حِصْنُ المُسْلِمِ
مِنْ أَذْكَارِ الكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
হিসনুল মুসলিম
কুরআন ও সুন্নাহর যিকির ও দু‘আ
د. سَعِيدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ وَهْفٍ الْقَحْطَانِيُّ
আল্লাহ তা‘আলারই মুখাপেক্ষী
ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহফ আল-কাহতানী
بِسْمِ اللهِ الرَّحمَنِ الرَّحِيمِ
হিসনুল মুসলিম
কুরআন ও সুন্নাহর যিকির ও দু‘আ
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের নফসের অনিষ্টসমূহ এবং আমাদের কর্মের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ তা‘আলা যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ প্রদর্শনকারীও কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করবে সবার ওপর অসংখ্য সালাত (রহমত)ও নিরাপত্তা - শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি একটি পুস্তিকা যা আমি আমার দুটি বই “যিকর, দু‘আ এবং কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে ঝাড়ফুঁকের দ্বারা চিকিৎসা”
(الذَّكْرُ وَالدُّعَاءُ وَالعِلاَجُ بِالرُّقَى مِنَ الكِتَابِ وَالسُّنَّةِ )
থেকে সংক্ষেপিত, যেখানে আমি
حِصْنُ المُسْلِمِ مِنْ أَذْكَارِ الكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
সংক্রান্ত অংশ সংক্ষেপ করেছি, যেন এটাকে সফরে বহন করা হালকা ও সহজ হয়।1
আমি শুধুমাত্র যিকিরের মূলপাঠের উপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং এর তাখরিজের ক্ষেত্রে মূলগ্রন্থে পাওয়া একটি বা দুটি সূত্র উল্লেখ করেই সন্তুষ্ট থেকেছি। যদি কেউ সাহাবীর পরিচয় জানতে চান বা তাখরিজ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে তাদের মূল গ্রন্থের দিকে ফিরে যেতে হবে। আমি আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও তাঁর সুউচ্চ গুণাবলীর ওসিলায় প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এই গ্রন্থটিকে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য খালিস করে নেন। তিনি যেন আমার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে এর মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করেন এবং যারা এটি পড়বে, মুদ্রণ করবে বা এর প্রচারে ভূমিকা রাখবে, তাদেরকেও এ দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনিই এ বিষয়ে অভিভাবক ও ক্ষমতাবান। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামাত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁর অনুসরণকারীদের প্রতি শান্তি ও রহমত নাযিল করুন।
লেখক
এটি ১৪০৯ হিজরির সফর মাসে লেখা হয়েছে।
(আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদের বহু আয়াতে তাঁর
সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি।বাংলায় এ রীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে বইটিতে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
***
যিকিরের ফযীলত
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
﴿فَٱذۡكُرُونِيٓ أَذۡكُرۡكُمۡ وَٱشۡكُرُواْ لِي وَلَا تَكۡفُرُونِ 152﴾
অর্থ: “অতএব, তোমরা আমার যিকির কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর আমার শোকর আদায় কর, না-শোকরি বা আমার সাথে কুফরী করো না।”2
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ ذِكۡرٗا كَثِيرٗا41﴾
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা বেশি বেশি আল্লাহ্কে যিকির কর ।”3
﴿...وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا﴾
অর্থ: “আল্লাহ্কে অধিক যিকিরকারী পুরুষ ও আল্লাহ্কে অধিক যিকিরকারী নারী- তাদের জন্য আল্লাহ্ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।”4
﴿وَٱذۡكُر رَّبَّكَ فِي نَفۡسِكَ تَضَرُّعٗا وَخِيفَةٗ وَدُونَ ٱلۡجَهۡرِ مِنَ ٱلۡقَوۡلِ بِٱلۡغُدُوِّ وَٱلۡأٓصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ ٱلۡغَٰفِلِينَ 205﴾
অর্থ: “আর তুমি নিজ মনে আপন রবকে যিকির কর সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়-বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে। আর গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”5
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ، وَالَّذِي لَا يَذْكُرُ ربَّهُ، مَثَلُ الحَيِّ وَالمَيِّتِ».
“যে ব্যক্তি তার রবের যিকির করে এবং যে তাঁর যিকির করে না, তাদের উদাহরণ জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মত।”6
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন:
«أَلَا أُنبِّئُكُم بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ، وَأَزْكَاهَا عِنْدَ مَلِيكِكُمْ، وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ، وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ إِنْفَاقِ الذَّهَبِ وَالوَرِقِ، وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ أَنْ تَلْقَوْا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقِكُم؟» قَالُوا بَلَى. «ذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى».
“আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম আমলসমূহের সন্ধান দেব না? যা তোমাদের মালিকের কাছে সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধিকারী, সোনা ও রুপা দান করার চেয়েও উত্তম এবং শত্রুর সম্মুখীন হয়ে গর্দান কাটা ও কাটানোর চেয়েও শ্রেয়?” তারা সকলে বললেন: “অবশ্যই”, তিনি বললেন: “আল্লাহ তা’আলার যিকির।”7
তিনি ﷺ আরও বলেছেন:
«يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ، ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَأٍ ، ذَكَرْتُهُ فِي مَلَأٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ شِبْرًا، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً».
“আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন: আমি সে রকমই যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর যদি সে কোন সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দু’ হাত প্রসারিত দৈর্ঘ্য পরিমাণ এগিয়ে যাই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।”8
আবদুল্লাহ ইবনু বুসর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল ! আমার জন্য ইসলামের বিধিবিধান অনেক হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে ধরব। তিনি বললেন:
«لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ».
“সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা’আলার যিকিরের দ্বারা সিক্ত থাকে”,9
তিনিﷺ আরও বলেছেন:
«مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُولُ: ﴿الــم﴾ حَرْفٌ، وَلَكِنْ: أَلِفٌ حَرْفٌ، وَلَامٌ حَرْفٌ، وَمِيْمٌ حَرْفٌ».
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য এর কারণে একটি সাওয়াব রয়েছে। আর প্রতিটি সওয়াব তার দশ গুণ বৃদ্ধি পায়। আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম (الم) একটি হরফ; বরং (ا) আলিফ একটি হরফ, (ل) লাম একটি হরফ এবং (م) মীম একটি হরফ।”10
উকবা ইবনু ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে আসলেন, আমরা তখন সুফফায় ছিলাম। তিনি বললেন:
«أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَغْدُوَ كُلَّ يَوْمٍ إِلَى بُطْحَانَ، أَوْ إِلَى العَقِيقِ، فَيَأْتيَ مِنْهُ بِنَاقَتَيْنِ كَوْمَاوَيْنِ فِي غَيْرِ إِثْمٍ وَلَا قَطِيعَةِ رَحِمٍ؟»
“তোমাদের মধ্যে কেউ কি এমনটা পছন্দ করবে যে, সে প্রতিদিন সকালে ’বুতহান’ কিংবা আকীক নামক স্থানে যাবে এবং সেখান থেকে কোন পাপের আশ্রয় না নিয়ে কিংবা কোন প্রকার আত্মীয়তা ছিন্ন না করে বড় বড় কূঁজবিশিষ্ট দুটি উটনী নিয়ে আসবে?” আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সেটা পছন্দ করি। তিনি বললেন:
«أَفَلَا يَغْدُو أَحَدُكُمْ إِلَى المَسْجِدِ فَيَعْلَمَ، أَوْ يَقْرَأَ آيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّوَجَلَّ خَيْرٌ لَهُ مِنْ نَاقَتَيْنِ، وَثَلاثٌ خَيْرٌ لَهُ مِنْ ثَلَاثٍ، وَأَرْبَعٌ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَرْبَعٍ، وَمِنْ أَعْدَادِهِنَّ مِنَ الإِبِلِ».
“তবে কি তোমাদের কেউ সকাল বেলা মসজিদে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলার কিতাব থেকে দুটি আয়াত শিখবে অথবা তিলাওয়াত করবে না যা তার জন্য দুটি উটনীর চেয়ে উত্তম? আর তিন আয়াত তার জন্য তিনটি উটনীর চেয়ে উত্তম এবং চার আয়াত চারটি উটনীর চেয়ে উত্তম। এমনিভাবে যত আয়াত তিলাওয়াত করবে তত সংখ্যক উটনীর চেয়ে উত্তম।”11
তিনি ﷺআরও বলেছেন:
«مَنْ قَعَدَ مَقْعَدًَا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ فِيهِ، كَانَتْ عَلَيْهِ مِنَ اللَّهِ تِرَةٌ، وَمَنِ اضْطَجَعَ مَضْجِعًا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ فِيهِ كَانَتْ عَلَيْهِ مِنَ اللَّهِ تِرَةٌ».
"যে ব্যক্তি কোন স্থানে বসেছে, আর সেখানে আল্লাহর যিকির করেনি, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে লাঞ্ছনা। অনুরূপভাবে যে কোন ব্যক্তি বিছানায় শয়ন করেছে অথচ আল্লাহর যিকির করেনি, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে লাঞ্ছনা।"12
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন:
«مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًَا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ، وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِمْ تِرَةً، فَإِنْ شَاءَ عذَّبَهُمْ، وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ».
“যে সমস্ত লোক কোন মজলিসে বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তা’আলার যিকর করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরূদও পড়েনি, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা। আল্লাহ তা’আলা চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন।”13
তিনি ﷺআরও বলেছেন:
«مَا مِنْ قَوْمٍ يَقُومُونَ مِنْ مَجْلِسٍ لَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ فِيهِ إِلَّا قَامُوا عَنْ مِثْلِ جِيفَةِ حِمَارٍ، وَكَانَ لهُمْ حَسْرةً».
“কোনো কাওম যখন কোনো মজলিস থেকে আল্লাহর যিকির করা ছাড়া ওঠে, তখন তারা যেন গাধার মরদেহের মতো হয়ে উঠল। আর এটি তাদের জন্য পরিতাপের কারণ হবে।”14
১. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার যিকিরসমূহ
«الحَمْدُ للَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُورُ».
অর্থ: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেছেন এবং তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।"15
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَريكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالحَمْدُ للَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ العَلِيِّ العَظِيمِ، رَبِّ اغْفرْ لِي».
অর্থ: “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নাই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই, সার্বভৌমত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর প্রাপ্য, তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান, আল্লাহ মহা পবিত্র, আল্লাহই সমস্ত প্রশংসার অধিকারী, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নাই, আল্লাহ সুমহান, সর্বোচ্চ মহিমান্বিত আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত অন্যায় থেকে বিরত থাকার কিংবা ভালো কাজ করার শক্তি কারো নাই’’, অতঃপর বলে ’’হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।”16
«الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي فِي جَسَدِي، وَرَدَّ عَلَيَّ رُوحِي، وَأَذِنَ لِي بِذِكْرِهِ».
অর্থ: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার দেহে সুস্থতা দান করেছেন, আমার রূহ ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং আমাকে তাঁর যিকিরের অনুমতি দিয়েছেন।"17
﴿إِنَّ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱخۡتِلَٰفِ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ لَأٓيَٰتٖ لِّأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ 190 ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَٰذَا بَٰطِلٗا سُبۡحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ 191 رَبَّنَآ إِنَّكَ مَن تُدۡخِلِ ٱلنَّارَ فَقَدۡ أَخۡزَيۡتَهُۥۖ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٖ192 رَّبَّنَآ إِنَّنَا سَمِعۡنَا مُنَادِيٗا يُنَادِي لِلۡإِيمَٰنِ أَنۡ ءَامِنُواْ بِرَبِّكُمۡ فَـَٔامَنَّاۚ رَبَّنَا فَٱغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرۡ عَنَّا سَيِّـَٔاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ ٱلۡأَبۡرَارِ 193 رَبَّنَا وَءَاتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخۡزِنَا يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۖ إِنَّكَ لَا تُخۡلِفُ ٱلۡمِيعَادَ 194 فَٱسۡتَجَابَ لَهُمۡ رَبُّهُمۡ أَنِّي لَآ أُضِيعُ عَمَلَ عَٰمِلٖ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰۖ بَعۡضُكُم مِّنۢ بَعۡضٖۖ فَٱلَّذِينَ هَاجَرُواْ وَأُخۡرِجُواْ مِن دِيَٰرِهِمۡ وَأُوذُواْ فِي سَبِيلِي وَقَٰتَلُواْ وَقُتِلُواْ لَأُكَفِّرَنَّ عَنۡهُمۡ سَيِّـَٔاتِهِمۡ وَلَأُدۡخِلَنَّهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ ثَوَابٗا مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ عِندَهُۥ حُسۡنُ ٱلثَّوَابِ 195 لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فِي ٱلۡبِلَٰدِ 196 مَتَٰعٞ قَلِيلٞ ثُمَّ مَأۡوَىٰهُمۡ جَهَنَّمُۖ وَبِئۡسَ ٱلۡمِهَادُ 197 لَٰكِنِ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ رَبَّهُمۡ لَهُمۡ جَنَّٰتٞ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا نُزُلٗا مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِۗ وَمَا عِندَ ٱللَّهِ خَيۡرٞ لِّلۡأَبۡرَارِ 198 وَإِنَّ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ لَمَن يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيۡكُمۡ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِمۡ خَٰشِعِينَ لِلَّهِ لَا يَشۡتَرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ ثَمَنٗا قَلِيلًاۚ أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلۡحِسَابِ 199 يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱصۡبِرُواْ وَصَابِرُواْ وَرَابِطُواْ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ 200﴾
অর্থ: “নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নির্দশন। ১৯০
যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। আর বলে: ‘হে আমাদের রব, আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি সুমহান পবিত্র। সুতরাং আপনি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন’। ১৯১
হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, অবশ্যই তাকে আপনি অপমান করবেন। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। ১৯২
হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহবানকারীকে, যে ঈমানের দিকে এ মর্মে আহবান করে যে, ‘তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন’। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে। ১৯৩
হে আমাদের রব, আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। ১৯৪
অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন: ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন পুরুষ অথবা মহিলা আমলকারীর আমল নষ্ট করব না। তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং যাদেরকে আমার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ বিদূরিত করে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ; আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান। ১৯৫
নগরসমূহে সেসব লোকের চলা-ফেরা তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে যারা কুফরী করেছে। ১৯৬
এ তো স্বল্পকালীন ভোগ মাত্র; তারপর জাহান্নাম তাদের আবাস; আর সেটা কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল! ১৯৭
কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, সেখানে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারী। আর আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা নেককার লোকদের জন্য উত্তম। ১৯৮
আর নিশ্চয় আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যারা আল্লাহর জন্য বিনীত হয়ে আল্লাহর প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের প্রতি আর নাযিল করা হয়েছে তাদের প্রতি, সেগুলির উপরে ঈমান আনে। তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ স্বল্পমূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করে না। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট পুরস্কার। নিশ্চয় আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। ১৯৯
হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধারণ কর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং শত্রুর বিপক্ষে সদা প্রস্তুত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।”
[আলে ইমরান: ১৯০-২০০]।18
২. জামা পরিধানের দু‘আ
«الحَمْدُ للَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا (الثَّوْبَ) وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَّا قُوَّة...».
অর্থ: “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এই পোষাক পরিয়েছেন এবং আমাকে তা দান করেছেন আমার থেকে কোন প্রচেষ্টা ও শক্তি ছাড়াই...।”19
৩. নতুন পোষাক পরিধানের দু‘আ
«اللَّهُمَّ لَكَ الحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ، أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনার। এটি আপনি আমাকে পরিয়েছেন। আমি আপনার নিকটে এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যে উদ্দেশ্যে এটা বানানো হয়েছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর এর মধ্যে নিহিত ক্ষতি এবং যে উদ্দেশ্যে এটা বানানো হয়েছে তার অকল্যাণ হতে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।”20
৪. নতুন জামা পরিধানকারীর দু‘আ
«تُبْلِي وَيُخْلِفُ اللَّهُ تَعَالَى».
অর্থ: “এ কাপড় যেন পুরাতন হয় এবং আল্লাহ তা‘আলা যেন এর পরিবর্তে নতুন কাপড় দান করেন।”21
«اِلبَسْ جَدِيدًا، وَعِشْ حَمِيدًا، وَمُتْ شَهِيدًا».
অর্থ: "নতুন জামা পরিধান করো, প্রশংসনীয় জীবন যাপন করো এবং শাহাদাতের মৃত্যুবরণ করো।"22
৫. কাপড় খুলে রাখার সময় যা বলবে
«بِسْمِ اللَّه».
“বিসমিল্লাহ”।23
৬. টয়লেটে প্রবেশের দু‘আ
«[بِسْمِ اللَّهِ] اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الخُبْثِ وَالخَبَائِثِ».
অর্থ: “ [আল্লাহর নামে] হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর জিন ও নারী জিন থেকে আশ্রয় চাই।”24
৭. টয়লেট থেকে বের হওয়ার দু‘আ
«غُفْرَانَكَ».
অর্থ: “আপনার ক্ষমা চাই”।25
৮. অযুর পূর্বের দু‘আ (যিকির)
«بِسْمِ اللَّهِ»26.
অর্থ: “আমি আল্লাহর নামে আরম্ভ করলাম।”
৯. অযুর শেষে দু‘আ
«أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ..».
অর্থ: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনিই একক যার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।”27
«اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ المُتَطَهِّرِينَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”28
«سُبْحانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتوبُ إِلَيْكَ».
অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, এবং সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার কাছেই তাওবা করি।"29
১০. বাড়ি থেকে বের হওয়ার দু‘আ
«بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّّا بِاللَّهِ».
অর্থ: “আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), আমি আল্লাহর উপরেই ভরসা করেছি, আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাড়া কোন শক্তি অথবা উপায় নেই।”30
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ، أَوْ أُضَلَّ، أَوْ أَزِلَّ، أَوْ أُزَلَّ، أَوْ أَظْلِمَ، أَوْ أُظْلَمَ، أَوْ أَجْهَلَ، أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন আমি কাউকে পথভ্রষ্ট না করি আর নিজেও পথভ্রষ্ট না হই, আমি যেন কাউকে বিচ্যুত না করি আর নিজেও বিচ্যুত না হই। আমি কারো উপরে জুলুম না করি আর আমিও যেন জুলুুমের শিকার না হই। আর আমি যেন কাউকে অজ্ঞতার মধ্যে নিক্ষেপ না করি আর নিজেও অজ্ঞতার মধ্যে নিক্ষিপ্ত না হই।”31
১১. বাড়িতে প্রবেশের দু‘আ
«بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا، ثُمَّ لِيُسَلِّمْ عَلَى أَهْلِهِ».
অর্থ: “আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করেছি, আল্লাহর নামেই বের হয়েছি, আর আমাদের রব আল্লাহর উপরেই আমরা ভরসা করেছি।” তারপরে পরিবারের সদস্যদেরকে সালাম দেবে।32
১২. মসজিদে গমনের দু‘আ
«اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي لِسَانِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَمِنْ فَوْقِي نُورًا، وَمِنْ تَحْتِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ شِمَالِي نُورًا، وَمِنْ أَمَامِي نُورًا، وَمِنْ خَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي نَفْسِي نُورًا، وَأَعْظِمْ لِي نُورًا، وَعَظِّمْ لِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي نُورًا، وَاجْعَلْنِي نُورًا، اللَّهُمَّ أَعْطِنِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي عَصَبِي نُورًا، وَفِي لَحْمِي نُورًا، وَفِي دَمِي نُورًا، وَفِي شَعْرِي نُورًا، وَفِي بَشَرِي نُورًا».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দিন, আমার শ্রবণে নূর দিন, আমার দৃষ্টিতে নূর দিন। আমার ওপরে নূর দিন, আমার নিচে নূর দিন, আমার ডান পাশে নূর দিন, আমার বাম পাশে নূর দিন। আমার সামনে নূর দিন, আমার পেছনে নূর দিন। আমার আত্মায় নূর দিন, আমার জন্য নূর বৃদ্ধি করুন, আমার নূর মহান করুন। আমার জন্য নূর নির্ধারণ করুন, আমাকে নূরে পরিণত করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন। আমার স্নায়ুতে নূর দিন, আমার মাংসে নূর দিন, আমার রক্তে নূর দিন, আমার চুলে নূর দিন, এবং আমার চর্মে নূর দিন।”33
«اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي نُورًا فِي قَبْرِي... وَنُورًا فِي عِظَامِي» «وَزِدْنِي نُورًا، وَزِدْنِي نُورًا، وَزِدْنِي نُورًا»«وَهَبْ لِي نُورًا عَلَى نُورٍ.
“হে আল্লাহ! আমার কবরকে নূর দ্বারা আলোকিত করুন... এবং আমার অস্থিতে নূর দিন।” “এবং আমার নূর বৃদ্ধি করে দিন, আমার নূর বৃদ্ধি করে দিন, আমার নূর বৃদ্ধি করে দিন।” “এবং আমাকে নূরের উপর নূর দান করুন।”343536
১৩. মসজিদে প্রবেশের দু‘আ
"ডান পা দিয়ে প্রবেশ শুরু করবে" এবং বলবে:37
«أَعُوذُ بِاللَّهِ العَظِيمِ، وَبِوَجْهِهِ الكَرِيمِ، وَسُلْطَانِهِ القَدِيمِ، مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ.
অর্থ:আমি আশ্রয় চাই মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে, তাঁর মহিমান্বিত চেহারার মাধ্যমে, এবং তাঁর শাশ্বত ক্ষমতার দ্বারা, অভিশপ্ত শয়তানের অনিষ্ট থেকে।”38
«بِسْمِ اللَّهِ، وَالصَّلَاةُ» «وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ»
অর্থ: “আল্লাহর নামে এবং দরূদ” “ও সালাম আল্লাহর রাসূলের উপর বর্ষিত হোক।”3940
«اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ».
“হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।”41
১৪. মসজিদ থেকে বের হওয়ার দু‘আ
(প্রথমে বাম পা দিয়ে শুরু করবে)42 এবং বলবে:
«بِسْمِ اللَّهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ،
অর্থ: “আল্লাহর নামে শুরু করছি। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর,”
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِك،
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি,
اللَّهُمَّ اعْصِمْنِي مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ».
হে আল্লাহ! আমাকে বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।”43
১৫. আযানের যিকিরসমূহ
মুয়াজ্জিন যা বলে, তা-ই বলবে, তবে
((حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ وَحَيَّ عَلَى الفَلَاحِ)) অর্থ: “সালাতের দিকে আসো” এবং “কল্যাণের দিকে আসো” অংশে বলবে:
«لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ».
অর্থ: “আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাড়া কোন শক্তি অথবা উপায় নেই।”44
সে বলবে:
«وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًَّا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا، وَبِالإِسْلَامِ دِينًَا»
“এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহকে আমার রব হিসেবে, মুহাম্মাদকে রাসূল হিসেবে, এবং ইসলামকে আমার দীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।”45
(এটি মুয়াজ্জিনের শাহাদাতাইন (আশহাদু ...) সম্পন্ন করার পর সে বলবে)।46
(মুয়াজ্জিনের আজানের জবাব দেওয়া শেষ করার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর দরুদ পাঠ করবে।)47
এই দু‘আ পড়বে:
«اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ القَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ وَالفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًَا مَحمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ، [إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ المِيعَادَ]».
অর্থ: “হে আল্লাহ! এই পূর্ণাঙ্গ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করুন সুমহান মর্যাদা ও সম্মান এবং তাকে প্রশংসিত স্থানে পৌঁছান, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন। [নিশ্চয়ই আপনি ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।]”48
“আযান ও ইকামতের মাঝের সময়ে ব্যক্তি নিজের জন্য দু‘আ করবে, কারণ তখনকার দু‘আ প্রত্যাখ্যাত হয় না।”49
১৬. সলাত শুরু করার পর পঠিত দু‘আ
«اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ المَشْرِقِ وَالمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْني مِنْ خَطَايَايَ، بِالثَّلْجِ وَالماءِ وَالبَرَدِ».
অর্থ:“হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার গুনাহগুলোর মাঝখানে দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে আমার গুনাহগুলো থেকে এমনভাবে পবিত্র করুন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি বরফ, পানি ও শীতল জল দ্বারা আমার গুনাহগুলো ধুয়ে দিন।”50
«سُبْحانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য মহান, এবং আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই।”51
«وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًَا وَمَا أَنَا مِنَ المُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ المُسْلِمِينَ، اللَّهُمَّ أَنْتَ المَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبي جَمِيعًَا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلَّا أَنْتَ، وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الأَخْلاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِها إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا، لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، وَالخَيْرُ كُلُّهُ بِيَدَيْكَ، وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ، تَبارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتوبُ إِلَيْكَ».
অর্থ:“আমি আমার মুখমণ্ডল সেই মহান সত্তার দিকে ফিরালাম, যিনি আকাশমণ্ডলী ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, একনিষ্ঠভাবে, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।
নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু- সবকিছুই আল্লাহর জন্য, যিনি সমস্ত জগতের প্রতিপালক। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। এই নির্দেশই আমাকে দেয়া হয়েছে, আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
হে আল্লাহ! আপনিই হচ্ছেন মালিক, আপনি ছাড়া আর সত্য কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমার পালনকর্তা, আর আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং আমি আমার গোনাহ স্বীকার করছি।
অতএব, আপনি আমার সব গোনাহ ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
আপনি আমাকে উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করুন, কেননা উত্তম চরিত্রের দিকে কেবল আপনিই পথ দেখাতে পারেন।
আর আপনি আমাকে খারাপ চরিত্র থেকে দূরে রাখুন, কারণ খারাপ চরিত্র থেকে কেবল আপনিই রক্ষা করতে পারেন।
আমি আপনার ডাকে সাড়া দিচ্ছি, আমি আপনারই আনুগত্যে প্রস্তুত। সমস্ত কল্যাণই আপনার দু‘হাতে, আর অকল্যাণ আপনার দিকে সম্পর্কিত নয়।
আমি আপনার দ্বারাই পরিচালিত এবং আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন করি। আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার নিকট তাওবা করি।”52
«اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ، وَمِيْكَائِيلَ، وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ، اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقيمٍ».
অর্থ: হে আল্লাহ! জিবরীল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়সমূহের জ্ঞানের অধিকারী। আপনার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করে আপনিই সেগুলোর ফায়সালা করবেন। সত্য ও ন্যায়ের যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করা হয়েছে সে বিষয়ে আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে পথ দেখান। আপনিই যাকে ইচ্ছা সরল-সহজ পথ দেখিয়ে থাকেন।53
«اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًَا، اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالحَمْدُ لِلَّهِ كَثيرًا، وَالحَمْدُ لِلَّهِ كَثيرًا، وَالحَمْدُ لِلَّهِ كَثيرًا، وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا»
অর্থ: “আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহ অতি মহান। আর আল্লাহর জন্যই বহুল প্রশংসা, আল্লাহর জন্যই বহুল প্রশংসা, আল্লাহর জন্যই বহুল প্রশংসা। আর সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি।”
তিনবার
«أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ: مِنْ نَفْخِهِ، وَنَفْثِهِ، وَهَمْزِهِ».
