PHPWord

 

 

 

العَقِيدَةُ الصَّحِيْحَةُ وَمَا يُضَادُّهَا

 

 

বিশুদ্ধ আকিদা এবং এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ

 

 

لِسَمَاحَةِ الشَّيْخِ العَلَّامَةِ

عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ بَازٍ

رَحِمَهُ اللهُ

 

 

সংকলন মাননীয় শাইখ

শাইখ আব্দুলআযীয ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু বায

 


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

্রথম পত্র:

বিশুদ্ধ আকিদা এবং এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ

সমস্ত প্রশংসা এক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম শেষ নবীর প্রতি, যার পরে কোনো নবী নেই এবং তার পরিবার ও সকল সাহাবীর উপর।

অতঃপর, যেহেতু বিশুদ্ধ আকীদা হলো ইসলাম ধর্মের মূল ও মিল্লাতের ভিত্তি, তাই দেখলাম এই বিষয়ে আলোচনা করা এবং এটি বয়ান ও স্পষ্ট করার জন্য লিখা ও সংকলন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কুরআন ও সুন্নাহর শরয়ী প্রমাণ দ্বারা জানা যায়: কর্ম ও কথা তখনই বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা সঠিক বিশ্বাস থেকে প্রকাশ পায়। যদি আকীদা ভুল হয়, তাহলে তার থেকে তৈরি হওয়া সকল কর্ম ও কথা বাতিল হয়, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿...وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُهُۥ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ﴾

আর কেউ ঈমানের সাথে কুফরী করলে তার কর্ম অবশ্যই নিস্ফল হবে এবং সে আখেরাতে ক্ষীতগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [আল-মায়েদাহ: ৫]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:

﴿وَلَقَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكَ لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ 65﴾

আর আপনার প্রতি ও আপনার পুর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী করা হয়েছে যে, 'যদি আপনি শির্ক করেন তবে আপনার সমস্ত আমল তো নিষ্ফল হবে এবং অবশ্যই আপনি হবেন ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। [আয-যুমার, আয়াত: ৬৫]।

এ বিষয়ে অনেক আয়াত রয়েছে। আল্লাহর স্পষ্ট কিতাব এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের সুন্নাহ—তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— প্রমাণ করে যে সঠিক আকীদার সারমর্ম হলো: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিন এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের উপর ঈমান আনয়ন করা। এই ছয়টি বিষয় হল সঠিক আকীদার (বিশ্বাসের) ভিত্তি যা নিয়ে আল্লাহর সম্মানিত গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা নিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাঠিয়েছেন।

এই ছয়টি মূলনীতির উপর কিতাব ও সহীহ সুন্নাহতে অনেক দলীল বর্ণিত হয়েছে; উদাহরণস্বরূপ নিম্নে কয়েকটি পেশ করছি:

প্রথমত: আল্লাহর কিতাব থেকে দলীল, তন্মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿لَّيۡسَ ٱلۡبِرَّ أَن تُوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ قِبَلَ ٱلۡمَشۡرِقِ وَٱلۡمَغۡرِبِ وَلَٰكِنَّ ٱلۡبِرَّ مَنۡ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلۡكِتَٰبِ وَٱلنَّبِيِّـۧنَ...﴾

পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোই সৎকর্ম নয়, কিন্তু সৎকর্ম হলো যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌, শেষ দিবস, ফেরেশ্‌তাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনবে। [আল-বাকারাহ: ১৭৭]

তিনি আরো বলেন,

﴿ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِ...﴾

রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্‌র উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না... [আল-বাকারাহ: ২৮৫]

তাঁর আরেকটি বাণী:

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ ءَامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلۡكِتَٰبِ ٱلَّذِي نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَٱلۡكِتَٰبِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ مِن قَبۡلُۚ وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلَۢا بَعِيدًا 136﴾

হে মুমিনগণ! তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি, এবং সে কিতাবের প্রতি যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন। আর সে গ্রন্থের প্রতিও যা তার পূর্বে তিনি নাযিল করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও শেষ দিবসের প্রতি কুফরী করে সে সুদূর বিভ্রান্তিতে পতিত হলো। [আন-নিসা: ১৩৬]

তাঁর আরেকটি বাণী:

﴿أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَٰبٍۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ 70﴾

আপনি কি জানেন না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ্‌ তা জানেন। এসবই তো আছে এক কিতাবে; নিশ্চয় তা আল্লাহ্‌র নিকট অতি সহজ। [আল-হজ: ৭০]

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে দলীল, তন্মধ্যে রয়েছে প্রসিদ্ধ সহীহ হাদীস যা ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে আমিরুল মুমেনীন উমার ইবনুল খাত্তাব -রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:

«الإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَاليَوْمِ الآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ».

“ঈমান হলো যে, তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর মালায়েকা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখেরাত দিবস ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।”1 হাদীস। ইমাম বুখারী ও মুসলিম সামান্য তারতম্যসহ আবূ হুরায়রা -রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

এগুলো থেকে একজন মুসলিমের উপর আল্লাহ তা‘আলা এবং পরকাল ও গায়েবের (অদৃশ্যের) অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে যা বিশ্বাস করা ওয়াজিব তার সবকিছু বের হয়ে আসে।

এই ছয়টি মূলনীতির বর্ণনা নিম্নরূপ:

প্রথম মূলনীতি: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা। আর এটি কয়েকটি বিষয়কে শামিল করে, তন্মধ্যে:

এর মধ্যে কয়েকটি বিষয় রয়েছে, তন্মধ্যে: এই ঈমান আনয়ন করা যে, তিনিই ইবাদতের যোগ্য সত্য ইলাহ, তিনি ছাড়া আর কেউ নন। কারণ তিনি বান্দাদের স্রষ্টা, তাদের প্রতি দয়াকারী, তাদের রিযিকের ব্যবস্থাকারী, তাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত। তিনি তাদের মধ্যকার আনুগত্যকারীদের পুরস্কৃত করতে ও অবাধ্যদের শাস্তি দিতে সক্ষম।

এই ইবাদতের জন্যই মানব ও জিন জাতিকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে এর আদেশ দিয়েছেন, যেমন তিনি বলেছেন:

﴿وَمَا خَلَقۡتُ ٱلۡجِنَّ وَٱلۡإِنسَ إِلَّا لِيَعۡبُدُونِ 56 مَآ أُرِيدُ مِنۡهُم مِّن رِّزۡقٖ وَمَآ أُرِيدُ أَن يُطۡعِمُونِ 57 إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلرَّزَّاقُ ذُو ٱلۡقُوَّةِ ٱلۡمَتِينُ 58﴾

আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে।

আমি তাদের কাছ থেকে কোনো রিযিক চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে খাওয়াবে ৫৭।

নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই তো রিযিকদাতা, প্রবল শক্তিধর, পরাক্রমশালী। [আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬-৫৮]

তিনি আরো বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱعۡبُدُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُمۡ وَٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ 21 ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ فِرَٰشٗا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءٗ وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَأَخۡرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزۡقٗا لَّكُمۡۖ فَلَا تَجۡعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادٗا وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ 22﴾

হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ‘ইবাদাত করো যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অধিকারী হও।

যিনি যমীনকে তোমাদের জন্য বিছানা ও আসমানকে করেছেন ছাদ এবং আকাশ হতে পানি অবতীর্ণ করে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেছেন। কাজেই তোমরা জেনে-শুনে কাউকে আল্লাহ্‌র সমকক্ষ দাঁড় করিও না। [আল-বাকারা, আয়াত: ২১-২২]

