PHPWord

 

 

بَيَانُ كُفْرِ وَضَلَالِ مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ يَجُوزُ لِأَحَدٍ الخُرُوجُ مِنْ شَرِيعَةِ مُحَمَّدٍ ﷺ

 

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী'আত থেকে বের হওয়ার সুযোগ আছে বলে যে দাবী করে তার কুফর ভ্রষ্টতার বর্ণনা।

 

 

لِسَمَاحَةِ الشَّيْخِ العَلَّامَةِ

عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ بَازٍ

رَحِمَهُ اللهُ

 

সংকলন মাননীয় শাইখ

শাইখ আব্দুলআযীয ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু বায

 


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

্বাদশ পুস্তিকা:

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী‘আত থেকে বের হওয়ার সুযোগ আছে বলে যে দাবী করে তার কুফর ও ভ্রষ্টতার বর্ণনা

সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলদের মধ্যে সর্বশেষ রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবারবর্গ ও সমস্ত সাহাবীর উপর।

অতঃপর: আমি ‘আশ-শারকুল আওসাত’ পত্রিকার সংখ্যা (৫৮২৪) এবং তারিখ ৫/৬/১৪১৫ হিজরীতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ দেখেছি, যা লিখেছেন নিজেকে আব্দুল ফাত্তাহ আল-হায়েক নামে পরিচয়দাতা একজন। এর শিরোনাম ছিল: (ভুল ধারণা)।

প্রবন্ধটির সারসংক্ষেপ হলো: এটি ইসলামের মৌলিক এমন বিষয়কে অস্বীকার করে, যা প্রয়োজনীয় জ্ঞান, স্পষ্ট দলিল ও ইজমার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত; আর তা হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সার্বজনীনতাকে অস্বীকার করা। তার দাবি, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করে না এবং তার আনুগত্য করে না, বরং ইহুদী বা খৃষ্টান হিসেবে থাকে, সেও সঠিক দ্বীনের ওপর আছে। এরপর সে বিশ্বজগতের রবের ওপর দুঃসাহস দেখিয়েছে; কাফির ও অবাধ্যদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর হিকমাহকে অবজ্ঞা করে এবং এটিকে অর্থহীন বলে অভিহিত করেছে!

সে শরীয়তের নসসমূহকে বিকৃত করেছে এবং সেগুলোকে ভুল স্থানে প্রয়োগ করেছে , নিজের খেয়াল অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সার্বজনীনতা এবং যে ব্যক্তি তার সম্পর্কে শুনেছে কিন্তু তাকে অনুসরণ করেনি তার কুফর সম্পর্কে সুস্পষ্ট দলিল ও নসসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা ইসলামের বাইরে অন্য কোনো দ্বীন কবুল করবেন না, এ ধরনের সুস্পষ্ট নসসমূহ থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন; যাতে তার কথার দ্বারা মূর্খরা প্রতারিত করতে পারে। এবং সে যা করেছে তা স্পষ্ট কুফরী, ইসলাম থেকে মুরতাদ হওয়া এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, যেমনটি জ্ঞান ও ঈমানের অধিকারী ব্যক্তিরা এই প্রবন্ধ পাঠ করে জানতে পারে।

মুসলিম শাসকের উপর ওয়াজিব হলো: তাকে আদালতে প্রেরণ করা; যেন তাকে তওবা করানো যায়, এবং শরীয়ত মোতাবেক তার উপর হুকুম প্রয়োগ করা যায়।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সার্বজনীনতা এবং সকল জিন ও মানবের উপর তার অনুসরণ করা ফরয হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আর মুসলমানদের মধ্যে যাদের নূন্যতম জ্ঞান আছে, তারা এ বিষয়টিতে অজ্ঞ নয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ فَـَٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِيِّ ٱلۡأُمِّيِّ ٱلَّذِي يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ158﴾

বলুন, ‘হে মানুষ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহ্‌র রাসূল, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান। কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহ্‌র প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহে ঈমান রাখেন। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।’ [আল-আরাফ: ১৫৮] তিনি আরো বলেন,

﴿...وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانُ لِأُنذِرَكُم بِهِۦ وَمَنۢ بَلَغَ...﴾

...আর এ কুরআন আমার নিকট ওহী করা হয়েছে যেন তোমাদেরকে এবং যার নিকট তা পৌঁছবে তাদেরকে এ দ্বারা সতর্ক করতে পারি... [আল-আনআম: ১৯] তিনি আরো বলেন,

﴿قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ31﴾

বলুন, ‘তোমরা যদি আল্লহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্‌ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ [আলে ইমরান: ৩১] তিনি আরো বলেন,