অর্থ: “আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই শয়তান থেকে—তার ফুঁৎকার (অহঙ্কার), কুমন্ত্রণা ও কুমন্ত্রণা-সদৃশ কবিতা থেকে।”54
«اللَّهُمَّ لَكَ الحَمْدُ، أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، [وَلَكَ الحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ] [وَلَكَ الحَمْدُ لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ] [وَلَكَ الحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ] [وَلَكَ الحَمْدُ] [أَنْتَ الحَقُّ، وَوَعْدُكَ الحَقُّ، وَقَوْلُكَ الحَقُّ، وَلِقاؤُكَ الحَقُّ، وَالجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمحَمَّدٌ ﷺ حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ] [اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حاكَمْتُ. فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ، وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ] [وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي] [أَنْتَ المُقَدِّمُ، وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ] [أَنْتَ إِلَهِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ] [وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ]».
অর্থ:“হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য। আকাশমণ্ডলী, যমীন এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে আপনি এগুলির নূর। আপনারই জন্য প্রশংসা, আপনি আকাশমণ্ডলী, যমীন এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে তার সংরক্ষণকারী। [আপনারই জন্য প্রশংসা, আপনি আকাশমণ্ডলী ও যমীন এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে এগুলির রব।][আপনারই জন্য প্রশংসা, আপনি আকাশমণ্ডলী, যমীন এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে এগুলির অধিপতি।] [আপনারই জন্য প্রশংসা, আপনি আকাশমণ্ডলী ও যমীনের মালিক।] [আপনারই জন্য প্রশংসা।] [আপনি সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার বাণী সত্য, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবীগণ সত্য, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য, এবং কিয়ামত সত্য।] [হে আল্লাহ! আমি আপনারই প্রতি আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার উপরেই ভরসা করেছি, আপনার ওপরই ঈমান এনেছি, আপনার দিকেই অবনত হয়েছি, আপনারই কারণে বিতর্ক করেছি এবং আপনারই নিকট বিচার চেয়েছি।
অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন—আমার পূর্ববর্তী, পরবর্তী, গোপন, প্রকাশ্য গোনাহসমূহ] [এবং যা আপনি আমার সম্পর্কে আমার চেয়েও ভালো জানেন।] [আপনিই অগ্রগামী করেন আর আপনিই পশ্চাদগামী করেন; আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই।] [আপনি আমার ইলাহ, আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই।] [আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।]”5556
১৭. রুকুর দু‘আ
«سُبْحانَ رَبِّيَ العَظِيمِ».
আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
তিন বার।57
«سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের রব! আপনার প্রশংসা সহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন!”58
«سُبُّوُحٌ، قُدُّوسٌ، رَبُّ المَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ» .
অর্থ:
“(তিনি) সুমহান পবিত্র, অতিপবিত্র, (তিনি) ফেরেশতাগণ ও রূহের (জিবরাঈল আলাইহিস সালামের) রব।”59
«اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِي، وَبَصَرِي، وَمُخِّي، وَعَظْمِي، وَعَصَبِي، [وَمَا استَقَلَّتْ بِهِ قَدَمِي]».
অর্থ:“হে আল্লাহ! আমি আপনারই উদ্দেশ্যে রুকু করেছি, আপনারই ওপর ঈমান এনেছি, এবং আপনারই জন্য আত্মসমর্পণ করেছি।
আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, মস্তিষ্ক, অস্থি, শিরা-উপশিরা [এবং যে জিনিস বহন করে আমার পা দাঁড়িয়ে আছে] সবই আপনার জন্য বিনয়াবনত হয়েছে।”60
«سُبْحَانَ ذِي الجَبَرُوتِ، وَالمَلَكُوتِ، وَالكِبْرِيَاءِ، وَالعَظَمَةِ».
অর্থ:“মহাপরাক্রম, সর্বময় কর্তৃত্ব, মহত্ত্ব ও মহিমার অধিকারী (আল্লাহর) পবিত্রতা ঘোষণা করছি।”61
১৮. রুকু থেকে উঠার দু‘আ
«سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ».
অর্থ:“যে আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তার কথা শোনেন।”62
«رَبَّنَا وَلَكَ الحَمْدُ، حَمْدًا كَثيرًا طَيِّبًا مُبارَكًا فِيهِ».
অর্থ:“হে আমাদের রব! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা- প্রচুর, উত্তম ও বরকতময় প্রশংসা।”63
«مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ، وَمَا بَيْنَهُمَا، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيءٍ بَعْدُ. أَهلَ الثَّناءِ وَالمَجْدِ، أَحَقُّ مَا قَالَ العَبْدُ، وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ، اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ».
অর্থ:“আপনার জন্যই প্রশংসা আকাশমণ্ডলী পূর্ণ, যমীন পূর্ণ, এ দু‘য়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ এবং আপনার ইচ্ছামতো পরবর্তীকালের প্রতিটি বস্তু পূর্ণ।
হে প্রশংসা ও মর্যাদার যোগ্যতম সত্তা, বান্দা যা বলে আপনি তার চেয়েও বেশী হকদার। আর আমরা সবাই আপনারই বান্দা।
হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন, তা কেউ ঠেকাতে পারে না; আর আপনি যা আটকান, তা কেউ দান করতে পারে না। এবং সম্পদশালী মর্যাদাবান ব্যক্তির মর্যাদা আপনার সামনে তাকে কোন উপকার করতে পারে না, তোমার থেকেই মর্যাদা আসে।”64
১৯. সিজদার দু‘আ
«سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى»
অর্থ :আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা বর্ণনা করি।
তিন বার।65
«سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের রব! আপনার প্রশংসা সহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।”66
«سُبُّوحٌ، قُدُّوسٌ، رَبُّ المَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ».
অর্থ: “(তিনি) সুমহান পবিত্র, অতিপবিত্র, (তিনি) ফেরেশতাগণ ও রূহের (জিবরাঈল আলাইহিস সালামের) রব।”67
«اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الخَالِقِينَ.
অর্থ:“হে আল্লাহ! আমি আপনারই জন্য সিজদা করেছি, আপনারই ওপর ঈমান এনেছি, এবং আপনারই জন্য আত্মসমর্পণ করেছি।
আমার চেহারা এমন সত্তার জন্য সিজদা করেছে, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, তাকে আকার দিয়েছেন, তার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি প্রদান করেছেন।
আল্লাহ কতই না বরকতময় যিনি সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা।”68
«سُبْحَانَ ذِي الجَبَرُوتِ، وَالمَلَكُوتِ، وَالكِبْرِيَاءِ، وَالعَظَمَةِ.
অর্থ: “মহাপরাক্রম, সর্বময় কর্তৃত্ব, মহত্ত্ব ও মহিমার অধিকারী (আল্লাহর) পবিত্রতা ঘোষণা করছি।” 69
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ: دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَعَلَانِيَّتَهُ وَسِرَّهُ».
অর্থ:“হে আল্লাহ! আমার সমস্ত পাপ মাফ করুন: ছোট-বড়, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী, প্রকাশ্য ও গোপন।”70
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি আপনার কাছ থেকে আপনারই আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমি আপনার প্রশংসা পুরোপুরি উল্লেখ করতে পারব না; আপনি তো তেমনি যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।”71
২০. দুই সিজদার মাঝে বৈঠকের দু‘আ
«رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي».
অর্থ: “হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন, হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।”72
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي، وَارْفَعْنِي».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহমত করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমার অভাব পূরণ করুন, আমাকে সুস্থতা দিন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা উন্নত করুন।”73
২১. সিজদার আয়াত তেলাওয়াতের পর সিজদার দু‘আ
«سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ، فَتَبارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الخَالِقِينَ»
অর্থ: “আমার মুখমণ্ডল সিজদা করেছে তাঁর জন্য, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং নিজের শক্তি ও সামর্থ্যে তার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি প্রদান করেছেন। ‘...অতএব, বরকতময় সেই আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা।’”
[আল-মুমিনূন: ১৪]।74
«اللَّهُمَّ اكْتُبْ لِي بِهَا عِنْدَكَ أَجْرًا، وَضَعْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا، وَاجْعَلْهَا لِي عِنْدَكَ ذُخْرًا، وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَاوُدَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি এটির মাধ্যমে (এই সিজদা) আমার জন্য আপনার কাছে একটি সওয়াব লিপিবদ্ধ করুন, এটি দ্বারা আমার গুনাহসমূহ দূর করে দিন, এটিকে আমার জন্য আপনার কাছে সঞ্চয় হিসেবে রাখুন এবং এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করে নিন যেমন আপনি আপনার বান্দা দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষ থেকে কবুল করেছিলেন।”75
২২. তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু)
«التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَواتُ، وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسولُهُ».
অর্থ: “সমস্ত বড়ত্ব-সম্মান ও মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক সকল ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর যাবতীয় নিরাপত্তা , রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক! নিরাপত্তা আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মাবূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।”76
২৩. তাশাহহুদ পাঠের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর (সালাত) দরুদ পাঠ করা
«اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর বরকত দান করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।”77
«اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْواجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ, তার স্ত্রীগণ এবং তার সন্তান-সন্ততির ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীমের পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। আর মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তার সন্তান-সন্ততির ওপর বরকত দিন, যেমন আপনি ইবরাহীমের পরিবারবর্গের ওপর বরকত দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মর্যাদার অধিকারী।”78
২৪. শেষ তাশাহহুদের পরে সালাম ফিরানোর পূর্বের দু‘আ
«اللَّهُــمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি কবরের আযাব থেকে ও জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”79
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, আমি আপনার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, আমি আপনার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, এবং আমি আপনার নিকট পাপ ও ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়া থেকে আশ্রয় চাই।”80
«اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের ওপর অনেক যুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব, আপনার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষভাবে ক্ষমা করে দিন, আর আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু।”81
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ، وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ المُقَدِّمُ، وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ».
অর্থ: ”হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন আমার গুনাহসমূহ- যা পূর্বে করেছি, যা পরে করেছি, যা আমি গোপনে করেছি, যা প্রকাশ্যে করেছি, যা সীমালঙ্ঘন করে করেছি, আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। আপনিই অগ্রগামী করেন এবং আপনিই পিছিয়ে দেন, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।”82
«اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبادَتِكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার যিকির, আপনার শোকর আদায় ও আপনার উত্তম ইবাদত করতে সাহায্য করুন।”83
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ البُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ العُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ القَبْرِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কাপুরুষতা থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বার্ধক্যের নিকৃষ্ট স্তরে পৌঁছানো থেকে, এবং আমি আপনার কাছে দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকেও আশ্রয় চাই।”84
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জান্নাত চাই, এবং আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।”85
«اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الخَلقِ أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الحَيَاةَ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الحَقِّ فِي الرِّضَا وَالغَضَبِ، وَأَسْأَلُكَ القَصْدَ فِي الغِنَى وَالفَقْرِ، وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ، وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ القَضَاءِ، وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ العَيْشِ بَعْدَ المَوْتِ، وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ زَيِّنَا بِزِينَةِ الإِيمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আপনার গায়েবী জ্ঞান ও সৃষ্টি জগতের উপরে আপনার কুদরতের দ্বারা- আপনি যতক্ষণ জানেন যে জীবন আমার জন্য ভালো, ততক্ষণ আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন; আর আপনি যদি জানেন যে মৃত্যু আমার জন্য ভালো, তবে আমাকে মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনার ভয় প্রার্থনা করছি। আপনার কাছে প্রার্থনা করছি- সন্তুষ্টি ও রাগ উভয় অবস্থায় সত্য কথা বলার তাওফিক। আপনার কাছে প্রার্থনা করছি- সম্পদ ও দারিদ্র্য উভয় অবস্থায় ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা।
আপনার কাছে এমন নিয়ামত চাইছি যা কখনো ফুরাবে না। একটি নিরবচ্ছিন্ন চোখের প্রশান্তি চাই। ফয়সালার পর আপনার সন্তুষ্টি চাই। মৃত্যুর পর প্রশান্ত জীবন চাই। আপনার চেহারার দর্শনের স্বাদ এবং আপনার সাক্ষাতের জন্য আকুলতা চাই- কোনো ক্ষতিকর বিপদ ছাড়াই, এবং বিভ্রান্তিকর ফিতনা ছাড়াই। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের সৌন্দর্যে সজ্জিত করুন, এবং আমাদেরকে পথপ্রদর্শক ও সঠিক পথপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।”86
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ يَا أَللَّهُ بِأَنَّكَ الوَاحِدُ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ، أَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحِّيمُ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, হে আল্লাহ, এর মাধ্যমে যে, আপনি হলেন একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী- যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাকে জন্ম দেয়া হয়নি, আর কেউ তার সমকক্ষ নয়; আপনি আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।”87
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الحَمْدَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، المَنَّانُ، يَا بَدِيعَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ يَا ذَا الجَلَالِ وَالإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ إِنِّي أَسْأَلُكَ الجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি— এ জন্য যে, সমস্ত প্রশংসা আপনারই প্রাপ্য। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই। আপনি অনুগ্রহকারী, হে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের অনন্য স্রষ্টা, হে মর্যাদা ও মহত্ত্বের অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে সর্বধারক! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই, এবং জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”88
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এ সাক্ষ্য দ্বারা যে, আপনি আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই, আপনি এক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি জন্ম দেননি, জন্মগ্রহণও করেননি, আর আপনার কোনো সমকক্ষও নেই।”89
২৫. ফরজ সালাতের সালাম ফিরানোর পরবর্তী যিকিরসমূহ
«أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
«আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই
(তিনবার)
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الجَلَالِ وَالإِكْرَامِ».
“হে আল্লাহ! আপনিই সালাম (নিরাপত্তা ও শান্তিদাতা), আর আপনার পক্ষ থেকেই নিরাপত্তা ও শান্তি। আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও মর্যাদার অধিকারী।”90
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
[তিনবার]
اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ».
“হে আল্লাহ! আপনি যা প্রদান করেন, তা কেউ রোধ করতে পারে না, আর আপনি যা রোধ করেন, তা কেউ প্রদান করতে পারে না। আর কোনো বড়ত্ব ও অর্থের মালিক কে তা উপকারে আসবে না বরং আপনার থেকেই তার অংশ নিহিত।”91
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ، وَلَهُ الحَمدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الحَسَنُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الكَافِرُونَ».
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর উপরে ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি। সব অনুগ্রহ তাঁরই, শ্রেষ্ঠত্বও তাঁর আর সুন্দর প্রশংসা তাঁরই জন্য। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, আমরা তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠভাবে মান্য করি, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।”92
«سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ
“আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
(তেত্রিশ বার)
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ».
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”93
﴿قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ1 ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ2 لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ3 وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدُۢ4﴾
"বলুন, ‘তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়।১
আল্লাহ স্বয়ং সম্পুর্ণ অমুখাপেক্ষী।২
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি।৩
এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।৪”
[সূরা আল-ইখলাস ১-৪] ।
﴿قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلۡفَلَقِ1 مِن شَرِّ مَا خَلَقَ2 وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ3 وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِي ٱلۡعُقَدِ4 وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ5﴾
“বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রভাতের রবের।১
তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে।২
‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়।৩
"এবং গিরায় ফুঁদানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে।"।৪
আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের- যখন সে হিংসা করে।৫” [সূরা আল-ফালাক : ১-৫]।
﴿قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ1 مَلِكِ ٱلنَّاسِ2 إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ3 مِن شَرِّ ٱلۡوَسۡوَاسِ ٱلۡخَنَّاسِ4 ٱلَّذِي يُوَسۡوِسُ فِي صُدُورِ ٱلنَّاسِ5 مِنَ ٱلۡجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ6﴾
“বলুন, ‘আমি আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের।১
মানুষের অধিপতির,২
মানুষের মাবূদের কাছে,৩
আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে,৪
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে,৫
জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।৬”
[সূরা আন-নাস: ১-৬]।
প্রত্যেক সালাতের পর।94
﴿ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ255﴾
অর্থ: “আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, সেগুলি তাঁর জন্যই। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দু’টোর সংরক্ষণ তাঁকে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত করতে পারে না। আর তিনি সুউচ্চ, সুমহান।” ২৫৫
[আল-বাকারাহ : ২৫৫] প্রত্যেক(ফরজ) সালাতের পর।95
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ»
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
দশবার মাগরিব ও ফজরের সলাতের পর।96
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا»
“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কল্যাণকর জ্ঞান, পবিত্র জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।”
بَعْدَ السَّلامِ مِنْ صَلَاةِ الفَجْرِ.
ফজরের সালাতের সালাম ফিরানোর পর।97
ইস্তেখারা সালাতের দু‘আ
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সকল কাজের জন্য ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন:
«إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الفَرِيضَةِ، ثُمَّ لْيَقُلْ:
“যখন তোমাদের কেউ কোনো বিষয়ের চিন্তা করবে, তখন সে যেন ফরয সালাতের বাইরে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করে, অতঃপর বলে:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيمِ؛ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأمْرَ - وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ - خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي – أَوْ قَالَ: عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ - فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي – أَوْ قَالَ: عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের ওসিলায় আপনার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। আপনার কুদরত (ক্ষমতা)-এর ওসিলায় আপনার নিকট ক্ষমতা প্রার্থনা করছি। আর আপনার নিকটে আপনার মহা অনুগ্রহ চাচ্ছি। কেননা আপনিই সকল কাজের শক্তি রাখেন আর আমি কাজের শক্তি রাখি না। আপনি সব কিছুই জানেন কিন্তু আমি জানি না। আর আপনি গায়েবের ব্যাপারে মহাজ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি আপনি জেনে থাকেন যে এ কাজটি - ব্যক্তি তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে- আমার জন্যে আমার দ্বীনের ক্ষেত্রে , আমার বিষয়ের শেষ পরিণামে, আমার জীবিকায় অথবা বলেছেন, তা এখন বা পরবর্তীতে ভাল হবে, তাহলে তাতে আমার জন্যে সামর্থ্য দিন এবং আমার জন্য তা সহজ করে দিন। তারপর তাতে আমার জন্য বারকত দান করুন। আর যদি আপনি জানেন যে, এ কাজটি আমার জন্য আমার দ্বীনে, আমার বিষয়ের শেষ পরিণামে, অথবা বলেছেন, তা এখন বা পরবর্তীতে ক্ষতিকর হবে, তাহলে আমাকে তার থেকে আর তাকে আমার থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আর আমার জন্যে যা কল্যাণকর তা যেখানে-যেভাবেই থাকুক না কেন তার আমাকে সামর্থ্য দিন। অতঃপর আমাকে তার দ্বারা সন্তুষ্ট করে দিন।”98
যে ব্যক্তি সৃষ্টিকর্তার নিকট ইস্তিখারা করে, মুমিন বান্দাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং নিজের কাজে দৃঢ় থাকে—সে কখনো অনুতপ্ত হয় না। কেননা আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) বলেছেন:
﴿...وَشَاوِرۡهُمۡ فِي ٱلۡأَمۡرِۖ فَإِذَا عَزَمۡتَ فَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ...﴾
“এবং কাজে কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোন সংকল্প করলে আল্লাহ্র উপর নির্ভর করবেন।”99
27. সকাল এবং সন্ধ্যার যিকিরসমূহ
অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং শান্তি ও দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর উপর যার পরে আর কোনো নবী নেই।”100
আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।
﴿ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ255﴾
অর্থ: “আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, সেগুলি তাঁর জন্যই। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দু’টোর সংরক্ষণ তাঁকে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত করতে পারে না। আর তিনি সুউচ্চ, সুমহান।২৫৫”
[আল-বাকারাহ: ২৫৫]101
﴿قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ1 ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ2 لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ3 وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدُۢ4﴾
"বলুন, ‘তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়।১
আল্লাহ স্বয়ং সম্পুর্ণ অমুখাপেক্ষী।২
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি।৩
এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।৪”
[সূরা আল-ইখলাস ১-৪] ।
﴿قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلۡفَلَقِ1 مِن شَرِّ مَا خَلَقَ2 وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ3 وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِي ٱلۡعُقَدِ4 وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ5﴾
“বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের।১
তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে।২
আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়।৩
আর গিরায় ফুঁদানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে।"
।৪
আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের- যখন সে হিংসা করে।৫” [সূরা আল-ফালাক: ১-৫]।
﴿قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ1 مَلِكِ ٱلنَّاسِ2 إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ3 مِن شَرِّ ٱلۡوَسۡوَاسِ ٱلۡخَنَّاسِ4 ٱلَّذِي يُوَسۡوِسُ فِي صُدُورِ ٱلنَّاسِ5 مِنَ ٱلۡجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ6﴾
“বলুন, ‘আমি আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের।১
মানুষের অধিপতির,২
মানুষের মাবূদের কাছে,৩
আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে,৪
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে,৫
জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।৬”
[সূরা আন-নাস: ১-৬] (তিন বার)।102
«أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ المُلْكُ لِلَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذَا اليَوْمِ وَخَيرَ مَا بَعْدَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذَا اليَوْمِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الكَسَلِ وَسُوءِ الكِبَرِ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي القَبْرِ» .
অর্থ: “আমরা এবং সকল রাজত্ব আল্লাহর জন্য সকালে উপনীত হলাম। আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে এই দিনে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তাও প্রার্থনা করছি । আর আমি আপনার কাছে এই দিনে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে অলসতা ও বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আযাব এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”103
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে:
«أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ، وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ، وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الكَسَلِ وَسُوءِ الكِبَرِ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي القَبْرِ».
“আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে এই রাতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তা প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার কাছে এই রাতে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে অলসতা ও বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আযাব এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”104
«اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ».
উচ্চারণ:“আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা, ওয়া বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা নাহইয়া, ওয়া বিকা নামূতু, ওয়া ইলাইকান নুশূর।”
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনারই তত্ত্বাবধানে ও ইচ্ছায় আমাদের সকাল হল এবং আপনারই ইচ্ছায় আমাদের সন্ধ্যা হয় , আপনারই শক্তিতে আমরা বাঁচি , আপনারই শক্তিতে আমরা মারা যাই এবং আপনার দিকেই আমাদের পুনরুত্থান।”105
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে:
«اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ» .
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা আসবাহনা, ওয়া বিকা নাহইয়া, ওয়া বিকা নামূতু, ওয়া ইলাইকাল মাসীর।”
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনারই তত্ত্বাবধানে আমাদের সন্ধ্যা হল এবং আপনারই ইচ্ছায় আমাদের সকাল হয়, আপনারই শক্তিতে আমরা বাঁচি, আপনারই শক্তিতে আমরা মৃত্যুবরণ করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।”106
«اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন আর আমি আপনার দাস এবং আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর যথাসাধ্য প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি যা করেছি, তার মন্দ থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমার উপর আপনার যে নি‘আমত রয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার অপরাধও আমি স্বীকার করছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন; কেননা আপনি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না।”107108
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ، وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ، وَمَلَائِكَتِكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ، أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি সকালে উপনীত হয়েছি- আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি, এবং আপনার আরশ বহনকারীদের, আপনার ফেরেশতাদের এবং আপনার সকল সৃষ্টি জগতকে সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো অংশীদার নেই, আর মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসূল।”
চারবার৷109
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে:
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ أُشْهِدُكَ، وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ، وَمَلَائِكَتِكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ، أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ».
“হে আল্লাহ! আমি সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি- আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি, এবং আপনার আরশ বহনকারীদের, আপনার ফেরেশতাদের এবং আপনার সকল সৃষ্টি জগতকে সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো অংশীদার নেই, আর মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসূল।”
চারবার।110
«اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ» .
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার অথবা আপনার কোন সৃষ্টির যে নি‘আমত লাভ হয়েছে এই সকালে তা কেবলই আপনার থেকে। আপনি একক, আপনার কোন শরীক নেই। কাজেই আপনার জন্য সকল প্রশংসা এবং আপনার জন্যই সকল কৃতজ্ঞতা।’111
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে:
«اللَّهُمَّ مَا أَمْسَى بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ».
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার অথবা আপনার কোন সৃষ্টির যে নি‘আমত লাভ হয়েছে এই সন্ধ্যায় তা কেবলই আপনার থেকে। আপনি একক, আপনার কোন শরীক নেই। কাজেই আপনার জন্য সকল প্রশংসা এবং আপনার জন্যই সকল কৃতজ্ঞতা।’112
«اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الكُفْرِ، وَالفَقْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আমার দেহে সুস্থতা দিন, হে আল্লাহ! আপনি আমার কানে সুস্থতা দিন, হে আল্লাহ! আপনি আমার চোখে সুস্থতা দিন। আপনি ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই কুফরী ও দারিদ্র্যতা থেকে এবং কবরের আযাব থেকেও আশ্রয় চাই। আপনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।”
তিনবার।113
«حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيهِ تَوَكَّلتُ وَهُوَ رَبُّ العَرْشِ العَظِيمِ».
“আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই, আমি তাঁরই উপর ভরসা করি, আর তিনি মহা আরশের রব।”
(সাতবার)।114
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَفْوَ وَالعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَفْوَ وَالعَافِيَةَ: فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي، وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَينِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন বিষয়গুলো আচ্ছাদিত করুন এবং আমার ভয়ের কারণগুলো থেকে নিরাপদ করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছন থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে ও উপর থেকে হিফাযত করুন। আর আমি আপনার মহত্ত্বের মাধ্যমে আশ্রয় চাই যেন আমার নিচ থেকে আকস্মিক আক্রমণ করা না হয়।”115
«اللَّهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطانِ وَشَرَكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি অদৃশ্য ও দৃশ্য জগতের জ্ঞানী, আসমানসমূহ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, সকল কিছুর রব ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আরও আশ্রয় চাচ্ছি, আমার নিজের কোন ক্ষতি করা অথবা কোন মুসলিমের প্রতি তা টেনে নেওয় হতে।”116
«بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ».
অর্থ: “আল্লাহ্র নামে, যাঁর নামের সাথে আকাশে ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
তিনবার।117
«رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًَّا، وَبِالإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ ﷺ نَبِيًّا».
অর্থ: “আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট।”
তিনবার।118
«يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغيثُ أَصْلِحْ لِي شَأْنِيَ كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ».