এই সত্য ব্যাখ্যা করা ও এর প্রতি আহ্বান জানানোর জন্য এবং এর বিপরীত বিষয়গুলি হতে সতর্ক করার জন্য আল্লাহ রাসূলদের প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। যেমন আল্লাহ বলেছেন:

﴿وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَ...﴾

আর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছিলাম এ নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদাত কর এবং তাগূতকে বর্জন কর... [আন-নাহল: ৩৬]

তিনি আরো বলেন,

﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِيٓ إِلَيۡهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدُونِ 25﴾

আর আপনার পূর্বে আমরা যে রাসূলই প্রেরণ করেছি তার কাছে এ ওহীই পাঠিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা আমরাই ইবাদাত কর। [আল-আম্বিয়া: ২৫]

তিনি আরও বলেন,

﴿الر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ1 أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنَّنِي لَكُمْ مِنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ2﴾

আলিফ–লাম-রা, এ কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট, সুবিন্যস্ত ও পরে বিশদভাবে বিবৃত প্রজ্ঞাময়, সবিশেষ অবহিত সত্তার কাছ থেকে;

যে, তোমরা আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যের ইবাদাত করো না, নিশ্চয় আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। [হুদ: ১-২]

এই ইবাদতের হাকীকত হলো: বান্দাগণ যেসব কথা ও কর্ম দিয়ে ইবাদত আঞ্জাম দেয়, সেগুলোআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার জন্য একনিষ্ঠভাবে পালন করা, যেমন দোয়া, ভয়, আশা, সালাত, সিয়াম, যবেহ, মানত ও অন্যান্য সর্ব প্রকার ইবাদত। তা হতে হবে আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ বিনয়, তাঁর সওয়াব লাভের আকাঙ্ক্ষা, তাঁর শাস্তির ভয়, পরিপূর্ণ ভালোবাসা এবং তাঁর মহিমার সামনে নিজেকে বিনম্রভাবে সমর্পণের মাধ্যমে।

যে ব্যক্তি আল-কুরআনুল কারীম নিয়ে চিন্তা করবে সে দেখতে পাবে যে, তার বেশিরভাগই এই মহান নীতি বর্ণনা করে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿إِنَّآ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ فَٱعۡبُدِ ٱللَّهَ مُخۡلِصٗا لَّهُ ٱلدِّينَ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ 2 أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ أَوۡلِيَآءَ مَا نَعۡبُدُهُمۡ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَآ إِلَى ٱللَّهِ زُلۡفَىٰٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَحۡكُمُ بَيۡنَهُمۡ فِي مَا هُمۡ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي مَنۡ هُوَ كَٰذِبٞ كَفَّارٞ3﴾

নিশ্চয় আমরা আপনার কাছে এ কিতাব সত্যসহ নাযিল করেছি। কাজেই আল্লাহর 'ইবাদত করুন তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। কাজেই আল্লাহর 'ইবাদত করুন তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।

জেনে রাখুন, অবিমিশ্র আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য। আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা বলে, 'আমরা তো এদের ইবাদত এ জন্যে করি যে, এরা আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দেবে।’ তারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে সে ব্যাপারে ফয়সালা করে দেবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফির, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না। [আয-যুমার: ২-৩]

তিনি আরো বলেন,

﴿وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّآ إِيَّاهُ...﴾

আর আপনার রব আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো 'ইবাদাত না করতে... [আল-ইসরা : ২৩]

তাঁর আরেকটি বাণী:

﴿فَٱدۡعُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ وَلَوۡ كَرِهَ ٱلۡكَٰفِرُونَ14﴾

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাক তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। যদিও কাফিররা অপছন্দ করে। [গাফির: ১৪]

অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি নববী সুন্নাতের বিষয়ে চিন্তা করবে সে এই নীতির প্রতিও অনেক গুরুত্বারোপ দেখতে পাবে, তন্মধ্যে: দু’টি সহীহ গ্রন্থে মুয়ায -রাদিয়াল্লাহু আনহু-হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«حَقُّ اللهِ عَلَى العِبَادِ أَن يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا».

“বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে: তারা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না।”2

আল্লাহর প্রতি ঈমানে আরও অন্তর্ভুক্ত হয়: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর ইসলামের যে পাঁচটি প্রকাশ্য রোকন ফরজ করেছেন তার উপর ঈমান আনা।

এগুলো হলো: এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম রাখা এবং যারা সক্ষম তাদের জন্য আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজ পালন করা। এবং আরও যেসব ফরয নিয়ে শরীয়ত এসেছে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা।

এই রোকন বা স্তম্ভগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ হল এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মাবূদ (উপাস্য) নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। এই সাক্ষ্য দাবি করে ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্যই নিবিষ্ট করা এবং তিনি ছাড়া সবার জন্য তা অস্বীকার করা। এটিই হলো لا إله إلا الله কালিমার অর্থ। কারণ এর অর্থ যেমনটি আলিমগণ বলেছেন তা হল, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আর আল্লাহ ব্যতীত যা কিছুর ইবাদত করা হয় মানুষ বা ফেরেশতা বা জিন বা অন্য যে কোন কিছু, তারা সকলেই মিথ্যা উপাস্য; সত্য মাবূদ হলেন একমাত্র আল্লাহ, যেমন তিনি বলেছেন:

﴿ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ هُوَ ٱلۡبَٰطِلُ...﴾

এজন্যে যে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌, তিনিই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা তো অসত্য... [আল-হজ্জ: ৬২]

পূর্বেই বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা এই মূলনীতির জন্য দুই ধরনের সত্ত্বা - জিন ও মানবজাতি - সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন, এটি দিয়েই তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং এটি দিয়েই তাঁর কিতাবগুলো নাযিল করেছেন। কাজেই বান্দার উচিত এটি নিয়ে ভালভাবে চিন্তা করা এবং অনেক গবেষণা করা যাতে তার কাছে স্পষ্ট হয় যে, অধিকাংশ মুসলিম এই মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে কত বড় মূর্খতায় পতিত হয়েছে যে, তারা আল্লাহর সাথে গায়রুল্লাহর ইবাদত পর্যন্ত করেছে এবং তাঁর একনিষ্ঠ অধিকার তাঁকে ছাড়া অন্যের জন্য উৎসর্গ করেছে। আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।

আল্লাহর প্রতি ঈমানের আরেকটি অংশ হল, এই ঈমান আনয়ন করা যে, আল্লাহই সমগ্র জগতের সৃষ্টিকর্তা, সকল বিষয়ের পরিচালনাকারী এবং তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতার দ্বারা তাদের উপর নিজ ইচ্ছামত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী। তিনিই দুনিয়া ও আখিরাতের মালিক এবং সকল জগতের মালিক, তিনি ছাড়া কোন স্রষ্টা নেই, আর তিনি ছাড়া কোন রবও নেই। তিনি রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন বান্দাদের সংশোধন ও তাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করার জন্য, যা তাদের ইহকাল ও পরকালে মুক্তি ও কল্যাণ বয়ে আনবে। তিনি পবিত্র এবং এসব কিছুতে তাঁর কোন শরীক নেই, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَيۡءٖۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ وَكِيلٞ 62﴾

আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর তত্ত্বাবধায়ক। [আয-যুমার: ৬২]

তিনি আরো বলেন,

﴿إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يُغۡشِي ٱلَّيۡلَ ٱلنَّهَارَ يَطۡلُبُهُۥ حَثِيثٗا وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ وَٱلنُّجُومَ مُسَخَّرَٰتِۭ بِأَمۡرِهِۦٓۗ أَلَا لَهُ ٱلۡخَلۡقُ وَٱلۡأَمۡرُۗ تَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ54﴾

নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ্ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর উঠেছেন। তিনিই দিনকে রাত দিয়ে ঢেকে দেন, তাদের একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে। আর সূর্য,চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি, যা তাঁরই হুকুমের অনুগত, তা তিনিই সৃষ্টি করেছেন।জেনে রাখ, সৃজন ও আদেশ তাঁরই। সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্‌ কত বরকতময়! [আল-আরাফ: ৫৪]

আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নের আরেকটি অংশ হল, মূল্যবান গ্রন্থে বর্ণিত এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল হতে প্রমাণিত তাঁর সুন্দর সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলীর উপর ঈমান আনয়ন করা- বিকৃতি, বাতিলকরণ, আকার বয়ান ও উদাহরণ পেশ করা ছাড়াই।

﴿...لَيۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَيۡءٞۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ﴾

কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা। [আশ-শূরা: ১১]

অতএব আল্লাহ তা‘আলার সিফাতগুলো যেভাবে এসছে কোন আকৃতি বর্ণনা করা ছাড়া সেভাবে রেখে দেওয়া ওয়াজিব। আর এগুলো যে মহান অর্থ নির্দেশ করে যা আল্লাহ সুবহানাহুর বিশেষণ তার উপর ঈমান আনয়ন করা। আরও ওয়াজিব হল সষ্টির সাথে এসব সিফাতের সাদৃশ্য বয়ান না করে যথাযথভাবে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তিনি আরও বলেন,

﴿فَلَا تَضۡرِبُواْ لِلَّهِ ٱلۡأَمۡثَالَۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ وَأَنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ74﴾

কাজেই তোমরা আল্লাহ্‌র কোন সদৃশ স্থির করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ জানেন এবং তোমরা জান না। [আন-নাহাল: ৭৪]

এই হল আল্লাহর নাম ও সিফাতের বিষয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী এবং সুন্দরভাবে তাদের অনুসারী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা। আর এটিই ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী তার " المقالات عن أصحاب الحديث وأهل السنة" (আল-মাকালাত 'আন আসহাবিল-হাদীস ওয়া আহলুস-সুন্নাহ) গ্রন্থে এবং অন্যান্য আলেমগণ বর্ণনা করেছেন।

আওযায়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইমাম যুহরি ও মাকহুলকে আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কিত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন: "এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবে বহাল রাখ3

আওযায়ী রাহিমাহুল্লাহ আরও বলেন, “আমরা এবং সকল তাবেঈ বলতাম যে, আল্লাহ তাঁর আরশে রয়েছেন এবং সুন্নাতে যেভাবে সিফাতসমূহ বর্ণিত হয়েছে সেভাবে আমরা ঈমান আনয়ন করি।”4

ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “মালিক, আওযাঈ, লাইস ইবনু সাদ ও সুফিয়ান সাওরী রাহিমাহুমুল্লাহ-কে সিফাত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তারা সবাই বলেন: এগুলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে- ধরন বর্ণনা না করে সেভাবে রেখে দাও।”5

যখন মালিকের উস্তাদ রাবিয়া ইবন আবু আবদুর রহমান রাহমাতুল্লাহি আলাইহিমাকে ইস্তিওয়া (আরশে ওঠা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: “ইস্তিওয়া অজানা নয় এবং ধরন বিবেকি বিষয় না, আর আল্লাহর তরফ থেকে রিসালাত এসেছে, রাসূলের দায়িত্ব তা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং আমাদের দায়িত্ব তা সত্যায়ন করা”।6 যখন ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেন: “ইস্তিওয়া -আরশে ওঠা- জানা আছে, কিন্তু পদ্ধতি অজানা। এতে বিশ্বাস করা ফরজ এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা একটি বিদআত। তারপর তিনি প্রশ্নকারীকে বললেন: আমি তোমাকে একজন খারাপ মানুষ ছাড়া আর কিছুই মনে করি না! তিনি তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।”7 এই অর্থ উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা - রাদিয়াল্লাহু আনহা - থেকেও বর্ণিত হয়েছে।8

ইমাম আবু আবদুর রহমান ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “আমরা জানি যে আমাদের রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক, তাঁর আসমানসমূহের উপরে তাঁর আরশে রয়েছেন”9

এই বিষয়ে ইমামদের বক্তব্য অনেক এবং এই বক্তব্যে তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যারা এই বিষয়টি অবগত হতে চান, তাদের উচিত এই বিষয়ে সুন্নি আলিমদের লেখা অধ্যয়ন করা, যেমন আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমদের "আস-সুন্নাহ", ইমাম মুহাম্মদ ইবনু খুজাইমাহ রচিত "আত-তাওহীদ", আবুল-কাসিম আল-লালাকাই আত-তাবারির "আস-সুন্নাহ", আবু বকর ইবন আবি আসিমের "আস-সুন্নাহ" এবং হামাহবাসীদের উদ্দেশ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ-এর প্রদত্ত উত্তর, যা অত্যন্ত মূল্যবান ও উপকারী। এতে তিনি আহলে সুন্নাতের আকিদা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাদের বক্তব্য থেকে অনেক উদ্ধৃতি এনেছেন এবং শরয়ী ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ দ্বারা আহলে সুন্নাতের বক্তব্যের সত্যতা এবং তাদের বিরোধীদের দাবির অসারতা প্রমাণ করেছেন।"

এইভাবে তার "আত-তাদমুরিয়া" নামক পুস্তিকায়;

তিনি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বয়ান করেছেন এবং সুন্নিদের আকিদাকে বর্ণনাকৃত ও যুক্তিসঙ্গত প্রমাণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। আর যারা এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে তাদের এমনভাবে জবাব দিয়েছেন যা জ্ঞানী ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে যারা সত্য জানার আগ্রহ এবং ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে তার দিকে তাকাবে তাদের জন্য সত্যকে প্রকাশ করবে এবং মিথ্যাকে ধ্বংস করবে। সারাংশ: আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহের আকিদা হল; তারা আল্লাহর জন্য সেই জিনিসই সাব্যস্ত করেছেন যা তিনি তাঁর কিতাবে নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, অথবা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ - সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম - তার সুন্নাহে তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, কোনরূপ সাদৃশ্য বয়ান করা ছাড়াই সাব্যস্ত করেন। আর তারা আল্লাহু সুবহানাহুকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য থেকে এমনভাবে পবিত্র ঘোষণা করেন যা (তা‘তীল) অর্থ অস্বীকার করা মুক্ত; ফলে তারা স্ববিরোধিতা থেকে সুরক্ষা লাভ করেছেন। এবং তারা সমস্ত দলিলের উপর আমল করেছেন আল্লাহর তাওফিকে। কারণ আল্লাহর রীতি হল যে সত্যকে দৃঢ়ভাবে ধরবে যা তিনি তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং তাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করবে ও তা অর্জনে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হবে, আল্লাহ তাকে এর তাওফিক দিবেন এবং তার সামনে দলিল স্পষ্ট করবেন, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿بَلۡ نَقۡذِفُ بِٱلۡحَقِّ عَلَى ٱلۡبَٰطِلِ فَيَدۡمَغُهُۥ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٞ...﴾

বরং আমরা সত্য দ্বারা আঘাত হানি মিথ্যার উপর; ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়... [আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১৮]

তিনি আরো বলেন,

﴿وَلَا يَأۡتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئۡنَٰكَ بِٱلۡحَقِّ وَأَحۡسَنَ تَفۡسِيرًا33﴾

আর তারা আপনার কাছে যে বিষয়ই উপস্থিত করে না কেন, আমরা সেটার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আপনার কাছে নিয়ে আসি। [আল-ফুরকান, আয়াত: ৩৩]

