বললেন, ‘তুমি কতকাল অবস্থান করলে?’ সে বলল, ‘একদিন বা একদিনেরও কিছু কম অবস্থান করেছি' তিনি বললেন, বরং তুমি একশত বছর অবস্থান করেছ সুতরাং তুমি তোমার খাদ্যসামগ্রী পানীয় বস্তুর দিকে লক্ষ্য কর, সেগুলো অবিকৃত রয়েছে এবং লক্ষ্য কর তোমার গাধাটির দিকে আর যাতে আমরা তোমাকে বানাবো মানুষের জন্য নিদর্শন স্বরূপ আর অস্থিগুলোর দিকে লক্ষ করো; কীভাবে সেগুলোকে সংযোজিত করি এবং গোশত দ্বারা ঢেকে দেইঅতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হল তখন সে বলল, ‘আমি জানি নিশ্চয়ই আল্লাহ্সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান [আল-বাকারাহ : ২৫৯]

পঞ্চম উদাহরণ: ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ঘটনা, যখন তিনি আল্লাহ তা'আলার কাছে আরয করলেন, তিনি কীভাবে মৃতকে পূনঃর্জীবিত করেন তা দেখবেন আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন চারটি পাখী জবাই করে সেগুলোর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পার্শ্ববর্তী পাহাড়গুলোর ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন এরপর তাদের ডাক দিলে দেখা যাবে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো একত্রিত হয়ে পূর্ণ আকারে ইবরাহীমের দিকে ধাবিত হয়ে আসছে আল্লাহ তা'আলা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন:

﴿وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ رَبِّ أَرِنِي كَيۡفَ تُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰۖ قَالَ أَوَلَمۡ تُؤۡمِنۖ قَالَ بَلَىٰ وَلَٰكِن لِّيَطۡمَئِنَّ قَلۡبِيۖ قَالَ فَخُذۡ أَرۡبَعَةٗ مِّنَ ٱلطَّيۡرِ فَصُرۡهُنَّ إِلَيۡكَ ثُمَّ ٱجۡعَلۡ عَلَىٰ كُلِّ جَبَلٖ مِّنۡهُنَّ جُزۡءٗا ثُمَّ ٱدۡعُهُنَّ يَأۡتِينَكَ سَعۡيٗاۚ وَٱعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٞ 260﴾

আর যখন ইব্রাহীম বলল, ‘হে আমার রব! কীভাবে আপনি মৃত কে জীবিত করেন দেখান’, তিনি বললেন, ‘তবে কি আপনি ঈমান আনেন নি?’ তিনি বললেন, ‘অবশ্যই হ্যাঁ, কিন্তু আমার মন যাতে প্রশান্ত হয় আল্লাহ্বললেন, ‘তবে চারটি পাখি নিন এবং তাদেরকে আপনার বশীভুত করুন তারপর সেগুলোর টুকরো অংশ এক এক পাহাড়ে স্থাপন করুন তারপর সেগুলোকে ডাকুন, সেগুলো আপনার নিকট দৌড়ে আসবে আর জেনে রাখুন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় [আল-বাকারাহ : ২৬০]

এগুলো বাস্তব ইন্দ্রিয়গত উদাহরণ যা মৃতদের পুনরায় জীবিত করা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে ইতোপূর্বে মৃতকে জীবিত করা এবং কবর থেকে পুণরুত্থিত করা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা ঈসা ইবন মারিয়াম আলাইহিমাস সালামকে যে নিদর্শন দিয়েছিলেন তার প্রতি ঈঙ্গিত করা হয়েছে

আর যুক্তিগত দিক থেকে প্রমাণসমূহ: সেগুলো দু'ভাবে উপস্থাপন করা যায়:

এক: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা নভোমণ্ডল ভূমণ্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর স্রষ্টা তিনি প্রথমবার- এগুলো সৃষ্টি করেছেন আর যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনি দ্বিতীয়বার পুনরুত্থানে অক্ষম নন আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَهُوَ ٱلَّذِي يَبۡدَؤُاْ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَهُوَ أَهۡوَنُ عَلَيۡهِ...﴾

আর তিনি-, যিনি সৃষ্টিকে শুরুতে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, তারপর তিনি সেটা পুনরাবৃত্তি করবেন; আর এটা তাঁর জন্য অতি সহজ [আর-রূম : ২৭] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿...كَمَا بَدَأۡنَآ أَوَّلَ خَلۡقٖ نُّعِيدُهُۥۚ وَعۡدًا عَلَيۡنَآۚ إِنَّا كُنَّا فَٰعِلِينَ﴾

যেভাবে আমরা প্রথম সৃষ্টির সুচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; এটা আমার কৃত প্রতিশ্রুতি, আর আমরা তা পালন করবই [আল-আম্বিয়া : ১০৪] যে ব্যক্তি পঁচে-গলে যাওয়া হাড্ডি পুনর্জীবিত হওয়াকে অস্বীকার করে, আল্লাহ তা'আলা তার উত্তর প্রদানের নির্দেশ দিয়ে বলেন:

﴿قُلۡ يُحۡيِيهَا ٱلَّذِيٓ أَنشَأَهَآ أَوَّلَ مَرَّةٖۖ وَهُوَ بِكُلِّ خَلۡقٍ عَلِيمٌ 79﴾

বলুন, 'তাতে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই যিনি তা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত' [ইয়াসীন: ৭৯]

দুই: যমীন কখনও কখনও সবুজ বৃক্ষ, তৃন-লতাহীন পতিত হয়ে পড়ে আল্লাহ তা'আলা তখন বৃষ্টি বর্ষণ করে পুনরায় তাকে জীবিত সবুজ-শ্যামল করে তুলেন যিনি এই জমিনকে মরে যাওয়ার পর জীবিত করতে সক্ষম তিনি নিশ্চয়ই মৃত প্রাণীদেরকে পুনরায় জীবন্ত করতে সম্পূর্ণ সক্ষম

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنَّكَ تَرَى ٱلۡأَرۡضَ خَٰشِعَةٗ فَإِذَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡهَا ٱلۡمَآءَ ٱهۡتَزَّتۡ وَرَبَتۡۚ إِنَّ ٱلَّذِيٓ أَحۡيَاهَا لَمُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰٓۚ إِنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ 39﴾

আর তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, আপনি ভূমিকে দেখতে পান শুষ্ক ঊষর, অতঃপর যখন আমরা তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত স্ফীত হয় নিশ্চয় যিনি যমীনকে জীবিত করেন তিনি অবশ্যই মৃতদের জীবনদানকারী নিশ্চয় তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান [সূরা ফুসসিলাত: ৩৯] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿وَنَزَّلۡنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ مُّبَٰرَكٗا فَأَنۢبَتۡنَا بِهِۦ جَنَّٰتٖ وَحَبَّ ٱلۡحَصِيدِ 9 وَٱلنَّخۡلَ بَاسِقَٰتٖ لَّهَا طَلۡعٞ نَّضِيدٞ 10 رِّزۡقٗا لِّلۡعِبَادِۖ وَأَحۡيَيۡنَا بِهِۦ بَلۡدَةٗ مَّيۡتٗاۚ كَذَٰلِكَ ٱلۡخُرُوجُ 11﴾

আর আসমান থেকে আমরা বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি অতঃপর তা দ্বারা আমরা উৎপন্ন করি উদ্যান, কর্তনযোগ্য শস্য দানা, এবং উঁচু খেজুর গাছ যার রয়েছে স্তরে স্তরে সাজানো কাঁদি, বান্দাদের জন্য রিজিক স্বরূপ এবং আমরা তা দ্বারা মৃত ভূমিকে জীবিত করি এভাবেই পুনরুত্থান হবে [ক্বাফ : -১১]