﴿وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ85﴾

আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। [আলে-ইমরান: ৮৫]। তিনি আরো বলেন,

﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ إِلَّا كَآفَّةٗ لِّلنَّاسِ بَشِيرٗا وَنَذِيرٗا...﴾

আর আমরা তো আপনাকে সমগ্ৰ মানুষের জন্যই সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি... [সাবা: ২৮] তিনি আরো বলেন,

﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ إِلَّا رَحۡمَةٗ لِّلۡعَٰلَمِينَ107﴾

আর আমরা তো আপনাকে সৃষ্টিকুলের জন্য শুধু রহমতরূপেই পাঠিয়েছি [আল-আম্বিয়া: ১০৭] তিনি আরো বলেন,

﴿...وَقُل لِّلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡأُمِّيِّـۧنَ ءَأَسۡلَمۡتُمۡۚ فَإِنۡ أَسۡلَمُواْ فَقَدِ ٱهۡتَدَواْۖ وَّإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّمَا عَلَيۡكَ ٱلۡبَلَٰغُۗ وَٱللَّهُ بَصِيرُۢ بِٱلۡعِبَادِ﴾

আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদেরকে ও নিরক্ষরদেরকে বলুন, ‘তোমরাও কি আত্মসমর্পণ করেছ?’ যদি তারা আত্মসমর্পণ করে তবে নিশ্চয় তারা হেদায়াত পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনার কর্তব্য শুধু প্রচার করা। আর আল্লাহ্‌ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা। [আলে ইমরান: ২০] তিনি আরো বলেছেন:

﴿تَبَارَكَ ٱلَّذِي نَزَّلَ ٱلۡفُرۡقَانَ عَلَىٰ عَبۡدِهِۦ لِيَكُونَ لِلۡعَٰلَمِينَ نَذِيرًا1﴾

কত বরকতময় তিনি! যিনি তাঁর বান্দার উপর ফুরকান নাযিল করেছেন, সৃষ্টিজগতের জন্য সতর্ককারী হওয়ার জন্য। [আল-ফুরকান: ১]

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي: نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا، فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ، فَلْيُصَلّ، وَأُحِلَّتْ لِيَ الْمَغَانِمُ، وَلَمْ تُحَلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي، وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ، وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً، وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ عَامَّةً».

“আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি: (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; (২) সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক যেকোন স্থানে ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে; (৩) আমার জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি; (৪) আমাকে (ব্যাপক) শাফা‘আতের অধিকার দেয়া হয়েছে; (৫) সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য।”

এটি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সার্বজনীনতা ও সকল মানবজাতির জন্য প্রযোজ্যতার স্পষ্ট বর্ণনা। আর এটি পূর্ববর্তী সকল শারী‘আত রহিত করেছে। যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করবে না এবং তার আনুগত্য করবে না, সে কাফির ও অবাধ্য এবং শাস্তির উপযুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿...وَمَن يَكۡفُرۡ بِهِۦ مِنَ ٱلۡأَحۡزَابِ فَٱلنَّارُ مَوۡعِدُهُۥ...﴾

অন্যান্য দলের যারা তাতে কুফরী করে, আগুনই তাদের প্রতিশ্রুত স্থান [হুদ: ১৭] তিনি আরো বলেন,

﴿...فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ﴾

কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [আন-নূর: ৬৩] তিনি আরো বলেন,

﴿وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُۥ يُدۡخِلۡهُ نَارًا خَٰلِدٗا فِيهَا وَلَهُۥ عَذَابٞ مُّهِينٞ14﴾

আর কেউ আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লংঘন করলে তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং তার জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রয়েছে। [আন-নিসা: ১৪] তিনি আরো বলেন,

﴿...وَمَن يَتَبَدَّلِ ٱلۡكُفۡرَ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ﴾

আর যে ঈমানকে কুফরে পরিবর্তন করবে, সে অবশ্যই সরল পথ হারাল। [আল-বাকারা: ১০৮] এই অর্থে অনেক আয়াত রয়েছে।

আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যকে তাঁর নিজের আনুগত্যের সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু বিশ্বাস করবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার নিকট থেকে ফরয ও নফল কোনো কিছুই গ্রহণ করা হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ 85

আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। [আলে-ইমরান: ৮৫]। তিনি আরো বলেন,

﴿مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ...

কেউ রাসূলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল [আন-নিসা: ৮০] তিনি আরো বলেন,

﴿قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا...

বলুন, ‘তোমরা আল্লাহ্‌র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তিনিই দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী; আর তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে। [আন-নূর: ৫৪] তিনি আরো বলেন,

﴿إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ 6

নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম। [আল-বাইয়্যিনাহ: ৬]

মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ؛ لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ، يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ، ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ؛ إِلَّا كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ».