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অধ্যায়ে আহলুস সুন্নাহের আকীদার সাথে দ্বিমত পোষণ করেন; সে যা সাব্যস্ত করে এবং যা অস্বীকার করে সবকিছুর মধ্যে অনিবার্যভাবে বর্ণিত ও যুক্তিসঙ্গত প্রমাণের স্পষ্ট বিরোধিতায় পতিত হবে। হাফিয ইবনু কাসির- রাহিমাহুল্লাহ- এই বিষয়ে তার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থে খুব সন্দুর কথা উল্লেখ করেছেন। আর তা হল আল্লাহর নিম্নের বাণী সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে:

﴿إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِ...﴾

নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ্ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর উঠেছেন... [আল-আরাফ: ৫৪]

মহান ফায়দার বিষয়টি বিবেচনা করে তার কথা এখানে উল্লেখ করা সঙ্গত হবে। তিনি বলেন:

এই বিষয়ে মানুষের অনেক মতামত আছে, এখানে সেগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার জায়গা নয়। এই বিষয়ে আমরা আদর্শ পূর্বসূরী ইমামগণের পথ অনুসরণ করব, যেমন: ইমাম মালিক, আওযায়ী, সাওরী, লাইস ইবন সা'দ, শাফিঈ, আহমদ, ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহ সহ পূর্ব ও পরবর্তী মুসলিম ইমামগণ। আর তা হল: আল্লাহর সিফাত যেমনভাবে এসেছে আকৃতি বয়ান, তুলনা করা ও বাতিল করা ছাড়া সেভাবে রেখে দেওয়া। মুশাব্বিহাদের মনে যে আপাত অর্থ আসে তা আল্লাহর থেকে না করা। কারণ, আল্লাহ তাঁর মাখলুকের কারো সদৃস নয়, এবং

﴿...لَيۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَيۡءٞۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ﴾

কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা। [আশ-শূরা: ১১] বরং, বিষয়টি ইমামগণ যেমন বলেছেন তেমনই, যার মধ্যে রয়েছেন বুখারীর উস্তাদ নুয়াঈম ইবনু হাম্মাদ আল-খুজাঈ। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল সে কুফরী করল এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ নিজেকে যা দিয়ে বিশেষিত করেছেন তা অস্বীকার করল সে কুফরী করল10, আল্লাহ নিজেকে এবং তাঁর রাসূল তাকে যা দিয়ে বিশেষিত করেছেন তাতে কোন তুলনা (সাদৃশ্য) নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি স্পষ্ট আয়াত এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় প্রমাণিত বিষয়গুলিকে আল্লাহর সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সাব্যস্ত করে এবং আল্লাহ তা‘আলা থেকে ত্রুটিসমূহকে অস্বীকার করে সে হেদায়াতের পথ অনুসরণ করল11। এখানে ইবনু কাসীরের কথা শেষ হল।

আল্লাহর প্রতি ঈমানের মধ্যে আরও রয়েছে: এই বিশ্বাস করা যে, ঈমান হলো কথা ও আমলে সমন্বয়, যা সৎকাজের সাথে বৃদ্ধি পায় এবং পাপের সাথে হ্রাস পায়। আর শিরক ও কুফরের চেয়ে ছোট পাপের জন্য কোন মুসলিমকে কাফের ঘোষণা করা জায়েয নয়; যেমন ব্যভিচার, চুরি, সুদ, মদ্যপান, পিতামাতার অবাধ্যতা এবং অন্যান্য কবীরা গোনাহ, যদি না সেগুলো জায়েজ বলে করে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُ...﴾

নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করেন না; আর তার থেকে ছোট যাবতীয় গোনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন... [আন-নিসা: ৪৮] এবং যেহেতু এটি আল্লাহর রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুতাওয়াতির হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে - যার মধ্যে তার এই উক্তিও রয়েছে:

«إِنَّ اللهَ يُخْرِجُ مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيْمَانٍ».

“যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন।”12

দ্বিতীয় মূলনীতি: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান, যার মধ্যে দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:

এর মধ্যে দুটি জিনিস অন্তর্ভুক্ত: প্রথম বিষয়: সংক্ষিপ্তভাবে ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনা; এটি এইভাবে যে, আমরা বিশ্বাস করব আল্লাহর এমন ফেরেশতা আছে যাদের তিনি তাঁর আনুগত্য করার জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের বিশেষণ বর্ণনা করে বলেছেন যে:

﴿وَقَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَلَدٗاۗ سُبۡحَٰنَهُۥۚ بَلۡ عِبَادٞ مُّكۡرَمُونَ 26 لَا يَسۡبِقُونَهُۥ بِٱلۡقَوۡلِ وَهُم بِأَمۡرِهِۦ يَعۡمَلُونَ27 يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يَشۡفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ٱرۡتَضَىٰ وَهُم مِّنۡ خَشۡيَتِهِۦ مُشۡفِقُونَ28﴾

আর তারা বলে, ‘দয়াময় (আল্লাহ্) সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র মহান! তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা।

তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না; তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে থাকে।

তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা সবই তিনি জানেন। আর তারা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্যই যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। [আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৬-২৮]

তারা অনেক প্রকারের; তাদের মধ্যে কেউ আরশ বহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত; কেউ জান্নাত ও জাহান্নামের দায়িত্বপ্রাপ্ত; কেউ বান্দাদের আমল সংরক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত। দ্বিতীয় বিষয়: বিস্তারিতভাবে ফেরেশতাদের উপর ঈমান আনা। আর তা হল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের প্রতি আমরা ঈমান আনবো, যেমন ওহীর দায়িত্বপ্রাপ্ত জিব্রাইল, বৃষ্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত মীকাইল, জাহান্নামের দায়িত্বপ্রাপ্ত মালিক এবং শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরাফিল। যেমনভাবে সহীহ হাদীসসমূহে তাদের উল্লেখ এসেছে। তন্মধ্যে সহীহ হাদীসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে প্রমাণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«خُلِقَتِ الـمَلَائِكَةُ مِن نُورٍ، وَخُلِقَ الجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُم»

“ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে আর জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে ধোঁয়াবিহিন অগ্নিশিখা হতে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে ঐ বস্তু হতে যে সম্পর্কে তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে”।13 মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয় মুলনীতি: কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান, যার মধ্যে দু’টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:

প্রথম বিষয়: সংক্ষিপ্তভাবে কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা। আর তা হল: আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী ও রাসূলদের উপর অনেক কিতাব নাযিল করেছেন তাঁর হক বয়ান ও তাঁর দিকে আহ্বান করার জন্য, যেমন তিনি বলেছেন:

﴿لَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَأَنزَلۡنَا مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡمِيزَانَ لِيَقُومَ ٱلنَّاسُ بِٱلۡقِسۡطِ...﴾

অবশ্যই আমরা আমাদের রাসূলগণকে পাঠিয়েছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায়ের পাল্লা, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্টা করে... [আল-হাদীদ: ২৫] তিনি আরো বলেন,

﴿كَانَ ٱلنَّاسُ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ فَبَعَثَ ٱللَّهُ ٱلنَّبِيِّـۧنَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَ ٱلنَّاسِ فِيمَا ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ...﴾

সমস্ত মানুষ ছিল একই উম্মত। অতঃপর আল্লাহ্‌ নবীগণকে প্রেরণ করেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করেন যাতে মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করত সে সবের মীমাংসা করতে পারেন... [আল-বাকারাহ: ২১৩]