শেষ দিবসের ওপর ঈমান আনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির মধ্যে আরও রয়েছে, মৃত্যুর পর সংগঠিত বিভিন্ন বিষয় যেমন:

() কবরের পরীক্ষা:

মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর ফিরিশতা কর্তৃক তাকে তার রব, তার দ্বীন তার নবী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ঈমানদারগণকে সুদৃঢ় বাণী দ্বারা অবিচল রাখবেন, ফলে ঈমানদার ব্যক্তি বলবে, আল্লাহ আমার রব, ইসলাম আমার দ্বীন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নবী আর আল্লাহ জালেমদের বিভ্রান্ত করবেন: তাই কাফের বলবে, হায়! হায়! আমি তো কিছুই জানি না আর মুনাফিক বা সন্দেহকারী বলবে, আমি কিছুই জানি না, তবে লোকদেরকে যা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি

() কবরের 'আযাব তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য:

সুতরাং কবরের 'আযাব যালিম, কাফির মুনাফিকদের জন্য হবে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿...وَلَوۡ تَرَىٰٓ إِذِ ٱلظَّٰلِمُونَ فِي غَمَرَٰتِ ٱلۡمَوۡتِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ بَاسِطُوٓاْ أَيۡدِيهِمۡ أَخۡرِجُوٓاْ أَنفُسَكُمُۖ ٱلۡيَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ ٱلۡهُونِ بِمَا كُنتُمۡ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ غَيۡرَ ٱلۡحَقِّ وَكُنتُمۡ عَنۡ ءَايَٰتِهِۦ تَسۡتَكۡبِرُونَ﴾

যদি আপনি দেখতে পেতেন, যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রনায় থাকবে এবং ফিরিশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, ‘তোমাদের প্রাণ বের কর আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি দেয়া হবে, কারণ তোমারা আল্লাহ্ উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার করতে [আল-আনআম: ৯৩]

তিনি আরও বলেন, ফিরআউনের পরিবার সম্পর্কে:

﴿ٱلنَّارُ يُعۡرَضُونَ عَلَيۡهَا غُدُوّٗا وَعَشِيّٗاۚ وَيَوۡمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ أَدۡخِلُوٓاْ ءَالَ فِرۡعَوۡنَ أَشَدَّ ٱلۡعَذَابِ 46﴾

আগুন, তাদেরকে তাতে উপস্থিত করা হয় সকাল সন্ধ্যায় এবং যেদিন কিয়ামত ঘটবে সেদিন বলা হবে, 'ফিরআউন গোষ্ঠীকে নিক্ষেপ কর কঠোর শাস্তিতে' [গাফির: ৪৬]

সহীহ মুসলিমে যায়দ ইবনু সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

«فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ».

যদি তোমরা মৃতদেরকে দাফন করবে না- আশঙ্কা আমার না হতো তাহলে আমি আল্লাহর নিকট দো' করতাম, তোমাদেরকে কবরের 'আযাব শুনিয়ে দেওয়ার জন্য যা আমি শুনে থাকি অতঃপর তিনি তাঁর মুখ ঘুরালেন, এবং বললেন:

«تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ».

তোমরা আল্লাহর নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাও তারা বললেন, ‘আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট আগুনের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাইতিনি বললেন:

«تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ».

উচ্চারণ:

তাআউযূ বিল্লাহি মিনআযাবিল কবর

 

অর্থ:

তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘আমরা আল্লাহর নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতিনি বললেন,

«تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ، مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ»

তোমরা আল্লাহর নিকট ফিতনা থেকে, যা প্রকাশ্য এবং যা গুপ্ত, পানাহ চাও তারা বললেন, আমরা আল্লাহর কাছে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সব ফিতনা থেকে পানাহ চাই তিনি বললেন,

«تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ».

«তোমরা আল্লাহর নিকট দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো» তারা বললেন: আমরা আল্লাহর কাছে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই17

আর কবরের নি'আমত স্বাচ্ছন্দ্য, তা তো সত্যবাদী ঈমানদারদের জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ قَالُواْ رَبُّنَا ٱللَّهُ ثُمَّ ٱسۡتَقَٰمُواْ تَتَنَزَّلُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ أَلَّا تَخَافُواْ وَلَا تَحۡزَنُواْ وَأَبۡشِرُواْ بِٱلۡجَنَّةِ ٱلَّتِي كُنتُمۡ تُوعَدُونَ 30﴾

নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’, তারপর অবিচলিত থাকে, তাদের কাছে নাযিল হয় ফেরেশতা ( বলে) যে, 'তোমরা ভীত হয়ে না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও [ফুসসিলাত: ৩০]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿فَلَوۡلَآ إِذَا بَلَغَتِ ٱلۡحُلۡقُومَ 83 وَأَنتُمۡ حِينَئِذٖ تَنظُرُونَ 84 وَنَحۡنُ أَقۡرَبُ إِلَيۡهِ مِنكُمۡ وَلَٰكِن لَّا تُبۡصِرُونَ 85 فَلَوۡلَآ إِن كُنتُمۡ غَيۡرَ مَدِينِينَ 86 تَرۡجِعُونَهَآ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ 87 فَأَمَّآ إِن كَانَ مِنَ ٱلۡمُقَرَّبِينَ 88 فَرَوۡحٞ وَرَيۡحَانٞ وَجَنَّتُ نَعِيمٖ 89﴾

সুতরাং কেন নয়---প্ৰাণ যখন কণ্ঠাগত হয় এবং তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো এবং আমরা তোমাদের চেয়ে তার নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না সুতরাং কেন নয় যদি তোমরা পরিণতির জন্য দায়ী না হও তোমরা তা ফিরিয়ে আনতে পারো যদি তোমরা সত্যবাদী হও কিন্তু যদি সে নিকটবর্তী লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তার জন্য শান্তি সুগন্ধি এবং নেয়ামতের জান্নাত [আল-ওয়াকিয়াহ: ৮৩-৮৯]

বারা ইবনেআযিব রাদিয়াল্লাহুআনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ঈমানদার ব্যক্তি কর্তৃক কবরে ফিরিশতাদ্বয়ের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর:

«يُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ: أَنْ صَدَقَ عَبْدِي، فَافْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ، قَالَ: فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا، وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ مَدَّ بَصَرِهِ».

এক আহ্বানকারী আসমান থেকে আহ্বান করে বলবে: আমার বান্দা সত্য বলেছে তোমরা তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোষাক পরিধান করিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের একটা দরজা খুলে দাও অতঃপর তার কবরে জান্নাতের সুগন্ধি আসতে থাকবে এবং তার জন্য কবর চক্ষুদৃষ্টির সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করা হবে এটি আহমাদ আবূ দাউদ একটি দীর্ঘ হাদীসে বর্ণনা করেছেন18

পথভ্রষ্ট একটি সম্প্রদায় কবরের আযাব তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে অস্বীকার করে তাদের ধারণা এটা অসম্ভব বাস্তবতা বিরোধী তারা বলে, কোনো সময় কবর উন্মুক্ত করা হলে দেখা যায়, মৃত ব্যক্তি যেমন ছিল তেমনই আছে কবরের পরিসর বৃদ্ধি পায় নি বা তা সংকুচিতও হয় নি

বস্তুত ধরনের সন্দেহ শরী'আত, ইন্দ্রিয়শক্তি যুক্তিগত বিচারে বাতিল:

শরী'আতের প্রমাণ: কবরের শাস্তি এর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রমাণ হিসাবে ইতোপূর্বে কুরআন হাদীসের দলীলসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে

সহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার এক বাগানের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন; হঠাৎ তিনি দুজন লোকের আওয়াজ শুনতে পেলেন, যাদেরকে তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল” … এই হাদীসে রয়েছে:

«أَنَّ أَحَدَهُمَا كَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ».