অর্থ: “হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক ও সংরক্ষক! আমি তোমার করুণার অসীলায় ফরিয়াদ করছি। তুমি আমার সকল বিষয়কে সংশােধন করে দাও। আর চোখের এক পলক পরিমাণও আমাকে আমার নিজের প্রতি সােপর্দ করে দিও না।”119
«أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ المُلْكُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، اللَّهُـمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَا اليَوْمِ: فَتْحَهُ، وَنَصْرَهُ، وَنورَهُ، وَبَرَكَتَهُ، وَهُدَاهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ».
অর্থ: “আমরা ভোরে এসে উপনীত হলাম আর আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীনের উদ্দেশ্যে রাজত্বও ভোরে এসে উপনীত হলো। হে আল্লাহ! আমি আজকের দিনের কল্যাণ, বিজয়, সাহায্য, আলো, বরকত ও হিদায়াত কামনা করছি। আর আজকের দিনের অনিষ্ট ও তার পরের অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।”120
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে:
«أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى المُلْكُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ: فَتْحَهَا، وَنَصْرَهَا، وَنُورَهَا، وَبَرَكَتَهَا، وَهُدَاهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهَا، وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا».
“আমরা সন্ধ্যায় এসে উপনীত হলাম আর আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীনের উদ্দেশ্যে রাজত্বও সন্ধ্যায় এসে উপনীত হলো। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এই রাত্রির কল্যাণ প্রার্থনা করছি: এর বিজয়, সাহায্য, আলো, বরকত ও হিদায়াত চাইছি। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এতে যা কিছু অকল্যাণ আছে এবং পরে যা কিছু অকল্যাণ আসবে তা থেকে।”121
«أَصْبَحْنا عَلَى فِطْرَةِ الإِسْلَامِ، وَعَلَى كَلِمَةِ الإِخْلاَصِ، وَعَلَى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، وَعَلَى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ، حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ المُشرِكِينَ».
অর্থ: “আমরা সকালে উপনীত হলাম ইসলামের প্রকৃতির উপর, ইখলাসের বাণীর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের উপর এবং আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের মিল্লাতের উপর, যিনি একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। এটিও তিনি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করতেন।”122
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে:
«أَمْسَيْنَا عَلَى فِطْرَةِ الإِسْلَامِ، وَعَلَى كَلِمَةِ الإِخْلاَصِ، وَعَلَى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، وَعَلَى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ، حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ المُشرِكِينَ».
অর্থ: “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হলাম ইসলামের প্রকৃতির উপর, ইখলাসের বাণীর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের উপর এবং আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের মিল্লাতের উপর, যিনি একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।”123
«سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ».
“আমি আল্লাহর পবিত্রতা ও তাঁর প্রশংসা ঘোষণা করছি।”
(একশ’ বার)।124
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ».
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
দশবার, অথবা অলসতার সময় একবার।125126
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ».
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
সকালে (একশ’ বার)।127
«سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ: عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ».
অর্থ: “আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি, তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর নফসের সন্তুষ্টির পরিমাণ, তাঁর আরশের ভার পরিমাণ এবং তাঁর কালেমাসমূহের কালি পরিমাণ।”
সকালে তিনবার।128
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কল্যাণকর জ্ঞান, পবিত্র জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।”।
সকালে উপনীত হয়ে।129
«أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ».
“আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকে ফিরে আসছি।”
(দিনে একশ’বার।)।130
«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ».
“আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্ট সব কিছুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”
(সন্ধ্যায় তিনবার।)।131
«اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبَيِّنَا مُحَمَّدٍ».
(হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর সালাত ও সালাম নাযিল করুন।)
দশ বার।132
২৮. ঘুমানোর যিকিরসমূহ
দুই হাত একত্রিত করে তাতে ফুঁক দিবে এবং তাতে পাঠ করবে:
﴿قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ1 ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ2 لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ3 وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدُۢ4﴾
"বলুন, ‘তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়।১
‘আল্লাহ্ স্বয়ংসম্পন্ন অমুখাপেক্ষী।২
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি।৩
এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।৪”
[সূরা আল-ইখলাস ১-৪] ।
﴿قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلۡفَلَقِ1 مِن شَرِّ مَا خَلَقَ2 وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ3 وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِي ٱلۡعُقَدِ4 وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ5﴾
“বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের।১
তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে।২
‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়।৩
‘আর গিরায় ফুঁক দেয় এ সমস্ত নারীদের অনিষ্ট হতে।৪
আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের- যখন সে হিংসা করে।৫” [সূরা আল-ফালাক : ১-৫]।
﴿قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ1 مَلِكِ ٱلنَّاسِ2 إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ3 مِن شَرِّ ٱلۡوَسۡوَاسِ ٱلۡخَنَّاسِ4 ٱلَّذِي يُوَسۡوِسُ فِي صُدُورِ ٱلنَّاسِ5 مِنَ ٱلۡجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ6﴾
“বলুন, ‘আমি আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের।১
মানুষের অধিপতির,২
মানুষের মাবূদের কাছে,৩
আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে,৪
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরসমূহে,৫
জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।৬”
[সূরা আন-নাস: ১-৬]।
তারপর উভয় হাত যতটুকু সম্ভব নিজ শরীরে বুলিয়ে নিবে; প্রথমে তা মাথা ও চেহারায় এবং শরীরের সামনের অংশে। (এভাবে তিনবার এই কাজটি করবে)।133
﴿ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ255﴾
অর্থ: “আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, সেগুলি তাঁর জন্যই। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দু’টোর সংরক্ষণ তাঁকে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত করতে পারে না। আর তিনি সুউচ্চ, সুমহান। ২৫৫”
[সূরা আল-বাকারাহ : ২৫৫,]।134
﴿ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ285 لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ وَٱعۡفُ عَنَّا وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا فَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ286﴾
“রাসূল তার রবের পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে: আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।২৮৫
আল্লাহ্ কারো উপরে তার সাধ্যাতীত উপর এমন কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। সে ভাল যা কিছু উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা অর্জন করে তার প্রতিফলও তার উপরই বর্তাবে। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন, আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি রহমত করুন, আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।২৮৬”
[সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৫-২৮৬]।135
«بِاسْمِك رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، فَإِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ».
অর্থ: “হে আমার রব! আমি আপনার নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমার সাহায্যেই তা উঠিয়ে থাকি। যদি আপনি আমার আত্মা কবজ করেন, তবে তার প্রতি রহমত করবেন; আর যদি তা ছেড়ে দেন, তবে তাকে সেইভাবে হেফাযত করুন, যেমন আপনি আপনার নেককার বান্দাদের হেফাযত করে থাকেন।”।136137
«اللَّهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْياهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَافِيَةَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আমার আত্মা সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটান, তার জীবন এবং মৃত্যুর অধিকারী আপনি। যদি আপনি তাকে জীবিত রাখেন, তবে তাকে রক্ষা করুন, এবং যদি তাকে মৃত্যু দান করেন, তবে তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করছি।”।138
«اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করবেন, সেদিন আমাকে আপনার শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”।139140
«بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।”141
«سُبْحَانَ اللَّهِ
“সুবহানাল্লাহ
(ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ)،
(তেত্রিশবার)
وَالحَمْدُ لِلَّهِ
আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য
(ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ)،
(তেত্রিশ বার)
وَاللَّهُ أَكْبَرُ
ওয়াল্লাহু আকবার
(أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ)».
(৩৪ বার)।”142
«اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الأَرْضِ، وَرَبَّ العَرْشِ العَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ، وَالفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ البَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الفَقْرِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আকাশসমূহের রব, যমীনের রব, মহান ‘আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব। হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি আপনার নিকট এমন প্রত্যেক বস্তুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আপনি যার অগ্রভাগ (মাথা) ধরে রেখেছেন। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম আপনার পূর্বে কিছুই নেই, আপনি সর্বশেষ আপনার পরে কিছুই নেই, আপনি সব কিছুর উপরে আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাব থেকে মুক্ত করুন।”143
«الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا، وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ».
অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের যথেষ্ট করেছেন এবং আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। অথচ কত এমন লোক আছে যাদের যথেষ্ট-কারী ও আশ্রয়দাতা নেই।”144
«اللَّهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি অদৃশ্য ও দৃশ্য জগতের জ্ঞানী, আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, সকল কিছুর প্রতিপালক ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আমার আত্মার অকল্যাণ থেকে এবং শয়তানের অকল্যাণ ও শিরক থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আরো আশ্রয় চাচ্ছি, আমার নিজের কোন ক্ষতি করা অথবা কোন মুসলিমের ক্ষতি করা থেকে।”145
«يَقْرَأُ ﴿الــم﴾ تَنْزِيلَ السَّجْدَةِ، وَتَبَارَكَ الَّذي بِيَدِهِ المُلْكُ.
সূরা আস-সাজদাহ (আলিফ-লাম-মীম, তানযীল) এবং সূরা মুলক (তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল্-মুল্কু) পাঠ করবে।146
«اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আমার আত্মাকে আপনার নিকট সমর্পণ করেছি, আমার সমস্ত বিষয় আপনার উপর অর্পণ করেছি, আমার মুখমণ্ডল আপনার দিকে ফিরিয়েছি, আমার পৃষ্টদেশকে ভয়ে এবং প্রত্যাশায় আপনার দিকেই ন্যস্ত করেছি। আপনার কাছ ছাড়া আর কোথাও আশ্রয় ও মুক্তি নেই। আমি আপনার নাজিলকৃত কিতাব এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর ঈমান এনেছি।”147148
২৯. রাতে (ঘুমের সময়) পার্শ্ব পরিবর্তন করার দু‘আ
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الوَاحِدُ القَهّارُ، رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا العَزيزُ الغَفَّارُ».
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই; তিনি এক, পরাক্রমশালী। তিনি আকাশমণ্ডলী, যমীন এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে তার প্রতিপালক; তিনি পরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।”149
৩০. ঘুমন্ত অবস্থায় ভয় এবং নির্জনতার আতঙ্কে পড়ার দু‘আ
«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّياطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ».
অর্থ: “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাই তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তাদের আমার নিকট উপস্থিত হওয়া থেকেও।”150
৩১. দুঃস্বপ্ন দেখলে যা করবে
সে তার বাম পাশে তিনবার হালকাভাবে থুতু ফেলবে।151
“আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে শয়তান থেকে এবং সে যা দেখেছে তার অকল্যাণ থেকে” (তিনবার)।152
“তা কারো সঙ্গে আলোচনা করবে না।”153
“শরীরের যেই পার্শ্বে শুয়ে ছিল তা থেকে অন্য পাশে ঘুরে যাবে।”154
“যদি সে চায়, তাহলে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে।”155
৩২. বিতরের কুনূতের দু‘আ
«اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ؛ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ، إِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، [وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ]، تَبارَكْتَ رَبَّنا وَتَعَالَيْتَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাকেও হিদায়াত দিন; যাদেরকে আপনি সুস্থতা দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাকেও সুস্থতা দিন; যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের সঙ্গে আমাকেও অভিভাবকত্বে নিয়ে নিন; আপনি যা দিয়েছেন, তাতে আমার জন্য বরকত দিন; আর আপনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সিদ্ধান্ত নেন, আপনার বিরুদ্ধে কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আপনি যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন, সে কখনো লাঞ্ছিত হয় না;” “আর আপনি যার সাথে শত্রুতা করেন, সে কখনো সম্মানিত হতে পারে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি বরকতময়, আপনি মহান।”156
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি আপনার কাম্য সিফতের মাধ্যমে ভীতিপ্রদ সিফাত থেকে আপনারই আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমি আপনার প্রশংসা পুরোপুরি উল্লেখ করতে পারব না; আপনি তো তেমনি যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।”157
«اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ، نَرْجُو رَحْمَتَكَ، وَنَخْشَى عَذَابَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالكَافِرِينَ مُلْحِقٌ، اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ، وَنَسْتَغْفِرُكَ، وَنُثْنِي عَلَيْكَ الخَيْرَ، وَلَا نَكْفُرُكَ، وَنُؤْمِنُ بِكَ، وَنَخْضَعُ لَكَ، وَنَخْلَعُ مَنْ يَكْفرُكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি, আপনারই জন্য সালাত আদায় করি ও সিজদা করি, আপনারই দিকে দ্রুত ধাবিত ও অগ্রসর হই। আমরা আপনার রহমতের আশা করি এবং আপনার শাস্তিকে ভয় করি—নিশ্চয়ই আপনার শাস্তি কাফিরদেরকে পেয়ে বসবে। হে আল্লাহ! আমরা আপনারই সাহায্য চাই, আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, আপনার কল্যাণময় প্রশংসা করি, আপনার সঙ্গে কুফরি করি না; আমরা আপনার প্রতি ঈমান রাখি, আপনার সামনে বিনয়াবনত হই, এবং যারা আপনার সঙ্গে কুফরি করে তাদের থেকে নিজেদের আলাদা করি।”158
৩৩. বিতর সালাতের সালাম ফিরানোর পরের যিকির
«سُبْحَانَ المَلِكِ القُدُّوسِ»
(মহাপবিত্র অধিপতির পবিত্রতা ঘোষণা করছি)
ثَلَاثَ مرَّاتٍ
তিন বার
والثَّالِثَةُ يَجْهَرُ بها ويَمُدُّ بِهَا صَوتَهُ يَقُولُ:
আর তৃতীয়বার উচ্চস্বরে এবং আওয়াজ দীর্ঘ করে পাঠ করবে:
«رَبِّ المَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ».
অর্থ: “ফেরেশতাগণ ও রূহের (জিবরাঈল আলাইহিস সালামের) রব।”159
৩৪. দুঃখ ও দুশ্চিন্তার সময় পড়ার দু‘আ
«اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ، ابْنُ عَبْدِكَ، ابْنُ أَمَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ القُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ صَدْرِي، وَجَلَاءَ حُزْنِي، وَذَهَابَ هَمِّي».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা এবং আপনারই এক বান্দা ও এক বান্দীর পুত্র। আমার কপাল আপনার হাতে, আপনার নির্দেশ আমার ওপর কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ইনসাফপূর্ণ। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার প্রতিটি নামের ওয়াসিলায়, যার দ্বারা আপনি নিজে নিজেকে ভূষিত করেছেন অথবা যা আপনার সৃষ্টজীবের কাউকে শিখিয়েছেন অথবা যা আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন অথবা যা আপনার কাছে গায়েবী ইলমে সংরক্ষণ করেছেন: আপনি কুরআনকে আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের নূর, আমার দুঃখ অপসারণকারী ও আমার দুশ্চিন্তা দূরকারী বানিয়ে দিন।”160
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَالعَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالبُخْلِ وَالجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষের দমন-নিপীড়ন থেকে।”161
৩৫. দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির দু‘আ
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ العَظِيمُ الحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ العَرْشِ العَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ العَرْشِ الكَرِيمِ».
অর্থ: “সুমহান ও মহাসহিষ্ণু আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই। মহা ‘আরশের রব আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই। আসমানসমূহের রব, যমীনের রব ও মহিমান্বিত ‘আরশের রব আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই।”162
«اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو، فَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ.
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমত আশা করি, সুতরাং আপনি আমাকে আমার নিজের কাছে নিমেষের জন্যও সোপর্দ করবেন না। আর আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন, আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।”163
«لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ».
অর্থ: “আপনি ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, আপনি অতি পবিত্র। নিশ্চয় আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”164
«اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا».
অর্থ: “আল্লাহ, আল্লাহ- তিনি আমার প্রতিপালক; আমি তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরীক করি না।”165
৩৬. শত্রু ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতকালে দু‘আ
«اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِم، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমরা তাদের মোকাবিলায় আপনাকেই তাদের গলার সামনে রাখছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছেই আশ্রয় চাচ্ছি।”166
«اللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِي، وَأَنْتَ نَصِيرِي، بِكَ أَحُولُ وَبِكَ أَصُولُ، وَبِكَ أُقاتِلُ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আমার শক্তি আর আপনিই আমার সাহায্যকারী। আপনার সাহায্যেই আমি কৌশল অবলম্বন করি, আপনার সাহায্যেই আমি আক্রমনে অগ্রসর হই, এবং আপনার সাহায্যেই আমি যুদ্ধ করি।”167
«حَسْبُنا اللَّهُ وَنِعْمَ الوَكِيلُ».
অর্থ: “আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কত উত্তম কর্মসম্পাদনকারী।”168
৩৭. শাসকের যুলুমের আশঙ্কাকারীর দু‘আ
«اللَّهُمَّ ربَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ، وَرَبَّ العَرْشِ العَظِيمِ، كُنْ لِي جَارًا مِنْ فُلَانِ بْنِ فُلَانٍ، وَأَحْزَابِهِ مِنْ خَلَائِقِكَ، أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ يَطْغَى، عَزَّ جَارُكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি সাত আকাশের এবং মহা ‘আরশের প্রতিপালক। আপনি আমার আশ্রয়দানকারী হোন অমুকের ছেলে অমুক এবং আপনার সৃষ্টিকুলের মধ্য হতে তার বাহিনীর বিরুদ্ধে, যাতে তাদের কেউ আমার উপর অত্যাচার করতে না পারে বা অন্যায়ভাবে আধিপত্য স্থাপন করতে না পারে। আপনার আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তি শক্তিশালী, আপনার প্রশংসা মহান, এবং আপনি ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই।”169
«اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَعَزُّ مِنْ خَلْقِهِ جَمِيعًا، اللَّهُ أَعَزُّ مِمَّا أَخَافُ وَأَحْذَرُ، أَعُوذُ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، المُمْسِكِ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ أَنْ يَقَعْنَ عَلَى الأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ، مِنْ شَرِّ عَبْدِكَ فُلَانٍ، وَجُنُودِهِ وَأَتْبَاعِهِ وَأَشْيَاعِهِ، مِنَ الجِنِّ وَالإِنْسِ، اللَّهُمَّ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّهِمْ، جَلَّ ثَنَاؤُكَ وَعَزَّ جَارُكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ»
অর্থ: “আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ তাঁর সব সৃষ্টির চেয়ে মহান; আমি যাদেরকে ভয় করি ও যাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করি, তাদের চেয়েও আল্লাহ মহান।
আমি আশ্রয় চাই সেই আল্লাহর নিকট যিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি সাত আসমানকে ধরে রেখেছেন যাতে সেগুলো তাঁর অনুমতি ছাড়া পৃথিবীর ওপর না পড়ে- আপনার অমুক বান্দার এবং -মানব ও জিনদের মধ্য থেকে- তার সৈন্যদের, অনুসারীদের ও সহচরদের অনিষ্ট থেকে। হে আল্লাহ! আপনি তাদের অনিষ্ট থেকে আমার জন্য আশ্রয়দানকারী হোন। আপনার প্রশংসা মহান, আপনার আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তি শক্তিশালী, আপনার নাম বরকতময়, এবং আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।”।
ثَلاثَ مَرَّاتٍ.
তিন বার।170
৩৮. শত্রুর বিরুদ্ধে বদদোয়া
«اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الكِتَابِ، سَرِيعَ الحِسَابِ، اهْزِمِ الأَحْزَابَ، اللَّهُمَّ اهزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী! আপনি এই সম্মিলিত বাহিনীকে (শত্রুপক্ষকে)
পরাজিত করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের পরাজিত করুন এবং কাঁপিয়ে দিন।”171
৩৯. কোন সম্প্রদায়কে ভয় করলে যা বলবে
«اللَّهُمَّ اكْفِنِيهِمْ بِمَا شِئْتَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে ইচ্ছা, তাদের (অনিষ্ট থেকে) আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।”172
৪০. ঈমানের বিষয়ে সংশয়ে পতিত ব্যক্তির দু‘আ
“সে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।”173 বলবে: (আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই)।
“যে বিষয়ে ওয়াসওয়াসায় পতিত হয়েছে তা থেকে বিরত থাকবে।”174
(সে বলবে:
(آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ)).
“আমি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি।”175
আল্লাহর এ বাণী পাঠ করবে:
﴿هُوَ ٱلۡأَوَّلُ وَٱلۡأٓخِرُ وَٱلظَّٰهِرُ وَٱلۡبَاطِنُۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٌ 3﴾
অর্থ: “তিনিই প্রথম ও শেষ; প্রকাশ্য (উপরে) ও গোপন (নিকটে) আর তিনি সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [সূরা আল-হাদীদ: ৩]।176
৪১. ঋণ পরিশোধের দু‘আ
«اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكِ عَمَّنْ سِوَاكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আপনার হালাল দ্বারা আমাকে হারাম থেকে বাঁচান, আর আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করুন।”177
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَالعَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالبُخْلِ وَالجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষের দমন-নিপীড়ন থেকে।”178
৪২. সালাত ও তেলাওয়াতে ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার দু‘আ
«أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيطَانِ الرَّجِيمِ،
«আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই,
وَاتْفُلْ عَلَى يَسَارِكَ (ثَلَاثًا)».
এরপর তোমার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলবে।179
৪৩. যার জন্য কোনো কাজ কঠিন হয়ে পড়ে, তার দু‘আ
«اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا»
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যেটাকে সহজ করেন, সেটাই সহজ; আর আপনি চাইলে কঠিন বিষয়কেও সহজ করে দেন।”180
৪৪. কোন পাপ করে ফেললে যা বলবে ও করবে
«مَا مِنْ عَبْدٍ يُذنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ».
“কোনো বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, তারপর সুন্দরভাবে ওজু করে, এরপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাআত সালাত আদায় করে, তারপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে—তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেন।”181
৪৫. শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা দূর করার দু‘আ
“শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা।”182
“আযান”183
“যিকির ও কুরআন তেলাওয়াত করা।”
«لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ، إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ».
"“তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে কবর বানাবে না। নিশ্চয় যে ঘরে সূরা বাকারাহ পাঠ করা হয় সে ঘর থেকে শয়তান পলায়ন করে।”184
যা কিছু শয়তানকে বিতাড়িত করে তার মধ্যে রয়েছে: সকাল ও সন্ধ্যার যিকির, ঘুমানো ও জাগরণের যিকির, বাড়িতে প্রবেশ ও বের হওয়ার যিকির, মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার যিকির, এবং শরী‘আতসম্মত অন্যান্য যিকির, যেমন: শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসী ও সুরা আল-বাকারা’র শেষ দুই আয়াত পাঠ করা। আর যে ব্যক্তি বলবে:
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
مِائَةَ مَرَّةٍ، كَانَت لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَومِهِ كُلِّهِ،
একশ বার, পুরো দিনটিতে তার জন্য রয়েছে শয়তান থেকে নিরাপত্তা,185 অনুরূপভাবে আযান শয়তানকে বিতাড়িত করে।
৪৬. যখন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বা কোনো বিষয়ে অক্ষমতা দেখা দেয়- তখন পড়ার দু‘আ
«قَدَرُ اللَّهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ».
“এটা আল্লাহরই সিদ্ধান্ত, এবং তিনি যা চেয়েছেন, তাই করেছেন।”186
৪৭. সন্তান লাভকারীকে অভিনন্দন ও তার জবাব
«بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي المَوْهُوبِ لَكَ، وَشَكَرْتَ الوَاهِبَ، وَبَلَغَ أَشُدَّهُ، وَرُزِقْتَ بِرَّهُ».
অর্থ: “আল্লাহ তোমার জন্য দানকৃত সন্তানকে বরকত দিন, তুমি দানকারীর (আল্লাহর) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, আর সে যেন যৌবনে উপনীত হয়, এবং তুমি যেন তার অনুগত্য লাভ করো।”187
আর যাকে মোবারকবাদ জানানো হয়েছে সে তার উত্তরে বলবে:
«بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا، وَرَزَقَكَ اللَّهُ مِثْلَهُ، وَأَجْزَلَ ثَوَابَكَ».
অর্থ: “আল্লাহ তোমার জন্যও বরকত দান করুন, এবং তোমার ওপরও বরকত বর্ষণ করুন, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন, তোমাকেও এর অনুরূপ রিযিক দিন, এবং তোমার প্রতিদান আরও বৃদ্ধি করুন।”188
৪৮. যা দ্বারা শিশুদের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।
«أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ».
অর্থ: “আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাগুলোর মাধ্যমে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি- প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং কুদৃষ্টি থেকে।”189
৪৯. রোগী দেখতে গিয়ে তার জন্য দু‘আ
«لَا بأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ».
অর্থ: “কোনো অসুবিধা নেই, এটা পরিশুদ্ধকারী (ব্যাধি), যদি আল্লাহ চান।”190
«أَسْأَلُ اللَّهَ العَظِيمَ رَبَّ العَرْشِ العَظِيمِ أَنْ يَشْفيَكَ»
অর্থ: “আমি আল্লাহর কাছে, যিনি সুমহান ও মহাআরশের মালিক, আপনার সুস্থতা কামনা করছি।”
(সাত বার)।191
৫০. রোগী দেখতে যাওয়ার ফযীলত
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إِذَا عَادَ الرَّجُلُ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ مَشَى فِي خِرَافَةِ الجَنَّةِ حَتَّى يَجْلِسَ، فَإِذَا جَلَسَ غَمَرَتْهُ الرَّحْمَةُ، فَإِنْ كَانَ غُدْوَةً صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يُمْسِيَ، وَإِنْ كَانَ مَسَاءً صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يُصْبِحَ».
“কোন ব্যক্তি যখন তার অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, তখন সে যতক্ষণ সেখানে গিয়ে না বসে, ততক্ষণ জান্নাতের ফল আহরনে চলাফেরা করতে থাকে। তারপর যখন সে বসে, তখন আল্লাহর রহমত তাকে ঢেকে নেয়। সময়টা যদি সকাল হয়, তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার ওপর রহমত নাযিল হওয়ার জন্য দু’আ করতে থাকে, আর সময়টা যদি বিকাল হয়, তবে পরবর্তী সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার ওপর রহমত নাযিল হওয়ার দু’আ করতে থাকে।”192
৫১. জীবনের আশা ছেড়ে দেয়া রোগীর দু‘আ
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الأَعْلَى».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে দয়া করুন, এবং আমাকে সর্বোচ্চ সঙ্গীর সাথে যুক্ত করুন।”193
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মৃত্যুর সময় তার দুই হাত পানিতে ডুবিয়ে তা দিয়ে তার মুখ মুছছিলেন এবং বলছিলেন:
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
“আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই”
إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ».
নিশ্চয় মৃত্যুর রয়েছে বিভিন্ন রকমের যন্ত্রণা।"194
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ».
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং আল্লাহ মহান, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তার কোনো অংশীদার নেই, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই আল্লাহ ছাড়া।”195
৫২. মুমূর্ষ ব্যক্তিকে তালক্বীন দেয়া
«مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ
“যার শেষ কথা হবে
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নেই
دَخَلَ الجَنَّة».
সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”196
৫৩. কোন মুসীবতে পতিত ব্যক্তির দু‘আ
«إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًَا مِنْهَا».