দ্বিতীয় বিষয়:বিস্তারিতভাবে কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা। আর তা হল: আল্লাহ যেসব কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন তার উপর ঈমান আনা, যেমন তাওরাত, ইঞ্জিল, যবুর এবং কুরআন। আমরা বিশ্বাস করি যে, কুরআন হল এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম, সর্বশেষ ও চূড়ান্ত কিতাব। এই কিতাব এগুলোর উপর সাক্ষী ও সত্যারোপকারী। সমগ্র জাতির উপর এই কিতাব এবং এর সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতে যা প্রমাণিত হয়েছে তার অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব। কারণ আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ - সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সমগ্র মানব ও জিন জাতির জন্য রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। তাঁর উপর এই কুরআন নাযিল করেছেন যেন এর দ্বারা তিনি বিচার করেন। এটিই অন্তরের সমস্যার জন্য নিরাময় এবং সবকিছুর স্পষ্টীকরণ, মুমিনদের জন্য পথনির্দেশনা ও রহমত স্বরূপ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿وَهَٰذَا كِتَٰبٌ أَنزَلۡنَٰهُ مُبَارَكٞ فَٱتَّبِعُوهُ وَٱتَّقُواْ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ155﴾

আর এ কিতাব, যা আমরা নাযিল করেছি – বরকতময়। কাজেই তোমারা তার অনুসরণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও। [আল-আনআম: ১৫৫] তিনি আরো বলেছেন:

﴿...وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُسۡلِمِينَ﴾

আর আমরা আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ। [আন-নাহল: ৮৯] তিনি আরো বলেন,

﴿قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ فَـَٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِيِّ ٱلۡأُمِّيِّ ٱلَّذِي يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ158﴾

বলুন, ‘হে মানুষ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহ্‌র রাসূল, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান। কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহ্‌র প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহে ঈমান রাখেন। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।’ [আল-আরাফ: ১৫৮] এই অর্থে আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

চতুর্থ মূলনীতি: রাসূলগণের প্রতি ঈমান

এর মধ্যে দুটি জিনিস অন্তর্ভুক্ত: প্রথম বিষয়: রাসূলগণের প্রতি সংক্ষেপে ঈমান আনা; আর তা হলো, আমরা বিশ্বাস করবো যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর বান্দাদের নিকট সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং সত্যের দিকে আহ্বানকারী রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। যে তাদের ডাকে সাড়া দেবে সে সফল হবে, আর যে তাদের বিরোধিতা করবে সে হতাশ ও অনুতপ্ত হবে। তাদের মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বোত্তম হলেন আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন:

﴿وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَ...﴾

আর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছিলাম এ নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদাত কর এবং তাগূতকে বর্জন কর... [আন-নাহল: ৩৬] তিনি আরো বলেন,

﴿رُّسُلٗا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى ٱللَّهِ حُجَّةُۢ بَعۡدَ ٱلرُّسُلِ...﴾

সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণ আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে... [আন-নিসা: ১৬৫] তিনি আরো বলেন,

﴿مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَآ أَحَدٖ مِّن رِّجَالِكُمۡ وَلَٰكِن رَّسُولَ ٱللَّهِ وَخَاتَمَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ...﴾

মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী... [আল-আযাব: ৪০]

দ্বিতীয় বিষয়: বিস্তারিতভাবে রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা। আর তা হলো, আল্লাহ বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের প্রতি বিস্তারিতভাবে এবং নির্দিষ্টভাবে ঈমান আনা; যেমন নূহ, হুদ, সালিহ, ইবরাহীম এবং অন্যান্যরা, আল্লাহ তাদের উপর ও তাদের পরিবার এবং অনুসারীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

পঞ্চম মূলনীতি: আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা

এর মধ্যে রয়েছে:

মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পর যা কিছু ঘটবে বলে সংবাদ দিয়েছেন সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা; যেমন কবরের ফিতনা, আযাব ও নিয়ামত এবং কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা ও কষ্ট, সিরাত, মিযান, হিসাব, পুরস্কার এবং মানুষের মধ্যে আমলনামা ছড়িয়ে দেওয়া। তারপর কেউ তার ডান হাতে আমলনামা নেবে আর কেউ বাম হাতে অথবা পিছন থেকে আমলনামা নেবে।

এর অন্তর্ভুক্ত আরো বিষয় হলো: আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য প্রতিশ্রুত হাউজের প্রতি ঈমান, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান, আর মুমিনদের তাদের সম্মানিত রবের দর্শন লাভ, তাদের সাথে তাঁর কথা বলা ইত্যাদি সহ যা আল-কুরআনুল কারীম ও রাসূল- সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশুদ্ধ সুন্নাহে বর্ণিত হয়েছে সেসবের প্রতি ঈমান রাখা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যা অনুসারে তা বিশ্বাস করা ওয়াজিব।

ষষ্ঠ মূলনীতি: তাকদীরের প্রতি ঈমান

তাকদীরের উপর ঈমান চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম বিষয়: এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা জানেন কী ছিল এবং কী হবে। তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা, তাদের রিযিক, আয়ুষ্কাল, কর্ম এবং তাদের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানেন। এর কিছুই তাঁর কাছে গোপন নেই, তিনি পবিত্র ও মহান। যেমন তিনি বলেছেন:

﴿...وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ﴾

আর জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সব কিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ। [আল-বাকারাহ: ২৩১] তিনি আরও বলেন,

﴿...لِتَعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ وَأَنَّ ٱللَّهَ قَدۡ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عِلۡمَۢا﴾

... যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং জ্ঞানে আল্লাহ্‌ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন। [আত-তালাক: ১২]

দ্বিতীয় বিষয়: ঈমান আনা যে, আল্লাহ যা নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন তা সবই তিনি লিখে রেখেছেন; যেমন তিনি বলেছেন:

﴿قَدۡ عَلِمۡنَا مَا تَنقُصُ ٱلۡأَرۡضُ مِنۡهُمۡۖ وَعِندَنَا كِتَٰبٌ حَفِيظُۢ 4﴾

অবশ্যই আমরা জানি মাটি ক্ষয় করে তাদের কতটুকু এবং আমাদের কাছে আছে সম্যক সংরক্ষণকারী কিতাব। [সূরা কাফ: ৪] তিনি আরো বলেন,

﴿...وَكُلَّ شَيۡءٍ أَحۡصَيۡنَٰهُ فِيٓ إِمَامٖ مُّبِينٖ﴾

আর আমরা প্রত্যেক জিনিস স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি [ইয়াসিন, আয়াত: ১২] তিনি আরো বলেন,

﴿أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَٰبٍۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ70﴾

আপনি কি জানেন না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ্‌ তা জানেন। এসবই তো আছে এক কিতাবে; নিশ্চয় তা আল্লাহ্‌র নিকট অতি সহজ। [আল-হজ: ৭০]

তৃতীয় বিষয়: আল্লাহ তা‘আলার কার্যকর ইচ্ছার প্রতি ঈমান। কারণ তিনি যা চান তা হবে এবং যা চান না তা হবে না, যেমন আল্লাহ বলেছেন:

﴿...إِنَّ ٱللَّهَ يَفۡعَلُ مَا يَشَآءُ﴾

নিশ্চয় আল্লাহ্ যা ইচ্ছে তা করেন। [আল-হাজ্জ: ১৮] তিনি আরও বলেন,

﴿إِنَّمَآ أَمۡرُهُۥٓ إِذَآ أَرَادَ شَيۡـًٔا أَن يَقُولَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ82﴾

তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছে করেন, তিনি বলেন, 'হও', ফলে তা হয়ে যায়। [ইয়াসীন: ৮২] তিনি আরো বলেছেন:

﴿وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ29﴾

আর তোমরা ইচ্ছে করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন। [সূরা আত-তাকওয়ীর: ২৯]