তাদের একজন পেশাব হতে নিজের শরীর তার পোষাক পরিচ্ছেদকে হেফাযত করতো না অন্য বর্ণনায় এসেছে,

«مِنْ بَوْلِهِ».

তার মূত্র থেকে

«وَأَنَّ الْآخَرَ كَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ».

আর অপরজন মানুষের মাঝে চোগলখোরী করে বেড়াত সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে,

«لَا يَسْتَنْزِهُ مِنَ الْبَوْلِ».

সে প্রস্রাব থেকে নিজেকে পবিত্র রাখত না19

ইন্দ্রিয়শক্তির আলোকে এর প্রমাণ:

যেমন, ঘুমন্ত ব্যক্তি স্বপ্নে হয়ত একটা প্রশস্ত বাগান বা ময়দান দেখতে পায় এবং সেখানে শান্তি উপভোগ করতে থাকে আবার কখনও সে দেখে যে, কোনো বিপদে পতিত হয়ে ভীষণ কষ্টে অস্থির হয়ে উঠে এবং অনেক সময় ভয়ে জাগ্রত হয়ে যায়, স্বপ্ন দেখার কারণে, অথচ সে নিজ বিছানার উপর পূর্বাবস্থায় বহাল রয়েছে বলা হয়, "নিদ্রা মৃত্যুর সমতুল্য" এজন্য আল্লাহ তা'আলা নিদ্রাকে মৃত্যু বলেছেন আল্লাহ বলেন:

﴿ٱللَّهُ يَتَوَفَّى ٱلۡأَنفُسَ حِينَ مَوۡتِهَا وَٱلَّتِي لَمۡ تَمُتۡ فِي مَنَامِهَاۖ فَيُمۡسِكُ ٱلَّتِي قَضَىٰ عَلَيۡهَا ٱلۡمَوۡتَ وَيُرۡسِلُ ٱلۡأُخۡرَىٰٓ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمًّى...﴾

আল্লাহ্ই জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যাদের মৃত্যু আসেনি তাদের প্রাণও নিদ্রার সময় তারপর তিনি যার জন্য মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য... [আয-যুমার : ৪২]

বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ হল: ঘুমন্ত ব্যক্তি কখনো এমন সত্য স্বপ্ন দেখে থাকে যা বাস্তবের সাথে মিলে যায় এবং হয়ত বা সে কখনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার প্রকৃত আকৃতিতে স্বপ্নে দেখে আর যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার প্রকৃত আকৃতিতে স্বপ্নে দেখে, সে অবশ্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই দেখেছে অথচ তখন সে নিজ কক্ষে আপন বিছানায় শায়িত, যা দেখেছে তা থেকে বহুত দূরে দুনিয়ার ব্যাপারে এসব সম্ভব হলে আখেরাতের ব্যাপারে কেন সম্ভব হবে না?

আর যে দাবী যে, অনেক সময় কবর উন্মুক্ত করা হলে দেখা যায় যে, মৃত ব্যক্তি যেমন ছিল তেমনই আছে কবরের পরিসর বৃদ্ধি পায় নি বা তা সংকুচিতও হয় নি এর জবাব কয়েক ভাবে দেওয়া যায় তন্মধ্যে:

শরীয়তের পক্ষ থেকে যা এসেছে, তার ধরনের অমূলক সন্দেহের মাধ্যমে বিরোধিতা করা বৈধ নয় কেননা যদি অস্বীকার কারী ব্যক্তি শরী'আত কর্তৃক বর্ণিত বিষয়সমূহে যথাযথ চিন্তা-ভাবনা করে তা হলে সে এসব সন্দেহ-সংশয়ের অসারতা অনুধাবন করতে পারবে বলা হয়ে থাকে:

অনেকেই বিশুদ্ধ বক্তব্যের মধ্যে দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ায়

অথচ প্রকৃত দোষ বা বিপদ তার রুগ্ন অনুধাবনের মাঝেই নিহিত

কবরের অবস্থাসমূহ গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা ইন্দ্রিয়শক্তির মাধ্যমে উপলব্ধি করা অসম্ভব যদি ইন্দ্রিয় বা অনুভূতির মাধ্যমে উপলব্ধি করা যেতো তা হলে ঈমান বিল গায়বের আর প্রয়োজন হতো না এবং কারণে গায়েবে বিশ্বাসী অবিশ্বাসী একই পর্যায়ভুক্ত হয়ে যেতো

কবরের শান্তি শাস্তি এবং প্রশস্ততা সংকীর্ণতা কেবল কবরবাসী মৃত ব্যক্তিই অনুভব করে, অন্যরা নয় যেমন ঘুমন্ত ব্যক্তি স্বপ্নে কোনো বিপদে পতিত হয়ে ভীষণ কষ্টে অস্থির হতে থাকে, অথবা প্রশস্ত চিত্তাকর্ষক স্থানের স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করে; কিন্তু নিকটে উপবিষ্ট ব্যক্তি মোটেই তা টের পায় না অনুরূপ সমবেত সাহাবায়ে কেরামের মাঝে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যখন ওহী অবতীর্ণ হতো তখন তিনি তা শুনতেন কন্ঠস্থ করতেন; কিন্তু সাহাবীগণ কিছুই শুনতেন না অনেক সময় জিবরীল আলাইহিস সালাম মানব আকৃতিতে ওহী নিয়ে আগম করতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলতেন কিন্তু সাবাবাগণ শুনতে, দেখতে পেতেন না

মানুষের জ্ঞান অতি সামান্য সীমিত তারা শুধুমাত্র ততটুকু অনুধাবন করতে পারে যতটুকু আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমতা দিয়েছেন, তারা মহাবিশ্বের সকল কিছু অনুধাবন করতে পারে না যেমন সপ্তাকাশ, যমীন এতদুভয়ের সব বস্তু সত্যিকারার্থে আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তা তাঁর সৃষ্টি জীবের যা ইচ্ছা শ্রবণ করান, কিন্তু তা আমাদের অনুভূতির উর্ধ্বে প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন:

﴿تُسَبِّحُ لَهُ ٱلسَّمَٰوَٰتُ ٱلسَّبۡعُ وَٱلۡأَرۡضُ وَمَن فِيهِنَّۚ وَإِن مِّن شَيۡءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمۡدِهِۦ وَلَٰكِن لَّا تَفۡقَهُونَ تَسۡبِيحَهُمۡ...﴾

সাত আসমান এবং যমীন এবং এগুলোর অন্তর্বর্তী সব কিছু তাঁরই পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করে না; কিন্তু তাঁদের পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা তোমরা বুঝতে পার না... [আল-ইসরা: ৪৪] আর এভাবেই শয়তান জ্বিনদের পৃথিবীতে গমনাগমন জ্বিনদের একদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে নীরবে কুরআন শ্রবণ করার পর ইসলাম গ্রহণ করে এবং আপন সম্প্রদায়ের প্রতি ভীতিপ্রদর্শনকারী হিসেবে প্রত্যাবর্তন করে এতদসত্বেও তারা আমাদের দৃষ্টির অগোচরে এই সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ لَا يَفۡتِنَنَّكُمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ كَمَآ أَخۡرَجَ أَبَوَيۡكُم مِّنَ ٱلۡجَنَّةِ يَنزِعُ عَنۡهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوۡءَٰتِهِمَآۚ إِنَّهُۥ يَرَىٰكُمۡ هُوَ وَقَبِيلُهُۥ مِنۡ حَيۡثُ لَا تَرَوۡنَهُمۡۗ إِنَّا جَعَلۡنَا ٱلشَّيَٰطِينَ أَوۡلِيَآءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ 27﴾

হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রলুব্ধ না করে- যেভাবে সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল, সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য বিবস্ত্র করেছিল নিশ্চয় সে নিজে এবং তার দল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যে, তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না নিশ্চয় আমরা শয়তানকে তাদের অভিভাবক করেছি, যারা ঈমান আনে না [আল-আরাফ: ২৭] আর যখন সৃষ্টিলোক পৃথিবীতে বিরাজমান সবকিছু উপলব্ধি করতে পারে না, তখন তাদের পক্ষে তাদের উপলব্ধির বাইরের যে সব গায়েবী বিষয়াদি রয়েছে সেগুলো অস্বীকার করা কোনোভাবেই বৈধ হবে না

***

তাকদীরের প্রতি ঈমান

শরী'আতের পরিভাষায় 'ক্বাদর শব্দের অর্থ: আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক স্বীয় হিকমত জ্ঞান অনুসারে সৃষ্টিকুলের জন্য সবকিছু নির্ধারণ করা

তাকদীরের প্রতি ঈমানের মধ্যে নিম্নোক্ত চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

প্রথম: এই ঈমান আনা যে, অনাদিকাল হতে অনন্তকাল পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের তাঁর বান্দাদের কার্যাবলী সংশ্লিষ্ট সব কিছু সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে বিস্তারিতভাবে অবগত আছেন

দ্বিতীয়: ঈমান আনা যে আল্লাহ তা'আলা সবকিছু লাওহে মাহফুযে (সংরক্ষিত ফলকে) লিখে রেখেছেন দু'টো বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَٰبٍۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ 70﴾

আপনি কি জানেন না যে, আসমান যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ্তা জানেন এসবই তো আছে এক কিতাবে; নিশ্চয় তা আল্লাহ্ নিকট অতি সহজ [সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: ৭০]

সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনুআমর ইবনুলআস রাদিয়াল্লাহুআনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

«كَتَبَ اللَّهُ مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ».

আসমানসমূহ যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ তাআলা মাখলুকের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেন20

তৃতীয়: এই ঈমান স্থাপন করা যে, বিশ্বজগতের কোনো কিছুই আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ব্যতীত সংঘটিত হয় না সেটি তাঁর নিজের কার্যসম্পর্কিত হোক অথবা তাঁর সৃষ্টির কার্যসম্পর্কিত হোক

আল্লাহ তা'আলা তাঁর কার্যাদি সম্পর্কে বলেন:

﴿وَرَبُّكَ يَخۡلُقُ مَا يَشَآءُ وَيَخۡتَارُ...﴾

আর আপনার রব যা ইচ্ছে সৃষ্টি করেন এবং যা ইচ্ছে মনোনীত করেন... [আল-কাসাস: ৬৮] আর তিনি বলেছেন:

﴿...وَيَفۡعَلُ ٱللَّهُ مَا يَشَآءُ﴾

আর আল্লাহ্ যা ইচ্ছে তা করেন [সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ২৭] আর তিনি বলেছেন:

﴿هُوَ ٱلَّذِي يُصَوِّرُكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡحَامِ كَيۡفَ يَشَآءُ...﴾

তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছে তোমাদের আকৃতি গঠন করেন... [আলে ইমরান: ] মাখলুকাতের কর্ম-কাণ্ড সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿...وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ لَسَلَّطَهُمۡ عَلَيۡكُمۡ فَلَقَٰتَلُوكُمۡۚ...﴾

...আল্লাহ্যদি ইচ্ছে করতেন তবে তাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতা দিতেন ফলে তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত... [আন-নিসা : ৯০] আর তিনি বলেছেন:

﴿...وَلَوۡ شَآءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُۖ فَذَرۡهُمۡ وَمَا يَفۡتَرُون﴾

যদি আপনার রব ইচ্ছে করতেন তবে তারা এসব করত না; কাজেই আপনি তাদেরকে তাদের মিথ্যা রটনাকে পরিত্যাগ করুন [আল-আনআম : ১১২]

চতুর্থ: এই ঈমান স্থাপন করা যে, সমগ্র সৃষ্টিজগৎ, তাদের সত্তা, গুণ এবং কর্ম তৎপরতাসহ সবই আল্লাহর সৃষ্ট

আল্লাহ তা'আলা প্রসঙ্গে বলেন:

﴿ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَيۡءٖۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ وَكِيلٞ 62﴾

আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর তত্ত্বাবধায়ক [আয-যুমার: ৬২] তিনি আরো বলেছেন:

﴿...وَخَلَقَ كُلَّ شَيۡءٖ فَقَدَّرَهُۥ تَقۡدِيرٗا﴾

তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তা নির্ধারণ করেছেন যথাযথ অনুপাতে [আল-ফুরকান : ] আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন যে, তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছেন:

﴿وَٱللَّهُ خَلَقَكُمۡ وَمَا تَعۡمَلُونَ 96﴾

অথচ আল্লাহ্ই সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমরা যা তৈরী কর তাও [আস-সাফফাত: ৯৬]

ঈমান বিল ক্বদার" বা তাক্বদীরের প্রতি ঈমান স্থাপন -যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি- মানুষের কর্মসমূহের ওপর তার ইচ্ছা ক্ষমতার সাথে সাংঘর্ষিক নয় কেননা, শরী'আত বাস্তব অবস্থা বান্দার নিজস্ব যে ইচ্ছাশক্তি রয়েছে তা সাব্যস্ত করে

শরীয়তগত প্রমাণ:

আল্লাহ তা'আলা বান্দার ইচ্ছা প্রসঙ্গে বলেন:

﴿...فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ مَـَٔابًا﴾

অতএব, যার ইচ্ছে সে তার রবের নিকট আশ্রয় গ্ৰহণ করুক [আন-নাবা: ৩৯] আর তিনি বলেছেন:

﴿...فَأۡتُواْ حَرۡثَكُمۡ أَنَّىٰ شِئۡتُمۡۖ...﴾

...তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছে গমন করতে পার... [আল-বাকারাহ : ২২৩] আল্লাহ তাআলা কুদরত সম্পর্কে বলেন:

﴿فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ وَٱسۡمَعُواْ وَأَطِيعُواْ...﴾

সুতরাং তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর... [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬] আর তিনি বলেছেন:

﴿لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ...﴾

আল্লাহ্কারও উপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায় [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬]

বাস্তবগত প্রমাণ:

প্রত্যেক মানুষ জানে যে, তার নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি সামর্থ্য রয়েছে এবং এরই মাধ্যমে সে কোনো কাজ করে বা তা থেকে বিরত থাকে যেসব কাজ তার ইচ্ছায় সংঘঠিত হয় যেমন, চলাফেরা করা এবং যা তার অনিচ্ছায় হয়ে থাকে যেমন, হঠাৎ করে শরীর প্রকম্পিত হওয়া এর উভয় অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে

তবে বান্দার ইচ্ছা সামর্থ্য আল্লাহর ইচ্ছা সামর্থ্যের অধীন অনুগত কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿لِمَن شَآءَ مِنكُمۡ أَن يَسۡتَقِيمَ 28 وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 29﴾

তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায়, তার জন্য এবং তোমরা ইচ্ছা করতে পারবে না, যদি না আল্লাহ্‌, বিশ্বজগতের প্রতিপালক, ইচ্ছা করেন [আত-তাকওয়ীর: ২৮-২৯] যেহেতু সমগ্র বিশ্বজগৎ আল্লাহ তা'আলার রাজত্ব, তাই তাঁর রাজত্বে তাঁর অজানা ইচ্ছার বাইরে কিছু ঘটতে পারে না

আমাদের উল্লিখিত বর্ণনানুযায়ী তাক্বদীরের ওপর বিশ্বাস বান্দাকে তার ওপর অর্পিত ওয়াজিব আদায় না করার অথবা তাক্বদীরের কথা বলে পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার কোনো সুযোগ প্রদান করে না সুতরাং এই ধরণের যুক্তি উপস্থাপন করা কয়েকটি কারণে বাতিল বলে বিবেচিত হবে:

এক: আল্লাহ তাআলার বাণী:

﴿سَيَقُولُ ٱلَّذِينَ أَشۡرَكُواْ لَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ مَآ أَشۡرَكۡنَا وَلَآ ءَابَآؤُنَا وَلَا حَرَّمۡنَا مِن شَيۡءٖۚ كَذَٰلِكَ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ حَتَّىٰ ذَاقُواْ بَأۡسَنَاۗ قُلۡ هَلۡ عِندَكُم مِّنۡ عِلۡمٖ فَتُخۡرِجُوهُ لَنَآۖ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَإِنۡ أَنتُمۡ إِلَّا تَخۡرُصُونَ 148﴾

যারা শির্ক করেছে অচিরেই তারা বলবে, ‘আল্লাহ্যদি ইচ্ছে করতেন তবে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষগণ শির্ক করতাম না এবং কোনো কিছুই হারাম করতাম নাএভাবে তাদের পূর্ববর্তীগণও মিথ্যারোপ করেছিল, অবশেষে তারা আমাদের শাস্তি ভোগ করেছিল বলুন, ‘তোমাদের কাছে কি কোন জ্ঞান আছে, যা তোমরা আমাদের জন্য প্রকাশ করবে? তোমরা শুধু কল্পনারই অনুসরণ কর এবং শুধু মনগড়া কথা বল [আল-আনআম: ১৪৮] পাপ কাজ করার জন্য তাক্বদীরকে প্রমাণ হিসাবে পেশ করা যদি বৈধ হত তবে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার কারণে শাস্তি দিতেন না

দ্বিতীয়: আল্লাহ তায়ালার বাণী:

﴿رُّسُلٗا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى ٱللَّهِ حُجَّةُۢ بَعۡدَ ٱلرُّسُلِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمٗا 165﴾

সুসংবাদদাতা সাবধানকারী রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণ আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় [আন-নিসা : ১৬৫] আর যদি তাকদীর বিরোধীদের জন্য দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতো, তবে রাসূলদের প্রেরণ করার মাধ্যমে সে দলীল বাতিল হতো না; কেননা রাসূলদের পাঠানোর পরও বিরোধিতা তো আল্লাহ্তাআলার তাকদীর অনুযায়ীই সংঘটিত হচ্ছে

তৃতীয়: বুখারী মুসলিমে বর্ণিতআর শব্দাবলি বুখারীর—; আলী ইবন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহুআনহু সূত্রে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا قَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ أَوْ مِنَ الْجَنَّةِ».

তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তিই নেই, যার স্থান জাহান্নামে অথবা জান্নাতে নির্দিষ্ট করে লিখে রাখা হয়নি লোকদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি বলল: তাহলে কি আমরা ভরসা করে বসে থাকব না, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন:

«لَا، اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ».

না, তোমরা কাজ সম্পাদন করতে থাক কেননা, প্রত্যেককে তার জন্য নির্ধারিত কাজে সহজ করে দেয়া হয় তারপর তিনি তিলাওয়াত করেন,

﴿فَأَمَّا مَنۡ أَعۡطَىٰ وَٱتَّقَىٰ 5﴾

কাজেই কেউ দান করলে, তাকওয়া অবলম্বন করলে [আল-লাইল: ]. সহীহ মুসলিমের শব্দে এসেছে:

«فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ».

কেননা, যাকে যে কাজের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সেই কাজকে সহজ করে দেয়া হয়21 কাজেই নবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাকদীরের ওপর নির্ভর করে কর্ম ত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন

চতুর্থ: আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে আদেশ -নিষেধ করেছেন তাকে তার ক্ষমতা সাধ্যের বাইরে কিছুই করতে বলেন নি

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ وَٱسۡمَعُواْ وَأَطِيعُواْ...﴾

সুতরাং তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর... [সূরা আত-তাগাবুন: ১৬] আর তিনি বলেছেন:

﴿لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَا...﴾

আল্লাহ্কারও উপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬] যদি বান্দা কাজ করার ক্ষেত্রে বাধ্যই হত, তাহলে তাকে এমন কাজের নির্দেশ দেওয়া হতো যা থেকে তার রেহাই পাওয়ার কোনো উপায় থাকতো না আর ধরনের বিষয় বাতিল তাই বান্দা ভুল, অজ্ঞতাবশতঃ অথবা জোরপূর্বক অনিচ্ছাকৃত কোনো অপরাধ করলে তাতে তার পাপ হয় না

পঞ্চম: আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তাকদীর গায়েবী জগতের এক গোপন রহস্য তাকদীরের বিষয় সংঘটিত হওয়ার পরই কেবল বান্দা তা জানতে পারে আর বান্দার ইচ্ছা তার কাজের পূর্বে হয়ে থাকে; তাই তার ইচ্ছা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তাকদীর জানার ওপর নির্ভর করে না এমতাবস্থায় তাকদীরের দোহাই দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না; যেহেতু যে বিষয় বান্দার জানা নেই সে বিষয়ে তার জন্য প্রমাণ হতে পারে না

ষষ্ঠ: আমরা দেখি, মানুষ দুনিয়ার কাজে যা তার উপযোগী, তা হাসিল করার জন্য খুবই সচেষ্ট থাকে এবং তা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যায় সে কখনো তার উপযোগী কাজ ছেড়ে এমন কিছুর দিকে যায় না যা তার অনুপযোগীতারপর আবার সে এই পরিবর্তনের জন্য তাকদীরকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে না তাহলে কেন সে দ্বীনি বিষয়ে, যা তার উপকারে আসে, তা ছেড়ে এমন কিছু বেছে নেয় যা তার ক্ষতির কারণ হয়আর এরপর তাকদীরকে অজুহাত হিসেবে পেশ করে?

উভয় বিষয়ে (দুনিয়া দ্বীনের ব্যাপারে) কি তার আচরণ এক হওয়া উচিত নয়?!

প্রিয় পাঠক, আপনার সম্মুখে কয়েকটি উদাহরণ পেশ করছি যা বিষয়টি স্পষ্ট করে দিবে:

যদি কারো সামনে দুটি পথ থাকে এক পথ তাকে এমন এক দেশে নিয়ে পৌঁছাবে যেখানে শুধু নৈরাজ্য, খুন-খারাবী, লুটপাট, ভয়-ভীতি দূর্ভিক্ষ বিরাজমান দ্বিতীয় পথ তাকে এমন স্বপ্নের শহরে নিয়ে যাবে যেখানে শৃঙ্খলা নিরাপত্তা, সুখ স্বাচ্ছন্দ্য জান-মালের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিদ্যমান এমতাবস্থায় সে কোনো পথে চলবে?

নিশ্চিতভাবে বলা যাবে যে, সে দ্বিতীয় পথে চলবে, যে পথ তাকে শান্তি আইন-শৃঙ্খলা রয়েছে এমন দেশে নিয়ে যাবে কোনো বুদ্ধিমান লোক প্রথম দেশের যা বিশৃঙ্খলার সে পথে পা দিয়ে ভাগ্যের দোহাই দিবে না তাহলে মানুষ আখিরাতের ব্যাপারে জান্নাতের পথ ছেড়ে জাহান্নামের পথে চলে কেন তাকদীরের দোহাই দিবে?

আরেকটি উদাহরণ: রোগীকে ঔষধ সেবন করতে বললে তা তিক্ত হলেও সে সেবন করে তার জন্য ক্ষতিকর কোনো খাবার খেতে নিষেধ করা হলে তা সে খায় না, যদিও তার মন তা খেতে চায় এসব শুধু নিরাময় রোগমুক্তির আশায় করে সে তাকদীরের দোহাই দিয়ে ঔষধ সেবন থেকে বিরত থাকে না বা নিষিদ্ধ খাদ্য ভক্ষণ করে না তাহলে মানুষ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশাবলী বর্জন এবং নিষেধাবলী অমান্য করে কেন তাকদীরের দোহাই দেবে?