অর্থ: “আমরা আল্লাহরই এবং আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে তাঁরই কাছে। হে আল্লাহ! আমার বিপদে আমাকে পুরস্কৃত করুন এবং এর চেয়ে ভাল কিছু দান করুন।”197
৫৪. মৃত ব্যক্তির চোখ বন্ধ করার সময় দু‘আ
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِفُلَانٍ (بِاسْمِهِ) وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي المَهْدِيِّينَ، وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الغَابِرِينَ، وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ العَالَمِينَ، وَافْسَحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ، وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! অমুককে (নাম উল্লেখ করে) ক্ষমা করুন এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদাকে উঁচু করে দিন, আপনি তার বংশধরের অভিভাবক হয়ে যান। হে বিশ্বজাহানের রব! তাকে ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন, তার কবরকে প্রশস্ত করুন এবং তা আলোকিত করে দিন।”198
৫৫. মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযার সালাতে দু‘আ
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ، وَاعْفُ عَنْهُ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلاً خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ، وَزَوْجًَا خَيًْرا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ [وَعَذَابِ النَّارِ]».
অর্থ: “হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দয়া করুন, তাকে নিরাপত্তা দান করুন, তার থেকে ভুলসমুহ মাফ করুন, তার আতিথ্য সম্মানিত করুন, তার প্রবেশকে প্রশস্ত করুন, তাকে পানি, বরফ ও তুষার দ্বারা ধুয়ে ফেলুন, তার পাপকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন যেমন আপনি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করেন, তাকে তার বাড়ির চেয়ে উত্তম একটি গৃহ দিন, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার দিন, তার সাথি থেকে উত্তম সাথি দিন, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, এবং তাকে কবরের আযাব ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”199
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الإِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الإِيمَانِ، اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পরে আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।”200
«اللَّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ، وَحَبْلِ جِوَارِكَ، فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ القَبْرِ، وَعَذَابِ النَّارِ، وَأَنْتَ أَهْلُ الوَفَاءِ وَالحَقِّ، فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحيمُ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক আপনার জিম্মায় এবং আপনার প্রতিবেশিতার নিরাপত্তায় রয়েছে। আপনি তাকে কবরের পরীক্ষা ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আপনি তো প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ও সত্যবাদী। অতএব আপনি তাকে ক্ষমা করুন ও দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”201
«اللَّهُمَّ عَبْدُكَ وَابْنُ أَمَتِكَ احْتَاجَ إِلَى رَحْمَتِكَ، وَأَنْتَ غَنِيٌّ عَنْ عَذَابِهِ، إِنْ كَانَ مُحْسِنًا فَزِدْ فِي حَسَنَاتِهِ، وَإِنْ كَانَ مُسِيئًا فَتَجَاوَزْ عَنْهُ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! এ আপনার বান্দা ও আপনার বান্দীর পুত্র, সে আপনার রহমতের মুখাপেক্ষী হয়েছে আর আপনি তাকে শাস্তি দেয়া থেকে অমুখাপেক্ষী। যদি সে সৎকর্মশীল হয়ে থাকে, তবে তার সওয়াব আরও বাড়িয়ে দিন; আর যদি সে গুনাহগার হয়ে থাকে, তবে আপনি তার গোনাহ ক্ষমা করে দিন।”202
৫৬. শিশুর জানাযার সালাতের দু‘আ
«اللَّهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”203
আর যদি এটি পাঠ করে:
«اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ فَرَطًا وَذُخْرًا لِوَالِدَيْهِ، وَشَفِيعًا مُجَابًا، اللَّهُمَّ ثَقِّلْ بِهِ مَوَازِينَهُمَا، وَأَعْظِمْ بِهِ أُجورَهُمَا، وَأَلْحِقْهُ بِصَالِحِ المُؤْمِنِينَ، وَاجْعَلْهُ فِي كَفَالَةِ إِبْرَاهِيمَ، وَقِهِ بِرَحْمَتِكَ عَذَابَ الجَحِيمِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَسْلَافِنَا، وَأَفْرَاطِنَا، وَمَنْ سَبَقَنَا بِالإِيمَانِ»
“হে আল্লাহ! আপনি তাকে (শিশুটিকে) তার পিতা-মাতার জন্য এক অগ্রবর্তী ও সঞ্চয় করে রাখা ধন বানান, একজন গ্রহণযোগ্য সুপারিশকারী বানান। হে আল্লাহ! আপনি তার মাধ্যমে তাদের মীযান ভারী করে দিন এবং তাদের প্রতিদানকে মহান করুন। তাকে সৎ মুমিনদের সঙ্গে যুক্ত করে দিন এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অভিভাবকত্বে রাখুন। আপনার দয়ায় তাকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আর তাকে তার ঘরের চেয়ে উত্তম ঘর দিন, তার পরিবারের চেয়ে উত্তম পরিবার দিন। হে আল্লাহ! আমাদের পূর্ববর্তীদের, আমাদের অগ্রবর্তীদের এবং যারা আমাদের পূর্বে ঈমানসহ ইন্তিকাল করেছেন তাদেরকে ক্ষমা করুন।”
তাহলে খুবই ভালো।204
«اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا، وَسَلَفًا، وَأَجْرًا».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি তাকে আমাদের জন্য অগ্রবর্তী, পূর্বপ্রেরিত এবং সওয়াবের উপায় বানিয়ে দিন।”205
৫৭. শোকার্তদের সান্ত্বনা দেয়ার দু‘আ
«إِنَّ للَّهِ مَا أَخَذَ، وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمَّى... فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ».
অর্থ: “নিশ্চয় আল্লাহ যা নিয়েছেন ও যা দিয়েছেন সব তাঁরই। তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের অপেক্ষায় থাকে।”206
আর যদি এটি পাঠ করে:
«أَعْظَمَ اللَّهُ أَجْرَكَ، وَأَحْسَنَ عَزَاءَكَ، وَغَفَرَ لِمَيِّتِكَ»
অর্থ: “আল্লাহ আপনার প্রতিদানকে মহান করুন, আপনার শোককে সুন্দরভাবে গ্রহণযোগ্য করুন, এবং আপনার মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করুন।”
তাহলে খুবই ভালো।207
৫৮. মৃত ব্যক্তিকে কবরে প্রবেশ করানোর সময় দু‘আ
«بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ».
অর্থ: “আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের সুন্নাতের ওপর।”208
মৃতের দাফনের পর দু‘আ
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ».
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি তাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ, আপনি তাকে দৃঢ় রাখুন।”209
৬০. কবর যিয়ারতের দু‘আ
«السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ، مِنَ المُؤْمِنِينَ وَالمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ، [وَيَرْحَمُ اللَّهُ المُسْتَقدِمِينَ مِنَّا وَالمُسْتأْخِرِينَ] أَسْاَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ العَافِيَةَ».
অর্থ: “আপনাদের প্রতি সালাম, এ কবরগুলোতে বসবাসকারী মুমিন ও মুসলিম ভাই-বোনেরা, এবং যদি আল্লাহ চান, আমরা আপনাদের সাথে যুক্ত হবো। [আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলকে রহমত দান করুন] আমি আল্লাহর কাছে আমাদের এবং আপনাদের নিরাপত্তা কামনা করছি।”210
৬১. বায়ূ প্রবাহিত হলে পাঠ করার দু‘আ
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি এর কল্যাণ চাই এবং এর অকল্যাণ থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।”211
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا فِيهَا، وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি এর কল্যাণ চাই, এর ভিতরে যা রয়েছে, তার কল্যাণ চাই, এবং যা সহ এটি পাঠানো হয়েছে তার কল্যাণ চাই, এবং আমি এর অকল্যাণ থেকে, এর ভিতরে যা রয়েছে তার অকল্যাণ থেকে এবং যা সহ এটি পাঠানো হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।”212
৬২. মেঘের গর্জন শুনলে পড়ার দু‘আ
«سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ».
অর্থ: “আর রা'দ (বজ্রধ্বনি) তাঁর সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতাগণও সেটাই করে তাঁর ভয়ে।”213
৬৩. বৃষ্টি প্রার্থনার কতিপয় দু‘আ
«اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا مَرِيعًا، نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ، عَاجِلًا غَيْرَ آجِلٍ».
অর্থ: ”হে আল্লাহ! আমাদের ওপর এমন বৃষ্টি বর্ষণ করুন যা সাহায্যকারী (তৃষ্ণা নিবারক ও সজীবতাদানকারী), সুস্বাদু (স্বস্তিদায়ক), উৎপাদনকারী, উপকারী—ক্ষতিকর নয় এবং যা বিলম্বিত নয় বরং দ্রুত আগমনকারী।”214
«اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا».
অর্থ: “হে আল্লাহ, আমাদেরকে বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ, আমাদেরকে বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ, আমাদেরকে বৃষ্টি দিন।”215
«اللَّهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ، وَبَهَائِمَكَ، وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ، وَأَحْيِي بَلَدَكَ المَيِّتَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনার বান্দাদের এবং পশুপাখিদের পানীয় দিন, আপনার রহমত ছড়িয়ে দিন, এবং আপনার মৃত দেশকে জীবিত করুন।”216
৬৪. বৃষ্টি দেখলে পাঠ করার দু‘আ
«اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদেরকে উপকারী মুষলধারে প্রবাহমান বৃষ্টি দান করুন।”217
৬৫. বৃষ্টি বর্ষণের পরবর্তী যিকির
«مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ».
অর্থ: “আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় বৃষ্টিপাত লাভ করেছি।”218
৬৬. আকাশ পরিষ্কার হওয়ার জন্য দু‘আ
«اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ، وَبُطُونِ الأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে (বৃষ্টি বর্ষণ করুন), আমাদের উপর না। হে আল্লাহ! পাহাড়, টিলা, উপত্যকার ভেতর ও বনভূমিতে বর্ষণ করুন।”219
৬৭. নতুন চাঁদ দেখার দু‘আ
«اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ وَالإِيمَانِ، وَالسَّلَامَةِ وَالإِسْلَامِ، وَالتَّوْفِيقِ لِمَا تُحِبُّ رَبَّنَا وَتَرْضَى، رَبُّنَا وَرَبُّكَ اللَّهُ».
অর্থ: “আল্লাহ সবচেয়ে বড়! হে আল্লাহ! এই চাঁদকে আমাদের উপর নিরাপত্তা ও ঈমান, নিরাপত্তা ও ইসলামের সাথে উদিত করুন এবং হে আমাদের রব! যেসব কাজ আপনি ভালোবাসেন ও সন্তুষ্ট হন, তাতে সাফল্যের সাথে উদিত করুন। (হে চাঁদ) আমাদের প্রভু এবং তোমার প্রভু আল্লাহ।”220
৬৮. সিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময়ের দু‘আ
«ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ العُرُوقُ، وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ».
অর্থ: “পিপাসা দূরীভূত হয়েছে, রগসমূহ সিঞ্চিত হয়েছে এবং যদি আল্লাহ চান তাহলে পুরষ্কারও নির্ধারিত হয়েছে।”221
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার সেই রহমতের ওসীলা করে আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, যে রহমত সবকিছুকে আচ্ছন্ন করে নিয়েছে, যে আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।”222
৬৯. আহারের পূর্বের দু‘আ
«إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلْيَقُلْ:
“তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, তখন বলবে:
بِسْمِ اللَّهِ،
আল্লাহর নামে শুরু করছি।
فَإِنْ نَسِيَ فِي أَوَّلِهِ فَلْيَقُلْ:
যদি শুরুতে ভুলে যায় তখন সে বলবে:
بِسْمِ اللَّهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ».
“আল্লাহর নামেই শুরু করছি প্রথমে এবং শেষে।”।223
«مَنْ أَطْعَمَهُ اللَّهُ الطَّعَامَ فَلْيَقُلْ:
“যাকে আল্লাহ আহার করিয়েছেন, সে যেন বলে:
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ،
হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এর মধ্যে বরকত দান করুন আর আমাদেরকে এ থেকে উত্তম খাদ্য আহার করান,
وَمَنْ سَقَاهُ اللَّهُ لَبَنًا فَلْيَقُلْ:
আর যাকে আল্লাহ দুধ পান করিয়েছেন, সে যেন বলে:
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ».
"“হে আল্লাহ! এতে আমাদের বরকত দিন এবং তা আমাদের আরও বাড়িয়ে দিন।”"224
৭০. আহার শেষ করার পরের দু‘আ
«الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا، وَرَزَقَنِيهِ، مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ».
অর্থ: “সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এটি খাওয়ালেন এবং আমাকে এটি রিযিক দিলেন—আমার কোনো শক্তি বা ক্ষমতা ছাড়াই।”225
«الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، غَيْرَ [مَكْفِيٍّ وَلَا] مُوَدَّعٍ، وَلَا مُسْتَغْنَىً عَنْهُ رَبَّنَا»
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অসংখ্য অগণিত পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা। যাকে যথেষ্ট করা হয়নি আর যাকে বিদায় জানানো যায় না, আর যা থেকে বিমুখ হওয়া যায় না। হে আমাদের রব।”226
৭১. খাবারের আয়োজকের জন্য মেহমানের দু‘আ
«اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُم، وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি তাদের যা রিযিক দিয়েছেন তাতে বরকত দিন, এবং তাদেরকে ক্ষমা করুন ও দয়া করুন।”227
৭২. দু‘আর মাধ্যমে খাবার বা পানীয় চাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা
«اللَّهُمَّ أَطْعِمْ مَنْ أَطْعَمَنِي، وَاسْقِ مَنْ سَقَانِي».
অর্থ: “হে আল্লাহ! যিনি আমাকে খাওয়াবেন, আপনি তাকে খাওয়ান; আর যিনি আমাকে পান করাবেন, আপনি তাকে পান করান।”228
৭৩. কোনো পরিবারে ইফতার করলে তাদের জন্য দু‘আ
«أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ، وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الأَبْرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ المَلَائِكَةُ».
অর্থ: “আপনাদের কাছে যেন সিয়াম পালনকারীগণ ইফতার করলেন, আপনাদের খাবার যেন সৎকর্মশীলগণই খান এবং আপনাদের জন্য যেন ফেরেশতাগণ গুনাহ মাফের দু‘আ করেন।”229
৭৪. সিয়ামপালনকারী ব্যক্তির সামনে খাবার আনা হলে সে যদি সিয়াম ভঙ্গ না করে, সে সময়ে পড়ার দু‘আ
«إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيُجِبْ، فَإِنْ كَانَ صَائِمًا فَلْيُصَلِّ، وَإِنْ كَانَ مُفْطِرًا فَلْيَطْعَمْ».
“তোমাদের কাউকে যদি (দাওয়াতে) আহ্বান করা হয়, তবে সে যেন সাড়া দেয়। যদি সে সিয়াম পালনকারী হয়, তবে সে দু‘আ করে দিবে, আর যদি সিয়াম পালনকারী না হয়, তবে সে যেন খায়।”230
হাদীসে উল্লেখিত “فَلْيُصَلِّ” -এর অর্থ হল: সে যেন দু‘আ করে।
৭৫. কেউ গালি দিলে সিয়াম পালনকারী যা বলবে
«إِنِّي صَائِمٌ، إِنِّي صَائِمٌ».
“আমি সিয়াম পালনকারী, আমি সিয়াম পালনকারী।”231
৭৬. ফলের কলি দেখে পড়ার দু‘আ
«اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثَمَرِنَا، وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا، وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا، وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের ফলমূলের মধ্যে বরকত দান করুন, আমাদের মদীনার মধ্যে বরকত দান করুন, আমাদের সা‘ (বড় পরিমাপের পাত্র) ও মুদ্দ (ছোট পরিমাপের পাত্র)-এর মধ্যে বরকত দান করুন।”232
৭৭. হাঁচির দু‘আ
«إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُم فَلْيَقُلِ:
“যখন তোমাদের কেউ হাঁচি দেয়, তখন সে বলবে:”
الحَمْدُ لِلَّهِ،
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য,
وَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ:
(হাঁচিদাতার উত্তরে) তার ভাই অথবা সাথীরা বলবে:
يَرْحَمُكَ اللَّهُ،
আল্লাহ আপনাকে রহম করুন,
فَإِذَا قَالَ لَهُ: يَرحَمُكَ اللَّهُ، فَلْيَقُلْ:
অতঃপর সে যখন তাকে বলবে: “يَرحَمُكَ اللَّهُ” (আল্লাহ তোমাকে রহমত করুন), তখন সে বলবে:
يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُم».
অর্থ: “আল্লাহ আপনাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আপনাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন।”233
৭৮. কাফের ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে তার জবাবে যা বলা হবে
«يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ».
অর্থ: “আল্লাহ আপনাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আপনাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন।”234
৭৯. নব বিবাহিতদের জন্য দু‘আ
«بَارَكَ اللَّهُ لَكَ، وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ».
অর্থ: “আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন, আপনাদের উপর বরকত দান করুন, এবং কল্যাণের সাথে আপনাদের উভয়কে একত্রিত করুন।”235
৮০. বিবাহিতদের জন্য ও বাহন ক্রয়ের পর দু‘আ
যখন তোমাদের মধ্যে কেউ কোন মেয়েকে বিয়ে করবে, অথবা কোনো খাদেম গ্রহণ করবে, তখন সে যেন বলে:
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ،
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর মঙ্গল কামনা করি এবং এর মধ্যে যে ভালো গুণ আপনি তৈরি করেছেন, তা চাই। আমি আপনার কাছে এর মন্দ থেকে এবং এর মধ্যে যে মন্দ গুণ আপনি তৈরি করেছেন, তা থেকে আশ্রয় চাই।”
وَإِذَا اشْتَرَى بَعِيرًا فَلْيَأْخُذْ بِذِرْوَةِ سَنَامِهِ وَلْيَقُلْ مِثْلَ ذَلِكَ».
আর যদি কোনো উট কেনে, তবে তার পিঠের শীর্ষ অংশ ধরে অনুরূপ দোয়া পড়বে।236
৮১. স্ত্রী-সহবাসের পূর্বের দু‘আ
«بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا».
অর্থ: “আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন, এবং যে রিজিক আপনি আমাদের দান করেছেন, তাও শয়তান থেকে দূরে রাখুন।”237
৮২. ক্রোধ দমনের দু‘আ
«أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ».
অর্থ: “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।”238
৮৩. বিপদগ্রস্তকে দেখে দু‘আ
«الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ، وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا».
অর্থ: “সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে সেই বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন, যা দ্বারা আপনাকে তিনি পরীক্ষা করেছেন, এবং আমাকে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে অনেকের ওপর বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।”239
৮৪. মজলিসে যা বলতে হয়
“ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, গণনা করে দেখা যেত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৈঠক থেকে উঠে যাবার পূর্বে শতবার এই দু‘আ পড়তেন:
«رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الغَفُورُ».
“হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী, অতি ক্ষমাশীল।”240
৮৫. মজলিসের কাফ্ফারা
«سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসা সহ আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তাওবা করছি।”241
৮৬. যে ব্যক্তি 'আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন’ বলবে, তার জন্য দু‘আ
«وَلَكَ».
“এবং আল্লাহ আপনাকেও মাফ করুন।’’242
৮৭. কেউ আপনার প্রতি সদাচারণ করলে তার জন্য দু‘আ
«جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا».
অর্থ: “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।”243
৮৮. আল্লাহ যা দ্বারা দাজ্জাল থেকে হেফাযত করবেন
«مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ»،
“যে ব্যক্তি সুরা আল-কাহফের প্রথম ১০ আয়াত হেফাজত করবে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে”244
এবং প্রত্যেক নামাযের শেষ তাশাহুদে আল্লাহর কাছে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া।245
৮৯. যে ব্যক্তি বলে: ‘আমি আল্লাহর জন্য তোমাকে ভালোবাসি’, তার জন্য দু‘আ
«أَحَبَّكَ الَّذِي أَحْبَبْتَنِي لَهُ».
অর্থ: “যে জন্য আপনি আমাকে ভালবাসেন, তিনিও আপনাকে সেজন্য ভালবাসুন।”246
৯০. যে ব্যক্তি তার সম্পদ আপনার কাছে উপস্থাপন করে, তার জন্য দু‘আ
«بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ».
অর্থ: “আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দিন”।247
৯১. ঋণ পরিশোধের সময় ঋণদাতার জন্য দু‘আ
«بارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الحَمْدُ وَالأَدَاءُ».
অর্থ: “আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। ঋণের প্রকৃত প্রতিদান হলো প্রশংসা করা ও তা পরিশোধ করা।”248
৯২. শির্কের ভয়ে দু‘আ
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি জেনে-বুঝে আপনার সাথে শরীক করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই এবং আমি যে বিষয় জানি না তার জন্য আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।”249
৯৩. কেউ 'আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন' বললে, তার জন্য দু‘আ
«وَفِيكَ بَارَكَ اللَّهُ».
অর্থ: “আর আপনার মধ্যেও আল্লাহ বরকত দান করুন।”250
৯৪. অশুভ লক্ষণ গ্রহণকে অপছন্দ করে দু‘আ
«اللَّهُمَّ لَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ، وَلَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার নির্ধারিত ভাগ্য ছাড়া কোনো ভাগ্য নেই, আপনার দেওয়া কল্যাণ ছাড়া কোনো কল্যাণ নেই, আর আপনি ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই।”251
৯৫. বাহনে আরোহণের দু‘আ
«بِسْمِ اللَّهِ، وَالحَمْدُ للَّهِ
অর্থ: “আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।”
﴿سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ
‘সুপবিত্র সেই সত্তা, যিনি এটিকে আমাদের বশীভুত করে দিয়েছেন। অন্যথায় আমরা একে বশীভুত করতে পারতাম না।
وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ﴾،
আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।’
الحَمْدُ لِلَّهِ، الحَمْدُ لِلَّهِ، الحَمْدُ لِلَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي؛ فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ».
“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। হে সুপবিত্র সত্তা আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আমার উপরে জুলুম করে ফেলেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন; যেহেতু আপনি ব্যতীত আর কেউই পাপ ক্ষমা করতে পারে না।”252
৯৬. সফরের দু‘আ
«اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ،
অর্থ: “আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ
‘সুমহান সেই সত্তা, যিনি এটিকে আমাদের বশীভুত করে দিয়েছেন। অন্যথায় আমরা একে বশীভুত করতে পারতাম না।
وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ،
আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।’
اللَّهُمَّ إِنّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا البِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ العَمَلِ مَا تَرْضَى، اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالخَليفَةُ فِي الأَهْلِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ المَنْظَرِ، وَسُوءِ المُنْقَلَبِ فِي المَالِ وَالأَهْلِ»،
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরে আমরা আপনার নিকটে নেকআমল , তাকওয়া-পরহেজগারিতা এবং আপনি সন্তুষ্ট হন এমন কাজের তাওফীক চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফর আমাদের জন্য সহজ করে দিন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনিই সফরসঙ্গী এবং পরিবারের দায়িত্বশীল। হে আল্লাহ! আপনার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং ফিরে এসে পরিবার ও ধন-সম্পদের ক্ষতিকর পরিবর্তন থেকে।"
এবং যখন সে ফিরে আসবে, তখনও সে এগুলো বলবে এবং আরো কিছু যোগ করে বলবে:
«آيِبُونَ، تائِبُونَ، عَابِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ».
অর্থ: “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসাকারী।”253
৯৭. কোন গ্রাম বা শহরে প্রবেশকালে দু‘আ
«اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظْلَلْنَ، وَرَبَّ الأَرَضِينَ السَّبْعِ وَمَا أَقْلَلْنَ، وَرَبَّ الشَّياطِينِ وَمَا أَضْلَلْنَ، وَرَبَّ الرِّيَاحِ وَمَا ذَرَيْنَ، أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ القَرْيَةِ، وَخَيْرَ أَهْلِهَا، وَخَيْرَ مَا فِيهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ أَهْلِهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا».
অর্থ: “হে আল্লাহ! হে সপ্তাকাশ ও যা কিছুকে তা ছেয়ে আছে তার প্রতিপালক! হে সপ্ত যমীন ও যা কিছু তা বহন করে তার প্রতিপালক! হে শয়তানদল ও তারা যাদেরকে ভ্রষ্ট করে তাদের প্রতিপালক! হে বায়ু ও যা কিছু তা উড়িয়ে থাকে তার প্রভু! আমি আপনার নিকট এই গ্রামের কল্যাণ ও গ্রামবাসীর কল্যাণ এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার কল্যাণ চাচ্ছি। আর আপনার নিকট এই গ্রাম ও গ্রামবাসীর অমঙ্গল এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার অমঙ্গল হতে পানাহ চাচ্ছি।”254
৯৮. বাজারে প্রবেশকালে দু‘আ
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ، وَلَهُ الحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ، وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوتُ، بِيَدِهِ الخَيْرُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ».
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। কল্যাণ তাঁর হাতেই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।”255
৯৯. বাহন অচল হলে অথবা হোঁচট খেলে পড়ার দু‘আ
«بِسْمِ اللَّهِ».
“আল্লাহর নামে”256
১০০. মুকীমের জন্য মুসাফিরের দু‘আ
«أَسْتَوْدِعُكُمُ اللَّهَ الَّذِي لَا تَضِيعُ وَدَائِعُهُ».
অর্থ: “আমি আপনাদেরকে সেই আল্লাহর কাছে অর্পণ করছি, যার কাছে অর্পিত কিছু কখনো নষ্ট হয় না।”257
১০১. মুসাফিরের জন্য মুকীম ব্যক্তির দু‘আ
«أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ، وَأَمَانَتَكَ، وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ».
অর্থ:"আমি আপনার দ্বীন,আপনার আমানতদারিতা এবং আপনার জীবনের শেষ আমলসমূহ আল্লাহর হাতে সপে দিচ্ছি(অর্থাৎ আল্লাহর জিম্মায় দিচ্ছি)।”258
«زَوَّدَكَ اللَّهُ التَّقْوَى، وَغَفَرَ ذَنْبَكَ، وَيَسَّرَ لَكَ الخَيْرَ حَيْثُ ما كُنْتَ».
অর্থ: “আল্লাহ আপনার তাকওয়া কে আরো বৃদ্ধি করুন, আপনার গুনাহ মাফ করুন এবং আপনি যেখানেই থাকুন সেখানেই আপনার জন্য কল্যাণকে সহজ করে দিন।”259
১০২. যাত্রা পথে তাকবীর ও তাসবীহ পাঠ করা
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "“আমরা উপরে উঠলে বলতাম, আল্লাহু আকবর," বলবে: (আল্লাহ মহান) আর নিচে নামলে বলতাম সুবহানাল্লাহ।”260
বলবে: (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)
১০৩. রাতের শেষ প্রহরে মুসাফিরের দু‘আ
«سَمَّعَ سَامِعٌ بِحَمْدِ اللَّهِ، وَحُسْنِ بَلَائِهِ عَلَيْنَا، رَبَّنَا صاحِبْنَا، وَأَفْضِلْ عَلَيْنَا، عَائِذًا بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ».