চতুর্থ বিষয়: এ বিষয়ে ঈমান আনা যে, আল্লাহ তা‘আলা সকল সৃষ্টির স্রষ্টা; তিনি ব্যতীত অন্য কোন স্রষ্টা নেই এবং তিনি ব্যতীত অন্য কোন রব নেই; যেমন তিনি বলেছেন:

﴿ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَيۡءٖۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ وَكِيلٞ62﴾

আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর তত্ত্বাবধায়ক। [আয-যুমার: ৬২] তিনি আরো বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَتَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡۚ هَلۡ مِنۡ خَٰلِقٍ غَيۡرُ ٱللَّهِ يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ فَأَنَّىٰ تُؤۡفَكُونَ3﴾

হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্বরণ কর। আল্লাহ্ ছাড়া কি কোনো স্রষ্টা আছে, যে তোমাদেরকে আসমানসমূহ ও যমীন থেকে রিযিক দান করে? আল্লাহ্ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। কাজেই তোমাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে? [ফাতির: ৩]

কাজেই তাকদীরের প্রতি ঈমান এই চারটি বিষয়কে সম্পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা, আর এর বিপরীতে যারা বিদআতী তারা এর কিছু অংশ অস্বীকার করেছে।

আহলুস সুন্নাহর বিশুদ্ধ আকীদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল: আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা, আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব করা এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা করা। এটি হল: الولاء والبراء-এর আকীদা, যা আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং মুমিন মুমিনদের ভালোবাসে ও তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে এবং কাফেরদের ঘৃণা করে ও তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। এই উম্মতের মুমিনদের শীর্ষে আছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, যেমনটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের নিকট প্রতিষ্ঠিত। তারা তাদেরকে ভালোবাসেন, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করেন এবং বিশ্বাস করেন যে নবীদের পরে তারাই সর্বোত্তম মানুষ, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«خَيْرُ القُرُونِ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُم».

“সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হচ্ছে আমার যুগ। অতঃপর এর পরবর্তী যুগ। অতঃপর এর পরবর্তী যুগ”14 সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

তারা বিশ্বাস করে যে, তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন: আবু বকর সিদ্দিক, তারপর উমর ফারুক, তারপর উসমান যুন-নূরাইন, তারপর আলী মুরতাযা - রাদিয়াল্লাহু আনহুম -। তাদের পরে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের অবশিষ্টরা, তারপর অন্যান্য সাহাবীগণ। তারা সাহাবীদের মধ্যে কী ঘটেছিল তা নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকে এবং বিশ্বাস করে যে তারা এই বিষয়ে মুজতাহিদ ছিলেন, যে সঠিক তার জন্য দুটি সাওয়াব রয়েছে এবং যে ভুল করেছে তার একটি সওয়াব।

তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের মুমিনদেরকে ভালোবাসে, তাদের মিত্র হিসেবে গ্রহণ করে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ উম্মুল মুমিনীনদের পক্ষাবলম্বন করে ও তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। তারা রাফেযীদের পথকে অস্বীকার করে, যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ঘৃণা করে, অভিশাপ দেয় এবং নবীর পরিবারের প্রতি সীমালঙ্ঘন করে ও তাদেরকে আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদার চেয়েও উপরে তুলে ধরে। অনুরূপভাবে তারা কথা বা কাজের মাধ্যমে নবীর পরিবারকে কষ্ট দেয় এমন নওয়াসিবদের পথও পরিহার করে।

এসব যা আমরা উল্লেখ করেছি: সবই সেই সঠিক আকীদার অন্তর্ভুক্ত যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন। এটি হল সেই আকীদা যা বিশ্বাস করা, মেনে চলা ও যার উপর স্থির থাকা এবং যার বিপরীত বিষয় এড়িয়ে চলা ওয়াজিব। এটি হল মুক্তিপ্রাপ্ত দল, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস, যার সম্পর্কে নবী - সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম - বলেছেন:

«لَا تَـزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ‌ظَاهِرِينَ ‌عَلَى ‌الحَقِّ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ كَذَلِكَ».

“আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং যারা তাদের অপদস্ত করবে তারা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি এভাবে আল্লাহর আদেশ (অর্থাৎ কিয়ামত) এসে পড়বে আর তারা তেমনই থাকবে।"15 অন্য বর্ণনায় এসেছে:

«لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الحَقِّ مَنْصُورَةٌ».

“আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের উপর বিজয়ী হতে থাকবে"16 নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম আরো বলেছেন:

«افْتَرَقَتِ اليَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، وَافْتَرَقَتِ النَّصَارَى عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، وَسَتَفْتَرِقُ هَذِهِ الأُمَّةُ عَلَى ثَلَاثِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً فَقَالَ الصَّحَابَةُ: مَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: مَنْ كَانَ عَلَى مِثْلِ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي».

“ইহুদীরা একাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হয়েছে, নাসারাগণ বাহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হয়েছে, আর অচিরেই এই উম্মাত তিহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হবে। তাদের একটি ছাড়া সকলেই জাহান্নামী। সাহাবীগণ বললেন: তারা কারা হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: যারা আমি এবং আমার সাহাবাগণ যার উপরে রয়েছে তার উপরে থাকবে”17

বিশুদ্ধ আকীদার পরিপন্থী আকীদাসমূহ

যারা এই আকীদা থেকে বিচ্যুত এবং যারা এর বিপরীত মেরুতে চলমান; তারা অনেক প্রকার; তাদের মধ্যে মূর্তি, দেবদেবি, ফেরেশতা, ওলী, জিন, গাছ, পাথর এবং অন্যান্যদের পূজারী রয়েছে। এসব লোকেরা রাসূলদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি, বরং তাদের বিরোধিতা করেছে এবং তাদের অমান্য করেছে, যেমন কুরাইশ ও বিভিন্ন প্রকার আরব আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে করেছিল। তারা তাদের দেবতাদের কাছে তাদের চাহিদা পূরণ, অসুস্থদের সুস্থতা এবং তাদের শত্রুদের উপর বিজয় দান করার জন্য প্রার্থনা করত। তারা তাদের জন্য জবাই করত ও মান্নত করত। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিন্দা করলেন এবং তাদের ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করার নির্দেশ দিলেন, তখন তারা এতে অবাক হয়েছিল এবং তা অস্বীকার করেছিল। তারা বলেছিল:

﴿أَجَعَلَ ٱلۡأٓلِهَةَ إِلَٰهٗا وَٰحِدًاۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٌ عُجَابٞ5﴾

'সে কি বহু ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? এটা তো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার!' [ সূরা সোয়াদ: ৫]

তিনি - সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম - তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকতে থাকেন, শিরকবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করতে থাকেন এবং তাদেরকে যার দিকে আহ্বান করছিলেন তাদের সামনে এর হাকীকত ব্যাখ্যা করতে থাকেন। অবশেষে আল্লাহ তাদের কিছু লোককে হেদায়েত দেন। তারপর তারা দলে দলে আল্লাহর ধর্মে প্রবেশ করেন, ফলে আল্লাহর রাসূল - সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এবং তার সাহাবীদের - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছিলেন তাদের ধারাবাহিক আহ্বান এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পর আল্লাহর ধর্ম অন্যান্য সমস্ত ধর্মের উপর বিজয়ী হয়। এরপর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয় এবং সৃষ্টির অধিকাংশের উপর অজ্ঞতা প্রাধান্য পায়, ফলে তাদের অধিকাংশই নবী ও অলীদের সম্পর্কে অতিরঞ্জিত করে, তাদেরকে ডাকতে থাকে, তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং অন্যান্য ধরণের শিরকবাদের মাধ্যমে জাহিলি ধর্মে ফিরে যায়। তারা আরব কাফেরদের ন্যায় لا إله إلا الله তথা আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই- এর অর্থ পর্যন্ত জানল না! আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।