সপ্তম: যে ব্যক্তি তার ওপর অর্পিত ওয়াজিব কাজসমূহ ত্যাগ করে অথবা পাপকাজ করে তাকদীরের দোহাই দিয়ে থাকে অথচ তার ধন-সম্পদ বা মান সম্মানে কেউ যদি আঘাত হেনে বলে, এটাই তোমার তাকদীরে লেখা ছিল, আমাকে দোষারূপ করো না, আমাকে দোষারোপ করো না, কেননা আমার দ্বারা তোমার উপর আক্রমণ আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী হয়েছে- তখন সে তার যুক্তি গ্রহণ করবে না তাহলে কেমন করে সে তার ওপর অন্যের আক্রমণের সময় তাকদীরের দোহাই স্বীকার করে না অথচ সে আল্লাহর অধিকারে আঘাত হেনে তাকদীরের দোহাই দেয়?

উল্লেখ্য, একদা উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দরবারে এক চোরকে হাজির করা হয় তার হাত কর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলে সে বলে! হে আমিরুল মু'মিনীন! থামুন, আল্লাহ তাকদীরে লিখে রেখেছেন বলে আমি চুরি করেছি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমরাও আল্লাহ তাকদীরে লিখে রেখেছেন বলে হাত কর্তন করছি

তাকদীরের প্রতি ঈমানের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে, তন্মধ্যে:

ঈমান বিল ক্বাদর দ্বারা উপায়-উপকরণ গ্রহণকালে ব্যক্তির অন্তরে আল্লাহ তা'আলার ওপর তাওয়াক্কুল ভরসার সৃষ্টি হয় এবং সে তখন শুধুমাত্র উপায়-উপকরণের ওপর নির্ভরশীল হয় না কেননা, প্রতিটি বস্তুই আল্লাহ তা'আলার তাকদীরের আওতাধীন

ব্যক্তির কোনো উদ্দেশ্য সাধিত হলে সে তখন নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করে না কারণ, যা অর্জিত হয়েছে তা সবই আল্লাহর নে'আমত যা তিনি কল্যাণ সাফল্যের উপকরণ দ্বারা নির্ধারণ করে রেখেছেন আর ব্যক্তি নিজ কর্মের জন্য আত্মম্ভরি হলে এই নি'আমতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে ভুলে যায়

ঈমান বিল ক্বাদর দ্বারা বান্দার ওপর আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী যা কার্যকরী হয় তাতে তার অন্তরে প্রশান্তি আরাম অর্জিত হয় ফলে সে কোনো প্রিয় বস্তু হারালে বা কোনো প্রকার কষ্টে পতিত হলে বিচলিত হয় না কারণ; সে জানে যে, সবকিছুই সেই আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী ঘটছে যিনি আকাশমণ্ডল পৃথিবীর মালিক যা ঘটবার তা ঘটবেই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ إِلَّا فِي كِتَٰبٖ مِّن قَبۡلِ أَن نَّبۡرَأَهَآۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ 22 لِّكَيۡلَا تَأۡسَوۡاْ عَلَىٰ مَا فَاتَكُمۡ وَلَا تَفۡرَحُواْ بِمَآ ءَاتَىٰكُمۡۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخۡتَالٖ فَخُورٍ 23﴾

যমীনে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয়ই আসে তা সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই আমরা তা কিতাবে লিপিবদ্ধ রেখেছি নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষে এটা খুব সহজ যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য দুঃখিত না হও এবং যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন তাতে আনন্দিত না হও আল্লাহ অহংকারী গর্বিত ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না [আল-হাদীদ: ২২-২৩] আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ».

মুমিনের ব্যাপার আশ্চর্যজনক অবশ্যই তার সকল বিষয় তার জন্য কল্যাণময় আর এটি মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য হতে পারে না যদি তার কোন আনন্দ আসে, তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণময় আর যদি তার উপরে কোন দুঃখজনক কিছু আপতিত হয়, তাহলে সে সবর করে, সেটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়22

তাকদীরের বিষয়ে দু'টি সম্প্রদায় পথভ্রষ্ট হয়েছে:

তন্মধ্যে একটি হলো জাবরিয়্যাহ সম্প্রদায়, এরা বলে: বান্দা তাকদীরের কারণে স্বীয় ক্রিয়া-কর্মে বাধ্য, এতে তার নিজস্ব কোনো ইচ্ছা শক্তি বা সামর্থ্য নেই

আর দ্বিতীয়টি হলো ক্বাদারিয়্যাহ সম্প্রদায়, এদের বক্তব্য হল: বান্দা তার যাবতীয় কর্ম-কাণ্ডে স্বীয় ইচ্ছা শক্তির ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পন্ন, তার কাজে আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা বা কুদরতের কোনো প্রভাব নেই

শরী'আত বাস্তবতার আলোকে প্রথম দল (জাবরিয়্যাহ সম্প্রদায়)-এর বক্তব্যের জবাব:

শরী'আতের আলোকে এর জবাব: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দার জন্য ইরাদা ইচ্ছাশক্তি সাব্যস্ত করেছেন এবং বান্দার দিকে তার কার্যক্রমকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿...مِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلدُّنۡيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلۡأٓخِرَةَۚ...﴾

তোমাদের কিছু সংখ্যক দুনিয়া চাচ্ছিল এবং কিছু সংখ্যক চাচ্ছিল আখেরাত [আলে ইমরান, আয়াত: ১৫২] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿وَقُلِ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكُمۡۖ فَمَن شَآءَ فَلۡيُؤۡمِن وَمَن شَآءَ فَلۡيَكۡفُرۡۚ إِنَّآ أَعۡتَدۡنَا لِلظَّٰلِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمۡ سُرَادِقُهَا...﴾

আর বলুন, ‘সত্য তোমাদের রব-এর কাছ থেকে; কাজেই যার ইচ্ছে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছে কুফরী করুকনিশ্চয় আমরা যালেমদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি আগুন, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে... [আল-কাহাফ: ২৯] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿مَّنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا فَلِنَفۡسِهِۦۖ وَمَنۡ أَسَآءَ فَعَلَيۡهَاۗ وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّٰمٖ لِّلۡعَبِيدِ46﴾

যে সৎকাজ করে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে- ভোগ করবে আর আপনার রব তাঁর বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুমকারী নন [ফুসসিলাত : ৪৬]

বাস্তবতার আলোকে এর জবাব: সকল মানুষেরই জানা আছে যে, তার কিছু কর্ম স্বীয় ইচ্ছাধীন, যা তার আপন ইচ্ছায় সম্পাদিত করে, যেমন, খাওয়া-দাওয়া, পান করা এবং ক্রয়-বিক্রয় করা আর কিছু কাজ তার অনিচ্ছাধীন, যেমন, অসুস্থ্যতার কারণে শরীর কম্পন করা উঁচু স্থান থেকে নীচের দিকে পড়ে যাওয়া প্রথম ধরনেরর কাজে মানুষ নিজেই কর্তা, নিজ ইচ্ছায় সে তা গ্রহণ করেছে এতে কেউ বাধ্য করেনি আর দ্বিতীয় প্রকার কাজ-কর্মে তার কোনো নিজস্ব পছন্দ ছিল না এবং তার ওপর যা পতিত হয়েছে তার কোনো ইচ্ছাও তার ছিল না

শরী'আত যুক্তির আলোকে দ্বিতীয় দল ক্বাদারিয়্যাদের বক্তব্যের জবাব:

শরী'আতের দলীল হল: আল্লাহ তা'আলা সকল বস্তুর স্রষ্টা, জগতের সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় সংঘটিত হয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর পবিত্র গ্রন্থে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বান্দাদের সব কর্ম-কাণ্ডও আল্লাহর ইচ্ছায় সংঘটিত হয়ে থাকে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿...وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقۡتَتَلَ ٱلَّذِينَ مِنۢ بَعۡدِهِم مِّنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُ وَلَٰكِنِ ٱخۡتَلَفُواْ فَمِنۡهُم مَّنۡ ءَامَنَ وَمِنۡهُم مَّن كَفَرَۚ وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقۡتَتَلُواْ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَفۡعَلُ مَا يُرِيدُ﴾

আর আল্লাহ্ইচ্ছে করলে তাদের পরবর্তীরা তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি সমাগত হওয়ার পরও পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হত না; কিন্তু তারা মতভেদ করল ফলে তাদের কেউ কেউ ঈমান আনল এবং কেউ কেউ কুফরী করল আর আল্লাহ্ইচ্ছে করলে তারা পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হত না; কিন্তু আল্লাহ্যা ইচ্ছে তা করেন [আল-বাকারাহ: ২৫৩] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

﴿وَلَوۡ شِئۡنَا لَأٓتَيۡنَا كُلَّ نَفۡسٍ هُدَىٰهَا وَلَٰكِنۡ حَقَّ ٱلۡقَوۡلُ مِنِّي لَأَمۡلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ ٱلۡجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ أَجۡمَعِينَ 13﴾

আর আমরা ইচ্ছে করলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হেদায়াত দিতাম; কিন্তু আমার পক্ষ থেকে কথা অবশ্যই সাব্যস্ত যে, আমি নিশ্চয় কতেক জিন মানুষের সমন্বয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব [আস-সাজদাহ: ১৩]

যুক্তির মাধ্যমে এর জবাব: একথা নিশ্চিত যে, সমগ্র বিশ্বজগৎ আল্লাহর মালিকানাধীন এবং মানুষ এই বিশ্বজগতেরই একটি অংশ, তাই সেও আল্লাহর মালিকানাধীন আর মালিকানাধীন কোনো সত্তার পক্ষে মালিকের অনুমতি ইচ্ছা ব্যতিরেকে তার রাজত্বে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়

ইসলামী আক্বীদার লক্ষ্যসমূহ

আরবী (الهدف) আভিধানিক অর্থ: শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো— () এমন একটি লক্ষ্যবস্তু, যাকে স্থাপন করা হয় তীর নিক্ষেপ করার জন্য, () এবং প্রত্যেক সেই জিনিস, যাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়

ইসলামী আক্বীদার লক্ষ্যসমূহ হল: তার মহৎ উদ্দেশ্যাবলী যা আক্বীদাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার ফলে অর্জিত হয়ে থাকে, সেগুলো বহুবিধ যেমন:

নিয়ত ইবাদত শুধু আল্লাহ তা'লার জন্য একনিষ্ঠভাবে সম্পাদন করা কেননা, তিনিই আমাদের একমাত্র স্রষ্টা, এতে তাঁর কোনো অংশীদার নেই তাই নিয়ত ইবাদত একমাত্র তাঁরই জন্য হওয়া আবশ্যক

এই আক্বীদার শূন্যতার ফলে উদগত নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলা থেকে চিন্তাধারা বুদ্ধিমত্তাকে মুক্ত করা কারণ, যার হৃদয় এই আক্বীদা থেকে মুক্ত সে হয় আক্বীদাশূন্য বস্তুপূজারী হয় অথবা কুসংস্কার নানাবিধ আক্বীদাগত ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত থাকে

মানসিক চিন্তাগত প্রশান্তি অর্জন এর ফলে ব্যক্তির মনে কোনো প্রকারের উদ্বেগ থাকে না এবং চিন্তাধারায় কোনো অস্থিরতা থাকে না কারণ, এই আক্বীদা আল্লাহর সাথে মুমিনের সম্পর্ককে জোরদার সুদৃঢ় করে দেয় ফলে সে তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে একজন রব, কর্মবিধায়ক, ফয়সালাকারী এবং শরীআতের বিধানদাতা হিসেবে তাই আল্লাহর তাকদীরে তার আত্মা লাভ করে প্রশান্তি ইসলামের জন্য তার অন্তর হয় উন্মোচিত, ফলে সে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প খোঁজে না

আল্লাহর ইবাদত বা মানুষের সাথে লেন-দেন আচার আচরণের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যে কর্মে পথবিচ্যুতি হতে নিরাপত্তা অর্জন কেননা, আক্বীদার ভিত্তি হচ্ছে রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস তাদের অনুসরণের ওপর, যা উদ্দেশ্য কর্মগত দিক দিয়ে নিরাপদ

সব বিষয়ে সুচিন্তিতভাবে দৃঢ়তার সাথে পদক্ষেপ নিতে সাহায্য লাভ হয় যাতে বান্দা সওয়াবের আশায় সৎ পুণ্য কাজের কোনো সুযোগ হাতছাড়া করে না এবং আখেরাতের শাস্তির ভয়ে সব ধরণের পাপের স্থান থেকে নিজেকে দূরে রাখে কারণ, ইসলামী আক্বীদার অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস হচ্ছে পুনরুত্থান কাজের প্রতিফল লাভের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿وَلِكُلّٖ دَرَجَٰتٞ مِّمَّا عَمِلُواْۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَٰفِلٍ عَمَّا يَعۡمَلُونَ 132﴾

আর তারা যা আমল করে, সে অনুসারে প্রত্যেকের মর্যাদা রয়েছে এবং তারা যা করে সে সম্বন্ধে আপনার রব গাফেল নন [আল-আনআম : ১৩২] অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীতে এই লক্ষ্যে তাগিদ দিয়েছেন:

«الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ، وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ، احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ، وَلَا تَعْجِزْ، وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ: لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَذَا كَانَ كَذَا وَكَذَا، وَلَكِنْ قُلْ: قَدَّرَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ؛ فَإِنَّ (لَوْ) تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ».

শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিন অপেক্ষা আল্লাহর কাছে অধিকতর উত্তম পছন্দনীয় তবে তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে সুতরাং যা তোমাকে উপকৃত করবে, তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর তুমি কখনো অক্ষম হয়ে যেও না আর যদি তোমার কাছে কোনো বিপদ আপতিত হয়, তাহলে কথা বলবে না: যদি আমি এমন এমন করতাম, তাহলে এমন এমন হতো বরং কথা বলবে: ‘আল্লাহ তাআলা যা নির্দিষ্ট করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই করেছেনকেননা لَوْ (যদি) শব্দটি শয়তানের কাজকে উন্মুক্ত করে দেয় সহীহ মুসলিম23

এমন এক শক্তিশালী জাতি গঠন করা যে জাতি আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করা, তার ভিত্তিসমূহ মজবুত তার পতাকা সমুন্নত করার লক্ষ্যে দুনিয়ার সব প্রতিকূল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে জান মাল ব্যয় করবে প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ لَمۡ يَرۡتَابُواْ وَجَٰهَدُواْ بِأَمۡوَٰلِهِمۡ وَأَنفُسِهِمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصَّٰدِقُونَ 15﴾

তারাই তো মুমিন, যারা আল্লাহ্ তঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর সন্দেহ পোষণ করেনি এবং তাদের জীবন সম্পদ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারাই সত্যনিষ্ঠ [আল-হুজুরাত: ১৫].