অর্থ: “আল্লাহর প্রশংসা ও আমাদের ওপর তাঁর উত্তম নেয়ামত ও পরীক্ষার কথা কোন এক শ্রোতা শুনে পৌঁছে দিক। হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আমাদের সঙ্গী হোন, আমাদের প্রতি অধিক অনুগ্রহ করুন এবং আমরা আল্লাহর আশ্রয় চাই আগুন (জাহান্নাম) থেকে।।"।261
১০৪. সফরে বা অন্য অবস্থায় কোথাও অবতরণ করলে দু‘আ
«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ».
অর্থ: “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্ট সব কিছুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”262
১০৫. সফর থেকে ফেরার যিকির
«يُكَبِّرُ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ ثَلَاثَ تَكْبِيرَاتٍ ثُمَّ يَقُولُ:
«প্রতিটি উঁচু স্থানে তিনবার তাকবীর বলবে, অতঃপর বলবে:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ، وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، آيِبُونَ، تَائِبُونَ، عَابِدُونَ، لِرَبِّنا حَامِدُونَ، صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزابَ وَحْدَهُ».
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তাঁরই সার্বভৌম ক্ষমতা, তাঁরই সব প্রশংসা, এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী, আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই দলবদ্ধ শত্রুদের পরাজিত করেছেন।”263
১০৬. আনন্দদায়ক বা অপছন্দনীয় কিছুর সম্মুখীন হলে যা বলবে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তার কাছে এমন কোনো বিষয় আসত যা তাকে আনন্দিত করত, তখন তিনি বলতেন:
«الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ».
অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার অনুগ্রহে সৎকর্মসমূহ পূর্ণতা লাভ করে।”
আর যখন তার কাছে এমন বিষয় আসত যা তিনি অপছন্দ করতেন, তখন তিনি বলতেন:
«الحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ.
অর্থ: “সর্বাবস্থায় আল্লাহর জন্যই প্রশংসা।”।264
১০৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরুদ) পাঠের ফযীলত
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا».
“কেউ আমার উপর একবার সালাত (দরুদ) পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন।”265 যেমন সে বলবে: (হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদের প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।)
তিনি আরও বলেছেন:
«لَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا وَصَلُّوا عَلَيَّ؛ فَإِنَّ صَلَاتَكُم تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ».
“তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না। তোমরা আমার ওপর সালাত (দরুদ) পড়। কারণ, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।”266
তিনি আরও বলেছেন:
«البَخِيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ».
“প্রকৃত কৃপণ সেই, যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হল, অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না।”267
তিনি আরও বলেছেন:
«إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الأَرْضِ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ».
“নিশ্চয় যমীনে আল্লাহর কিছু বিচরণকারী ফেরেশতা রয়েছেন, তারা আমার কাছে আমার উম্মতের সালাম পৌঁছে দেন।”268
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:
«مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللَّهُ عَلَيَّ رُوحِيَ حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ».
“কোন মুসলিম আমার উপর সালাম দিলে আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট আমার রূহটি ফেরত দেন, যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি”।269
১০৮. সালামের প্রসার
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لَا تَدْخُلُوا الجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلَا أَدُلُّكُم عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُم، أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ».
“তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর তোমাদের ঈমান পরিপূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কোন জিনিস বলে দেব না, যার মাধ্যমে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে? (তা হলো) তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের প্রসার করো।”270
«ثَلَاثٌ مَنْ جَمَعَهُنَّ فَقَدْ جَمَعَ الإِيمَانَ: الإِنْصَافُ مِنْ نَفْسِكَ، وَبَذْلُ السَّلَامِ لِلْعَالَمِ، وَالإِنْفَاقُ مِنَ الإِقْتَارِ»
“তিনটি গুণ যে আয়ত্ত করে, সে (পূর্ণ) ঈমান লাভ করে: নিজ থেকে ইনসাফ করা, জগতবাসীর মাঝে সালামের প্রচলন এবং অভাবী অবস্থাতেও দান খয়রাত করা।”271
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত: জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: ‘ইসলামের কোন কাজটি উত্তম?’ তিনি বললেন:
«تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ».
“খানা খাওয়াবে এবং পরিচিত ও অপরিচিত সবাইকে সালাম দিবে।”272
১০৯. কাফের ব্যক্তি সালাম দিলে, যেভাবে তার উত্তর দেবে
«إذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَهْلُ الكِتَابِ فَقُولُوا: وَعَلَيْكُمْ».
“যখন আহলুল কিতাব (ইহুদি-নাসারা) তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তোমরা বলবে: ‘ওয়া আলাইকুম’।”273
১১০. মোরগের ডাক ও গাধার স্বর শোনার সময় দু‘আ
«إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ؛ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا،
“তোমরা যখন মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো; কারণ মোরগ কোন ফেরেশতাকে দেখেছে,
যেমন সে বলবে: (হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।)
وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الشَّيطَانِ؛ فَإِنَّهُ رَأَى شَيْطَانًا».
“আর যখন তোমরা গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাও; কারণ গাধা শয়তানকে দেখেছে।”274 যেমন সে বলবে: “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।”
১১১. রাতে কুকুরের ডাক শুনলে দু‘আ
«إِذَا سَمِعْتُمْ نُبَاحَ الكِلَابِ وَنَهِيقَ الحَمِيرِ بِاللَّيْلِ فَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْهُنَّ؛ فَإِنَّهُنَّ يَرَيْنَ مَا لَا تَرَوْنَ».
“তোমরা যখন রাতে কুকুরের ঘেউ ঘেউ ও গাধার ডাক শুনবে, তখন তাদের থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও; কারণ তারা এমন কিছু দেখে যা তোমরা দেখতে পাও না।”275
যেমন সে বলবে: “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।”
১১২. আপনি যাকে গালি দিয়েছেন তার জন্য দু‘আ
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«اللَّهُمَّ فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ سَبَبْتُهُ فَاجْعَلْ ذَلِكَ لَهُ قُرْبَةً إِلَيْكَ يَوْمَ القِيَامَةِ».
“হে আল্লাহ! আমি যে মুমিনকে গালি দিয়েছি, আপনি সেটিকে তার জন্য কিয়ামতের দিনে আপনার নিকটবর্তী হওয়ার উপায় বানিয়ে দিন।”276
১১৩. কোনো মুসলিম অপর মুসলিমের প্রশংসা করলে যা বলবে
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إِذَا كَانَ أَحَدُكُم مَادِحًا صَاحِبَهُ لَا مَحَالَةَ فَلْيَقُلْ: أَحْسِبُ فُلَانًا وَاللَّهُ حَسِيبُهُ، وَلَا أُزَكِّي عَلَى اللَّهِ أَحَدًا، أَحْسِبُهُ –إِنْ كَانَ يَعْلَمُ ذَاكَ – كَذَا وَكَذَا».
“তোমাদের কেউ যদি অবশ্যম্ভাবীভাবে কারো প্রশংসা করতেই চায়, তবে সে যেন বলে: ‘আমি অমুক ব্যক্তিকে এমনই মনে করি; আর আল্লাহই তাঁর প্রকৃত হিসাবগ্রহণকারী। আমি আল্লাহর কাছে কাউকে পবিত্র ঘোষণা করি না। আমি তাকে এমন মনে করি—যদি সে সম্পর্কে তার জানা থাকে—এমন ও তেমন মনে করি।’”277
১১৪. কোনো মুসলিমকে সৎ ও পবিত্র হিসেবে প্রশংসা করা হলে সে যা বলবে
«اللَّهُمَّ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا يَقُولُونَ، وَاغْفِرْ لِي مَا لَا يَعْلَمُونَ، [وَاجْعَلْنِي خَيْرًا مِمَّا يَظُّنُّونَ].
অর্থ: “হে আল্লাহ! তারা যা বলে তার জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না, তারা যা জানে না সেগুলি আমাকে ক্ষমা করে দিন, আর তাদের ধারণার চেয়ে আমাকে উত্তম বানিয়ে দিন।”278
১১৫. হজ্জ বা ‘উমরাহর সময় মুহরিম ব্যক্তি যেভাবে তালবিয়া পাঠ করবে
«لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الحَمْدَ، وَالنِّعْمَةَ، لَكَ وَالمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ».
অর্থ: “আমি হাযির হে আল্লাহ! আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি হাযির, আমি হাযির; আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোনো অংশীদার নেই।”279
১১৬. হাজরে আসওয়াদের কাছে আসলে তাকবীর বলা
«طَافَ النَّبيُّ ﷺ بِالْبَيْتِ عَلَى بَعِيرٍ كُلَّمَا أَتَى الرُّكْنَ أَشَارَ إِلَيْهِ بِشَيْءٍ عِنْدَهُ وَكَبَّرَ».
“নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি উটের উপর চড়ে কাবাঘর তাওয়াফ করেন। তিনি যখনই রুকনে (হাজরে আসওয়াদ) আসতেন, তার হাতে থাকা কোনো বস্তু দিয়ে ইশারা করতেন এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলতেন।”280
১১৭. রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের(কালো পাথরের) মধ্যকার দু‘আ
﴿...رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ حَسَنَةٗ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ﴾
অর্থ: “হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”281
১১৮. সাফা ও মারওয়ায় দাঁড়ানোর সময় দু‘আ
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফার কাছে পৌঁছলেন তখন এটি পাঠ করলেন:
«إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللَّهِ...، أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ»
“নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত...। আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, আমিও তা দিয়ে শুরু করছি।”
তিনি সাফা থেকে শুরু করলেন, তারপর সাফার ওপরে উঠলেন, যতক্ষণ না কাবা ঘর দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি কিবলামুখী হলেন, আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করলেন, আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করলেন এবং বললেন:
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ،
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই দলবদ্ধ শত্রুদের পরাজিত করেছেন।”
ثُمَّ دَعَا بَيْنَ ذلكَ، قَالَ مِثْلَ هَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ»
অতঃপর এর মাঝে তিনি দোয়া করলেন, এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। ...হাদীস। আর তাতে রয়েছে: তিনি মারওয়াতেও তা-ই করলেন যা সাফায় করেছিলেন।282
১১৯. আরাফার দিনের দু‘আ
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبيُّونَ مِنْ قَبْلِي:
“সর্বোত্তম দু‘আ হচ্ছে আরাফার দিনের দু‘আ। আর আমি ও আমার পূর্বের নবীগণ সর্বোত্তম যা পাঠ করেছি, তা হচ্ছে:”
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
“আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।”283 “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাসওয়া নামক উটনিতে আরোহণ করলেন, মাশ'আরুল হারামে (মুযদালিফায়) এসে পৌঁছলেন। অতঃপর কিবলামুখী হয়ে (আল্লাহর নিকট দু‘আ করলেন, তাকবীর বললেন, তাওহীদের ঘোষণা দিলেন এবং আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করলেন।) তিনি ক্রমাগত দাঁড়িয়ে থাকলেন যতক্ষণ না সকাল অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তারপর সূর্য উদয়ের পূর্বেই তিনি মুযদালিফা থেকে রওয়ানা হলেন।”284 "তিনটি জামরায় প্রত্যেক পাথর নিক্ষেপের সময় তাকবীর ('আল্লাহু আকবার') বলবে। প্রথম ও দ্বিতীয় জামরা থেকে পাথর নিক্ষেপের পর একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে কিবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে দু‘আ করবে। তবে জামরাতুল আকাবায়(বড় বা তৃতীয় জামরায়) পাথর নিক্ষেপের সময় প্রত্যেক পাথরের সাথে তাকবীর বলবে কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে দু‘আ করবে না, বরং সেখান থেকে চলে যাবে।"285
১২০. মাশআরুল হারামের নিকটে পড়ার যিকির
১২১. জামারায় প্রত্যেক পাথর নিক্ষেপের সময় তাকবীর বলা
১২২. আশ্চর্যজনক ও আনন্দদায়ক কোনো বিষয় ঘটলে পাঠ করার দু‘আ
«سُبْحَانَ اللَّهِ!»
“সুবহানাল্লাহ/আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।”286
«اللَّهُ أَكْبَرُ!»
“আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”287
১২৩. আনন্দদায়ক কোন সংবাদ আসলে যা করবে
«كَانَ النَّبيُّ ﷺ إِذَا أَتَاهُ أَمْرٌ يَسُرُّهُ أَوْ يُسَرُّ بِهِ خَرَّ سَاجِدًا شُكْرًا لِلَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى».
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যখন কোন খুশীর খবর আসতো অথবা তাঁকে কোন সুসংবাদ দেওয়া হতো, তখনই তিনি বরকতময় আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে শুকরিয়া স্বরূপ সিজদা করতেন।”288
১২৪. শরীরে ব্যথা অনুভব করলে যা করবে ও বলবে
«ضَعْ يَدَكَ عَلَى الَّذِي تَألَّمَ مِنْ جَسَدِكَ وَقُلْ:
“তোমার শরীরের যে অংশ ব্যথাযুক্ত হয়, তার উপরে তোমার হাত রেখে বলবে:
بِسْمِ اللَّهِ،
আল্লাহর নামে।
ثَلَاثًا،
তিনবার,
وَقُلْ سَبْعَ مَرَّاتٍ:
আর সাত বার বলুন:
أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ».
অর্থ: "আমি আল্লাহর এবং তাঁর কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি- আমি যে কষ্ট অনুভব করছি এবং যার ভয় করছি, তার অনিষ্ট থেকে।"289
১২৫. কোন কিছুর উপর নিজের চোখ লাগার ভয় থাকলে দু‘আ
«إِذَا رَأَى أَحَدُكُم مِنْ أَخِيهِ، أَوْ مِنْ نَفْسِهِ، أَوْ مِنْ مَالِهِ مَا يُعْجِبُهُ [فَلْيَدْعُ لَهُ بِالْبَرَكَةِ] فَإِنَّ العَيْنَ حَقٌّ».
“তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের কাছে, অথবা নিজের কাছে অথবা তার সম্পদে এমন কিছু দেখতে পায়, যা তার কাছে পছন্দনীয় হয় [সে যেন তার জন্য বরকতের দু‘আ করে], কেননা নজর লাগা সত্য।”290
১২৬. ভয়-আতঙ্কের সময় যা বলবে
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ!»
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই।”291
১২৭. পশু জবাই বা নহর করার সময় যা বলবে
«بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ [اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ] اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّي».
অর্থ: “আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, [হে আল্লাহ! এটা আপনার পক্ষ থেকে এবং আপনার জন্য], হে আল্লাহ! আপনি আমার এই আমল গ্রহণ করুন।”।292
১২৮. দুষ্ট শয়তানদের চক্রান্ত প্রতিহত করতে যা বলবে
«أَعُوذُ بكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ: مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، وَبَرَأَ وَذَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فيهَا، وَمِنْ شَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الأَرْضِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ».
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আশ্রয় চাই -যা কোনো পুণ্যবান বা পাপীই অতিক্রম করতে পারে না- তাঁর সৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে, যা তিনি সৃষ্টি করেছেন ও ছড়িয়েছেন; আসমান থেকে যা নেমে আসে তার অনিষ্ট থেকে; যা আসমানে উঠে তার অনিষ্ট থেকে; পৃথিবীতে যা বিস্তৃত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে; পৃথিবী থেকে যা বের হয় তার অনিষ্ট থেকে; রাত ও দিনের ফিতনার অনিষ্ট থেকে; এবং প্রতিটি অশুভ আগন্তুকের অনিষ্ট থেকে— তবে যে আগন্তুক কল্যাণ নিয়ে আসে তাকে ছাড়া, হে পরম দয়ালু,।"293
১২৯. ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবা করা
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«وَاللَّهِ إِنِّي لأَسْتَغفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي اليَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةٍ».
“আল্লাহর শপথ! আমি প্রত্যহ আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও বেশি ইস্তিগফার ও তাওবা করে থাকি।”294
তিনি আরও বলেছেন:
«يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي اليَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ».
“হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সমীপে তাওবা কর কেননা, আমি প্রতিদিন একশো বার তাওবা করি।”295
তিনি আরও বলেছেন:
«مَنْ قَالَ:
«যে ব্যক্তি বলবে:
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ العَظيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيُّ القَيُّوُمُ وَأَتُوبُ إِلَيهِ،
আমি মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া সত্যিকার কোনো মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং আমি তাঁর কাছেই তাওবা করছি।
غَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَإِنْ كَانَ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ».
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে থাকে।”296
তিনি আরও বলেছেন:
«أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الرَّبُّ مِنَ العَبْدِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ الآخِرِ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُونَ مِمَّنْ يَذْكُرُ اللَّهَ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ فَكُنْ».
“আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন শেষ রাতের গভীরে। অতএব যারা এ সময় আল্লাহর যিকির করে, তুমি পারলে তাদের দলভুক্ত হয়ে যাও।”297
তিনি আরও বলেছেন:
«أَقْرَبُ مَا يَكُونُ العَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكثِرُوا الدُّعَاءَ».
“বান্দা স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয় তখন, যখন সে সাজদার অবস্থায় থাকে। সুতরাং (ঐ সময়) তোমরা বেশি মাত্রায় দু‘আ কর “298
তিনি আরও বলেছেন:
«إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي اليَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ».
“আমার কলবেও (কখনো কখনো) আবরণ পড়ে যায়, তাই আমি প্রতিদিন একশ বার ইসতিগফার পাঠ করে থাকি।”299
১৩০. সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলার ফযীলত
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ قَالَ:
«যে ব্যক্তি বলবে:
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
“আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি”
فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ البَحْر».
প্রত্যহ একশ বার- তার গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে, তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও।”300
তিনি আরও বলেছেন:
«مَنْ قَالَ:
«যে ব্যক্তি বলবে:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ، وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
عَشْرَ مِرَارٍ، كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ أَرْبَعَةَ أَنْفُسٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ».
দশবার, সে যেন ইসমা‘ঈল ‘আলাইহিস সালামের বংশের চারজন গোলামকে আযাদ করল।”301
তিনি আরও বলেছেন:
«كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي المِيزَانِ، حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ:
“দুটি কালেমা উচ্চারণে হালকা, মীযানের পাল্লায় ভারী, পরম দয়াময়ের কাছে খুবই প্রিয়:
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحانَ اللَّهِ العَظِيمِ».
“আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি, সুমহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।”302
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন:
«لَأَنْ أَقُولَ:
«আমার এ কথা বলা:
سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ،
আল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নেই, আর আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمسُ».
আমার কাছে যে সকল বস্তুর উপর সূর্য উদিত হয়, তা হতে বেশি পছন্দনীয়।”303
তিনি আরও বলেছেন:
«أَيَعْجِزُ أَحَدُكُم أَنْ يَكْسِبَ كُلَّ يَوْمٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ»
“তোমাদের কোন ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকী অর্জন করতে অপারগ হবে কি?” তার সাথে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের একজন জিজ্ঞাসা করল, ‘কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করবে?’ তিনি বললেন:
«يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ، فَيُكتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ أَوْ يُحَطُّ عَنْهُ أَلْفُ خَطِيئَةٍ».
“একশ’বার তাসবীহ পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে অথবা এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে।”304
«مَنْ قَالَ:
«যে ব্যক্তি বলবে:
سُبْحَانَ اللَّهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ
মহান আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি
غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الجَنَّةِ».
তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপন করা হবে।”305
তিনি আরও বলেছেন:
«يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الجَنَّةِ؟»
(হে আব্দুল্লাহ ইবনু কায়েস! আমি কি তোমাকে জান্নাতের ধনভাণ্ডারের একটির সন্ধান দিবো না? তখন আমি বললাম: অবশ্যই হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন:
«قُلْ:
(বলুন:
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ».
“আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত ভালো কাজ করার সামর্থ্য ও খারাপ থেকে বিরত থাকার কোনো শক্তি নেই।”)306
তিনি আরও বলেছেন:
«أَحَبُّ الكَلَامِ إِلَى اللَّهِ أَرْبَعٌ:
“আল্লাহর নিকটে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটি:
سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ،
"আল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, আর আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নেই, এবং আল্লাহ সবচেয়ে বড়।"
لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأتَ».
“তুমি যে বাক্য দিয়েই শুরু কর না কেন তাতে কোনো অসুবিধা নাই।”307
একদিন এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি বলবো। তিনি বললেন:
«قُلْ:
«বলুন:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ العَزِيزِ الحَكِيمِ»
‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আল্লাহ অতি মহান, আর আল্লাহর জন্যই অসংখ্য প্রশংসা। বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ সুমহান পবিত্র। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।’
সে বলল: ‘এগুলো আমার রবের জন্য, তাহলে আমার জন্য কী?’ তিনি বললেন:
«قُلْ:
বলুন:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَارْزُقْنِي».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আমাকে রিযিক দিন।”308
যখন কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করত, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সালাত শিক্ষা দিতেন, তারপর তাকে এ কথাগুলোর দ্বারা দু‘আ করতে শিখিয়ে দিতেন:
«اللَّهُمَّ اغْفِرِ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي».
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমাকে সুস্থতা দিন এবং আমাকে রিজিক দিন।”309
«إِنَّ أَفْضَلَ الدُّعَاءِ
“নিশ্চয় সর্বোত্তম দু‘আ হলো
الحَمْدُ لِلَّهِ،
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য,
وَأَفْضَلَ الذِّكْرِ
আর সর্বোত্তম যিকির হলো
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ».
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই।”310
«البَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ:
“স্থায়ী সৎকর্মসমূহ হল:
سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّه».
“আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, এবং শক্তি ও সামর্থ্য কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।”311
১৩১. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাসবীহ পাঠ করতেন?
আব্দুল্লাহ বিন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:
«رَأَيْتُ النَّبيَّ ﷺ يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ» وفي زيادةٍ: «بِيَمِينِهِ».
“আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি আঙ্গুলে তাসবীহ গণনা করতেন।” অন্য বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে: “তাঁর ডান হাত দ্বারা।”312
১৩২. বিবিধ কল্যাণ ও সামষ্টিক কিছু আদব
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إِذَا كَانَ جُنْحُ اللَّيْلِ – أَوْ أَمْسَيْتُم – فَكُفُّوا صِبْيَانَـكُم، فَإِنَّ الشَّيَاطِينَ تَنْتَشِرُ حِينَئِذٍ، فَإِذَا ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيلِ فَخَلُّوهُمْ، وَأَغْلِقُوا الأَبْوَابَ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ؛ فَإِنَّ الشَّيطَانَ لَا يَفْتَحُ بَابًا مُغلَقًا، وَأَوْكُوا قِرَبَكُمْ، وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ، وَخَمِّرُوا آنِيَتَكُم، وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ، وَلَوْ أَنْ تَعْرُضُوا عَلَيْهَا شَيْئًا، وَأَطْفِئُوا مَصَابِيحَكُمْ».