এই শিরক আজ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে; অজ্ঞতার বিস্তার এবং নবুয়তের যুগ থেকে দূরত্ব বৃদ্ধির কারণে।

এই পরবর্তীদের ধারণা মূলত পূর্ববর্তীদের ধারণার মতোই, যা হল তাদের এই বক্তব্য:

﴿...هَٰٓؤُلَآءِ شُفَعَٰٓؤُنَا عِندَ ٱللَّهِ...﴾

এগুলো আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের সুপারিশকারী। [ইউনুস: ১৮] এবং তাদের বাণী:

﴿...مَا نَعۡبُدُهُمۡ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَآ إِلَى ٱللَّهِ زُلۡفَىٰٓ...﴾

আমরা তো এদের ইবাদত এ জন্যে করি যে, এরা আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দেবে [আয-যুমার: ৩] আল্লাহ এই ধারণাকে বাতিল করে দিয়েছেন এবং বর্ণনা করেছেন, যে কেউ তাঁর পরিবর্তে অন্য কারো ইবাদত করে, সে শিরক এবং কুফর করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿وَيَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمۡ وَلَا يَنفَعُهُمۡ وَيَقُولُونَ هَٰٓؤُلَآءِ شُفَعَٰٓؤُنَا عِندَ ٱللَّهِ...﴾

আর তারা আল্লাহ্‌ ছাড়া এমন কিছুর ‘ইবাদাত করছে যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, ‘এগুলো আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের সুপারিশকারী। [সূরা ইউনুস: ১৮] আল্লাহু সুবহানাহু তাদের প্রতিবাদ করে বলেন:

﴿قُلۡ أَتُنَبِّـُٔونَ ٱللَّهَ بِمَا لَا يَعۡلَمُ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ18﴾

বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহ্‌কে আসমানসমূহ ও যমীনের এমন কিছুর সংবাদ দেবে যা তিনি জানেন না? তিনি মহান, ‘পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধে। [সূরা ইউনুস: ১৮]

সুতরাং, আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁকে ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করা, যেমন নবী, ওলী, অথবা অন্য কারো উপাসনা করা শিরকের সবচেয়ে বড় রূপ, যদিও যারা এটি করে তারা তা অন্য কিছু নামকরণ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿...وَٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ أَوۡلِيَآءَ مَا نَعۡبُدُهُمۡ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَآ إِلَى ٱللَّهِ زُلۡفَىٰٓ...﴾

আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা বলে, 'আমরা তো এদের ইবাদত এ জন্যে করি যে, এরা আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দেবে।’ [আয-যুমার: ৩] তারপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের কথার প্রত্যুত্তর করেছেন এই বাণী দ্বারা:

﴿...إِنَّ ٱللَّهَ يَحۡكُمُ بَيۡنَهُمۡ فِي مَا هُمۡ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي مَنۡ هُوَ كَٰذِبٞ كَفَّارٞ﴾

নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে সে ব্যাপারে ফয়সালা করে দেবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফির, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না। [আয-যুমার: ৩]

এভাবে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, প্রার্থনা, ভয়, আশা ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করা তাঁর প্রতি কুফরির শামিল। আর তিনি তাদের এই কথায় তাদেরকে মিথ্যাবাদী করে দিলেন যে, তাদের উপাস্যরা তাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করবে।

অনুরুপভাবে যেসব কুফরি আকীদা সহীহ আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক এবং রাসূলদের আনীত বিষয়ের বিপরীত, তার মধ্যে রয়েছে আধুনিক যুগের নাস্তিকদের বিশ্বাস, যারা মার্কস, লেনিন এবং অন্যান্য নাস্তিকতা ও কুফরের প্রচারকদের অনুসরণ করে।তারা এটিকে সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ, বার্থবাদ, অথবা অন্য যেকোনো নামে ডাকুক না কেন। কারণ এই নাস্তিকদের নীতির মধ্যে রয়েছে যে, কোন ইলাহ নেই এবং জীবন কেবল বস্তুগত বিষয়।

তাদের নীতিগুলির মধ্যে রয়েছে পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করা এবং সকল ধর্মের প্রতি অবিশ্বাস। যে কেউ তাদের বইগুলি দেখবে এবং তারা কীসের উপর আছে তা অধ্যয়ন করবে সে নিশ্চিতভাবে তাদের কুফরী সম্পর্কে জানতে পারবে। কোন সন্দেহ নেই যে এই অবিশ্বাস সমস্ত আসমানী ধর্মের পরিপন্থী এবং এটি তার অনুসারীদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে সবচেয়ে খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

হকের বিপরীত আকীদাগুলোর মধ্যে রয়েছে যা কিছু সুফি বিশ্বাস করে যে, যাদের তারা অলি বলে ডাকে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর সাথে জগতের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে অংশীদার! আর তারা তাদের আকতাব, আওতাদ, আগওয়াস প্রভৃতি নামকরণ করে যেসব নাম তারা তাদের দেবতাদের জন্য উদ্ভাবন করেছে। এটি রুবুবিয়্যাতে শিরকের একটি রূপ এবং এটি আল্লাহর সাথে শিরকের সবচেয়ে জঘণ্য রূপগুলির একটি।

যে ব্যক্তি পূর্ববর্তী জাহেলি যুগের লোকদের শির্কের দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করবে এবং তা পরবর্তী যুগের শির্কের সাথে তুলনা করবে, সে দেখতে পাবে যে পরবর্তী যুগের শির্ক আরো বড় ও ভয়াবহ। এর ব্যাখ্যা নিম্নরূপ: জাহিলি যুগের আরবের কাফিররা দুটি বৈশিষ্ট্যের কারণে আলাদা ছিল: প্রথম বিষয়: তারা রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে শরীক করত না, বরং তাদের শিরক ছিল ইবাদতের ক্ষেত্রে; কেননা তারা আল্লাহ্‌র রুবুবিয়্যাতকে স্বীকার করত, যেমন আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:

﴿وَلَئِن سَأَلۡتَهُم مَّنۡ خَلَقَهُمۡ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ...﴾

আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ।’ [আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮৭] আল্লাহ তা‘য়ালা আরো বলেন:

﴿قُلۡ مَن يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ أَمَّن يَمۡلِكُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَٰرَ وَمَن يُخۡرِجُ ٱلۡحَيَّ مِنَ ٱلۡمَيِّتِ وَيُخۡرِجُ ٱلۡمَيِّتَ مِنَ ٱلۡحَيِّ وَمَن يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۚ فَسَيَقُولُونَ ٱللَّهُۚ فَقُلۡ أَفَلَا تَتَّقُونَ31﴾

বলুন, ‘কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে জীবনোপকরণ সরবারহ করেন অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন, জীবিতকে মৃত থেকে কে বের করেন এবং মৃতকে কে জীবিত হতে কে বের করেন এবং সব বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করেন?’ তখন তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ্‌’। সুতরাং বলুন, ‘তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’ [ইউনুস: ৩১] এই অর্থে অসংখ্য আয়াত রয়েছে।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে: তাদের ইবাদতে শিরক সর্বদা ছিল না, বরং তা ঘটত স্বাচ্ছন্দ্যের সময়ে। কিন্তু সংকটের সময়ে তারা আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করত, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿فَإِذَا رَكِبُواْ فِي ٱلۡفُلۡكِ دَعَوُاْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ فَلَمَّا نَجَّىٰهُمۡ إِلَى ٱلۡبَرِّ إِذَا هُمۡ يُشۡرِكُونَ65﴾