ব্যক্তি দল সংশোধন করে ইহ পরকালের শান্তি স্বাচ্ছন্দ্য অর্জন করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব সম্মান লাভ করা এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَنُحۡيِيَنَّهُۥ حَيَوٰةٗ طَيِّبَةٗۖ وَلَنَجۡزِيَنَّهُمۡ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ 97﴾

মুমিন হয়ে পুরুষ নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকাজ করবে, অবশ্যই আমরা তাকে পবিত্র জীবন দান করব আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে তারা যা করত তার তুলনায় শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দেব [আন-নাহাল ৯৭]

উপরোক্ত বিষয়গুলো হচ্ছে ইসলামী আক্বীদার কতিপয় উদ্দেশ্য লক্ষ্য

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে এবং সকল মুসলমানকে এগুলো অর্জনের তাওফীক দান করেন নিশ্চয় তিনি মহান দাতা অনুগ্রহশীল আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর জন্য

আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর, তার পরিবার তার সকল সাহাবীর ওপর সালাত সালাম নাযিল করুন

সমাপ্ত

এর রচয়িতার কলমে

মুহাম্মাদ আস-সালিহ আল-উসাইমীন

 

***

সূচিপত্র

 

ভূমিকা 2

দ্বীন ইসলাম 4

ইসলামের রুকনসমূহ 11

ইসলামী আক্বীদার মৌলিক ভিত্তিসমূহ 16

আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান 17

ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান 40

কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান 49

রাসূলগণের ওপর ঈমান 51

আখিরাতের প্রতি ঈমান 62

তাকদীরের প্রতি ঈমান 89

ইসলামী আক্বীদার লক্ষ্যসমূহ 105

 

***

 


সহীহ বুখারী, ঈমান পর্ব, হাদীস নং (), সহীহ মুসলিম, ঈমান বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: ‘ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত’, হাদীস নং (১৬)

সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, হাদীস নং (), সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সুন্নাহ, পরিচ্ছেদ: কাদর বিষয়ে, হাদীস নং (৪৬৯৫)

সহীহ বুখারী: জানাযা পর্ব, অধ্যায়: যদি শিশু ইসলাম গ্রহণ করে অতঃপর মারা যায়, তাহলে কি তার জানাযা পড়ানো হবে, এবং শিশুকে কি ইসলাম উপস্থাপন করা হবে, হাদীস নং (১২৯২); সহীহ মুসলিম: তাকদীর পর্ব, অধ্যায়: ‘প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাহের উপর জন্মগ্রহণ করে’—এর অর্থ এবং কাফিরদের শিশু মুসলিমদের শিশু মৃত্যুর হুকুম, হাদীস নং (২৬৫৮)

সহীহ বুখারী: সূরা আত-তূর, (হাদীস নং: ৪৮৫৪)

সহীহ বুখারী, অধ্যায়: জুমআ, পরিচ্ছেদ: জুমআর দিনে খুতবায় ইস্তিস্কা, হাদীস নং (৮৯১)

সহীহ বুখারী, অধ্যায়: জুমা, পরিচ্ছেদ: জুমার দিনের খুতবায় ইস্তিস্কা করা, হাদীস নং (৮৯১); সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ইস্তিস্কার সালাত, পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কায় দো করা, হাদীস নং (৮৯৭)

সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ঈমান, পরিচ্ছেদ: ঈমান, ইসলাম ইহসানের বর্ণনা এবং আল্লাহ তায়ালার কদরের ইসবাতের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব, হাদীস নং ()

সহীহ বুখারী: কিতাবসৃষ্টির সূচনা’, বাবফেরেশতাদের উল্লেখ’, (নং: ৩০৩৭), সহীহ মুসলিম: কিতাবসৎকর্ম, আত্মীয়তার সম্পর্ক আদব’, বাবযখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাঁকে তাঁর বান্দাদের কাছেও প্রিয় করে দেন’, (নং: ২৬৩৭)

সহীহ বুখারী, অধ্যায়: জুমুআহ, পরিচ্ছেদ: খুতবা শোনা, হাদীস নং (৮৮৭); সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: জুমুআহ, পরিচ্ছেদ: জুমুআহের দিন তাড়াতাড়ি যাওয়ার ফযীলত, হাদীস নং (৮৫০)

সহীহ বুখারী, তাওহীদ বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: আল্লাহ তায়ালার বাণী: ﴿لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ﴾, হাদীস নং (৭৪১০), সহীহ মুসলিম, ঈমান বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: জান্নাতে সর্বনিম্ন মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি, হাদীস নং (১৯৩)

বুখারী, কিতাবুল কিবলা, হাদীস (৩৯২); মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ, হাদীস (৫৭২)

সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: জান্নাত, এর নিয়ামতসমূহ অধিবাসীদের বর্ণনা, পরিচ্ছেদ: দুনিয়ার বিলুপ্তি এবং কিয়ামতের দিন হাশরের বিবরণ, হাদীস নং (২৮৫৯)

সহীহ বুখারী: মাযালিম পর্ব, অধ্যায়: আল্লাহ তাআলার বাণী: «أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ», হাদীস নং (২৩০৯); এবং সহীহ মুসলিম: তওবা পর্ব, অধ্যায়: হত্যাকারীর তওবা কবুল হওয়া, যদিও তার হত্যাকাণ্ড অধিক হয়ে থাকে, হাদীস নং (২৭৬৮)

সহীহ মুসলিম, ঈমান বিষয়ক পর্ব, অধ্যায়: বান্দা যখন কোনো সৎকাজের ইচ্ছা করে তা লিপিবদ্ধ করা হয়, আর যখন গুনাহের ইচ্ছা করে তা লিপিবদ্ধ করা হয় না, হাদীস নং (১৩১)

এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারি: কিতাবুত-তাফসীর, অধ্যায়: তাঁর বাণী: فَلَا تَعۡلَمُ نَفۡسٞ مَّآ أُخۡفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعۡيُنٖ হাদিস নং (৪৫০১); এবং মুসলিম: কিতাবুল-জান্নাহ তার নিয়ামতের বর্ণনা তার অধিবাসীগণ, হাদিস নং (২৮২৪)

সহীহ মুসলিম: জান্নাত তার নেয়ামত এবং অধিবাসীদের বর্ণনা, মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত বা জাহান্নামে তার অবস্থান তুলে ধরা এবং কবরের আযাবের প্রমাণ তা থেকে আশ্রয় চাওয়ার অধ্যায়, (নং: ২৮৬৭)

সুনানে আবু দাউদ: সুন্নাহ পর্ব, অধ্যায়: কবরের প্রশ্ন শাস্তি প্রসঙ্গ, হাদীস নং (৪৭৫৩), এবং মুসনাদ আহমদ: মুসনাদুল কুফিয়্যীন, বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস, হাদীস নং (১৮৫৩৪)

বুখারী, অধ্যায়: অযু, অনুচ্ছেদ: মূত্র ধোয়া সম্পর্কিত বর্ণনা, হাদীস (২১৫)

সহীহমুসলিম, অধ্যায়: তাকদীর, পরিচ্ছেদ: আদম মূসা আলাইহিমাস্ সালাম-এর যুক্তিতর্ক, হাদীস নং (২৬৫৩)

বুখারী, কিতাবুল কাদর, হাদীস (৬৬০৫); মুসলিম, কিতাবুল কাদর, হাদীস (২৬৪৭)

সহীহ মুসলিম: কিতাবুয্-জুহদ রাকায়েক, বাব: মুমিনতার সকল ব্যাপারই কল্যাণ (নং: ২৯৯৯)

সহীহ মুসলিম: কিতাবুল কাদর, অধ্যায়: শক্তিশালী হওয়ার নির্দেশ, অপারগতা পরিত্যাগ, আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা এবং তাকদীরসমূহ আল্লাহর নিকট সমর্পণ, হাদীস নং (২৬৬৪)

সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ঈমান, পরিচ্ছেদ: সকল মানুষের প্রতি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতে ঈমান আনা ওয়াজিব এবং তাঁর মিল্লাত দ্বারা পূর্ববর্তী মিল্লাতসমূহের নাসখ, হাদীস নং (১৫৩)