“যার হাতে আমার জীবন, তার শপথ করে বলছি, এ উম্মতের যে কেউ, চাই সে ইহুদী হোক বা খৃষ্টান হোক আমার আগমনের সংবাদ পাওয়ার পর সে আমি যে বিষয়াবলী নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তার প্রতি ঈমান না এনে মারা যাবে, সে অবশ্যই জাহান্নামী হবে। “

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কর্ম ও কথার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, যারা ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেনি তাদের ধর্ম মিথ্যা। তিনি ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, যেমনভাবে তিনি অন্য কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তিনি তাদের কাছ থেকে জিজিয়া কর আদায় করেছেন, যাতে তারা ইসলামের প্রচারের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের মধ্যে যে কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে চায়, সে যেন তার জনগণকে ভয় না পায়, যে তারা তাকে বাধা দিবে, নিষেধ করবে বা হত্যা করবে।

বুখারী ও মুসলিম রাহিমাহুমুল্লাহ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা মসজিদে অবস্থান করছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে বললেন:

«انْطَلِقُوا إِلَى يَهُودَ، فَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَا بَيْتَ الْمِدْرَاسِ، فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ، فَنَادَاهُمْ فَقَالَ :يَا مَعْشَرَ يَهُودَ، أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا، فَقَالُوا: قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: ذَلِكَ أُرِيدُ، أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا، فَقَالُوا: قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: ذَلِكَ أُرِيدُ، ثُمَّ قَالَهَا الثَّالِثَةَ...».

"তোমরা ইহুদীদের কাছে যাও। তারপর আমরা তার সাথে বের হলাম এবং বায়তুল মাদরাসে পৌঁছালাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন: হে ইহুদীগণ, তোমরা ইসলাম গ্রহণ করলে শান্তিতে থাকবে। তারা বলল: হে আবুল কাসিম! তুমি ইতোমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন: এটাই আমি চাই, ইসলাম গ্রহণ করো, শান্তিতে থাকবে। তারা বলল: হে আবুল কাসিম! তুমি ইতোমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন: এটাই আমি চাই। তারপর তিনি তৃতীয়বারও একই কথা বললেন...।” .

অর্থাৎ, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানালেন এবং বললেন: «ইসলাম গ্রহণ করো, শান্তিতে থাকবে», এ কথাটি তাদেরকে বারবার বললেন।

অনুরূপভাবে: তিনি হিরাকলের নিকট তার পত্র প্রেরণ করেন তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানিয়ে এবং তাকে জানান যে, যদি সে বিরত থাকে তবে তার উপর তাদের পাপও বর্তাবে যারা তার বিরত থাকার কারণে ইসলাম থেকে বিরত থাকে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, হিরাকল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র আনতে বললেন এবং তা পড়লেন, তাতে লেখা ছিল:

«بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ، سَلَامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى، أَمَّا بَعْدُ: فَإِنِّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الْإِسْلَامِ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، وَأَسْلِمْ يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ، فَإِنْ تَوَلَّيْتَ، فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الْأَرِيسِيِّينَ وَ

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে হেরাক্লিয়াস, রোমের মহান সম্রাটের প্রতি। হেদায়েতের অনুসারীদের প্রতি সালাম। অতঃপর: আমি আপনাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপদ থাকবেন। ইসলাম গ্রহণ করলে আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন। আর যদি আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে আপনার উপর আরিসিয়ানদের পাপ বর্তাবে।"

﴿يَٰٓأَهۡلَ ٱلۡكِتَٰبِ تَعَالَوۡاْ إِلَىٰ كَلِمَةٖ سَوَآءِۭ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكُمۡ أَلَّا نَعۡبُدَ إِلَّا ٱللَّهَ وَلَا نُشۡرِكَ بِهِۦ شَيۡـٔٗا وَلَا يَتَّخِذَ بَعۡضُنَا بَعۡضًا أَرۡبَابٗا مِّن دُونِ ٱللَّهِۚ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَقُولُواْ ٱشۡهَدُواْ بِأَنَّا مُسۡلِمُونَ64﴾

হে আহ্‌লে কিতাবগণ! এস সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; যেন আমরা একমাত্র আল্লাহ্‌ ছাড়া কারো ইবাদাত না করি, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করি এবং আমাদের কেউ আল্লাহ্‌ ছাড়া একে অন্যকে রব হিসেবে গ্রহণ না করি। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমরা বল, তোমরা সাক্ষী থাক যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম। [আলে ইমরান: ৬৪]”।