অতঃপর তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে, তখন তারা আনুগত্যে বিশুদ্ধ হয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্‌কে ডাকে। তারপর তিনি যখন স্থলে ভিড়িয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখন তারা শির্কে লিপ্ত হয়। [আল-আনকাবূত: ৬৫]

কিন্তু পরবর্তী যুগের মুশরিকরা দুই দিক থেকে পূর্ববর্তীদের চেয়ে অগ্রগামী হয়েছে: প্রথম দিকঃ তাদের মধ্যে কিছু লোকের রুবুবিয়্যাতে শিরকে লিপ্ত হওয়া। দ্বিতীয় দিক: তাদের শিরক সুখ ও দুঃখ উভয় অবস্থায়, যা তাদের সাথে মিশে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে জানা যায়। যেমন মিশরে হুসাইন ও বাদাওয়ীর কবরের কাছে, আদেনে ঈদরুসের কবরের কাছে, ইয়েমেনে হাদীর কবরের কাছে, শামে ইবনে আরাবীর কবরের কাছে, ইরাকে শেখ আব্দুল কাদের জিলানির কবরের কাছে এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ কবরগুলোর সামনে সাধারণ মানুষ যেভাবে বাড়াবাড়ি করছে এবং আল্লাহর একান্ত অধিকার থেকে অনেক কিছু তাদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেছে, তা স্পষ্ট শিরক। খুব কম লোকই তাদের এই কাজের বিরোধিতা করে এবং তাদেরকে সেই তাওহীদের প্রকৃত সত্যটি বোঝায়, যা আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পূর্ববর্তী সকল রাসূলের মাধ্যমে প্রেরণ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন!!

সহীহ আকীদার বিপরীত বিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে নাম ও সিফাতের ক্ষেত্রে বিদ‘আতীদের আকীদা। যেমন জাহমিয়া, মু‘তাযিলা এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করে তারা আল্লাহর সিফাতসমূহ অস্বীকার করে এবং আল্লাহর জন্য উল্লেখিত পূর্ণতার সিফাতকে অকার্যকর করে দেয়। তারা আল্লাহকে এমন গুণে বর্ণনা করে যা অস্তিত্বহীন, জড়বস্তু এবং অসম্ভবের গুণ। আল্লাহ তাদের কথার ঊর্ধ্বে মহান।

এর অন্তর্ভুক্ত হয়: যারা কতক সিফাতকে অস্বীকার করে এবং কতক সিফাতকে সাব্যস্ত করে; যেমন আশআরীদের আকীদা। তারা যে গুণগুলো স্বীকার করেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে তাদের সেই একই নীতিকে মেনে চলা উচিত ছিল, যা তারা অস্বীকৃত গুণগুলোর ক্ষেত্রে এড়িয়ে গেছে। কিন্তু তারা এর পরিবর্তে প্রমাণগুলোর ভুল ব্যাখ্যা করেছে এবং তারা শ্রুতিগত ও বিবেকগত উভয় দলিলের বিরোধিতা করেছে। ফলে, তাদের এই বিশ্বাসে স্পষ্ট স্ববিরোধিতা রয়েছে।

পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার জন্য তাই সাব্যস্ত করে যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ - সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম - তাঁর জন্য যেসব নাম ও সিফাতসমূহ সাব্যস্ত করেছেন। আর তারা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয়া থেকে পবিত্র রেখেছেন এমনভাবে, যা তাঁর গুণাবলী অস্বীকার থেকে মুক্ত। ফলে, তারা সমস্ত দলীলের উপর আমল করেছেন, বিকৃতি করেননি ও অস্বীকার করেননি, এবং তারা সেই স্ববিরোধিতা থেকে নিরাপদ থেকেছেন যা অন্যদের মধ্যে ঘটেছে - যেমন পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

এটাই দুনিয়া ও আখিরাতে নাজাত ও সুখের পথ, এবং এটাই সরল পথ যা এই উম্মাতের পূর্বসূরী ও ইমামগণ অনুসরণ করেছেন। তাদের প্রথমভাগের সংশোধন যেভাবে সম্ভব হয়েছে, তাদের শেষভাগের সংশোধনও কেবল সেভাবেই সম্ভব হবে, আর তা হলো কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং যা এদুটির বিরোধিতা করে তা পরিত্যাগ করা। আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন উম্মাহকে তার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন, তাদের মধ্যে হেদায়াতের আহ্বানকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন এবং তাদের নেতৃবৃন্দ ও আলিমদেরকে শিরকের বিরুদ্ধে লড়াই করার, তা নির্মূল করার ও এগুলোর মাধ্যম থেকে সতর্ক করার তৌফিক দান করেন... নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু শোনেন এবং অতি সন্নিকটে। আল্লাহই তাওফীক দাতা, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক। বস্তুত তাঁর শক্তি ও তাওফিক ছাড়া ভালো কাজ করার ক্ষমতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার কোনো সাধ্য নেই। আর সালাত ও সালাম নাযিল হোক আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, তার পরিবার পরিজন এবং সাহাবীদের ওপর।

 

***

 


সহীহ বুখারী (২৮৫৬), সহীহ মুসলিম (৩০)

লালাকাঈ, শারহু উসূলিল ইতিকাদ (৭৩৫), ইবনু আব্দুল বার, জামিউল উলুম ওয়া ফাদলিহি (১৮০১), তবে তারা সিফাতের আয়াতসমূহের পরিবর্তে হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছেন। তার শব্দ হল: “এই হাদীসগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই বর্ণনা কর। এতে কোন তর্ক করো না”।

বায়হাকি, আল-আসমা ওয়াস-সিফাত (৮৬৫), ইবনু তাইমিয়্যাহ “আল-হামাবিয়াহ”(২৬৯) গ্রন্থে এর সনদ সহীহ বলেছেন। যাহাবী “আল-আরয” গ্রন্থে (২|২২৩) বলেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ইমাম।

লালাকাঈ, শারহু উসূলিল ইতিকাদ (৯৩০), বায়হাকি, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (৯৫৫)।

লালাকাঈ, শারহু উসুলিল ইতিকাদ (৬৬৫), বায়হাকি, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (৮৬৮)

লালাকাঈ, শারহু উসূলিল ইতিকাদ (৬৬৪), আবূ নুয়াইম, আল-হিলয়াহ (৬/৩২৫), বায়হাকি, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (৬৬৩)।

আল-মুযাক্কি, আল-মুযাক্কিয়াত (২৯), ইবনু বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (১২০), লালাকাঈ, শারহু উসূলিল ইতিকাদ (৬৬৩)

দারিমি, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ (৬৭), বায়হাকি, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (৯০৩)।

আয-যাহাবি, আল-উলু (৪৬৪), আলবানি বলেছেন, এই সনদটি সহীহ, তার বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য। মুখতাসারুল উলু (পৃ.১৮৪)

তাফসীর ইবনে কাসীর (৩/৪২৬,৪২৭)।

বুখারী (২২), আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,

সহীহ মুসলিম (২৯৯৬), আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীস।

বুখারী (৩৬৫১), মুসলিম (২৫৩৩), আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত।

মুসলিম (১৯২০), সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস।

ইবনু মাযাহ (৩৯৫২) সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস। ইবনু হিব্বান (৬৭১৪) ও হাকিম (৮৬৫৩), তারা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

তিরমিযী (২৬৪১), আব্দুল্লাহ ইবনু আমর -রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস। মুনাভী রহঃ বলেন, “এর বর্ণনায় আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ আফরিকি রয়েছেন, ইমাম যাহাবী বলেন, তারা সবাই তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। (ফায়যুল কাদীর (৫/৩৪৭), আলবানী এটি সহীহ বলেছেন। সহীহ আল-জামি (৫৩৪৩)।

মুসলিম (৮)