“যখন রাত্রের আঁধার নেমে আসে -অথবা সন্ধ্যা হয়- তখন তোমাদের সন্তানদের ঘরে আটকিয়ে রাখবে। কেননা এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু সময় অতিক্রান্ত হলে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পার। আর ঘরের দরজা বন্ধ করবে আর আল্লাহর নামের যিকির করবে; কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। আর তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে (বিসমিল্লাহ বলে) তোমাদের মশকের মুখ বন্ধ করে দেবে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের পাত্রগুলোকে ঢেকে রাখবে কমপক্ষে পাত্রগুলোর উপর কোন জিনিস আড়াআড়িভাবে রেখে হলেও। আর (শয়নকালে) তোমরা তোমাদের বাতিসমূহ নিভিয়ে দেবে।”313
আর সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর, তার পরিবার পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর।
***
সূচিপত্র
কুরআন ও সুন্নাহর যিকির ও দু‘আ 2
ভূমিকা 2
যিকিরের ফযীলত 5
১. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার যিকিরসমূহ 11
২. জামা পরিধানের দু‘আ 16
৩. নতুন পোষাক পরিধানের দু‘আ 16
৪. নতুন জামা পরিধানকারীর দু‘আ 17
৫. কাপড় খুলে রাখার সময় যা বলবে 17
৬. টয়লেটে প্রবেশের দু‘আ 18
৭. টয়লেট থেকে বের হওয়ার দু‘আ 18
৮. অযুর পূর্বের দু‘আ (যিকির) 18
৯. অযুর শেষে দু‘আ 19
১০. বাড়ি থেকে বের হওয়ার দু‘আ 20
১১. বাড়িতে প্রবেশের দু‘আ 20
১২. মসজিদে গমনের দু‘আ 21
১৩. মসজিদে প্রবেশের দু‘আ 23
১৪. মসজিদ থেকে বের হওয়ার দু‘আ 24
১৫. আযানের যিকিরসমূহ 25
১৬. সলাত শুরু করার পর পঠিত দু‘আ 27
১৭. রুকুর দু‘আ 33
১৮. রুকু থেকে উঠার দু‘আ 35
১৯. সিজদার দু‘আ 36
২০. দুই সিজদার মাঝে বৈঠকের দু‘আ 38
২১. সিজদার আয়াত তেলাওয়াতের পর সিজদার দু‘আ 39
২২. তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) 40
২৩. তাশাহহুদ পাঠের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর (সালাত) দরুদ পাঠ করা 41
২৪. শেষ তাশাহহুদের পরে সালাম ফিরানোর পূর্বের দু‘আ 42
২৫. ফরজ সালাতের সালাম ফিরানোর পরবর্তী যিকিরসমূহ 48
ইস্তেখারা সালাতের দু‘আ 53
27. সকাল এবং সন্ধ্যার যিকিরসমূহ 56
২৮. ঘুমানোর যিকিরসমূহ 74
২৯. রাতে (ঘুমের সময়) পার্শ্ব পরিবর্তন করার দু‘আ 83
৩০. ঘুমন্ত অবস্থায় ভয় এবং নির্জনতার আতঙ্কে পড়ার দু‘আ 84
৩১. দুঃস্বপ্ন দেখলে যা করবে 84
৩২. বিতরের কুনূতের দু‘আ 85
৩৩. বিতর সালাতের সালাম ফিরানোর পরের যিকির 87
৩৪. দুঃখ ও দুশ্চিন্তার সময় পড়ার দু‘আ 88
৩৫. দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির দু‘আ 89
৩৬. শত্রু ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতকালে দু‘আ 91
৩৭. শাসকের যুলুমের আশঙ্কাকারীর দু‘আ 92
৩৮. শত্রুর বিরুদ্ধে বদদোয়া 94
৩৯. কোন সম্প্রদায়কে ভয় করলে যা বলবে 94
৪০. ঈমানের বিষয়ে সংশয়ে পতিত ব্যক্তির দু‘আ 94
৪১. ঋণ পরিশোধের দু‘আ 95
৪২. সালাত ও তেলাওয়াতে ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার দু‘আ 96
৪৩. যার জন্য কোনো কাজ কঠিন হয়ে পড়ে, তার দু‘আ 96
৪৪. কোন পাপ করে ফেললে যা বলবে ও করবে 97
৪৫. শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা দূর করার দু‘আ 97
৪৬. যখন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বা কোনো বিষয়ে অক্ষমতা দেখা দেয়- তখন পড়ার দু‘আ 99
৪৭. সন্তান লাভকারীকে অভিনন্দন ও তার জবাব 100
৪৮. যা দ্বারা শিশুদের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করা হয় 101
৪৯. রোগী দেখতে গিয়ে তার জন্য দু‘আ 101
৫০. রোগী দেখতে যাওয়ার ফযীলত 102
৫১. জীবনের আশা ছেড়ে দেয়া রোগীর দু‘আ 102
৫২. মুমূর্ষ ব্যক্তিকে তালক্বীন দেয়া 104
৫৩. কোন মুসীবতে পতিত ব্যক্তির দু‘আ 104
৫৪. মৃত ব্যক্তির চোখ বন্ধ করার সময় দু‘আ 105
৫৫. মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযার সালাতে দু‘আ 105
৫৬. শিশুর জানাযার সালাতের দু‘আ 108
৫৭. শোকার্তদের সান্ত্বনা দেয়ার দু‘আ 110
৫৮. মৃত ব্যক্তিকে কবরে প্রবেশ করানোর সময় দু‘আ 110
মৃতের দাফনের পর দু‘আ 111
৬০. কবর যিয়ারতের দু‘আ 111
৬১. বায়ূ প্রবাহিত হলে পাঠ করার দু‘আ 112
৬২. মেঘের গর্জন শুনলে পড়ার দু‘আ 113
৬৩. বৃষ্টি প্রার্থনার কতিপয় দু‘আ 113
৬৪. বৃষ্টি দেখলে পাঠ করার দু‘আ 114
৬৫. বৃষ্টি বর্ষণের পরবর্তী যিকির 114
৬৬. আকাশ পরিষ্কার হওয়ার জন্য দু‘আ 114
৬৭. নতুন চাঁদ দেখার দু‘আ 115
৬৮. সিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময়ের দু‘আ 115
৬৯. আহারের পূর্বের দু‘আ 116
৭০. আহার শেষ করার পরের দু‘আ 117
৭১. খাবারের আয়োজকের জন্য মেহমানের দু‘আ 118
৭২. দু‘আর মাধ্যমে খাবার বা পানীয় চাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা 118
৭৩. কোনো পরিবারে ইফতার করলে তাদের জন্য দু‘আ 119
৭৪. সিয়ামপালনকারী ব্যক্তির সামনে খাবার আনা হলে সে যদি সিয়াম ভঙ্গ না করে, সে সময়ে পড়ার দু‘আ 119
৭৫. কেউ গালি দিলে সিয়াম পালনকারী যা বলবে 120
৭৬. ফলের কলি দেখে পড়ার দু‘আ 120
৭৭. হাঁচির দু‘আ 121
৭৮. কাফের ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে তার জবাবে যা বলা হবে 121
৭৯. নব বিবাহিতদের জন্য দু‘আ 122
৮০. বিবাহিতদের জন্য ও বাহন ক্রয়ের পর দু‘আ 122
৮১. স্ত্রী-সহবাসের পূর্বের দু‘আ 123
৮২. ক্রোধ দমনের দু‘আ 123
৮৩. বিপদগ্রস্তকে দেখে দু‘আ 124
৮৪. মজলিসে যা বলতে হয় 124
৮৫. মজলিসের কাফ্ফারা 125
৮৬. যে ব্যক্তি 'আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন’ বলবে, তার জন্য দু‘আ 125
৮৭. কেউ আপনার প্রতি সদাচারণ করলে তার জন্য দু‘আ 126
৮৮. আল্লাহ যা দ্বারা দাজ্জাল থেকে হেফাযত করবেন 126
৮৯. যে ব্যক্তি বলে: ‘আমি আল্লাহর জন্য তোমাকে ভালোবাসি’, তার জন্য দু‘আ 127
৯০. যে ব্যক্তি তার সম্পদ আপনার কাছে উপস্থাপন করে, তার জন্য দু‘আ 127
৯১. ঋণ পরিশোধের সময় ঋণদাতার জন্য দু‘আ 127
৯২. শির্কের ভয়ে দু‘আ 128
৯৩. কেউ 'আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন' বললে, তার জন্য দু‘আ 128
৯৪. অশুভ লক্ষণ গ্রহণকে অপছন্দ করে দু‘আ 128
৯৫. বাহনে আরোহণের দু‘আ 129
৯৬. সফরের দু‘আ 130
৯৭. কোন গ্রাম বা শহরে প্রবেশকালে দু‘আ 132
৯৮. বাজারে প্রবেশকালে দু‘আ 133
৯৯. বাহন অচল হলে অথবা হোঁচট খেলে পড়ার দু‘আ 133
১০০. মুকীমের জন্য মুসাফিরের দু‘আ 133
১০১. মুসাফিরের জন্য মুকীম ব্যক্তির দু‘আ 134
১০২. যাত্রা পথে তাকবীর ও তাসবীহ পাঠ করা 134
১০৩. রাতের শেষ প্রহরে মুসাফিরের দু‘আ 135
১০৪. সফরে বা অন্য অবস্থায় কোথাও অবতরণ করলে দু‘আ 135
১০৫. সফর থেকে ফেরার যিকির 136
১০৬. আনন্দদায়ক বা অপছন্দনীয় কিছুর সম্মুখীন হলে যা বলবে 137
১০৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরুদ) পাঠের ফযীলত 137
১০৮. সালামের প্রসার 139
১০৯. কাফের ব্যক্তি সালাম দিলে, যেভাবে তার উত্তর দেবে 141
১১০. মোরগের ডাক ও গাধার স্বর শোনার সময় দু‘আ 141
১১১. রাতে কুকুরের ডাক শুনলে দু‘আ 142
১১২. আপনি যাকে গালি দিয়েছেন তার জন্য দু‘আ 142
১১৩. কোনো মুসলিম অপর মুসলিমের প্রশংসা করলে যা বলবে 143
১১৪. কোনো মুসলিমকে সৎ ও পবিত্র হিসেবে প্রশংসা করা হলে সে যা বলবে 143
১১৫. হজ্জ বা ‘উমরাহর সময় মুহরিম ব্যক্তি যেভাবে তালবিয়া পাঠ করবে 144
১১৬. হাজরে আসওয়াদের কাছে আসলে তাকবীর বলা 144
১১৭. রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের(কালো পাথরের) মধ্যকার দু‘আ 145
১১৮. সাফা ও মারওয়ায় দাঁড়ানোর সময় দু‘আ 145
১১৯. আরাফার দিনের দু‘আ 147
১২০. মাশআরুল হারামের নিকটে পড়ার যিকির 148
১২১. জামারায় প্রত্যেক পাথর নিক্ষেপের সময় তাকবীর বলা 148
১২২. আশ্চর্যজনক ও আনন্দদায়ক কোনো বিষয় ঘটলে পাঠ করার দু‘আ 148
১২৩. আনন্দদায়ক কোন সংবাদ আসলে যা করবে 149
১২৪. শরীরে ব্যথা অনুভব করলে যা করবে ও বলবে 150
১২৫. কোন কিছুর উপর নিজের চোখ লাগার ভয় থাকলে দু‘আ 150
১২৬. ভয়-আতঙ্কের সময় যা বলবে 151
১২৭. পশু জবাই বা নহর করার সময় যা বলবে 151
১২৮. দুষ্ট শয়তানদের চক্রান্ত প্রতিহত করতে যা বলবে 152
১২৯. ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবা করা 153
১৩০. সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলার ফযীলত 155
১৩১. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাসবীহ পাঠ করতেন? 163
১৩২. বিবিধ কল্যাণ ও সামষ্টিক কিছু আদব 163
***
bn24v5.0 - 05/09/2026
সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫২।
সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪১।
সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৫।
সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ২০৫।
সহীহ বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২০৮, হাদিস নং: ৬৪০৭; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৩৯, হাদিস নং: ৭৭৯, এই শব্দে: "যে ঘরে আল্লাহকে যিকির করা হয় এবং যে ঘরে আল্লাহকে যিকির করা হয় না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃতের মতো।"
তিরমিজি, ৫/৪৫৯, হাদিস নং: ৩৩৭৭; এবং ইবনে মাজাহ, ২/১২৪, হাদিস নং: ৩৭৯০। আরও দেখুন: সহীহ ইবনে মাজাহ, ২/৩১৬; এবং সহীহ তিরমিজি, ৩/১৩৯।
সহীহ বুখারী (৮/১৭১) হাদিস নং: ৭৪০৫, মুসলিম (৪/২০৬১) হাদিস নং: ২৬৭৫, হাদীসের শব্দাবলী সহীহ বুখারীর।
তিরমিযি, ৫/৪৫৮, হাদিস নং: ৩৩৭৫; এবং ইবনে মাজাহ, ২/১২৪৬, হাদিস নং: ৩৭৯৩। আলবানি (রহ.) এই হাদিসটিকে সহীহ তিরমিযি ও সহীহ ইবনে মাজাহ-তে সহীহ বলেছেন: “সহীহ তিরমিযি”, ৩/১৩৯; এবং "সহীহ ইবনে মাজাহ", ২/৩১৭।
তিরমিযি, ৫/১৭৫, হাদিস নং: ২৯১০। আলবানি (রহ.) এই হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন: "সহীহ তিরমিযি", ৩/৯; এবং "সহীহ আল-জামে আস-সগীর", ৫/৩৪০।
সহীহ মুসলিম: ১/৫৫৩, হাদিস নং: ৮০৩।
আবু দাউদ, ৪/২৬৪, হাদিস নং: ৪৮৫৬, এবং অন্যান্য । আরো দেখুন: "সহীহ আল-জামে", ৫/৩৪২।
তিরমিজি, ৫/৪৬১, হাদিস নং: ৩৩৮০। আরো দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৪০।
আবু দাউদ, ৪/২৬৪, হাদিস নং: ৪৮৫৫, আহমাদ, ২/৩৮৯, হাদিস নং: ১০৬৮০। আরো দেখুন: "সহীহ আল-জামে", ৫/১৭৬।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ১১৩, হাদিস নং: ৬৩১৪; এবং মুসলিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২০৮৩, হাদিস নং: ২৭১১।
যে ব্যক্তি এটি বলবে, তার গুনাহ মাফ করা হবে। যদি সে দু‘আ করে, তাহলে তার দু‘আ কবুল করা হবে। যদি সে অযু করে এবং সালাত আদায় করে, তাহলে তার সালাত কবুল করা হবে। (বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৯, হাদিস নং: ১১৫৪, এবং অন্যান্য; এই শব্দগুলো ইবনে মাজাহর। দেখুন: সহীহ ইবনে মাজাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৩৫।)
তিরমিজি, ৫/৪৭৩, হাদিস নং: ৩৪০১। আরো দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৪৪।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৩৩৭, হাদিস নং: ৪৫৬৯; এবং মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৩০, হাদিস নং: ২৫৬।
এ হাদিসটি নাসাঈ ছাড়া অন্যান্য সুনান গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪০২৩; তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৪৫৮; এবং ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩২৮৫। আলবানি (রহ.) এই হাদিসটিকে হাসান বলেছেন: "ইরওয়া আল-গালীল", ৭/৪৭।
আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪০২০; তিরমিযি, হাদিস নং: ১৭৬৭; এবং আল-বাগাবী, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৪০। আরো দেখুন: আলবানি (রহ.) সংকলিত "মুখতাসার শামায়েল আত-তিরমিজি", পৃষ্ঠা ৪৭।
আবু দাউদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪১, হাদিস নং: ৪০২০। আরও দেখুন: "সহীহ আবু দাউদ", ২/৭৬০।
ইবনে মাজাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১১৭৮, হাদিস নং: ৩৫৫৮; এবং আল-বাগাবী, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৪১। আরো দেখুন: "সহীহ ইবনে মাজাহ", খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৭৫।
তিরমিযি, ২/৫০৫, হাদিস নং: ৬০৬, এবং অন্যান্য। আরো দেখুন: ইরওয়া আল-গালীল, হাদিস নং: ৫০, এবং সহীহ আল-জামে, ৩/২০৩।
এটি ইমাম বুখারী, ১/৪৫, হাদিস নং: ১৪২ এবং মুসলিম, ১/২৮৩, হাদিস নং: ৩৭৫ বর্ণনা করেছেন। আর ((বিসমিল্লাহ)) শুরুর অংশটি সাঈদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী, ১/২৪৪।
এটি সুনান গ্রন্থের লেখকগণ বর্ণনা করেছেন; তবে নাসাঈ এটি "‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ" গ্রন্থে হাদিস নং: ৭৯, এবং আবু দাউদ, হাদিস নং: ৩০, তিরমিজি, হাদিস নং: ৭, ও ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩০০ এ বর্ণনা করেছেন। আলবানি এটিকে সহীহ সুনান আবু দাউদ, ১/১৯ এ সহীহ বলেছেন।
আবু দাউদ, হাদিস নং: ১০১; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩৯৭; এবং আহমাদ, হাদিস নং: ৯৪১৮। আরো দেখুন: ইরওয়া আল-গালীল, ১/১২২।
সহীহ মুসলিম: ১/২০৯, হাদিস নং: ২৩৪।
তিরমিযি, ১/৭৮, হাদিস নং: ৫৫, এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/১৮।
নাসাঈ, "আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ", পৃষ্ঠা: ১৭৩, এবং দেখুন: ইরওয়া আল-গালীল, ১/১৩৫, ৩/৯৪।
আবু দাউদ, ৪/৩২৫, হাদিস নং: ৫০৯৫, এবং তিরমিযি, ৫/৪৯০, হাদিস নং: ৩৪২৬, এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ৩/১৫১।
আবু দাউদ, হাদিস নং: ৫০৯৪, তিরমিযি, হাদিস নং: ৩৪২৭, নাসাঈ, হাদিস নং: ৫৫০১, এবং ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩৮৮৪, এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ৩/১৫২, এবং সহীহ ইবনে মাজাহ, ২/৩৩৬।
আবু দাউদ, ৪/৩২৫, হাদিস নং: ৫০৯৬, আল্লামা ইবনে বায (রহ.) তার "তুহফাতুল আখইয়ার" (পৃষ্ঠা ২৮)-এ এর সনদকে হাসান বলেছেন। সহীহ হাদিসে রয়েছে: “যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশের সময় ও খাবারের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে (অর্থাৎ ‘বিসমিল্লাহ’ বলে), তখন শয়তান [সঙ্গীদেরকে] বলে: ‘তোমাদের জন্য কোনো রাত কাটানোর স্থান নেই আর রাতের খাবারও নেই ’”, মুসলিম, হাদিস নং: ২০১৮।
এই দু‘আটির সকল শব্দসমূহ দেখুন বুখারী, ১১/১১৬, হাদিস নং: ৩১৬৬; এবং মুসলিম, ১/৫২৬, হাদিস নং: ৫২৯, ৫৩০ ও ৭৬৩।
ইবনে হাজার আসকালানী তার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আবী আসিমের ‘কিতাবুদ দু‘আ’ গ্রন্থের সাথে এর সনদ সম্পর্কিত করেছেন। দেখুন: ‘ফাতহুল বারী’ (১১/১১৮)। তিনি বলেন: "বিভিন্ন রেওয়ায়েতের পার্থক্য থেকে পঁচিশটি বৈশিষ্ট্য একত্রিত হয়েছে।"
এটিকে বুখারী ‘আদাবুল মুফরাদ’-এ (নং: ৬৯৫, পৃ.: ২৫৮) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী ‘সহীহ আদাবুল মুফরাদ’-এ (নং: ৫৩৬) এর সনদকে সহীহ বলেছেন।
তিরমিযী, ৫/৪৮৩, হাদিস নং: ৩৪১৯।
আনাস ইবন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "সুন্নাত হলো - যখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন ডান পা দিয়ে শুরু করবে। আর যখন বের হবে, তখন বাম পা দিয়ে শুরু করবে।" (হাদীসটি ইমাম হাকিম (১/২১৮) বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। ইমাম যাহাবীও তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া ইমাম বায়হাকীও (২/৪৪২) বর্ণনা করেছেন এবং শাইখ আলবানী 'সিলসিলাতুল আহাদীসিস আস-সহীহা' গ্রন্থে (৫/৬২৪, হাদীস নং: ২৪৭৮) এটিকে হাসান বলেছেন।)
আবু দাউদ (হাদীস নং: ৪৬৬)। এছাড়া দেখুন: সহীহুল জামে (হাদীস নং: ৪৫৯১)।
আবু দাউদ (১/১২৬, হাদীস নং: ৪৬৫)। আরও দেখুন: সহীহুল জামে (১/৫২৮)।
হাদিসটি ইবনুস সুন্নী (রহ.) (নং: ৮৮) বর্ণনা করেছেন। ইমাম আলবানী (রহ.) 'আছ-ছামার আল-মুসতাত্বাব' (পৃ.: ৬০৭)-এ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
সহীহ মুসলিম (১/৪৯৪, হাদীস নং: ৭১৩)। ইবনে মাজাহ-র সুনানে ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণনায় এসেছে: অর্থ: "হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।"শাইখ আলবানী হাদীসটিকে এর শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) এর ভিত্তিতে সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ ইবনে মাজাহ (১/১২৮, হাদিস নং: ১২৯)।
আল-হাকেম, ১/২১৮, আল-বায়হাকি, ২/৪৪২, এবং আলবানী (রহ.) এটাকে হাসান বলেছেন "আল-সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সাহীহাহ" গ্রন্থে, ৫/৬২৪, হাদীস নং: ২৪৭৮, এবং ইতোপূর্বে এটির তাখরীজ (সূত্র) উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বোক্ত হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনার সূত্রের জন্য দেখুন: মসজিদে প্রবেশের দু‘আ, নং: (২০)। আর ((اللهم اعصمني من الشيطان الرجيم)) অতিরিক্ত সংযোজনটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। বিস্তারিত দেখুন: "সহীহ ইবন মাজাহ", ১/১২৯।
সহীহ বুখারী, ১/১৫২, হাদীস নং: ৬১১ এবং ৬১৩, এবং সহীহ মুসলিম, ১/২৮৮, হাদীস নং: ৩৮৩।
মুসলিম, ১/২৯০, হাদীস নং: ৩৮৬।
ইবনু খুযাইমা, ১/২২০।
মুসলিম, ১/২৮৮, হাদীস নং: ৩৮৪।
বুখারী, ১/১৫২, হাদীস নং: ৬১৪; আর যেটুকু বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে তা বায়হাকী, ১/৪১০-এ এসেছে। এই হাদীসের সনদকে শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায (রহিমাহুল্লাহ) ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ (পৃষ্ঠা ৩৮) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।
তিরমিযি, হাদীস নং: ৩৫৯৪ ও ৩৫৯৫; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫২৫; আহমাদ, হাদীস নং: ১২২০০; আরো দেখুন: ইরওয়াউল গালীল, ১/২৬২।
বুখারী, ১/১৮১, হাদীস নং: ৭৪৪, মুসলিম, ১/৪১৯, হাদীস নং: ৫৯৮।
মুসলিম, হাদীস নং: ৩৯৯; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭৭৫; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৪৩; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮০৬; নাসাঈ, হাদীস নং: ৮৯৯; আরো দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/৭৭ এবং সহীহ ইবনে মাজাহ, ১/১৩৫।
মুসলিম, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭১।
এটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭০।
এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, ১/২০৩, হাদীস নং: ৭৬৪; ইবনু মাজাহ, ১/২৬৫, হাদীস নং: ৮০৭; এবং আহমাদ, ৪/৮৫, হাদীস নং: ১৬৭৩৯। শুয়াইব আল-আরনাউত তার 'মুসনাদ'-এর তাহকীকে বলেছেন: “হাসান লি গাইরিহী”। আর আবদুল কাদের আল-আরনাউত ইবনু তাইমিয়্যার ‘আল-কালিমুত ত্বাইয়্যিব’-এর তাখরিজে, হাদীস নং: ৭৮-এ বলেছেন: “এটি তার শাওয়াহেদ (সহায়ক সূত্র) দ্বারা সমর্থিত সহীহ হাদীস।” আলবানী তার ‘সহীহ আল-কালিমুত তইয়্যিব’-এ, হাদীস নং: ৬২-এ উল্লেখ করেছেন। আর মুসলিম ইবনু উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-থেকে অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাতে একটি ঘটনা রয়েছে, ১/৪২০, হাদীস নং: ৬০১।
সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৩/৩, ১১/১১৬, ১৩/৩৭১, নং: ৪২৩, ৪৬৫, ১১২০, ৬৩১৭, ৭৩৮৫, ৭৪৪২, ৭৪৯৯। আর মুসলিম অনুরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন, ১/৫৩২, হাদীস নং: ৭৬৯।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে তাহাজ্জুদে উঠলে এ কথা বলতেন।
مط এটি সুনান গ্রন্থকারগণ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৭০; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৬২; নাসাঈ, হাদীস নং: ১০০৭; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮৯৭; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ৩৫১৪। দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/৮৩।
সহীহ বুখারী, ১/৯৯, হাদীস নং: ৭৯৪; সহীহ মুসলিম, ১/৩৫০, হাদীস নং: ৪৮৪।
সহীহ মুসলিম, ১/৩৫৩, হাদীস নং: ৪৮৭; সুনান আবু দাউদ, ১/২৩০, হাদীস নং: ৮৭২।
সহীহ মুসলিম, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭১; এবং ইবনু মাজাহ ব্যতীত চারজন সুনান গ্রন্থকার হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭৬০ ও ৭৬১, সুনান আত-তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪২১, সুনান আন-নাসাঈ, হাদীস নং ১০৪৯। বন্ধনীর মধ্যে উল্লিখিত বর্ণনাগুলো ইবনে খুযাইমাহ (হাদীস নং: ৬০৭) এবং ইবনে হিব্বান (হাদীস নং: ১৯০১) থেকে গৃহীত।
আবু দাউদ, ১/২৩০, হাদীস নং: ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং: ১১৩১; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ২৩৯৮০। এর সনদ হাসান।
সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ২/২৮২, হাদীস নং: ৭৯৬।
সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ২/২৮৪, হাদীস নং: ৭৯৬।
মুসলিম, ১/৩৪৬, হাদীস নং: ৪৭৭।
এটি সুনান গ্রন্থকারগণ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৭০; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৬২; নাসাঈ, হাদীস নং: ১০০৭; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮৯৭; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ৩৫১৪। দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/৮৩।
বুখারী, হাদীস নং: ৭৯৪; মুসলিম, হাদীস নং: ৪৮৪। এটি পূর্বে ৩৪-নম্বরে উল্লিখিত হয়েছে।
মুসলিম, ১/৫৩৩, হাদীস নং: ৪৮৭; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৭২। এটি পূর্বে ৩৫-নম্বরে উল্লিখিত হয়েছে।
মুসলিম, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭১; এবং অন্যান্য কিতাবে।
আবু দাউদ, ১/২৩০, হাদীস নং: ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং: ১১৩১; আহমাদ, হাদীস নং: ২৩৯৮০; এবং আলবানী সহীহ আবু দাউদে, ১/১৬৬-এ এটিকে সহীহ বলেছেন। এটি পূর্বে ৩৭-নম্বরে উল্লিখিত হয়েছে।
মুসলিম, ১/২৩০, হাদীস নং: ৪৮৩।
মুসলিম, ১/৩৫২, হাদীস নং: ৪৮৬।
আবু দাউদ, ১/২৩১, হাদীস নং: ৮৭৪; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮৯৭; এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৪৮।
হাদিসটি নাসাঈ ব্যতীত অন্যান্য সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, ১/২৩১, হাদীস নং: ৮৫০; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৮৪ ও ২৮৫; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮৯৮; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/৯০; সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৪৮।
তিরমিজী, ২/৪৭৪, হাদীস নং: ৩৪২৫; আহমাদ, ৬/৩০, হাদীস নং: ২৪০২২; এবং ইমাম হাকিম বর্ণনা করেছেন ও এটিকে সহীহ বলেছেন; ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/২২০ — এবং অতিরিক্ত অংশটি হাকিমের।
তিরমিযি, ২/৪৭৩, হাদীস নং: ৫৭৯; এবং ইমাম হাকিম বর্ণনা করেছেন ও এটিকে সহীহ বলেছেন; ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/২১৯।
সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ২/৩১১, হাদীস নং: ৮৩১; সহীহ মুসলিম, ১/৩০১, হাদীস নং: ৪০২।
সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৬/৪০৮, হাদীস নং: ৩৩৭০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৪০৬।
সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৬/৪০৭, হাদীস নং: ৩৩৬৯; সহীহ মুসলিম, ১/৩০৬, হাদীস নং: ৪০৭, এবং বর্ণনার শব্দ মুসলিমের।
বুখারী, ২/১০২, হাদীস নং: ১৩৭৭; মুসলিম, ১/৪১২, হাদীস নং: ৫৮৮, এবং বর্ণনার শব্দটি মুসলিমের।
বুখারী, ১/২০২, হাদীস নং: ৮৩২; মুসলিম, ১/৪১২, হাদীস নং: ৫৮৭।
বুখারী, ৮/১৬৮, হাদীস নং: ৮৩৪; মুসলিম, ৪/২০৭৮, হাদীস নং: ২৭০৫।
মুসলিম, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭১।
আবু দাউদ, ২/৮৬, হাদীস নং: ১৫২২; নাসায়ী, ৩/৫৩, হাদীস নং: ২৩২০; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ আবু দাউদ, ১/২৮৪।
সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৬/৩৫, হাদীস নং: ২৮২২ ও ৬৩৯০।
আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭৯২; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৯১০; এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩২৮।
নাসায়ী, ৩/৫৪ (৫৫), হাদীস নং: ১৩০৪; আহমদ, ৪/৩৬৪, হাদীস নং: ২১৬৬৬; এবং আলবানী তা সহীহ বলেছেন, সহীহ নাসায়ী, ১/২৮১।
নাসায়ী, ৩/৫২, হাদীস নং: ১৩০০; আহমদ, ৪/৩৩৮, হাদীস নং: ১৮৯৭৪; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ নাসায়ী, ১/২৮০।
সুনান গ্রন্থকারগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৯৫; তিরমিযি, হাদীস নং: ৩৫৪৪; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৫৮; নাসায়ী, হাদীস নং: ১২৯৯ এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩২৯।
আবু দাউদ, ২/৬২, হাদীস নং: ১৪৯৩; তিরমিযি, ৫/৫১৫, হাদীস নং: ৩৪৭৫; ইবনু মাজাহ, ২/১২৬৭, হাদীস নং: ৩৮৫৭; নাসায়ী, হাদীস নং: ১৩০০; আহমাদ, হাদীস নং: ১৮৯৭৪; এবং আলবানী তা সহীহ বলেছেন, সহীহ নাসায়ী, ১/২৮০। এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩২৯; সহীহ তিরমিযি, ৩/১৬৩।
মুসলিম, ১/৪১৪, হাদীস নং: ৫৯১।
বুখারী, ১/২৫৫, হাদীস নং: ৮৪৪; মুসলিম, ১/৪১৪, হাদীস নং: ৫৯৩; এবং বন্ধনীর অংশটি বুখারীর ৬৪৭৩ নং হাদীস থেকে গৃহিত।
মুসলিম, ১/৪১৫, হাদীস নং: ৫৯৪।
মুসলিম, ১/৪১৮, হাদীস নং: ৫৯৭, এবং এতে রয়েছে: (যে ব্যক্তি এই ওগুলো প্রতিটি সালাতের পরে বলবে, তার গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যাবে, যদিও তা সাগরের ফেনার সমপরিমান হয়।)
আবু দাউদ, ২/৮৬, হাদীস নং: ১৫২৩; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৯০৩; নাসায়ী, ৩/৬৮, হাদীস নং: ১৩৩৫; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ২/৮। আর এই তিনটি সূরাকে বলা হয়: আল-মু'আওয়িযাত। দেখুন: ফাতহুল বারী, ৯/৬২।
যে ব্যক্তি এ আয়াতটি প্রত্যেক সালাতের পরে পড়বে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো কিছুই বাধা হবে না। নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ১০০; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ১২১। ইমাম আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন: সহীহুল জামে, ৫/৩৩৯; সিলসিলাতুল আহাদীস আস্-সহীহাহ, ২/৬৯৭, হাদীস নং ৯৭২।
তিরমিযি, ৫/৫১৫, হাদীস নং: ৩৪৭৪; আহমাদ, ৪/২২৭, হাদীস নং: ১৭৯৯০; এবং এর তাখরীজ দেখুন: যাদুল মা'আদ, ১/৩০০।
ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৯২৫; নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ১০২; এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৫২; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১০/১১১; এবং এটি সামনে ৯৫ নং এ আসবে।
বুখারী, ৭/১৬২, হাদীস নং: ১১৬২।
সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯।
আনাস (রদিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “ফজরের নামাযের পর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলার যিকির করে- এমন কিছু লোকের সঙ্গে আমার বসে থাকা, আমার নিকট ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করার চেয়েও অধিক প্রিয়। আর আসরের নামায থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত আল্লাহ্র যিকর করে- এমন কিছু লোকের সঙ্গে আমার বসে থাকা, আমার কাছে চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করার চেয়েও প্রিয়।” আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৬৬৭; এবং আলবানী একে হাসান বলেছেন, সহীহ আবু দাউদ, ২/৬৯৮।
“যে ব্যক্তি এটি সকালে পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনদের থেকে নিরাপদ থাকবে; আর যে সন্ধ্যায় পড়বে, সে সকাল পর্যন্ত তাদের থেকে নিরাপদ থাকবে।” এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন, ১/৫৬২; আর আলবানী একে সহীহ বলেছেন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ১/২৭৩; এবং তিনি এটিকে নাসায়ী ও তাবরানীর দিকে নিসবত করেছেন এবং বলেছেন: “তাবরানীর সনদটি জাইয়্যিদ।”
“যে ব্যক্তি এটি তিনবার সকালে এবং তিনবার সন্ধ্যায় পড়বে, তার জন্য এটি সব কিছু থেকে যথেষ্ট হবে।” আবু দাউদ, ৪/৩২২, হাদীস নং: ৫০৮২; তিরমিযি, ৫/৫৬৭, হাদীস নং: ৩৫৭৫; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ৩/১৮২।
মুসলিম, ৪/২০৮৮, হাদীস নং: ২৭২৩।
প্রাগুক্ত।
তিরমিযি, ৫/৪৬৬, হাদীস নং: ৩৩৯১; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ৩/১৪২।
প্রাগুক্ত।
“যে ব্যক্তি এটি দৃঢ় বিশ্বাসসহ সন্ধ্যায় পড়বে, এবং সেদিন রাতে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; এবং একইভাবে যদি সে সকালে বলে।” সহীহ বুখারী, ৭/১৫০, হাদীস নং: ৬৩০৬।
আমি স্বীকার করছি এবং মেনে নিচ্ছি।
“যে ব্যক্তি এটি সকালে অথবা সন্ধ্যায় চারবার পড়বে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।” আবু দাউদ, ৪/৩১৭, হাদীস নং: ৫০৭১; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ১২০১; নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ০৯; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৭০। শায়খ ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ নাসায়ী ও আবু দাউদের সনদকে হাসান বলেছেন, তুহফাতুল আখইয়ার, পৃষ্ঠা ২৩।
প্রাগুক্ত।
“যে ব্যক্তি এটি সকালে বলবে, সে তার দিনের শুকরিয়া আদায় করবে এবং যে ব্যক্তি এটি সন্ধ্যায় বলবে, সে তার রাতের শুকরিয়া আদায় করবে।” আবু দাউদ, ৪/৩১৮, হাদীস নং: ৫০৭৫; নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ৭; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৪১; ইবনু হিব্বান (মাওয়ারিদ), হাদীস নং: ২৩৬১; এবং শায়খ ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ এর সনদকে হাসান বলেছেন, তুহফাতুল আখইয়ার, পৃষ্ঠা ২৪।
প্রাগুক্ত।
আবু দাউদ, ৪/৩২৪, হাদীস নং: ৫০৯২; আহমাদ, ৫/৪২, হাদীস নং: ২০৪৩০; নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ২২; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৬৯; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৭০১। আল্লামা ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ এর সনদকে হাসান বলেছেন, তুহফাতুল আখইয়ার, পৃষ্ঠা: ২৬।
“যে ব্যক্তি এটি সকালে এবং সন্ধ্যায় সাতবার পড়বে, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল চিন্তার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয়ে যাবেন।” এটি ইবনু সুন্নী মারফু সূত্রে, হাদীস নং: ৭১; আবু দাউদ মাওকুফ সূত্রে ৪/৩২১, হাদীস নং: ৫০৮১ বর্ণনা করেছেন। শুয়াইব ও আবদুল কাদের আরনাঊত্ব এর সনদটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন: যাদুল মা'আদ, ২/৩৭৬।
আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫০৭৪; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৭১; দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩৩২।
তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৩৯২; এবং আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫০৬৭; দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৪২।
“যে ব্যক্তি সকাল বেলায় তিনবার এবং সন্ধ্যা বেলায় তিনবার এ কথাটি বলবে, কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।” হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, ৪/৩২৩, হাদীস নং: ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, হাদীস নং: ৩৩৮৮; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৬৯; আহমাদ, হাদীস নং: ৪৪৬। আরও দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩৩২। শাইখ ইবনু বায (রহিমাহুল্লাহ) ‘তুহফাতুল আখইয়ার’, পৃ. ৩৯-এ এর সনদকে হাসান বলেছেন।
“যে ব্যক্তি সকাল বেলায় তিনবার এবং সন্ধ্যা বেলায় তিনবার এ কথাগুলো বলবে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করার দায়িত্ব নিয়ে নিবেন।” হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, ৪/৩৩৭, হাদীস নং: ১৮৯৬৭; নাসাঈ (আ‘মালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ), হাদীস নং: ৪; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৬৮; আবু দাউদ, ৪/৩১৮, হাদীস নং: ১৫৩১; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, হাদীস নং: ৩৩৮৯। শাইখ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ) ‘তুহফাতুল আখইয়ার’, পৃ. ৩৯-এ হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন।
ইমাম হাকিম বর্ণনা করেছেন ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/৫৪৫। আরও দেখুন: সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭৩।
আবু দাউদ, ৪/৩২২, হাদীস নং: ৫০৮৪; এবং শু‘আইব ও আব্দুল কাদির আরনাউত্ব ‘যাদুল মা‘আদ’ গ্রন্থের তাহকীকে (২/৩৭৩) হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন।
প্রাগুক্ত।
আহমাদ, ৩/৪০৬ ও ৪০৭, হাদীস নং: ১৫৩৬০ ও ১৫৫৬৩; এবং ইবনুস সুন্নী, ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ৩৪। আরও দেখুন: সহীহুল জামি‘, ৪/২০৯।
প্রাগুক্ত।
“যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় এটি একশ’ বার বলবে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম কিছু কেউ আনতে পারবে না—সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে একই পরিমাণ বা তার থেকে বেশি বলেছে।” সহীহ মুসলিম, ৪/২০৭১, হাদীস নং: ২৬৯২।
আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫০৭৭; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৭৯৮; আহমাদ, হাদীস নং: ৮৭১৯। আরও দেখুন: সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭০; সহীহ আবু দাউদ, ৩/৯৫৭; সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩৩১; এবং যাদুল মা‘আদ, ২/৩৭৭।
নাসাঈ ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ২৪। আরও দেখুন: সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭২; তুহফাতুল আখইয়ার, পৃ.: ৪৪, আরো দেখুন: দু‘আটির ফযীলত, পৃ.: ১৪৬, হাদীস নং: ২৫৫।
“যে ব্যক্তি দিনে এটি একশ' বার বলবে, তার জন্য দশটি দাস মুক্তির সমান সওয়াব লেখা হবে, একশ' নেকী লেখা হবে, একশ' পাপ মুছে ফেলা হবে, এবং সে দিনটি শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকবে- যতক্ষণ না সন্ধ্যা আসে, এবং আর কেউ সে যা করেছে তার চেয়ে ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারবে না, তবে যে এর থেকেও বেশি আমল করবে সে ব্যতীত।” বুখারী, ৪/৯৫, হাদীস নং: ৩২৯৩; মুসলিম, ৪/২০৭১, হাদীস নং: ২৬৯১।
মুসলিম, ৪/২০৯০, হাদীস নং: ২৭২৬।
ইবনুস সুন্নী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং: ৫৪; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৯২৫; এবং শু‘আইব ও আব্দুল কাদির আরনাঊত্ব ‘যাদুল মা‘আদ’ গ্রন্থের তাহকীকে (২/৩৭৫) হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন। এটি ৭৩ নং-এ গত হয়েছে।
সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ১১/১০১, হাদীস নং: ৬৩০৭; এবং মুসলিম, ২/২০৭৫, হাদীস নং: ২৭০২।
যে ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলায় তিনবার এটি বলবে, ঐ রাতে কোন বিষ তার অনিষ্ট করতে পারবে না।” হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, ২/২৯০, হাদীস নং: ৭৮৯৮; নাসাঈ ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ৫৯০; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৬৮। আরও দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৮৭; সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/২৬৬; এবং ইবনু বায-এর তুহফাতুল আখইয়ার, পৃ. ৪৫।
"যে ব্যক্তি সকালে দশবার এবং সন্ধ্যাবেলায় দশবার আমার উপর দরুদ পড়বে, কিয়ামতের দিনে সে আমার শাফা‘আত প্রাপ্ত হবে।" হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাবারানী দুইটি সনদে, যার মধ্যে একটি জাইয়িদ (উত্তম)। দেখুন: মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/১২০; এবং সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭৩।
বুখারী, ফতহুল বারীসহ, ৯/৬২, হাদীস নং: ৫০১৭; এবং মুসলিম, হাদীস নং: ২১৯২।
“যে ব্যক্তি শয়নকালে এটি পাঠ করবে, তার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রক্ষাকারী নিয়োজিত থাকবে এবং কোনো শয়তান তার নিকটে আসতে পারবে না যতক্ষণ না সে সকালে উপনীত হয়“ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৪/৪৮৭, হাদীস নং: ২৩১১।
“যে ব্যক্তি এ দুটি আয়াত রাতে পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।” বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৯/৯৪, হাদীস নং: ৪০০৮; মুসলিম, ১/৫৫৪, হাদীস নং: ৮০৭।
বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ১১/১২৬, হাদীস নং: ৬৩২০; মুসলিম, ৪/২০৮৪, হাদীস নং: ২৭১৪।
“তোমাদের কেউ যখন তার বিছানা থেকে উঠে এবং পরে আবার তাতে ফিরে আসে, তখন যেন সে তার কাপড়ের প্রান্ত দিয়ে বিছানাটি তিনবার ঝাড়ে এবং ‘বিসমিল্লাহ’ বলে; কেননা, সে জানে না তার পরে সেখানে কী এসেছে। আর যখন শোয়, তখন বলবে:...” (হাদীসের বাকি অংশ)।[হাদীসে উল্লেখিত ‘صَنِفَةِ إزاره’ এর অর্থ: তার কাপড়ের এমন প্রান্ত যা কিনা সেলাইয়ের দিক ঘেঁষা]। তথ্যসূত্র: আন-নিহায়াহ ফী গরীবিল হাদীস ওয়াল আছার (শব্দ: صنف)।
এটি মুসলিম, ৪/২০৮৩, হাদীস নং: ২৭১২; এবং আহমাদ স্বীয় শব্দে ২/৭৯, হাদীস নং: ৫৫০২-এ উল্লেখ করেছেন।
আবু দাউদ উক্ত শব্দসহ, ৪/৩১১, হাদীস নং: ৫০৪৫; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৩৯৮; দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৪৩, এবং সহীহ আবু দাউদ, ৩/২৪০।
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শয়নের ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাতটি স্বীয় গালের নিচে রাখতেন, তারপর বলতেন: ... ”
বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ১১/১১৩, হাদীস নং: ৬৩২৪; মুসলিম, ৪/২০৮৩, হাদীস নং: ২৭১১।
“যে ব্যক্তি এ দোয়া তার শোয়ার সময় বলবে, তা হবে তার জন্য একজন খাদেমের চেয়েও উত্তম।”বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৭/৭১, হাদীস নং: ৩৭০৫; মুসলিম, ৪/২০৯১, হাদীস নং: ২৭২৬।
মুসলিম, ৪/২০৮৪, হাদীস নং: ২৭১৩।
মুসলিম, ৪/২০৮৫, হাদীস নং: ২৭১৫।
আবু দাউদ, ৪/৩১৭, হাদীস নং: ৫০৬৭; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৬২৯; দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৪২।
তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৪০৪; নাসায়ী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’, হাদীস নং: ৭০৭; দেখুন: সহীহ আল-জামি, ৪/২৫৫।
যে ব্যক্তি এই দু‘আ পড়বে, তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি তুমি মারা যাও, তবে তোমার মৃত্যুও হবে ইসলামের উপর।”বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ১১/১১৩, হাদীস নং: ৬৩১৩; মুসলিম, ৪/২০৮১, হাদীস নং: ২৭১০।
“যখন তুমি তোমার শয়নের স্থান গ্রহণ করবে, তখন সালাতের জন্য যেভাবে ওযু করো, সেভাবে ওযু করবে; তারপর তোমার ডানপাশের উপরে শয়ন করবে এবং বলবে: …”। হাদীসটি শেষ পর্যন্ত।
“যখন সে রাতে এক পাশ থেকে অন্য পাশে ফিরবে, তখন এটি বলবে।” হাকেম, ১/৫৪০ এবং তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন ও ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; নাসায়ী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’, হাদীস নং: ২০২; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৭৫৭; দেখুন: সহীহ আল-জামি, ৪/২১৩।
আবু দাউদ, ৪/১২, হাদীস নং: ৩৮৯৩; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৫২৮; দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৭১।
মুসলিম, ৪/১৭৭২, হাদীস নং: ২২৬১।
মুসলিম, ৪/১৭৭২, ১৭৭৩, হাদীস নং: ২২৬১ ও ২২৬২।
মুসলিম, ৪/১৭৭২, হাদীস নং: ২২৬১ ও ২২৬৩।
মুসলিম, ৪/১৭৭৩, হাদীস নং: ২২৬১।
মুসলিম, ৪/১৭৭৩, হাদীস নং: ২২৬৩।
চারটি সুনান গ্রন্থের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ, দারেমী, ও বায়হাকী: আবু দাউদ, হাদীস নং: ১৪২৫; তিরমিজি, হাদীস নং: ৪৬৪; নাসায়ী, হাদীস নং: ১৭৪৪; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১১৭৮; আহমাদ, হাদীস নং: ১৭১৮; দারেমি, হাদীস নং: ১৫৯২; হাকেম, ৩/১৭২; বায়হাকী, ২/২০৯; এবং বন্ধনীর অংশটুকু বায়হাকীর বর্ণিত। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ১/১৪৪; সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৯৪; এবং আলবানীর ইরওয়াউল গালীল, ২/১৭২।
চারটি সুনান গ্রন্থের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ: আবু দাউদ, হাদীস নং: ১৪২৭; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৫৬৬; নাসায়ী, হাদীস নং: ১৭৪৬; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১১৭৯; আহমাদ, হাদীস নং: ৭৫১। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৮০; সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৯৪; ইরওয়াউল গালীল, ২/১৭৫।
এটি বায়হাকি তার 'আস-সুনানুল কুবরা' তে বর্ণনা করেছেন এবং সনদটিকে সহীহ বলেছেন, ২/২১১; এবং শায়খ আলবানী তার 'ইরওয়া আল-গালীল' গ্রন্থে বলেছেন: “এটি সহীহ সনদ” ২/১৭০। এটি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উপর মাওকুফ।
নাসাঈ, ৩/২৪৪, হাদীস নং: ১৭৩৪; দারাকুতনী, ২/৩১, এবং অন্যান্যরা। যে অংশটি বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে তা দারাকুতনীর বর্ধিত অংশ, ২/৩১, হাদীস নং: ০২। সনদটি সহীহ, দেখুন: 'যাদুল মাআদ'- শু‘আইব ও আবদুল কাদের আরনাঊতের তাহকীক সহযোগে, ১/৩৩৭।
আহমাদ, ১/৩৯১, হাদীস নং: ৩৭১২। এটি আলবানী রহিমাহুল্লাহ সিলসিলাতুল আহাদীস আস্-সাহীহাহ গ্রন্থে সহীহ বলেছেন, ১/৩৩৭।
বুখারী, ৭/১৫৮, হাদীস নং: ২৮৯৩।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু‘আটি অধিক পরিমাণে পড়তেন। দেখুন: সহীহ বুখারী ফাতহুল বারীসহ, ১১/১৭৩। এছাড়াও এটি ৮৯ নং পৃষ্ঠায়, হাদীস নং: ১৩৭-এ আসবে।
বুখারী, ৭/১৫৪, হাদীস নং: ৬৩৪৫;এবং মুসলিম, ৪/২০৯২, হাদীস নং: ২৭৩০।
আবু দাউদ, ৪/৩২৪, হাদীস নং: ৫০৯০;এবং আহমাদ, ৫/৪২, হাদীস নং: ২০৪৩০। আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ (৩/৯৫৯) এ একে হাসান বলেছেন।
তিরমিযী, ৫/৫২৯, হাদীস নং: ৩৫০৫;এবং হাকিম (১/৫০৫), তিনি একে সহীহ বলেছেন, এতে ইমাম যাহাবী তার সঙ্গে একমত হয়েছেন। দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৬৮।
আবু দাউদ, ২/৮৭, হাদীস নং: ১৫২৫; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৮২। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩৩৫।
আবু দাউদ, ২/৮৯, হাদীস নং: ১৫৩৭; হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী রহিমাহুল্লাহ তার সঙ্গে একমত হয়েছেন (২/১৪২)।
আবু দাউদ, ৩/৪২, হাদীস নং: ২৬৩২; এবং তিরমিযী, ৫/৫৭২, হাদীস নং: ৩৫৮৪। দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৮৩।
বুখারী, ৫/১৭২, হাদীস নং: ৪৫৬৩।
বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৭০৭; এবং আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহুল আদাবিল মুফরাদ, হাদীস নং: ৫৪৫-এ এটিকে সহীহ বলেছেন।
বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৭০৮;এবং আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহুল আদাবিল মুফরাদ, হাদীস নং: ৫৪৬-এ এটিকে সহীহ বলেছেন।
মুসলিম, ৩/১৩৬২, হাদীস নং: ১৭৪২।
মুসলিম, ৪/২৩০০, হাদীস নং: ৩০০৫।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/৩৩৬, হাদীস নং: ৩২৭৬; এবং মুসলিম, ১/১২০, হাদীস নং: ১৩৪।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/৩৩৬, হাদীস নং: ৩২৭৬; এবং মুসলিম, ১/১২০, হাদীস নং: ১৩৪।
মুসলিম, ১/১১৯-১২০, হাদীস নং: ১৩৪।
আবু দাউদ, ৪/৩২৯, হাদীস নং: ৫১১০; এবং আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ, ৩/৯৬২- এ এটিকে হাসান বলেছেন।
তিরমিযী, ৫/৫৬০, হাদীস নং: ৩৫৬৩; দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৮০।
বুখারী, ৭/১৫৮, হাদীস নং: ২৮৯৩; এবং পূর্বে বর্ণিত পৃষ্ঠা: ৮৩, ১২১ নম্বরে উল্লেখিত হয়েছে।
মুসলিম, ৪/১৭২৯, হাদীস নং: ২২০৩, উসমান ইবনু আবিল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। এতে আছে: "অতঃপর আমি তা করেছিলাম, ফলে আল্লাহ তা আমার থেকে সরিয়ে দিলেন।"
সহীহ ইবনু হিব্বান, হাদীস নং: ২৪২৭ (মাওয়ারিদ); এবং ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৩৫১।হাফিজ ইবনু হাজার বলেছেন: "এটি একটি সহীহ হাদীস।" এবং আবদুল কাদের আরনাউত্ব রহিমাহুল্লাহ ইমাম নববীর ‘তাখরিজুল আযকার’, পৃষ্ঠা ১০৬-এ একে সহীহ বলেছেন।
আবু দাউদ, ২/৮৬, হাদীস নং: ১৫২১;এবং তিরমিযী, ২/২৫৭, হাদীস নং: ৪০৬। আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ, ১/২৮৩-এ একে সহীহ বলেছেন।
আবু দাউদ, ১/২০৩, হাদীস নং: ৭৭৫;এবং ইবনু মাজাহ, ১/২৬৫, হাদীস নং: ৮০৭।এটি পূর্বে ৩১ নং-এ তাখরীজ করা হয়েছে। আরো দেখুন: সুরা মুমিনূন, আয়াত ৯৭-৯৮।
মুসলিম, ১/২৯১, হাদীস নং: ৩৮৯;এবং বুখারী, ১/১৫১, হাদীস নং: ৬০৮।
সহীহ মুসলিম (১/৫৩৯), হাদীস নং (৭৮০)।
সহীহ বুখারী (৪/১২৬), হাদীস (৩২৯৩)।
"একটি শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং বেশি প্রিয়, তবে প্রত্যেকের মাঝেই ভালো কিছু রয়েছে। যা তোমার উপকারে আসে, তা নিয়ে মনোযোগী হও, এবং আল্লাহর সাহায্য চাও, কিন্তু অপারগ হইয়ো না। যদি তোমার কিছু ঘটে, তবে বলো না: 'যদি আমি এভাবে করতাম, তবে এমন এমন হতো', বরং বলো: 'এটা আল্লাহর সিদ্ধান্ত এবং তিনি যা চেয়েছেন, তাই করেছেন', কারণ 'যদি' শয়তানের কাজকে উন্মুক্ত করে দেয়।" মুসলিম, ৪/২০৫২, হাদীস নং: ২৬৬৪।
হাসান বাসরীর উক্তি থেকে নেয়া হয়েছে। দেখুন: ইবনুল-কাইয়িম রচিত তুহফাতুল মাওদুদ, পৃষ্ঠা: ২০, তিনি এটিকে ইবনুল মুনযিরের আল-আওসাত গ্রন্থের দিকে নিসবত করেছেন।
ইমাম নববী এটা উল্লেখ করেছেন, আল-আযকার, পৃষ্ঠা ৩৪৯-এ; এবং দেখুন: সহীহ আল-আযকার, সালীম আল-হিলালী, ২/৭১৩, এবং তার পূর্ণ তাখরীজ পাওয়া যাবে লেখক কর্তৃক রচিত ‘আযকার, দু‘আ এবং রুকিয়া দ্বারা চিকিৎসা’ গ্রন্থে, ১/৪১৬।
বুখারী, ৪/১১৯, হাদীস নং: ৩৩৭১, ইবনু আব্বাস -রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস থেকে।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১০/১১৮, হাদীস নং: ৩৬১৬।
"কোনো মুসলিম বান্দা যদি মৃত্যু উপস্থিত হয়নি এমন কোনো অসুস্থকে দেখতে যায় এবং সাতবার এটি বলে... (হাদীস)... তবে সে সুস্থ হয়ে যাবে।"এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজী, হাদীস নং: ২০৮৩, আবু দাউদ, হাদীস নং: ৩১০৬, এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ২/২১০, এবং সহীহ আল-জামি', ৫/১৮০।
তিরমিজী, হাদীস নং: ৯৬৯, ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১৪৪২, আহমাদ, হাদীস নং: ৯৭৫। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/২৪৪, সহীহ তিরমিজী, ১/২৮৬, এবং আহমাদ শাকেরও এটিকে সহীহ বলেছেন ।
বুখারী, ৭/ ১০, হাদীস নং: ৪৪৩৫, এবং মুসলিম, ৪/১৮৯৩, হাদীস নং: ২৪৪৪।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৮/১৪৪, হাদীস নং: ৪৪৪৯; এবং হাদীসে মেসওয়াকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪৩০; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৭৯৪; আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫২; সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩১৭।
আবু দাউদ, ৩/১৯০, হাদীস নং: ৩১১৬; এবং দেখুন: সহীহ আল-জামি', ৫/৪৩২।
মুসলিম, ২/৬৩২, হাদীস নং: ৯১৮।
মুসলিম, ২/৬৩৪, হাদীস নং: ৯২০।