তারপর যখন তারা মুখ ফিরিয়ে নিল এবং ইসলামে প্রবেশ করতে অস্বীকার করল; তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ -রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম- তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন এবং তাদের উপর জিযিয়া কর আরোপ করলেন।

তাদের বিভ্রান্তির নিশ্চয়তা এবং তারা যে মিথ্যা ধর্মে রয়েছে, যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দ্বীন দ্বারা বাতিল হয়েছে, তা প্রমাণের জন্য আল্লাহ মুসলিমদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা প্রতিদিন, প্রতিটি সালাতে এবং প্রতিটি রাকআত-এ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যে, আল্লাহ যেন তাদেরকে সঠিক, গ্রহণযোগ্য এবং সোজা পথ প্রদর্শন করেন। আর তা হলো: ইসলাম। এবং তাকে গযবপ্রাপ্তদের পথ থেকে দূরে রাখার জন্য প্রার্থনা করেন, তারা হচ্ছে: ইহুদী এবং তাদের মতো যারা জানে যে তারা বাতিলের উপর আছে, তবুও তাতে অটল থাকে। অনুরূপভাবে তাকে পথভ্রষ্টদের পথ থেকে দূরে রাখার জন্যও প্রার্থনা করেন, যারা ইলম বিহীন ইবাদাত করে এবং দাবি করে যে তারা সঠিক পথে আছে, অথচ তারা ভ্রষ্টতার পথে আছে। আর তারা হচ্ছে: খৃষ্টান এবং অন্যান্য জাতি যারা ভ্রষ্টতা ও মূর্খতার উপর ইবাদাত করে। এ সবকিছু এজন্য যে: যেন মুসলিম ব্যক্তি নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করে যে, ইসলাম ছাড়া সকল ধর্মই বাতিল এবং যে ব্যক্তি ইসলামের বাইরে আল্লাহর ইবাদত করে সে পথভ্রষ্ট। আর যে ব্যক্তি এ বিশ্বাস পোষণ করে না, সে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহতে অনেক দলিল রয়েছে।

অতএব, প্রবন্ধটির লেখক আব্দুল ফাত্তাহ্কে অবশ্যই খাঁটি তাওবা করতে হবে এবং একটি প্রবন্ধ লিখে তার তাওবার ঘোষণা করতে হবে। আর যে আল্লাহর কাছে সত্যিকারের তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন; কারণ আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন:

﴿...وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ﴾

হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আস, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ [আন-নূর: ৩১]। তাঁর আরেকটি বাণী:

﴿وَٱلَّذِينَ لَا يَدۡعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقۡتُلُونَ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِي حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَا يَزۡنُونَۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ يَلۡقَ أَثَامٗا68 يُضَٰعَفۡ لَهُ ٱلۡعَذَابُ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَيَخۡلُدۡ فِيهِۦ مُهَانًا69 إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلٗا صَٰلِحٗا فَأُوْلَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمۡ حَسَنَٰتٖۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا70﴾

এবং তারা আল্লাহ্‌র সাথে কোনো ইলাহকে ডাকে না। আর আল্লাহ্‌ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর তারা ব্যভিচার করে না; যে এগুলো করে, সে শাস্তি ভোগ করবে।

কিয়ামতের দিন তার শাস্তি বর্ধিতভাবে প্ৰদান করা হবে এবং সেখানে সে স্থায়ী হবে হীন অবস্থায়;

তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, ফলে আল্লাহ্‌ তাদের গুণাহসমূহ নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [আল-ফুরকান: ৬৮-৭০] তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:

«الإِسْلَامُ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ، وَالتَّوبَةُ تَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا».

“ইসলাম পূর্বের সমস্ত পাপকে মিটিয়ে দেয়, আর তাওবাহ তার পূর্বের সকল পাপ মূছে দেয়।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেকটি বাণী:

«التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبَ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ».

“গুনাহ থেকে তাওবা করা ব্যক্তি এমন, যেন তার কোন গুনাহ নেই।”

এ বিষয়ে অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে হককে হক হিসেবে দেখা ও তার আনুগত্য করার তাওফীক দেন, আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে দেখা ও তা থেকে বাঁচার তাওফীক দেন। তিনি যেন আমাদের, লেখক আব্দুল ফাত্তাহ এবং সকল মুসলিমদেরকে খাঁটি তওবা করার তাওফীক দান করেন। আমাদের সকলকে বিভ্রান্তিকর ফিতনা, প্রবৃত্তির আনুগত্য এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর উপর ক্ষমতাবান।

আর সালাত ও সালাম নাযিল হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, তার পরিবার পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের অনুসরণ করবে তাদের সকলের ওপর।

 

 

***