মুসলিম, ২/৬৬৩, হাদীস নং: ৯৬৩।
আবু দাউদ, হাদীস নং: ৩২০১; এবং তিরমিজী, হাদীস নং: ১০২৪; নসায়ী, হাদীস নং: ১৯৮৫; ইবনু মাজাহ, ১/ ৪৮০, হাদীস নং: ১৪৯৮; এবং আহমাদ, ২/৩৬৮, হাদীস নং: ৮৮০৯। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/২৫১।
ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১৪৯৯; দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/২৫১; এবং আবু দাউদ, ৩/২১১, হাদীস নং: ৩২০২।
হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং তা সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন, ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/৩৫৯; দেখুন: আলবানীর "আহকামুল জানায়েয", পৃ. ১২৫।
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব বলেন: "আমি আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পেছনে এক শিশুর জানাযা পড়েছিলাম, যে কখনো কোনো পাপ করেনি, এবং আমি তাকে বলতে শুনেছিলাম..." এই হাদিসটি ইমাম মালিক তার মুয়াত্তা-তে বর্ণনা করেছেন, ১/২৮৮, এবং তা ইবনু আবী শাইবা (আল-মুসান্নাফ), ৩/২১৭, এবং বায়হাকী (৪/৯) থেকেও বর্ণিত। শুআইব আল-আরনাউত্ব তার "শারহুস সুন্নাহ" (বাগাভী) বইয়ের ৫/৩৫৭ সংস্করণে এর সনদকে সহীহ বলেছেন।
দেখুন: ইবনু কুদামার "আল-মুগনী", ৩/৪১৬, এবং শায়খ আবদুল আজিজ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বায -রহিমাহুল্লাহ- এর "দুরূসুল মূহিম্মাহ লি-আ'ম্মাতিল উম্মাহ", পৃষ্ঠা নং: ১৫।
হাসান রহিমাহুল্লাহ শিশুদের উপর সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং বলতেন... ” হাদীস। ইমাম বাগাভী তার "শরহুস সুন্নাহ" বইতে, ৫/৩৫৭, আবদুর রাযযাক, হাদীস নং: ৬৫৮৮, এবং বুখারী তার "কিতাবুল-জানাযাহ" বইয়ে, ৬৫ ফাতিহা পাঠ সম্পর্কিত অধ্যায়, ২/১১৩, ১৩৩৫ নং হাদীসের আগে উল্লেখ করেছেন।
বুখারী, ২/৮০, হাদীস নং: ১২৮৪; এবং মুসলিম, ২/৬৩৬, হাদীস নং: ৯২৩।
ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহর আল-আযকার, পৃষ্ঠা: ১২৬।
আবু দাউদ, ৩/৩১৪, হাদীস নং: ৩২১৫, সহীহ সনদে; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ৫২৩৪ ও ৪৮১২, অন্য শব্দে এসেছে: “بسم اللَّه، وعلى ملّة رسول اللَّه” (আল্লাহর নামে এবং রাসূলের মিল্লাতের ওপর)। সনদ সহীহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা শেষ করতেন, তখন তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন:“তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার জন্য স্থিরতার দু‘আ করো; কেননা, এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।” আবু দাউদ, ৩/৩১৫, হাদীস নং: ৩২২৩; এবং হাকেম, তিনি একে সহীহ বলেছেন, এবং যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/৩৭০।
মুসলিম, ২/৬৭১, হাদীস নং: ৯৭৫; এবং ইবনু মাজাহ, ১/৪৯৪, হাদীস নং: ১৫৪৭, (হাদীসের শব্দ ইবনু মাজাহ-এর); এটি বুরাইদা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত। আর বন্ধনীর মধ্যে যা রয়েছে, তা ‘আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা) হতে সহীহ মুসলিমে, ২/৬৭১, হাদীস নং: ৯৭৫-এ বর্ণিত।
আবু দাউদ, ৪/৩২৬, হাদীস নং: ৫০৯৯; এবং ইবনু মাজাহ, ২/১২২৮, হাদীস নং: ৩৭২৭। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩০৫।
মুসলিম (বর্ণনাটি তার), ২/৬৬৬, হাদীস নং: ৮৯৯; এবং বুখারী, ৪/৭৬, হাদীস নং: ৩২০৬ ও ৪৮২৯।
আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবাইর –রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা– যখন বজ্রধ্বনি শুনতেন, তখন কথা বলা থামিয়ে দিতেন এবং বলতেন: ... (হাদীস)।মুয়াত্তা, ২/৯৯২; আলবানী রহিমাহুল্লাহ ‘সহীহুল কালিমুত তইয়্যিব’, পৃষ্ঠা: ১৫৭- এ বলেছেন: “সনদটি সহীহ, মওকূফ সূত্রে”।
আবু দাউদ, ১/৩০৩, হাদীস নং: ১১৭১; এবং আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ, ১/২১৬-এ একে সহীহ বলেছেন।
বুখারী, ১/২২৪, হাদীস নং: ১০১৪; এবং মুসলিম, ২/৬১৩, হাদীস নং: ৮৯৭।
আবু দাউদ, ১/৩০৫, হাদীস নং: ১১৭৮; এবং সহীহ আবু দাউদ, ১/২১৮ এ আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ২/৫১৮, হাদীস নং: ১০৩২।
বুখারী, ১/২০৫, হাদীস নং: ৮৪৬; এবং মুসলিম, ১/৮৩, হাদীস নং: ৭১।
বুখারী, ১/২২৪, হাদীস নং: ৯৩৩; এবং মুসলিম, ২/৬১৪, হাদীস নং: ৮৯৭।
তিরমিজী, ৫/৫০৪, হাদীস নং: ৩৪৫১; এবং দারেমি, তার বর্ণনায়, ১/৩৩৬; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৫৭।
আবু দাউদ, ২/৩০৬, হাদীস নং: ২৩৫৯; এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীরা। এবং দেখুন: সহীহ আল-জামি', ৪/২০৯।
ইবনু মাজাহ, ১/৫৫৭, হাদীস নং: ১৭৫৩, আবদুল্লাহ ইবনু আমর – রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর দু‘আ থেকে, এবং হাফিজ ইবনু হাজার এটির সঠিকতা নিশ্চিত করেছেন তাঁর "تخريج الأذكار" বইয়ে। দেখুন: "شرح الأذكار", ৪/৩৪২।
আবু দাউদ, ৩/৩৪৭, হাদীস নং: ৩৭৬৭; এবং তিরমিজি, ৪/২৮৮, হাদীস নং: ১৮৫৮। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ২/১৬৭।
তিরমিজি, ৫/৫০৬, হাদীস নং: ৩৪৫৫। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৫৮।
আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪০২৫; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৪৫৮; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩২৮৫। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৫৯।
বুখারী, ৬/২১৪, হাদীস নং: ৫৪৫৮; এবং তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৪৫৬।
মুসলিম, ৩/১৬১৫, হাদীস নং: ২০৪২।
মুসলিম, ৩/১৬২৬, হাদীস নং: ২০৫৫।
সুনান আবু দাউদ, ৩/৩৬৭, হাদীস নং: ৩৮৫৬; এবং ইবনু মাজাহ, ১/৫৫৬, হাদীস নং: ১৭৪৭; এবং নাসায়ী, ‘আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ২৯৬-২৯৮, এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- যখন কোনো পরিবারের কাছে ইফতার করতেন, তখন এই দু‘আটি পড়তেন। আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ, ২/৭৩০-এ এটিকে সহীহ বলেছেন।
মুসলিম, ২/১০৫৪, হাদীস নং: ১১৫০।
বুখারী ফাতহুল বারীসহ, ৪/১০৩, হাদীস নং: ১৮৯৪; এবং মুসলিম, ২/৮০৬, হাদীস নং: ১১৫১।
মুসলিম, ২/১০০০, হাদীস নং: ১৩৭৩।
বুখারী, ৭/১২৫, হাদীস নং: ৫৮৭০।
তিরমিজী, ৫/৮২, হাদীস নং: ২৭৪১; এবং আহমাদ, ৪/৪০০, হাদীস নং: ১৯৫৮৬; আবু দাউদ, ৪/৩০৮, হাদীস নং: ৫০৪০; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ২/৩৫৪।
আহমাদ ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তবে নাসায়ী ব্যতীত: আবু দাউদ, হাদীস নং: ২১৩০; তিরমিজী, হাদীস নং: ১০৯১; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১৯০৫; এবং নাসায়ী 'আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে, হাদীস নং: ২৫৯; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ১/৩১৬।
আবু দাউদ, ২/২৪৮, হাদীস নং: ২১৬০; এবং ইবনু মাজাহ, ১/৬১৭, হাদীস নং: ১৯১৮; এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/৩২৪।
বুখারী, ৬/১৪১, হাদীস নং: ১৪১; এবং মুসলিম, ২/১০২৮, হাদীস নং: ১৪৩৪।
বুখারী, ৭/৯৯, হাদীস নং: ৩২৮২; এবং মুসলিম, ৪/২০১৫, হাদীস নং: ২৬১০।
তিরমিজি, ৫/৪৯৪, এবং ৫/৪৯৩, হাদীস নং: ৩৪৩২; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৫৩।
তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪৩৪; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮১৪; দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫৩, সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩২১, এবং এর শব্দ তিরমিজী থেকে।
সুনান গ্রন্থকারগণ: আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৮৫৮; তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪৩৩; এবং নাসায়ী, হাদীস নং: ১৩৪৪; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫৩; প্রমাণিত হয়েছে যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: (("রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো মজলিসে বসতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন অথবা সালাত আদায় করতেন- তখন এসব কিছুই এই শব্দগুলির মাধ্যমে শেষ করেছেন...)) হাদীসটি নাসায়ী তার "আমালুল ইয়াওম ওয়াল লায়লাহ" গ্রন্থে, হাদীস নং: ৩০৮; এবং আহমাদ, ৬/৭৭, হাদীস নং: ২৪৪৮৬, এভাবে বর্ণনা করেছেন, আর ড. ফারুক হামাদাহ নাসায়ীর "আমালুল ইয়াওম ওয়াল লায়লাহ" গ্রন্থের তাহকীকে এটিকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন, পৃ.: ২৭৩।
আহমাদ, ৫/৮২, হাদীস নং: ২০৭৭৮; এবং নাসায়ী, ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’, পৃষ্ঠা: ২১৮, হাদীস নং: ৪২১; তাহক্বীক: ড. ফারূক হামাদাহ।
তিরমিযী, হাদীস নং: ২০৩৫; দেখুন: সহীহুল জামে‘ হাদীস নং: ৬২৪৪ এবং সহীহুত তিরমিজী, ২/২০০।
দেখুন: এই গ্রন্থের পৃষ্ঠা ৪১, হাদীস নং ৫৫ ও ৫৬।
মুসলিম, ১/৫৫৫, হাদীস নং: ৮০৯; আরেক বর্ণনাতে এসেছে: সূরা কাহফের শেষাংশ থেকে, ১/৫৫৬, হাদীস নং: ৮০৯।
এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, ৪/৩৩৩, হাদীস নং: ৫১২৫; এবং আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন ‘সহীহ সুনান আবু দাউদ’-এ, ৩/৯৬৫।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৪/২৮৮, হাদীস নং: ২০৪৯।
নাসায়ী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’, পৃষ্ঠা: ৩০০ এবং ইবনু মাজাহ, ২/৮০৯, হাদীস নং: ২৪২৪; দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৫৫।
আহমাদ, ৪/৪০৩, হাদীস নং: ১৯৬০৬; এবং বুখারীর ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’, হাদীস নং: ৭১৬; দেখুন: সহীহুল জামে‘, ৩/২৩৩ এবং আলবানীর ‘সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব’, ১/১৯।
এটি ইবনুস সুন্নী বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা: ১৩৮, হাদীস নং: ২৭৮; দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের ‘আল-ওয়াবিলুস সাইয়্যিব’, পৃষ্ঠা: ৩০৪, তাহক্বীক: বশীর মুহাম্মদ উয়ূন।
আহমাদ: ২/২২০, হাদীস: ৭০৪৫; ইবনুস সুন্নী, হাদীস: ২৯২; ইমাম আলবানী এটি সহীহ বলেছেন ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ’-এ, ৩/৫৪, হাদীস: ১০৬৫; আর ফাল (সুখদৃষ্টি) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রিয় ছিল; একবার তিনি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ভাল শব্দ শুনে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন: “তোমার ফাল আমরা তোমার মুখ থেকেই নিয়েছি।” সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং: ৩৭১৯; আহমাদ, হাদীস: ৯০৪০; এবং ইমাম আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ’-এ, ২/৩৬৩; আবুশ শাইখ-এর ‘আখলাকুন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’, পৃষ্ঠা: ২৭০।
আবু দাউদ, ৩/৩৪, হাদীস নং: ২৬০২; এবং তিরমিজী, ৫/৫০১, হাদীস নং: ৩৪৪৬; দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫৬; আর আয়াত দুটি সূরা আল-যুখরুফ-এর, আয়াত ১৩-১৪।
মুসলিম, ২/৯৭৮, হাদীস নং: ১৩৪২।
হাকেম, তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার মতের সঙ্গে একমত হয়েছেন, ২/১০০; এবং ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৫২৪; হাফিজ ইবনু হাজার ‘তাখরিজুল আযকার’-এ এটিকে হাসান বলেছেন: ৫/১৫৪; আল্লামা ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “এটি নাসায়ী বর্ণনা করেছেন হাসান সূত্রে।” দেখুন: ‘তুহফাতুল আখইয়ার’, পৃষ্ঠা: ৩৭।
তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪২৮; এবং ইবনু মাজাহ, ৫/২৯১, হাদীস নং: ৩৮৬০; আল-হাকেম, ১/৫৩৮; এবং আলবানী এটি হাসান বলেছেন ‘সহীহ ইবনু মাজাহ’-এ, ২/২১; এবং ‘সহীহ তিরমিজী’-এ, ৩/১৫২।
আবু দাউদ, ৪/২৯৬, হাদীস নং: ৪৯৮২; এবং আলবানী এটি সহীহ বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ৩/৯৪১।
আহমাদ, ২/৪০৩, হাদীস নং: ৯২৩০; এবং ইবনু মাজাহ, ২/৯৪৩, হাদীস নং: ২৮২৫; দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/১৩৩।
আহমাদ, ২/৭, হাদীস নং: ৪৫২৪; এবং তিরমিজী, ৫/৪৯৯, হাদীস নং: ৩৪৪৩; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহ সুনান তিরমিজী’-এ, ৩/৪১৯।
তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪৪৪; দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫৫।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/১৩৫, হাদীস নং: ২৯৯৩।
: সহীহ মুসলিম (৪/২০৮৬, হাদিস নং ২৭১৮)।"سَمِعَ سَامِعٌ" এর অর্থ হলো — কোনো শ্রোতা আমাদের আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাক্ষী হোক। আর "سَمَّعَ سَامِعٌ" এর অর্থ হলো — কোনো শ্রোতা আমার এই কথাটি অন্যদের পৌঁছে দিক এবং এর অনুরূপ বাক্য বলুক, যাতে রাতের শেষ ভাগে আল্লাহর যিকির ও দু‘আর প্রতি মনোযোগী করা হয়। (ইমাম নববীর “শরহু মুসলিম”, ১৭/৩৯)।
মুসলিম, ৪/২০৮০, হাদীস নং: ২৭০৯।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি বলতেন যখন তিনি যুদ্ধ বা হজ্জ থেকে ফিরে আসতেন। বুখারী, ৭/১৬৩, হাদীস নং: ১৭৯৭; এবং মুসলিম, ২/৯৮০, হাদীস নং: ১৩৪৪।
এটি ইবনুস সুন্নী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ৩৭৭; হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন, ১/৪৯৯; এবং আলবানীও এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহুল জামে‘-এ, ৪/২০১।
মুসলিম, ১/২৮৮, হাদীস নং: ৩৮৪।
আবু দাউদ, ২/২১৮, হাদীস নং: ২০৪৪; এবং আহমাদ, ২/৩৬৭, হাদীস নং: ৮৮০৪; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ২/৩৮৩।
তিরমিজী, ৫/৫৫১, হাদীস নং: ৩৫৪৬; এবং অন্যান্যরা, দেখুন: সহীহুল জামে‘, ৩/২৫; এবং সহীহ তিরমিজী, ৩/১৭৭।
আন-নাসায়ী, ৩/৪৩, হাদীস নং: ১২৮২; হাকেম, ২/৪২১; এবং আলবানী এটি সহীহ বলেছেন ‘সহীহ আন-নাসায়ী’-এ, ১/২৭৪।
আবু দাউদ, হাদীস নং: ২০৪১; এবং আলবানী এটি হাসান বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ১/৩৮৩।
মুসলিম, ১/৭৪, হাদীস নং: ৫৪; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ১৪৩০; এবং শব্দটি তাঁর (আহমাদের) হতে এসেছে, আর মুসলিমের শব্দ: “তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না...।”
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১/৮২, হাদীস নং: ২৮; আম্মার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মাওকুফ মুআল্লাক সূত্রে এসেছে।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১/৫৫, হাদীস নং: ১২; এবং মুসলিম, ১/৬৫, হাদীস নং: ৩৯।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১১/৪২, হাদীস নং: ৬২৫৮; এবং মুসলিম, ৪/১৭০৫, হাদীস নং: ২১৬৩।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/৩৫০, হাদীস নং: ৩৩০৩; এবং মুসলিম, ৪/২০৯২, হাদীস নং: ২৭২৯।
আবু দাউদ, ৪/৩২৭, হাদীস নং: ৫১০৫; এবং আহমাদ, ৩/৩০৬, হাদীস নং: ১৪২৮৩; এবং আলবানী এটি সহীহ বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ৩/৯৬১।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১১/১৭১, হাদীস নং: ৬৩৬১; এবং মুসলিম, ৪/২০০৭, হাদীস নং: ৩৯৬; এবং তার শব্দ হলো: “কাজেই এটিকে তার জন্য যাকাত ও রহমত বানিয়ে দাও।”
মুসলিম, ৪/২২৯৬, হাদীস নং: ৩০০০।
বুখারী ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’-এ, হাদীস নং: ৭৬১; এবং আলবানী এর সনদকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহুল আদাবুল মুফরাদ’-এ, হাদীস নং: ৫৮৫; আর বন্ধনীর মধ্যে যা আছে তা বায়হাকী ‘শু‘আবুল ঈমান’-এ, ৪/২২৮—অন্য একটি সূত্রে উল্লেখ করেছেন।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৩/৪০৮, হাদীস নং: ১৫৪৯; এবং মুসলিম, ২/৮৪১, হাদীস নং: ১১৮৪।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৩/৪৭৬, হাদীস নং: ১৬১৩; এবং “বস্তু” বলতে বোঝানো হয়েছে: একটি বাঁকা লাঠি (محجن)। দেখুন: বুখারী ফাতহুল বারীসহ: ৩/৪৭২।
আবু দাউদ, ২/১৭৯, হাদীস নং: ১৮৯৪; আহমাদ, ৩/৪১১, হাদীস নং: ১৫৩৯৮; এবং বাগাভী ‘শরহুস সুন্নাহ’-তে, ৭/১২৮; আর আলবানী এটি হাসান বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ১/৩৫৪। আয়াতটি সূরা আল-বাকারার: ২০১।
মুসলিম, ২/৮৮৮, হাদীস নং: ১২১৮; এবং আয়াতটি সূরা আল-বাকারার, আয়াত নং: ১৫৮।
তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৫৮৫; এবং আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন ‘সহীহ তিরমিজী’-তে, ৩/১৮৪; এবং ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ’-তে, ৪/৬।
মুসলিম, ২/৮৯১, হাদীস নং: ১২১৮।
সহীহ আল-বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা: ৫৮৩, হাদীস নং: ১৭৫১, বিস্তারিত শব্দাবলী সেখানেই দেখুন। এবং সহীহ আল-বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা: ৫৮৩, ৫৮৪ ও ৫৮১, হাদীস নং ১৭৫৩। এটি ইমাম মুসলিমও রেওয়ায়েত করেছেন, হাদীস নং: ১২১৮।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১/২১০, ৩৯০, ও ৪১৪; হাদীস নং: ১১৫, ৩৫৯৯ ও ৬২১৮; এবং মুসলিম, ৪/১৮৫৭, হাদীস নং: ১৬৭৪।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৮/৪৪১, হাদীস নং: ৪৭৪১ ও ৩০৬২; তিরমিজী, হাদীস নং: ২১৮০; নাসায়ী ‘সুনানুল কুবরা’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ১১১৮৫; দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ২/১০৩ ও ২/২৩৫; এবং মুসনাদে আহমাদ, ৫/২১৮, হাদীস নং: ২১৯০০।
নাসায়ী ব্যতীত অন্যান্য সুননা গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ, হাদীস নং: ২৭৭৪; তিরমিজী, হাদীস নং: ১৫৭৮; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১৩৯৪। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/২৩৩; এবং ইরওয়া আল-গালীল, ২/২২৬।
মুসলিম, ৪/১৭২৮, হাদীস নং: ২২০২।
মুসনাদে আহমাদ, ৪/৪৪৭, হাদীস নং: ১৫৭০০; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৫০৮; মালিক, ৩/১১৮-১১৯; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহ জামি’-এ, ১/২১২; এবং দেখুন: যাদুল মা‘আদ-এর তাহকীক, আরনাঊত, ৪/১৭০।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/৩৮১, হাদীস নং: ৩৩৪৬; এবং মুসলিম, ৪/২২০৮, হাদীস নং: ২৮৮০।
মুসলিম, ৩/১৫৫৭, হাদীস নং: ১৯৬৭; এবং বায়হাকী, ৯/২৮৭; এবং বন্ধনীতে যা উল্লেখিত, তা বায়হাকী থেকে, ৯/২৮৭ এবং অন্যান্য সূত্র থেকে; এবং শেষের বাক্যটি মুসলিমের বর্ণনার অর্থানুসারে চয়ন করা হয়েছে।
আহমাদ, ৩/৪১৯, হাদীস নং: ১৫৪৬১, সনদ সহীহ; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৬৩৭; এবং আরনাউত এর সনদকে সহীহ বলেছেন তার ‘তাখরীজ ত্বাহাবিয়া’তে, পৃ.: ১৩৩; এবং দেখুন: মজমাউয-যাওয়ায়েদ, ১০/১২৭।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১১/১০১, হাদীস নং: ৬৩০৭।
মুসলিম, ৪/২০৭৬, হাদীস নং: ২৭০২।
আবু দাউদ, ২/৮৫, হাদীস নং: ১৫১৭; তিরমিজী, ৫/৫৬৯, হাদীস নং: ৩৫৭৭; এবং হাকিম, তিনি সনদটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, ১/৫১১; এবং আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৮২; এবং জামিউল' উসূল লি-আহাদীসির রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-, ৪/৩৮৯-৩৯০, আরনাউতের তাহকীককৃত।
তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৫৭৯; নাসায়ী, ১/২৭৯, হাদীস নং: ৫৭২; এবং হাকিম, ১/৩০৯; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৮৩; এবং জামিউল' উসূল, আরনাউতের তাহকীককৃত, ৪/১৪৪।
মুসলিম, ১/৩৫০, হাদীস নং: ৪৮২।
এটি মুসলিম (৪/২০৭৫, হাদীস নং: ২৭০২) বর্ণনা করেছেন। ইবনুল আছীর বলেন: "لِيُغَانَ عَلَى قَلْبِي" অর্থ হলো- আমার অন্তর আবৃত বা আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এখানে এর উদ্দেশ্য হলো ভুলে যাওয়া; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা অধিক পরিমাণে যিকির, ইবাদত ও আল্লাহর ভয় অবস্থায় থাকতেন। তাই কোনো সময় যদি তিনি এগুলোর মধ্যে কিছুতে ভুল করতেন বা বিস্মৃত হতেন, তা তিনি নিজের জন্য গুনাহ হিসেবে গণ্য করতেন এবং তা থেকে ক্ষমা প্রার্থনায় রত হতেন। দেখুন: জামিউল উসূল, ৪/৩৮৬।
সহীহ আল-বুখারী, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ১৬৮, হাদীস নং: ৬৪০৫; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭১, হাদীস নং: ২৬৯১। দেখুন: যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় এটি একশো বার বলবে, তার ফযীলত, এই কিতাবের পৃষ্ঠা নং: ৬৫।
সহীহ আল-বুখারী, খণ্ড: ০৭, পৃষ্ঠা: ৬৭, হাদীস নং: ৬৪০৪; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭১, হাদীস নং: ২৬৯৩। দেখুন: যে ব্যক্তি এটি দিনে একশো বার বলবে, তার ফযীলত, নং: ৯৩, এই কিতাবের পৃষ্ঠা নং: ৬৬।
সহীহ আল-বুখারী, খণ্ড: ০৭, পৃষ্ঠা: ১৬৮, হাদীস নং: ৬৪০৪; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭২, হাদীস নং: ২৬৯৪।
সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭২, হাদীস নং: ২৬৯৫।
সহীহ মুসলিম, ৪/২০৭৩, হাদীস নং: ২৬৯৮।
তিরমিজী, খণ্ড: ০৫, পৃষ্ঠা: ৫১১, হাদীস নং: ৩৪৬৪; এবং হাকিম, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৫০১ — তিনি এটি সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। দেখুন: সহীহুল জামে, খণ্ড: ০৫, পৃষ্ঠা: ৫৩১; এবং সহীহ তিরমিজী, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা ১৬০।
সহীহ আল-বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২১৩, হাদীস নং: ৪২০৬; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭৬, হাদীস নং: ২৭০৪।
সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা: ১৬৮৫, হাদীস নং: ২১৩৭।
সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭২, হাদীস নং: ২৬৯৬; আর সুনান আবু দাউদ, (খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ২২০, হাদীস নং: ৮৩২)-এ অতিরিক্ত আছে: “যখন বেদুঈন লোকটি চলে গেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'সে তো তার হাতকে কল্যাণে পরিপূর্ণ করে নিল।”
সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭৩, হাদীস নং: ৩৬৯৭; এবং তার আরেকটি বর্ণনায় এসেছে: (এই (দু‘আগুলো) তোমার দুনিয়া ও আখেরাতকে একত্রিত করবে।)।
তিরমিজী, খণ্ড: ০৫, পৃষ্ঠা: ৪৬২, হাদীস নং: ৩৩৮৩; এবং ইবনে মাজাহ, খণ্ড: ০২, পৃষ্ঠা: ১২৪৯, হাদীস নং: ৩৮০০; এবং হাকিম, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৫০৩, তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন। দেখুন: সহীহুল জামে, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৩৬২।
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ৫১৩, আহমাদ শাকিরের বিন্যাস (তারতীব) অনুযায়ী; এবং দেখুন: মাজমা'উয-যাওয়ায়েদ, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ২৯৭; আর ইবনে হাজার বুলুগুল মারাম-এ আবূ সাঈদের রেওয়ায়েত হিসেবে নাসায়ীর (সুনানে কুবরা গ্রন্থের) দিকে সম্পৃক্ত করেছেন, হাদীস নং: ১০৬১৭। তিনি বলেন: ইবনু হিব্বান এটিকে সহীহ বলেছেন: হাদীস নং: ৮৪০; এবং হাকিম, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৫৪১।
আবু দাউদ, খণ্ড: ০২, পৃষ্ঠা: ৮১, হাদীস নং: ১৫০২; এবং তিরমিজী, খণ্ড: ০৫, পৃষ্ঠা: ৫২১, হাদীস নং: ৩৪৮৬; এবং দেখুন: সহীহুল জামে, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২৭১, হাদীস নং: ৪৮৬৫; আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ সুনানে আবু দাউদ, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৪১১।
সহীহ আল-বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৮৮, হাদীস নং: ৫৬২৩; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৫৯৫, হাদীস নং: ২০১২।
আলহামদুলিল্লাহ, উল্লিখিত মূল গ্রন্থটি এতে সংকলিত হাদিসসমূহের ব্যাপক তাখরীজসহ চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে হিসনুল মুসলিম।